📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সুদ সম্পর্কিত কতিপয় মাসআলার ধরন

📄 সুদ সম্পর্কিত কতিপয় মাসআলার ধরন


নিম্নলিখিত নীতিমালা ও তার অন্তর্ভুক্ত বিষয় প্রয়োগ এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে, কোন বিষয়টি সুদ আর কোন বিষয়টি সুদ নয়। আর এই নীতিমালাটি হচ্ছে: যখন একই জাতীয় জিনিস বিক্রয় হবে, তাতে দুটি শর্ত থাকবে:
১. ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিস থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের পৃথক হওয়ার আগেই পণ্য ও মূল্য গ্রহণ করতে হবে।
২. বিনিময়ের উভয় পণ্যই শরীয়তী মাপের মাধ্যমে অর্থাৎ পরিমাপ বা ওজন করার মাধ্যমে সমান সমান হতে হবে।
তবে যদি সুদ হয় এমন দুটি ভিন্ন জাতীয় জিনিস একটি আরেকটির সাথে বিনিময় করা হয়, তাহলে উল্লিখিত দুটি শর্তের একটি প্রযোজ্য হবে। তা হচ্ছে মজলিস থেকে ওঠে যাওয়ার আগেই হস্তগত করা। আর যদি সমান সমান হয়, তাতে কোনো শর্ত নেই। আর যদি সুদ হয় এমন জাতীয় জিনিস, সুদ হয় না এমন জিনিসের সাথে বিনিময় করা হয়ে, তাহলে তাতে কম-বেশিও করা যায়, আবার ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিস থেকে বস্তুটি গ্রহণ না করেও ওঠা যায়।
সুদ সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা এবং তার হুকুম:
১. এক ব্যক্তি একশত গ্রাম স্বর্ণের বিনিময়ে একশত গ্রাম স্বর্ণ বিক্রি করল। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করল এক মাস পরে। এটিই হারাম। কারণ তারা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিসে তা গ্রহণ করেনি।
২. এক ব্যক্তি এক কেজি যব কিনলো এক কেজি গমের বিনিময়ে। তাহলে এটি বৈধ হবে। কারণ এখানে দুটি পণ্যই ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির। তবে শর্ত হলো, একই মজলিসে তা গ্রহণ করতে হবে।
৩. এক ব্যক্তি একটি ছাগলের বিনিময়ে পঞ্চাশ কেজি গম কিনলো। তাহলে এটি সব অবস্থায় বৈধ হবে। চাই একই মজলিসে গ্রহণ করুক বা না করুক।
৪. এক ব্যক্তি ১০০ ডলার বিক্রি করল ১১০ ডলারের বিনিময়ে। তাহলে এটি বৈধ হবে না।
৫. এক ব্যক্তি এক হাজার ডলার ঋণ হিসাবে নিলো এই শর্তে যে, সে একমাস বা তার বেশি সময় পরে বারোশত ডলার ফিরিয়ে দিবে তাহলে তা বৈধ হবে না।
৬. এক ব্যক্তি ১০০ রৌপ্য দিরহাম বিক্রি করল ১০টি স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে। যেই স্বর্ণ মুদ্রা পরিশোধ করবে এক বছর পর। তাহলে এটি বৈধ হবে না। যেহেতু এই জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় নগদে করা শর্ত।
৭. সুদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে কোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। কেননা এতে টাকার বিনিময়ে টাকা ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। অথচ তাতে সমতার ক্ষেত্রে পরিমাপ ঠিক রাখা হয় না এবং কখনো কখনো নগদও গ্রহণ করা হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00