📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জিহাদের সংজ্ঞা, ফযীলত, তাৎপর্য, বিধান এবং কখন সেটি নির্দিষ্ট (ফরযে আইন) হবে?

📄 জিহাদের সংজ্ঞা, ফযীলত, তাৎপর্য, বিধান এবং কখন সেটি নির্দিষ্ট (ফরযে আইন) হবে?


ক. জিহাদের (الجهاد) পরিচয়: আভিধানিক অর্থ: بذل الجهد والطاقة والوسع . “প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করা।” পারিভাষিক অর্থ: بذل الجهد والوسع في قتال الأعداء من الكفار ومدافعتهم. "কাফের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এবং তাদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করাকে জিহাদ বলা হয়।”
খ. জিহাদের ফযীলত ও তাৎপর্য: জিহাদ হলো ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া। যেমনটি নাবী নামকরণ করেছেন। ৬৪৯ কারণ এর মাধ্যমে ইসলাম উঁচু ও সমুন্নত হয়। যারা আল্লাহর রাস্তায় মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করেন আল্লাহ তা'আলা তাদের ফযীলত বর্ণনা করেছেন এবং তাদেরকে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। একটু পরই সূরা নিসার আয়াত উল্লেখ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও জিহাদ ও মুজাহিদদের ফযীলত সম্পর্কে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।
জিহাদ শরীয়ত সম্মত হওয়ার তাৎপর্য: আল্লাহ তা'আলা মহৎ কিছু উদ্দেশ্যে জিহাদকে শরীয়ত সম্মত করেছেন। তন্মধ্যে:
১. আল্লাহ তা'আলা জিহাদকে শরীয়ত সম্মত করেছেন, যাতে তিনি মানুষকে মূর্তি ও তাগুতের ইবাদত থেকে মুক্ত করতে পারেন এবং এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে তাদেরকে নিয়ে যেতে পারেন, যার কোনো শরীক নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ
"তোমরা সদা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনার অবসান হয় এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়." [সূরা আনফাল : ৩৯]
২. তিনি জিহাদকে শরীয়তসম্মত করেছেন, যাতে তিনি যুলুমকে দূর করতে পারেন এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرُ
"তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, যারা আক্রান্ত হয়েছে। কারণ তাদের প্রতি যুলম করা হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম." [সূরা হাজ্জ: ৩৯]
৩. তিনি জিহাদকে শরীয়ত সম্মত করেছেন কাফেরদেরকে অপদস্ত করার জন্য, তাদের নাককে ধূলায় ধূসরিত করার জন্য এবং তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنْصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ﴾
"তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। আর তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করবেন এবং মুমিনের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত ও ঠাণ্ডা করবেন." [সূরা তাওবা: ১৪]
গ. জিহাদের হুকুম এবং তার দলীল:
খাস বা বিশেষ অর্থে জিহাদ ফরযে কেফায়া। কেউ জিহাদ করলে অন্যদের আর পাপ হবে না। তাদের ক্ষেত্রে জিহাদ তখন সুন্নাহ হিসেবে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضَّلَ اللهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
"বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা কোনো অক্ষমতা ব্যতীতই গৃহে বসে থাকে, আর যারা নিজ ধন ও প্রাণ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা জান-মাল দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে গৃহে অবস্থানকারীদের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন; আল্লাহ সকলের জন্যই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মুজাহিদদেরকে বসে-থাকা লোকদের তুলনায় আল্লাহ মহাপুরস্কার দিয়ে মর্যাদা দান করেছেন." [সুরা নিসা: ৯৫]
