📄 ফায়-এর সম্পদ ব্যয়ের খাত
الفيء বা ফায়: যা যুদ্ধ ছাড়াই আহলুল হারবদের থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে পাওয়া যায়। যেমন কাফেররা মুসলিমদের আগমনের কথা শুনে ধন-সম্পদ রেখে পলায়ন করল।
ব্যয়ের খাত: ইমাম তার ইচ্ছানুযায়ী তা মুসলিমদের কল্যাণার্থে ব্যয় করবেন। যেমন কাজী, মুয়ায্যিন, ইমাম, ফকীহ ও শিক্ষকদের বেতন সেখান থেকেই প্রদান করতে পারবেন। এ ছাড়া মুসলিমদের অন্যান্য কল্যাণে ব্যয় করতে পারবেন। ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِمَا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ، وَلَا رِكَابٍ، فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاصَّةً، وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِ، ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
“বানী নাযীর গোত্রের সম্পদ এমন সম্পদ যা আল্লাহ তা'আলা আল্লাহর রসূল -কে বিনাযুদ্ধে প্রদান করেন। সেখানে মুসলিমরা ঘোড়া এবং উট হাঁকিয়ে যুদ্ধ করেনি। এ সম্পদ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং তিনি তা থেকে নিজ পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণে খরচ করলেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র ক্রয় খাতে রেখে দিলেন।” ৬৬৯
এ জন্য আল্লাহ তা'আলা ফাইয়ের মাল ব্যয়ের বর্ণনায় প্রত্যেক শ্রেণির মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ
“যে ধন-সম্পদ আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে নিয়ে তাঁর রসূলকে দিয়েছেন তা আল্লাহর জন্য; তাঁর রসূলের জন্য; আর রসূলের আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন ও পথিকদের জন্য। যাতে তা তোমাদের মধ্যকার সম্পদশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।” [সূরা হাশর: ৭]
ইমাম অনির্ধারিত পরিমাণ মাল নিয়ে তার ইজতিহাদ অনুযায়ী নিকটাত্মীয়দেরকে প্রদান করবেন। আর বাকি মাল মুসলিমদের কল্যাণার্থে খরচ করবেন।
টিকাঃ
৬৬৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৯০৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৭৫৭