📄 নাবী ﷺ এর মসজিদ যিয়ারত
যে কোনো সময়ে নাবী এর কবর যিয়ারত করা সুন্নাত। চাই তা হাজ্জের পূর্বে কিংবা পরে হোক। এর জন্য নির্ধারিত কোনো সময় নেই। আর এটি হাজ্জের অন্তর্ভুক্ত নয়; শর্তও না, ওয়াজিবও না। কিন্তু যে হাজ্জ করতে যাবে তার জন্য হাজ্জ আদায়ের পূর্বে কিংবা পরে নাবী এর মসজিদ যিয়ারত করা উচিত। বিশেষ করে যার জন্য পুনরায় সফর করা কঠিন। যদি হাজ্জ পালনকারীগণ মসজিদে নববী গমন করে এবং তাতে সলাত পড়ে তাহলে অনেক সওয়াবের অধিকারী হবে এবং দুটি ভালো কাজের মাঝে সমন্বয়কারী হবে; ১. ফরয হাজ্জ পালনকারী, ২. সলাতের জন্য মসজিদে নববী যিয়ারতকারী। তবে জেনে রাখা উচিত এই যিয়ারত কিন্তু হাজ্জকে পরিপূর্ণকারী নয় এবং এটি হাজ্জের অন্তর্ভুক্তও নয়। হাজ্জ এই যিয়ারত ছাড়াই পরিপূর্ণ। এর মাঝে ও হাজ্জের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই।
নাবী এর মসজিদের জন্য যিয়ারত করা এবং তাতে সলাত পড়ার জন্য যিয়ারত করার ব্যাপারে অনেক দলীল রয়েছে। তন্মধ্যে-
১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَا تُشَدُّ الرِّجَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : المَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَسْجِدِ الْأَقْصَى.
“তিনটি মসজিদ ব্যতীত সফর করা যাবে না (উটের পিঠে হাওদা আঁটা যাবে না): মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রসুল ও মাসজিদুল আকসা।”৬১৫
২. তিনি বলেছেন: (صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلَّا الْمَسْجِدَ الحَرَامِ) “আমার এ মাসজিদে (মসজিদে নববীতে) সলাত মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে-কোনো মাসজিদে এক হাজার সলাতের চেয়েও উত্তম।” ৬১৬
এ হাদীসগুলোই নাবী এর মাসজিদে সলাতের জন্য যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত হওয়ার উপরে প্রমাণ করে। কারণ যিয়ারতের অনেক ফযীলত রয়েছে। এই তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য যে-কোনো মসজিদে ইবাদতের উদ্দেশ্য যিয়ারত করা হারামের উপরও প্রমাণ করে। তাই এই তিন মসজিদ ব্যতীত যে কোনো স্থানে যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত নয়। যেহেতু অনেকগুলো আম দলীল বর্ণিত হয়েছে, সুতরাং পুরুষ-মহিলা উভয়েই মাসজিদে নাববীতে সলাত আদায় করবে।
যিয়ারতের পদ্ধতি: মুসাফির যখন মসজিদে নববীতে পৌঁছবে, তার জন্য মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব। সে প্রবেশের সময় এ দুআটি পাঠ করবে: بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، اللهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
আর মসজিদে নববীর জন্য নির্ধারিত কোনো যিকর বা দুআ নেই। অতঃপর মসজিদের যে-কোনো স্থানে দুই রাকআত সলাত পড়বে। তবে যদি রওযায় পড়ে, তাহলে এটাই সবচেয়ে উত্তম। নাবী বলেন: (مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الجَنَّةِ) “আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।” ৬১৭ যে ব্যক্তি মসজিদে নববী যিয়ারত করবে, তার সেই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত পড়া উচিত। সে রওযাতে বেশি বেশি যিকর, দুআ ও নফল সলাত আদায় করবে। কারণ এতে অনেক সওয়াব রয়েছে। ফরয সলাতেও সে সামনের দিকে থাকার চেষ্টা করবে। কারণ সামনের কাতারগুলো রওযার নিকটবর্তী।
টিকাঃ
৬১৫. মুস্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮৯; সহীহ মুসলিম, হা. ৩২৭৫, ফুআ. ১৩৯৭ আবু সাঈদ খুদরী এর হাদীস।
৬১৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৩২৭২, ফুআ, ১৩৯৪।
৬১৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ১১৯৬, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৩৯০।
