📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কুরবানির পশু জবাই করার সময়

📄 কুরবানির পশু জবাই করার সময়


যে ব্যক্তি ঈদের সলাত পড়বে তার জন্য ঈদের সলাতের পর থেকে কুরবানির পশু জবাই করার ওয়াক্ত শুরু। আর যে ব্যক্তি সলাত পড়বে না, সে কুরবানির দিন সূর্যদয়ের পর থেকে নিয়ে দুই রাকআত ও দুই খুতবার সমপরিমাণ সময় পরে জবাই করবে। বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন: مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا، وَنَسَكَ نُسُكَنَا، فَقَدْ أَصَابَ النُّسُكَ، مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُعِدْ مَكَانَهَا أُخْرَى
"যে আমাদের মতো সলাত আদায় করল এবং আমাদের মতো কুরবানি করল, সে কুরবানীর রীতিনীতি যথাযথ পালন করল। আর যে ব্যক্তি সলাতের পূর্বে কুরবানি করল, সে যেন পুনরায় তার স্থানে আরেকটি কুরবানি করে।”৬৩১
আর কুরবানির সময় চলমান থাকবে আয়্যামুত তাশরীকের শেষ দিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত। যুবায়ের ইবনু মুতয়িম থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি নাবী থেকে বর্ণনা করেন।
كُلُّ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ ذَبْحُ "আয়্যামুত তাশরীকের প্রত্যেক দিনই জবাই করার দিন। ”৬৩২
উত্তম হলো ঈদের সলাতের পরেই যবেহ করা। বারা ইবনে আযেব থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নাবী বলেছেন:
أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّي، ثُمَّ نَرْجِعَ، فَتَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُتَتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمُ قَدِّمُهُ لِأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النَّسْكِ فِي شَيْءٍ)
"আজকের দিনে আমাদের প্রথম কাজ সলাত আদায় করা। অতঃপর ফিরে এসে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের সুন্নাত পালন করল। যে ব্যক্তি সলাতের পূর্বেই যবেহ্ করবে, তা শুধু গোশ্তই হবে, যা সে পরিবারের জন্য পেশ করেছে। কুরবানি সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। "৬৩৩

টিকাঃ
৬৩১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৯৫৫, ৫৫৬২; সহীহ মুসলিম, হা., ফুআ. ১৯৬১।
৬৩২. আহমাদ ৪/৮২; বায়হাক্বী ৯/২৯৫; ইবনু হিব্বান, হা. ১০০৮; দারাকুনী ৪/২৮৪।
৬৩৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৯৬৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৪৯৬৩, ফুআ. ১৯৬১ অর্থগত বর্ণনা।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কুরবানির পশুর গোশত কি করবে এবং কুরবানি দানকারীর যিলহাজ্জ মাসের দশদিন কি কি করা আবশ্যক

📄 কুরবানির পশুর গোশত কি করবে এবং কুরবানি দানকারীর যিলহাজ্জ মাসের দশদিন কি কি করা আবশ্যক


১. কুরবানির পশুর গোশত কী করবে: কুরবানিকারীর জন্য সুন্নাত হলো, সে কুরবানির পশুর গোশত খাবে এবং নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের হাদীয়া প্রদান করবে ও ফকীরদের সাদকা করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ) "অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খাওয়াও."[সূরা হাজ্জ: ২৮]
তার জন্য মুস্তাহাব হলো তাকে তিনভাগে ভাগ করা: একভাগ তার পরিবারের জন্য, আরেকভাগ দরিদ্র প্রতিবেশীদের জন্য, আরেক ভাগ হাদীয়া দেওয়ার জন্য। ইবনু আব্বাস কুরবানির পশুর বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন:
ويطعم أهل بيته الثلث، ويطعم فقراء جيرانه الثلث، ويتصدق على السؤال بالثلث
"সে পরিবারকে এক তৃতীয়াংশ খাওয়াবে, প্রতিবেশীকে আরেক তৃতীয়াংশ খাওয়াবে এবং আরেক তৃতীয়াংশ দরিদ্রদেরকে সাদকা করে দিবে। "৬৩৪
তিনদিনের পরেও কুরবানির গোশত জমা করে রাখা বৈধ রয়েছে। বারিরা থেকে বর্ণিত। (نَهَيْتُكُمْ عَنْ ادْخَالَ لُحُومِ الْأَضَاحِي فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَأَمْسِكُوا مَا بَدَا لَكُمْ) :
"আমি তোমাদের তিনদিনের বেশি কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুপাতে জমা করে রাখতে পারো।”৬৩৫
২. যিলহাজ্জ মাসের দশদিন কুরবানির ইচ্ছা পোষণকারীর জন্য যা আবশ্যক: যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিন কুরবানির ইচ্ছাপোষণকারীর জন্য চুল-নখ কাটা হারাম, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কুরবানি করে। উম্মে সালামা মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন:
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَعِنْدَهُ أَضْحِيَّةٌ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَأْخُذَنَّ شَعْرًا، وَلَا يَفْلِمَنَّ ظُفُرًا. وفي رواية - فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا.
"যখন (যিলহাজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয় আর কারো নিকট কুরবানীর পশু থাকে, যা সে কুরবানি করার নিয়ত রাখে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।" অন্য বর্ণনায়: “সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)।"৬৩৬

টিকাঃ
৬৩৪. মুগনী ৮/৬৩২
৬৩৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৫০০৮, ফুআ. ১৯৭৭
৬৩৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৫০১২, ফুআ. ১৯৭৭ (৩৯-৪০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00