এ আয়াত প্রমাণ করে যে, জিহাদ ফরযে কেফায়া; ফরযে আইন নয়। কেননা যারা জিহাদ করে এবং যারা কোনো ওজর ছাড়াই জিহাদ করে না, আল্লাহ তাদের মাঝে তুলনা করেছেন। আল্লাহ প্রত্যেকেই কল্যানের ওয়াদা দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে জান্নাত। যদি ফরযে আইন হতো তাহলে যারা জিহাদ করে না, তারা অবশ্যই শাস্তির হকদার হতো এবং তারা কোনো প্রতিশ্রুতি পেত না। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:
وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ
"আর মুমিনদের জন্য এটা সমীচীন নয় যে, সকলের একত্রে অভিযানে বের হবে। সুতরাং তাদের প্রত্যেক দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে।” [সূরা নিসা: ১২২]
এ আয়াতে শর্তযুক্ত করা হয়েছে মুসলিমরা তখনই শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যখন তাদের শক্তি ও সামর্থ্য হবে। যদি তাদের শক্তি ও সামর্থ না থাকে তাহলে অন্যান্য ওয়াজিবের মতোই তা রহিত হয়ে যাবে। সে অবস্থায় শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করলে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।
ঘ. জিহাদ কখন ফরযে আইন হবে?
নিম্নের অবস্থাগুলোর যে কোনো একটি পাওয়া গেলে জিহাদ ফরযে আইন হবে:
প্রথম অবস্থা: যখন শত্রুরা মুসলিমর দেশে আক্রমণ করবে, তাদের উপর চেপে বসবে কিংবা তাদের দেশকে অবরোধ করবে, তখন তাদের ক্ষতি ঠেকানোর জন্য সকল মুসলিমের উপরে জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: যুদ্ধের সময় দুই বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হলে জিহাদ ফরযে আইন এবং যুদ্ধে উপস্থিত মুসলিমদের উপর ময়দান থেকে পলায়ন করা হারাম হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ )
"হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন কাফের বাহিনীর সম্মুখীন হবে তখন তাদের মুকাবিলা করা হতে কখনোই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না।." [সূরা আনফাল : ৩৯]
নাবী যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করাকে ধ্বংসাত্মক জিনিসসমূহের মধ্যে গণনা করেছেন। ৬৫০
তবে নিষিদ্ধ পলায়ন থেকে দুটি অবস্থাকে পৃথক করা হয়েছে। প্রথমত: যদি কৌশলগত দিক পরিবর্তন করার জন্য পলায়ন করে, অর্থাৎ সে পলায়ন করে আরও বেশি শক্তি নিয়ে আসবে। দ্বিতীয়ত: শক্তি অর্জন ও সাহায্য লাভের জন্য মুসলিমদের কোনো দলের আশ্রয় গ্রহণ করার জন্য।
তৃতীয় অবস্থা: ইমাম যাদেরকে জিহাদে বের হতে বলবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَياةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَياةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ . إِلَّا تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا “হে মুমিনগণ! তোমাদের কি হলো যে, যখন তোমাদেরকে বলা হয়, আল্লাহর পথে বের হও, তখন তোমরা আরও জোরে মাটিতে লেগে থাকো। তাহলে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? বস্তুতঃ পার্থিব জীবনের ভোগ বিলাসিতা আখিরাতের তুলনায় কিছুই নয়, অতি সামান্য। যদি তোমরা (যুদ্ধাভিযানে) বের না হও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আর তোমরা আল্লাহর (দ্বীনের) কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী." (সূরা তাওবা: ৩৮-৩৯)
নাবী বলেন : )وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ، فَانْفِرُوا( “যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য ডাকা হবে, সাড়া দিবে। "৬৫১ চতুর্থ অবস্থা: কখানো নিজের প্রয়োজনে তার উপর জিহাদ করা ফরযে আইন।

