📄 আকীকার পরিচয়, বিধান ও সময়
১. আকীকা (العقيقة) এর পরিচয়:
العقيقة এর শাব্দিক অর্থ: العقيقة শব্দটি العَق শব্দ থেকে নির্গত। অর্থ: কর্তন করা। এটি মূলত শিশুর জন্মের সময়ের মাথার চুলের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে।
ما يذبح للمولود يوم سابعه عند حلق شعره : “নবজাতক শিশুর চুল কাটার সময় সপ্তম দিনে তার জন্য পশু যবেহ করাকে আকীকা বলা হয়।” এটি পিতার উপরে শিশুর হক।
২. العقيقة (আকীকা) এর হুকুম: আকীকা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। সালমান ইবনে আমের আয যবয়ী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসুল ﷺ কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
مَعَ الْغُلَامِ عَقِيقَتُهُ فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا، وَأَمِيطُوا عَنْهُ الْأَذَى
"প্রতিটি সন্তানের সাথে আকীকা রয়েছে। সুতরাং তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করো।"৬৩৭
সামুরা থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নাবী বলেছেন: (كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُخْلَقُ رَأْسُهُ) "প্রতিটি শিশু আকীকায় দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে যবেহ করো, তার মাথা মুণ্ডন করো।"৬৩৮
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নাবী বলেছেন: (مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ فَلْيَنْسُكَ) "যার কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর সে তার পক্ষ থেকে যবেহ করতে পছন্দ করে, তাহলে সে যেন আকীকা করে।"৬৩৯ ينسك অর্থ : يذبح অর্থাৎ, যবেহ করা।
৩. আকীকার সময়: নবজাতক শিশু মায়ের পেট থেকে পূর্নাঙ্গভাবে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে নিয়ে বালেগ হওয়া পর্যন্ত আকীকা করার বৈধ সময়। তবে জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা দেওয়া সুন্নাত। সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: الغُلَامُ مُرْتَهَنٌ بِعَقِيقَتِهِ يُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ، وَيُسَمَّى، وَيُخْلَقُ رَأْسُهُ "প্রতিটি শিশু আকীকায় বন্ধক থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে যবেহ করো, তার মাথা মুণ্ডন করো।"৬৪০
টিকাঃ
৬৩৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৩৯।
৬৩৮. আহমাদ ৫/৭,৮,১২; সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৩৭; তিরমিযী, হা. ১৫২২; নাসাঈ ৭/১৬৬; ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ৩৯৩৬।
৬৩৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৪২; নাসাঈ ৭/১৬২; আহমাদ ২/১৮২; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ৩৯২৮।
৬৪০. আহমাদ ৫/৭,৮,১২; সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৩৭; তিরমিযী, হা. ১৫২২; নাসাঈ ৭/১৬৬; ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ৩৯৩৬।
📄 আকীকায় যা যবেহ করা হবে তার পরিমাণ
ছেলে নবজাতকের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং মেয়ে নবজাতকের পক্ষ হতে একটি ছাগল যবেহ করা সুন্নত। উম্মে কারায আল ক্বাবিয়াহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: )عَنِ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ، وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاءٌ( "ছেলের জন্য একই ধরনের দুটি এবং কন্যার জন্য একটি ছাগল।” ৬৪১
টিকাঃ
৬৪১. আহমাদ ৬/৩৮১; সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৩৪; নাসাঈ ৭/১৬৫; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ৩৯৩১।
📄 নবজাতক শিশুর নামকরণ, মাথা মুণ্ডন, তাহনীক করণ এবং কানে আযান দেওয়া
১. নবজাতক শিশুর নামকরণ: জন্মের সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখা সুন্নাত। সামুরা থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নাবী বলেছেন:
(كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُخْلَقُ رَأْسُه) “প্রতিটি শিশু আকীকায় দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবাই করো, তার মাথা মুণ্ডন করো।”৬৪২
শিশুর জন্য ভালো নাম চয়ন করা সুন্নাত। নাবী খারাপ নাম পরিবর্তন করে ভালো নাম রেখেছেন এবং তিনি রাখতে বলেছেন। ৬৪৩ আর সবচেয়ে উত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নাম আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান।"৬৪৪
২. নবজাতক শিশুর চুল মুণ্ডন করা: আকীকা জবাই করার পরে তার চুল মুণ্ডন করা সুন্নাহ। চাই সে পুরুষ কিংবা মহিলা হোক এবং তার চুলের সমপরিমাণ রূপা সাদকা করবে। আলী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
(عَقَّ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الحَسَنِ بِشَاءٍ، وَقَالَ : يَا فَاطِمَةُ، احْلِقِي رَأْسَهُ، وَتَصَدَّقِي بِزِنَةِ شَعْرِهِ فِضَّةً) "রসূলুল্লাহ একটি ছাগল দ্বারা হাসানের আকীকা করেছেন। তিনি বলেছেন: হে ফাতিমা! তার মাথা নেড়া করে দাও এবং তার চুলের ওজনের অনুরূপ রূপা দান করো।”৬৪৫
৩. নবজাতক শিশুকে তাহনীক করানো: তাকে খেজুর দ্বারা তাহনীক করা সুন্নাত। চাই সে পুরুষ বা মহিলা হোক।
التحنيك: খেজুর চিবিয়ে নবজাতকের মুখে দেওয়া, যাতে তার কিছু পেটে যায়। আবু মুসা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
(وُلِدَ لِي غُلَامُ، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ، فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَ)
“আমার একটি ছেলে সন্তান হলো, আমি তাকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। অতঃপর একটি খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন।”৬৪৬
(إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُؤْتَى بِالصَّبِيَانِ وَيُحَنِّكُهُمْ) :আয়িশাহ থেকে বর্ণিত:
“আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে (নবজাতক) সন্তানদের নিয়ে আসা হতো। খেজুর চিবিয়ে তাদের মুখে দিতেন।”৬৪৭
৪. নবজাতক শিশুর কানে আযান দেওয়া: নবজাতকের জন্মের পরে তার কানে আযান দেওয়া সুন্নাত। বলা হয়: তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দিতে হবে। আবু রাফে থেকে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে।
(رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٌّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلَاةِ)
"ফাতিমা হাসান ইবনু আলী-কে প্রসব করলে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাসানের কানে সলাতের আযানের মতোই আযান দিতে দেখেছি।"৬৪৮
টিকাঃ
৬৪২. আহমাদ ৫/৭,৮,১২; সুনান আবু দাউদ, হা. ২৮৩৭; তিরমিযী, হা. ১৫২২; নাসাঈ ৭/১৬৬; ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ৩৯৩৬।
৬৪৩. দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/৫৭৭।
৬৪৪. সহীহ মুসলিম, হা., ফুআ. ১৯৬১।
৬৪৫. আহমাদ ৬/৩৯০, ৩৯২; মুয়াত্তা মালিক পৃষ্ঠা ২৫৯; তিরমিযী, হা. ১৫১৯; হাকিম ৪/২৩৭; বায়হাক্বী ৯/৩০৪; ইমাম অ্যালবানী হাসান পেছেন, সহীহত তিরমিযী, হা. ১২২৬।
৬৪৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫৪৬৭; সহীহ মুসলিম, হা. ৫৫0৮, ফুআ. ২১৪৫।
৬৪৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৫১২, ফুআ. ২১৪৭।
৬৪৮. তিরমিযী, হা. ১৫১৪ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন; শাইখ আলবানী হাসান বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ১২২৪।