📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কাফের বন্দীদের হুকুম

📄 কাফের বন্দীদের হুকুম


অধিকাংশ বিদ্বানদের মতে (এটাই বিশুদ্ধ মত) পুরুষ কাফের বন্দীদের বিষয়টি ইমামের হাতে থাকবে। সুতরাং, দ্বীন ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থের দিকে লক্ষ্য করে তাদেরকে যেকোনো একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে; হত্যা অথবা দাসত্ব অথবা বিনিময়হীন অনুগ্রহ অথবা ফিদয়া (সম্পদ, উপকার অথবা মুসলিম বন্দী আজাদ করে দেওয়া)। নারী ও শিশু বন্দী হলেই দাস হিসেবে গণ্য হবে এবং গনীমতের মালের সাথে তারা যুক্ত হবে। ইমামের কাছে তাদের কোনো করায়ত্ত থাকবে না। তাদেরকে হত্যা করা নিষেধ; এব্যাপারে রসূল থেকে নিষেধজ্ঞা এসেছে। (কাফের পুরুষ বন্দীদের) হত্যা করার দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴾فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ) “মুশরিকদেরকে যেখানে পাও হত্যা করো।” [সূরা তাওবা : ৫)
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন: ﴾مَا كَانَ لِنَبِيَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُفْخِنَ فِي الْأَرْضِ “কোনো নাবীর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, দেশে (আল্লাহর দুশমনদেরকে) পুরোমাত্রায় পরাভূত না করা পর্যন্ত তার (হাতে) যুদ্ধ-বন্দী থাকবে।” [সুরা আনফাল : ৬৭]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন, যে বদরের মুশরিকদেরকে বন্দী ও মুক্তিপণ দেওয়ার চাইতে হত্যা করাই উত্তম ছিল। আনাস ইবনু মালেক থেকে বর্ণিত।
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَخَلَ عَامَ الفَتْحِ، وَعَلَى رَأْسِهِ المِغْفَرُ، فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنَّ ابْنَ خطلٍ مُتَعَلِّقُ بِأَسْتَارِ الكَعْبَةِ فَقَالَ: اقْتُلُوهُ “মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রসূল লৌহ শিরস্ত্রাণ পরা অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। অতঃপর তিনি যখন শিরস্ত্রাণটি মাথা হতে খুললেন, এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলল, ইবনু খাতাল কা'বার গিলাফ ধরে আছে। অতঃপর তিনি বললেন: তাকে তোমরা হত্যা করো।”৬৬০ নাবী বনু কুরাইযার পুরুষ বন্দীদের হত্যা করেছিলেন।
দাস বানানোর দলীল: আবু সাঈদ আল খুদরী বনু কুরাইয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন:
لَّمَّا نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ رضي الله عنه، فحكم أن تقتل المقاتلة، وتسبى الذرية
"যখন বনী কুরায়যায় সা'দ ইবনু মুয়ায -এর ফয়সালা মোতাবেক দূর্গ থেকে বেরিয়ে আসে। অতঃপর তিনি ফয়সালা দেন তাদের মধ্য হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে, তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।"৬৬১
অনুগ্রহ করা এবং মুক্তিপণ নেওয়ার দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَلْخَنْتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنَّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ....
"অতএব যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে করো তখন তাদের গর্দানে আঘাত করো। পরিশেষে যখন তোমরা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করবে তখন তাদেরকে কষে বাঁধবে; অতঃপর হয় অনুকম্পা, না হয় মুক্তিপণ।"[সূরা মুহাম্মাদ: ৪]
ইমামের উচিত এগুলোর মধ্যে মুসলিমদের জন্য যেটি সবচেয়ে কল্যাণকর সেটি করা। কারণ ইমাম অন্যদের জন্য কাজ করেন। সুতরাং তার সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত যেন মুসলমানদের কল্যাণে আসে।

টিকাঃ
৬৬০. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৮৪৬; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৩৫৭।
৬৬১. সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৪৩।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 গণীমতের মাল বণ্টন