টিকাঃ
৬৪৯. তিরমিযী, হা. ২৬১৬ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন। আহমাদ ৫/২৩১; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনানুত তিরমিযী, হা. ২১১০; এটা লম্বা হাদীসের অংশ।
৬৫০. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৭৬৬; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪৫।
৬৫১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৮৩৪; সহীহ মুসলিম, হা. ৩১৯৩, ফুআ, ১৩৫৩।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জিহাদের শর্তসমূহ

📄 জিহাদের শর্তসমূহ


জিহাদ ফরয হওয়ার জন্য সাতটি শর্তারোপ করা হয়েছে। সেগুলো হলো: ১. মুসলিম হওয়া ২. বালেগ হওয়া ৩. জ্ঞানবান হওয়া ৪. পুরুষ হওয়া ৫. স্বাধীন হওয়া ৬. শারীরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা ও ৭. অসুস্থতা ও অসুবিধা থেকে মুক্ত থাকা।
সুতরাং কোনো কাফেরের উপর জিহাদ আবশ্যক নয়। কেননা তা একপ্রকার ইবাদত। আর ইবাদত কাফেরের উপর আবশ্যক নয়। সে ইবাদত করলে বিশুদ্ধও হবে না। কেননা তার মধ্যে ইখলাস, আমানত ও আনুগত্য নেই। তাই তার জন্য মুসলিম সৈন্যবাহিনীর সাথে জিহাদে বের হওয়ার অনুমতি নেই। কেননা নাবী বদর যুদ্ধে এক মুশরিককে বলেছিলেন:
تُؤْمِنُ بِالله وَرَسُولِهِ ؟ قَالَ : لَا ، قَالَ : فَارْجِعْ، فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكِ
"তুমি কি আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান রাখো? সে বলল, না। তিনি বললেন: তাহলে তুমি ফিরে যাও, আমি কোনো মুশরিকের সাহায্য গ্রহণ করব না।"৬৫২
অনুরূপ অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের উপর জিহাদ আবশ্যক নয়। কেননা সে দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। ইবনু উমার এর হাদীস:
أنه عَرَضَ نفسه على رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةٌ، فَلَمْ يُجِزْهُ فِي المقاتلة
"তিনি নিজেকে উহুদের যুদ্ধের জন্য আল্লাহর রসল এর নিকটে উপস্থাপন করলেন। তখন তার বয়স ১৪ বছর। তাকে যুদ্ধের অনুমতি দেননি।”৬৫৩
পাগলের উপরে জিহাদ আবশ্যক নয়। কেননা তার থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। দাসের উপরে জিহাদ ফরয নয়, কেননা সে তার মনিবের মালিকনাভুক্ত। মহিলাদের উপরও জিহাদ ফরয নয়। আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
يا رسول الله هل على النساء جهاد؟ فقال: جِهَادٌ، لَا قِتَالَ فِيهِ : الْحَجِّ وَالْعُمْرَةُ
“হে আল্লাহর রসূল! মহিলাদের উপরও জিহাদ আছে? তিনি বললেন: হ্যা, তবে সে জিহাদে লড়াই নেই। তা হচ্ছে হাজ্জ ও উমরাহ।"৬৫৪
نرى الجِهَادَ أَفْضَلَ العَمَلِ ، أَفَلَا نُجَاهِدُ؟ قَالَ: لَكِنَّ أَفْضَلَ الجِهَادِ حَجٌ مَبْرُورُ
"আমরা দেখছি জিহাদ হচ্ছে সর্বোত্তম আমল। আমরা কী জিহাদ করব না? তিনি বললেন: সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে কবুল হাজ্জ।”৬৫৫
জিহাদে অক্ষম ব্যক্তি তাকেই বলা হয় যে ব্যক্তি দুর্বলতা কিংবা বয়স্ক হওয়ার কারণে অস্ত্র বহন করতে সক্ষম নয়, তার উপর জিহাদ আবশ্যক নয়। তেমনিভাবে এমন দরিদ্র ব্যক্তির উপরও জিহাদ ফরয নয় যে তার পরিবারের খরচ ও জিহাদের পথের খরচ বহন করতে সক্ষম না। আল্লাহ বলেন:
وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ
"আর খরচ করার মতো কোনো সম্বল যাদের নেই তাদের কোনো পাপ নেই।" [সূরা তাওবা: ৯১]
তেমনিভাবে যার কোনো অসুস্থতা, ক্ষতি কিংবা এ ধরনের কোনো ওযর রয়েছে, তার উপরও জিহাদ ফরয নয়। কেননা অপারগতা ওয়জিব দূর করে দেয়। আল্লাহ বলেন:
لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ
"অন্ধের উপর কোনো দোষ নেই, খোঁড়ার উপর কোনো দোষ নেই, অসুস্থর উপর কোনো দোষ নেই।" [সূরা ফাতহ: ১৭]
আল্লাহ আরও বলেন: لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَى وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ "দুর্বল লোকদের উপর কোনো পাপ নেই এবং অসুস্থ ব্যক্তির উপর। আর খরচ করার মতো কোনো সম্বল যাদের নেই তাদেরও কোনো পাপ নেই। যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি নিষ্ঠা রাখে।” [সূরা তাওবা : ৯১]