যে কোনো সময়ে নাবী এর কবর যিয়ারত করা সুন্নাত। চাই তা হাজ্জের পূর্বে কিংবা পরে হোক। এর জন্য নির্ধারিত কোনো সময় নেই। আর এটি হাজ্জের অন্তর্ভুক্ত নয়; শর্তও না, ওয়াজিবও না। কিন্তু যে হাজ্জ করতে যাবে তার জন্য হাজ্জ আদায়ের পূর্বে কিংবা পরে নাবী এর মসজিদ যিয়ারত করা উচিত। বিশেষ করে যার জন্য পুনরায় সফর করা কঠিন। যদি হাজ্জ পালনকারীগণ মসজিদে নববী গমন করে এবং তাতে সলাত পড়ে তাহলে অনেক সওয়াবের অধিকারী হবে এবং দুটি ভালো কাজের মাঝে সমন্বয়কারী হবে; ১. ফরয হাজ্জ পালনকারী, ২. সলাতের জন্য মসজিদে নববী যিয়ারতকারী। তবে জেনে রাখা উচিত এই যিয়ারত কিন্তু হাজ্জকে পরিপূর্ণকারী নয় এবং এটি হাজ্জের অন্তর্ভুক্তও নয়। হাজ্জ এই যিয়ারত ছাড়াই পরিপূর্ণ। এর মাঝে ও হাজ্জের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই।
নাবী এর মসজিদের জন্য যিয়ারত করা এবং তাতে সলাত পড়ার জন্য যিয়ারত করার ব্যাপারে অনেক দলীল রয়েছে। তন্মধ্যে-
১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَا تُشَدُّ الرِّجَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ : المَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَمَسْجِدِ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَسْجِدِ الْأَقْصَى.
“তিনটি মসজিদ ব্যতীত সফর করা যাবে না (উটের পিঠে হাওদা আঁটা যাবে না): মাসজিদুল হারাম, মাসজিদুর রসুল ও মাসজিদুল আকসা।”৬১৫
২. তিনি বলেছেন: (صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلَّا الْمَسْجِدَ الحَرَامِ) “আমার এ মাসজিদে (মসজিদে নববীতে) সলাত মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে-কোনো মাসজিদে এক হাজার সলাতের চেয়েও উত্তম।” ৬১৬
এ হাদীসগুলোই নাবী এর মাসজিদে সলাতের জন্য যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত হওয়ার উপরে প্রমাণ করে। কারণ যিয়ারতের অনেক ফযীলত রয়েছে। এই তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য যে-কোনো মসজিদে ইবাদতের উদ্দেশ্য যিয়ারত করা হারামের উপরও প্রমাণ করে। তাই এই তিন মসজিদ ব্যতীত যে কোনো স্থানে যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত নয়। যেহেতু অনেকগুলো আম দলীল বর্ণিত হয়েছে, সুতরাং পুরুষ-মহিলা উভয়েই মাসজিদে নাববীতে সলাত আদায় করবে।
যিয়ারতের পদ্ধতি: মুসাফির যখন মসজিদে নববীতে পৌঁছবে, তার জন্য মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব। সে প্রবেশের সময় এ দুআটি পাঠ করবে: بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، اللهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
আর মসজিদে নববীর জন্য নির্ধারিত কোনো যিকর বা দুআ নেই। অতঃপর মসজিদের যে-কোনো স্থানে দুই রাকআত সলাত পড়বে। তবে যদি রওযায় পড়ে, তাহলে এটাই সবচেয়ে উত্তম। নাবী বলেন: (مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الجَنَّةِ) “আমার ঘর ও আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান।” ৬১৭ যে ব্যক্তি মসজিদে নববী যিয়ারত করবে, তার সেই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত পড়া উচিত। সে রওযাতে বেশি বেশি যিকর, দুআ ও নফল সলাত আদায় করবে। কারণ এতে অনেক সওয়াব রয়েছে। ফরয সলাতেও সে সামনের দিকে থাকার চেষ্টা করবে। কারণ সামনের কাতারগুলো রওযার নিকটবর্তী।
টিকাঃ
৬১৫. মুস্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮৯; সহীহ মুসলিম, হা. ৩২৭৫, ফুআ. ১৩৯৭ আবু সাঈদ খুদরী এর হাদীস।
৬১৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৩২৭২, ফুআ, ১৩৯৪।
৬১৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ১১৯৬, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১৩৯০।
📄 নাবী ﷺ এর কবর যিয়ারত