📄 গণীমতের মাল বণ্টন


الغنيمة (গনীতম): যুদ্ধের মাধ্যমে কাফেরের যে সমস্ত মাল গ্রহণ করা হয় সেগুলোকে গনীমত বলা হয়। এ যুদ্ধে আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করা উদ্দেশ্য থাকে।
الأنفال الغنيمة (আল-আনফাল) ও বলা হয়। আর أنفال শব্দটি نفل এর বহুবচন (অর্থ: অতিরিক্ত)। কারণ তা মুসলিমদের মালের অতিরিক্তাংশ।
গনীতম শরীয়ত সম্মত হওয়ার মূল দলীল: আল্লাহ তা'য়ালা বলেন:
فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾
"সুতরাং যুদ্ধে তোমরা যা কিছু গনীমত লাভ করেছ তা হালাল ও পবিত্ররূপে ভোগ করো, আর আল্লাহকে ভয় করো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” [সূরা আনফাল : ৬৯]
আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ এর উম্মতের জন্য গনীমতের মাল হালাল করেছেন, যা পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য হালাল ছিল না। নাবী বলেন : وَأُحِلَّتْ لِي الْغَنَائِمُ، وَلَمْ تُحَلُّ لِأَحَدٍ قَيْلِي
"আমার জন্য গনীমত হালাল করা হয়েছে। আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না।”৬৬২ আর গনীমতের অন্তর্ভুক্ত: সম্পদ, বন্দী এবং জমিন। অর আলেমদের মতে গনীমতকে পাঁচভাগে বিভক্ত করা হবে:
প্রথম ভাগ: ইমামের ভাগ; যা এক পঞ্চমাংশ। তা ইমাম বা নায়েবে ইমাম বের করবে। আর এই পঞ্চমাংশকে ভাগ করা হবে ঐ পদ্ধতিতে যে পদ্ধতি আল্লাহ কুরআনে বর্ণনা করেছেন: وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ) "আর তোমরা জেনে রেখো যে, যুদ্ধে তোমরা যা কিছু গনীমতের মাল লাভ করেছ, ওর এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ, তাঁর রাসূল, (রাসূলের) নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকিন এবং মুসাফিরের জন্য।” [সূরা আনফাল : ৪১] এ পঞ্চমাংশকে পাঁচভাগে ভাগ করা হবে।
১. আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য: এ অংশটি ফায় হিসেবে থাকবে। যা বায়তুল মালের আওতাভুক্ত হবে এবং মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। নাবী বলেছেন: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَالِي مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ إِلَّا الْخَمْسُ، وَالْخُمْسُ مَرْدُودٌ عَلَيْكُمْ “যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! এই 'ফাই'-এ আমার কোনো অংশ নেই, শুধুমাত্র এক-পঞ্চমাংশ ছাড়া। আবার তাও তোমাদের কল্যাণের জন্যই ব্যয় করা হবে। ৬৬৩ নাবী এ অংশটিকে সকল মুসলিমের জন্যই করেছেন।
২. নিকটাত্মীয়: তারা হচ্ছে আল্লাহর রসূল এর নিকটাত্মীয়; বনু হাশেম এবং বনু মুত্তালিব। এ পঞ্চমাংশ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদেরকে দেওয়া যাবে।
৩. ইয়াতীম: বালেগ হওয়ার পূর্বেই যার পিতা মারা যায়, তাকে ইয়াতীম বলা হয়। চাই সে পুরুষ হোক বা মহিলা, ধনী কিংবা দরিদ্র; এ সংজ্ঞার মধ্যে পড়লে ইয়াতীম হিসেবে গণ্য হবে।
৪. মিসকিন: ফকির শ্রেণীর লোকেরাও তাদের শ্রেণিভুক্ত হবে।
৫. মুসাফির: অর্থাৎ যার পাথেয় শেষ হয়ে গেছে। তাকে সেই পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য পর্যন্ত যেতে পারবে।
আর বাকি চার অংশ অর্থাৎ, পাঁচ ভাগের চারভাগ, যারা যুদ্ধে উপস্থিত হবে তাদের জন্য। তবে তাদের পুরুষ, বালেগ, স্বাধীন ও জ্ঞানী হতে হবে; যারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। চাই তারা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, তারা শক্তিশালি হোক কিংবা দুর্বল হোক। যেমন উমার বলেন: الغَنِيمَةُ لِمَنْ شَهِدَ الوَقْعَة
"গনীমত তাদের জন্য যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।"৬৬৪ বণ্টন করার পদ্ধতি: পদাতিক সৈনিককে এক অংশ প্রদান করা হবে এবং অশ্বারোহী সৈন্যকে তিনটি অংশ প্রদান করতে হবে; এক অংশ তার নিজের জন্য এবং দুটি অংশ তার ঘোড়ার জন্য। যেমন ইবনু উমার এর বর্ণিত হাদীস:
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَ فِي النَّفَلِ لِلْفَرَسِ سَهْمَيْنِ، وَلِلرَّاجِلِ سَهْمَا
"নিশ্চয়ই আল্লাহর আল্লাহর রসূল গনীমত বণ্টন করেছেন। ঘোড় সাওয়ারকে দুই অংশ এবং পদাতিককে জন্য এক অংশ।"৬৬৫
جعل للراجل سهماً واحداً، وللفارس ثَلَاثَةُ أَسْهُم : নবী একবার যুদ্ধে এরূপ করেছেন: "পদাতিক সৈনিককে এক অংশ প্রদান করা হবে এবং অশ্বারোহী সৈন্যকে তিনটি অংশ প্রদান করা হবে।"৬৬৬ এর কারণ হলো, অশ্বারোহীর সম্পদের প্রয়োজনীয়তা এবং তার দ্বারা অর্জিত উপকারের পরিমাণ পদাতিকের চেয়ে বেশি।
আর কোনো মহিলা, দাস কিংবা শিশু যুদ্ধে উপস্থিত হলে তাদের জন্য কোনো নির্ধারিত অংশ নেই। বিশুদ্ধ মতানুসারে তাদেরকে সামান্য কিছু দেওয়া যেতে পারে। যেমন ইবনু আব্বাস এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে বলেন:
إِنَّكَ كَتَبْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ المَرْأَةِ وَالْعَبْدِ يَحْضُرَانِ الْمُغْنَمَ، هَلْ يُقْسَمُ لَهُمَا شَيْءٌ؟ وَإِنَّهُ لَيْسَ لَهُمَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يُحْذَيَا.
"তুমি আমাকে লিখেছে এ প্রশ্ন করে যে, যারা জিহাদে যোগ দিয়েছে এমন নারী এবং গোলামকে কি গনীমাতের কিছু দেওয়া হবে? তাদের (নির্ধারিত) কিছুই দেওয়া হবে না। তবে সবার কাছ থেকে কিছু কিছু নিয়ে (বখশিশরূপে) দেওয়া হবে।"৬৬৭
وفي لفظ : (وأما المملوك فكان يُحذى) অন্য বর্ণনায় রয়েছে: “গোলামকে গনীমত থেকে কিছু দেওয়া হতো।”৬৬৮ গনীমতে মাল যদি জমি হয়, তাহলে ইমাম যোদ্ধাদের মাঝে তা বন্টনের স্বাধীনতা রাখে কিংবা মুসলিমদের কল্যানার্থে তা ওয়াকফ করাও স্বাধীনতা রাখে। আর এ জমি যার হাতে থাকবে, তার নিকট থেকে ভূমিকর নেওয়া হবে। চাই সে মুসলিম কিংবা কোনো অমুসলিম যিম্মি হোক। এ ভূমিকর প্রত্যেক বছরই তার নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে। ইমামের এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণের দিকটাই ধর্তব্য হবে।

