📄 কুরবানির পশুর গোশত কি করবে এবং কুরবানি দানকারীর যিলহাজ্জ মাসের দশদিন কি কি করা আবশ্যক
১. কুরবানির পশুর গোশত কী করবে: কুরবানিকারীর জন্য সুন্নাত হলো, সে কুরবানির পশুর গোশত খাবে এবং নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের হাদীয়া প্রদান করবে ও ফকীরদের সাদকা করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ) "অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খাওয়াও."[সূরা হাজ্জ: ২৮]
তার জন্য মুস্তাহাব হলো তাকে তিনভাগে ভাগ করা: একভাগ তার পরিবারের জন্য, আরেকভাগ দরিদ্র প্রতিবেশীদের জন্য, আরেক ভাগ হাদীয়া দেওয়ার জন্য। ইবনু আব্বাস কুরবানির পশুর বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন:
ويطعم أهل بيته الثلث، ويطعم فقراء جيرانه الثلث، ويتصدق على السؤال بالثلث
"সে পরিবারকে এক তৃতীয়াংশ খাওয়াবে, প্রতিবেশীকে আরেক তৃতীয়াংশ খাওয়াবে এবং আরেক তৃতীয়াংশ দরিদ্রদেরকে সাদকা করে দিবে। "৬৩৪
তিনদিনের পরেও কুরবানির গোশত জমা করে রাখা বৈধ রয়েছে। বারিরা থেকে বর্ণিত। (نَهَيْتُكُمْ عَنْ ادْخَالَ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ) :
"আমি তোমাদের তিনদিনের বেশি কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুপাতে জমা করে রাখতে পারো।”৬৩৫
২. যিলহাজ্জ মাসের দশদিন কুরবানির ইচ্ছা পোষণকারীর জন্য যা আবশ্যক: যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিন কুরবানির ইচ্ছাপোষণকারীর জন্য চুল-নখ কাটা হারাম, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কুরবানি করে। উম্মে সালামা মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন:
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَعِنْدَهُ أَضْحِيَّةٌ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَأْخُذَنَّ شَعْرًا، وَلَا يَفْلِمَنَّ ظُفُرًا. وفي رواية - فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا.
"যখন (যিলহাজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয় আর কারো নিকট কুরবানীর পশু থাকে, যা সে কুরবানি করার নিয়ত রাখে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।" অন্য বর্ণনায়: “সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)।"৬৩৬
টিকাঃ
৬৩৪. মুগনী ৮/৬৩২
৬৩৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৫০০৮, ফুআ. ১৯৭৭
৬৩৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৫০১২, ফুআ. ১৯৭৭ (৩৯-৪০)