📄 (الأمان) নিরাপত্তার চুক্তি
১. الأمان এর পরিচয়: আভিধানিক অর্থ: أمان তথা-নিরাপত্তা الخوف )ভয়) এর বিপরীত।
هو عبارة عن تأمين الكافر على ماله ودمه مدة محدودة : "নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাফেরদের জান ও মালের নিরাপত্তা দেওয়াকে أمان বলা হয়।"
২. শরীয়ত সম্মত হওয়ার কারণ এবং দলীল: أمان শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: আল্লাহ তা'আলার বাণী:
إِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ.
"মুশরিকদের মধ্য হতে যদি কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে তুমি তাকে আশ্রয় দান করো। যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়; অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও।” [সূরা তাওবাহ: ৬]
৩. নিরাপত্তা কার পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ হবে এবং তার জন্য কি কি শর্ত করা হয়েছে: প্রত্যেক মুসলিমের পক্ষ থেকেই নিরাপত্তার চুক্তি করা বিশুদ্ধ হবে। তবে শর্ত হলো: ১. তাকে জ্ঞানবান বালেগ হতে হবে; সুতরাং, কোনো পাগল এবং শিশুর পক্ষ হতে বিশুদ্ধ হবে না। ২. স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী হতে হবে: সুতরাং, বাধ্য করা হয়েছে এমন ব্যক্তি, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি এবং অজ্ঞান ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রদান বিশুদ্ধ হবে না। ৩. মহিলার নিরাপত্তা বিশুদ্ধ হবে। নাবী বলেছেন:
قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِي
"হে উম্মু হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দান করেছ আমরাও তাকে নিরাপত্তা দান করেছি। ”৬৭২ দাসের নিরাপত্তা প্রদানও বিশুদ্ধ হবে। নাবী। বলেছেন:
ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ، يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ
"নিরাপত্তা দানের ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মুসলিমগণ একইভাবে দায়িত্বশীল। তাদের নিম্নস্তরের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী।”৬৭৩ ইমামের পক্ষ হতে সকল মুশরিকের জন্য যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেটা সার্বজনীন নিরাপত্তা হবে। আর কোনো সাধারণ মুসলিম নিরাপত্তা দিলে তার একজন শত্রুর জন্যই নির্দিষ্ট হবে। মুসলিমদের নেতা সুরক্ষা প্রদান করলে, সেটি সাধারণ সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ তার রাষ্ট্র সকলের। তার অনুমোদন ব্যতীত অন্য কেউ এরূপ করতে পারে না। যে শব্দগুলো নিরাপত্তার উপর প্রমাণ করে সেগুলোর দ্বারা নিরাপত্তা সাব্যস্ত হবে।
যেমন: أنت أمن -তুমি আশঙ্কামুক্ত। أجرتك -আমি তোমাকে আশ্রয় দিলাম। لا بأس عليك -তোমার কোনো সমস্যা নেই। অথবা এমন কোনো ইঙ্গিতের মাধ্যমে।
المستأمن (নিরাপত্তা প্রার্থী): যে ব্যক্তি আল্লাহর কালাম শোনার জন্য এবং ইসলামী শরীয়ত জানার জন্য নিরাপত্তা চায়, পূর্বের আয়াতের কারণে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া আবশ্যক। অতঃপর সে তার সুরক্ষায় ফিরে আসবে।
৪. أمان বা নিরাপত্তার হুকুম এবং তার কারণে যা আবশ্যক হয়: أمان এর অঙ্গীকার পূর্ণ করা আবশ্যক। তাই কোনো নিরাপত্তা চাওয়া ব্যক্তিকে হত্যা করা, বন্দী কিংবা দাসে পরিণত করা হারাম। তেমনিভাবে নিরাপত্তা চুক্তির সকল বিষয় কার্যকর করতে হবে। যদি শত্রুদের মন্দ এবং বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি ভঙ্গ করা বৈধ রয়েছে।
টিকাঃ
মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩৫৭; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৩৩৬।
মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩১৭২; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৩৭০।