টিকাঃ
৬৬২. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৫২১।
৬৬৩. সুনান আবু দাউদ, হা, ২৬৯৪; নাসাঈ ৪১৩৮, দীর্ঘ হাদীস, অর্থগত বর্ণনা। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল ১২৪০
৬৬৪. ইমাম বায়হাক্বী সহীহ সানাদে কিতাবুল জিহাদের বাবুল গনীমাতে বর্ণনা করেছেন ৯/৫০; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৫/৩০২।
৬৬৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা, ৪২২৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৪৪৭৮ ফুআ. ১৭৬২।
৬৬৬. সহীহুল বুখারী, হা. ২৮৭৩।
৬৬৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৫৮০, ফুআ. ১৮১২।
৬৬৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৭২৭।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ফায়-এর সম্পদ ব্যয়ের খাত

📄 ফায়-এর সম্পদ ব্যয়ের খাত


الفيء বা ফায়: যা যুদ্ধ ছাড়াই আহলুল হারবদের থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে পাওয়া যায়। যেমন কাফেররা মুসলিমদের আগমনের কথা শুনে ধন-সম্পদ রেখে পলায়ন করল।
ব্যয়ের খাত: ইমাম তার ইচ্ছানুযায়ী তা মুসলিমদের কল্যাণার্থে ব্যয় করবেন। যেমন কাজী, মুয়ায্যিন, ইমাম, ফকীহ ও শিক্ষকদের বেতন সেখান থেকেই প্রদান করতে পারবেন। এ ছাড়া মুসলিমদের অন্যান্য কল্যাণে ব্যয় করতে পারবেন। ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِمَا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ، وَلَا رِكَابٍ، فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاصَّةً، وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِ، ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
“বানী নাযীর গোত্রের সম্পদ এমন সম্পদ যা আল্লাহ তা'আলা আল্লাহর রসূল -কে বিনাযুদ্ধে প্রদান করেন। সেখানে মুসলিমরা ঘোড়া এবং উট হাঁকিয়ে যুদ্ধ করেনি। এ সম্পদ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং তিনি তা থেকে নিজ পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণে খরচ করলেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র ক্রয় খাতে রেখে দিলেন।” ৬৬৯
এ জন্য আল্লাহ তা'আলা ফাইয়ের মাল ব্যয়ের বর্ণনায় প্রত্যেক শ্রেণির মুসলিমদের কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ
“যে ধন-সম্পদ আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে নিয়ে তাঁর রসূলকে দিয়েছেন তা আল্লাহর জন্য; তাঁর রসূলের জন্য; আর রসূলের আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন ও পথিকদের জন্য। যাতে তা তোমাদের মধ্যকার সম্পদশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।” [সূরা হাশর: ৭]
ইমাম অনির্ধারিত পরিমাণ মাল নিয়ে তার ইজতিহাদ অনুযায়ী নিকটাত্মীয়দেরকে প্রদান করবেন। আর বাকি মাল মুসলিমদের কল্যাণার্থে খরচ করবেন।

টিকাঃ
৬৬৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৯০৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৭৫৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00