📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার 📄 বন্ধক সংক্রান্ত বিধান

📄 বন্ধক সংক্রান্ত বিধান


১. যে জিনিস বিক্রি করা বৈধ নয় অথবা বন্ধকদাতা যে জিনিসের মালিক নয়, তা বন্ধক হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়। যেমন: কুকুর অথবা ওয়াকফ করা কোনো সম্পদ। কেননা এগুলো থেকে ঋণ পরিশোধ সম্ভব নয়।
২. বন্ধক রাখা বস্তুর পরিমাপ ধরন এবং গুনাগুণ অবশ্যই জানা থাকতে হবে।
৩. বন্ধকদাতাকে অবশ্যই লেনদেন করার যোগ্য হতে হবে এবং বন্ধক রাখা জিনিসের মালিক হতে হবে কিংবা বন্ধক রাখার বিষয়ে অনুমতি প্রাপ্ত হতে হবে।
৪. বন্ধকদাতা বন্ধক গ্রহণকারী ব্যক্তির অনুমতি ব্যতীত বন্ধক রাখা বস্তুতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। অনুরূপ যার কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে সে বন্ধক দাতা ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া বন্ধক রাখা বস্তুর মালিক হতে পারবে না।
৫. যার কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে সে বন্ধক রাখা বস্তুর মাধ্যমে কোনো উপকার নিতে পরবে না। তবে যদি তা বাহন হয়, তাহলে তাতে আরোহণ করতে পারবে। অথবা যদি দুগ্ধ দোহন করার মতো পশু হয়, তাহলে তা দোহন করতে পারবে সেই বন্ধক রাখা পশুর খরচ চালিয়ে নেওয়ার জন্য।
৬. বন্ধক রাখা বস্তুটি বন্ধক গ্রহণকারীর কাছে আমানত হিসেবে থাকবে। অতএব, বস্তুটির যদি হঠাৎ কোনো ক্ষতি হয়ে যায় আর এক্ষেত্রে যদি বন্ধক গ্রহণকারী কোনো ধরনের সীমালঙ্ঘন না করে থাকে, তাহলে সে জিম্মাদার হবে না। যখন ঋণ পরিশোধের সময় হবে তখন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির উপর আবশ্যক হবে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া। যদি সে ঋণ পরিশোধ না করে তাহলে বিচারক তাকে পরিশোধ করতে বাধ্য করবে। তারপরেও যদি পরিশোধ না করে তাহলে তাকে আটকিয়ে রাখবে এবং শাসন করবে। যেন সে তার ঋণ পরিশোধ করে। তারপরেও যদি পরিশোধ না করে তাহলে বন্ধক রাখা বস্তুটি বিচারক বিক্রি করে দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px