টিকাঃ
৬৫২. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৫৯৪, ফুআ. ১৮১৭।
৬৫৩. 'মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ২৬৬৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৬৮৬।
৬৫৪. ইবনু মাজাহ, হা. ২৯০১; বায়হাক্বী ৪/৩৫০ ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ১১৮৫।
৬৫৫. সহীহুল বুখারী, হা. ২৭৯৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যাদের উপর জিহাদ ফরজ নয়

📄 যাদের উপর জিহাদ ফরজ নয়


কিছু ওযরের কারণে জিহাদ রহিত হয়ে যাবে; সেটি ফরযে আইন কিংবা ফরযে কেফায়া হোক। সেগুলো হলো: ১-২. পাগল ও শিশু: আল্লাহর রসূল বলেন: رُفِعَ عَنْ ثَلاثَةٍ : عَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ، وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيُّ حَتَّى يحتلم. "তিন শ্রেণির থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১. পাগল; যতক্ষণ না সুস্থ হয়, ২. ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগ্রত হয়, ৩. শিশু যতক্ষণ না প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ৬৫৬
৩. মহিলা: কোনো মহিলার উপর জিহাদ ওয়াজিব নয়। পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
৪. দাস: আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: لِلْعَبْدِ المَمْلُوكِ الصَّالِحِ أَجْرَانِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلا الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالحَجُّ وَبِرُّ أُمِّي، لَأَحْبَبْتُ أَنْ أَمُوتَ وَأَنَا مَمْلُوكُ .) "সৎ ক্রীতদাসের সওয়াব হবে দ্বিগুণ। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহর পথে জিহাদ, হাজ্জ এবং আমার মায়ের সেবার মতো উত্তম কাজ যদি না থাকত, তাহলে ক্রীতদাসরূপে মৃত্যুবরণ করাই আমি পছন্দ করতাম।”৬৫৭
৫ ও ৬. শারিরিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক অক্ষমতা, অসুস্থতা কিংবা শরীরের কোনো অঙ্গ ঠিক না থাকা। যেমন- অন্ধ হওয়া, নেংড়া হওয়া ইত্যাদি। এর আলোচনা গত হয়েছে।
৭. নফল বা ঐচ্ছিক জিহাদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতা কিংবা দুইজনের একজনের অনুমতি না পাওয়া। ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ( جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الجِهَادِ، فَقَالَ : أَحَيُّ وَالِدَاكَ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ: فَفِيهِمَا فَجَاهِدٌ) "এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইল। তখন তিনি বললেন: তোমার পিতামাতা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। নাবী বললেন: তাহলে তাঁদের খেদমতে নিয়োজিত থাকো।”৬৫৮
পিতা-মাতার খেদমত করা ফরযে আইন। আর এই অবস্থায় জিহাদ ফরযে কেফায়া। সুতরাং, ফরযে আইনকেই অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। তবে যখন জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যাবে তখন তারা বাঁধা প্রদান করতে পারবে না এবং তাদের অনুমতিও লাগবে না।
৮. যার কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো অর্থ নেই এবং ঋণদাতার অনুমতিও নেই; যদি নফল জিহাদ হয়। নাবী বলেন: الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُكَفِّرُ كُلَّ شَيْءٍ، إِلَّا الدَّيْنَ "আল্লাহর পথে জিহাদ ঋণ ব্যতীত সকল বিষয়কে ক্ষমা করে দেয়। "৬৫৯
৯. ঐ আলেম যিনি ব্যতীত সে এলাকায় অন্য কোনো আলেম নেই; কেননা যদি সে নিহত হয় তাহলে অবশ্যই মানুষেরা তার প্রয়োজন অনুভব করবে। কারণ তার স্থলাভিষিক্ত কেউ হতে পারবে না। তাঁর চাইতে জ্ঞানী কাউকে না পাওয়া গেলে, মুসলিমদের প্রয়োজনের স্বার্থে তার থেকে জিহাদ রহিত হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৬৫৬. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৪০১; নাসাঈ ৬/১৫৬; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ২৯৭।
৬৫৭. সহীহুল বুখারী, হা. ২৫৪৮; তার কথা )وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ( সঠিক হচ্ছে এটা আবু হুরায়রা থেকে মুদরাজ।
৬৫৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩০০৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ২৫৪৯।
৬৫৯. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৮৮৬ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস এর হাদীস।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00