📄 বাইয়ে সালামের অর্থ এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল ও তার হিকমাহ
بيع السلم বা বাইউস সালাম এবং بيع السلف বা বাইউস সালাফ একই অর্থবোধক। بَيْعُ سِلْعَةٍ أَجِلَةٍ مَوْصُوفَةٍ فِي الذِّمَّةِ بِثَمَنِ مُقَدَّمٍ : بيع السلم আগে টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পরে পণ্য নেওয়া।
এটি শরীয়ত সম্মত। হাদীসে রয়েছে- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَدِينَةَ، وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثَّمَارِ السَّنَةَ وَالسَّنَتَيْنِ، فَقَالَ: مَنْ أَسْلَفَ فِي تَمْرِ، فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ، وَوَزْنِ مَعْلُومٍ، إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ "ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন, তখন মদীনাবাসী এক বা দুই বছর মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের ফল অগ্রিম ক্রয় করত। অতঃপর তিনি বলেন: কেউ খেজুর অগ্রিম ক্রয় করলে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ; নির্ধারিত ওজন; নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ক্রয় করে। "৭০২
শরীয়ত সম্মত হওয়ার হিকমাহ: মানুষের ব্যাপক কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য করে ইসলামী শরীয়ত এটিকে বৈধ করেছে। কারণ এমন অনেক সময় আসে যখন চাষীর হাতে তেমন নগদ টাকা থাকে না। যার ফলে সে জমি মেরামত করতে পারে না।
টিকাঃ
৭০২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২২৪০; সহীহ মুসলিম, হা. ৪০১০, ফুআ. ১৬০৪
📄 বাইয়ে সালামের শর্তসমূহ
১. সালাম চুক্তি সঠিক হওয়ার জন্য বিক্রয়ের শর্তের সাথে আরও কিছু অতিরিক্ত শর্তারোপ করা হয়। যেমন: নির্দিষ্ট পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করা, যা দ্বারা অন্য কিছু থেকে সেই পণ্যকে আলাদা করা যাবে। সেই সাথে পণ্যের পরিমাণ এবং তা পরিশোধের সময়কাল ও স্থান উল্লেখ করা। যেমন পূর্বে উল্লিখিত হাদীসে রয়েছে: فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ، وَوَزْنِ مَعْلُومٍ، إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ "সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ; নির্ধারিত ওজন; নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ক্রয় করে।"
২. সালাম চুক্তি করার মজলিসে পণ্যের মূল্য অগ্রিম গ্রহণ করা। কারণ ইবনু আব্বাস বলেন: أَشْهَدُ أَنَّ السَّلَفَ الْمَضْمُونَ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى قَدْ أَحَلَّهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَأَذِنَ فِيهِ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নির্দিষ্ট মেয়াদে مضمون السلف বা ঋণ আল্লাহ তার কিতাবে বৈধ করেছেন এবং এর অনুমতি দিয়েছেন। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ (হে মু'মিনগণ! তোমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের আদান-প্রদান করো, তখন তা লিখে রাখো)।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৮২]
৩. বিক্রয়কৃত পণ্য এমন কিছু হতে হবে, যা নির্দিষ্ট গুণাগুণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যায়। সুতরাং অনির্দিষ্ট কোনো কিছুতে সালাম চুক্তি করা জায়েয নেই। যেমন: রান্না করা খাবার, রুটি ইত্যাদি।
৪. বিক্রয়কৃত পণ্য চুক্তি করার সময় সাধারণত পাওয়া যায় এমন কিছু হতে হবে। সুতরাং সাধারণত পাওয়া যায় না এমন কিছুতে সালাম চুক্তি করা জায়েয নেই। যেমন- শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফল।
৫. বিক্রয়কৃত পণ্যটি নির্ধারিত স্থান ও মালিকানার হতে পারবে না। যেমন- কেউ বলল, অমুক জমির গম তোমার কাছে বিক্রি করলাম। সালাম পদ্ধতিতে এটা বৈধ হবে না। কারণ এতে ধোঁকা ও ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।