যখন কোনো মুসলিম মাসজিদে নাববী যিয়ারত করবে, তার জন্য নাবী এর কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব এবং আবু বকর ও উমার এর কবরও যিয়ারত করা মুস্তাহাব। কারণ তা মাসজিদে নাববী যিয়ারত করার অনুগামী। কিন্তু এটি আসল উদ্দেশ্য নয়। এটাই হচ্ছে শরীয়ত।
সম্মত যিয়ারত। তবে শুধুমাত্র কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়ত সম্মত নয়। এ ছাড়াও অন্য কোনো নাবী, সৎ লোকের কবর যিয়ারত করা এবং পৃথিবীর যে কোনো স্থানে সফর করা (এ তিনটি মাসজিদ ব্যতীত: মাসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা) হারাম, এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে। যে একাজটি করবে, সে তার নিয়তের কারণে অবশ্যই গুনাহগার হবে। তার উদ্দেশ্যর কারণে পাপী হবে এবং হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিরোধিতাকারী হবে; কারণ হাদীসের বক্তব্য থেকে শুধুমাত্র এই তিনটি মসজিদ যিয়ারত করার বিষয়টি বোঝা যায়।
যিয়ারতের পদ্ধতি: যিয়ারতকারী নাবী এর কবরের সামনে আদবের সাথে ও নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর সে নাবী এর উপর এ বলে সালাম পাঠ করবে: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ "কেউ আমাকে সালাম দিলে আল্লাহ আমার 'রূহ' ফিরিয়ে দিবেন এবং আমি তার সালামের জবাব দিব।”৬১৮
যিয়ারতকারী যদি বলে: السَّلامُ عَلَيْكَ يا خِيَرَةَ اللهِ من خلقه، أشهد أنك قد بلغت الرسالة، وأديت الأمانة، ونصحت الأمة، وجاهدت في الله حق جهاده، اللهم أنه الوَسيلَةَ وَالفَضِيلَةَ ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ ، اللهم اجزه عن أمته خير الجزاء.
"হে আল্লাহর সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত পূর্ণ করেছেন, উম্মাহকে নসীহাহ করেছেন, আল্লাহর রাস্তায় সঠিকভাবে জিহাদ করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি তাকে ওয়াসীলাহ ও মর্যাদা দান করুন, শেষ বিচারের দিন প্রশংসিত স্থান দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। হে আল্লাহ, আপনি তাকে তার উম্মতের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।” তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
অতঃপর সে আবু বকর ও উমর এর উপর সালাম পেশ করবে, তাদের জন্য দুআ করবে এবং রহমতের দুআ করবে। ইবনু উমার থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে, যখন তিনি আল্লাহর রসূল এবং তার দুই সাহাবীর উপর সালাম পেশ করতেন, তখন তিনি এর বেশি পড়তেন না: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ الله ، السلام عليك يا أبا بكر، السلام عليك يا أبتاه
অতঃপর তিনি ফিরে চলে আসতেন।
যিয়ারতকারী বা অন্যান্যদের উপর পাথর স্পর্শ করা, চুম্বন করা, তাওয়াফ করা, দুআ করার সময় তাকে সামনে রাখা বা কোনো প্রয়োজনে আল্লাহর রসূল এর নিকট চাওয়া বা কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য শিফা কামনা করা হারাম। কেননা এসব কিছু আল্লাহর জন্য; আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট আবেদন করা যাবে না। নাবী এর কবর এবং নাবীর দুই সাহাবীর কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব নয় এবং হাজ্জের কোনো শর্তও নয়, যেমন কিছু সাধারণ অজ্ঞ মানুষেরা ধারণা করে থাকে। বরং তা মুস্তাহাব। তার মাঝে ও হাজ্জের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই।
নাবী এর কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যে সমস্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল এর কবর যিয়ারত হাজ্জের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। সেগুলো যঈফ কিংবা মাওযু। যেমন من حج ولم يزرني فقد جفاني : (যে হাজ্জ করল অথচ আমার কবর যিয়ারত করল না, সে আমার সাথে কঠোরতা করল।"
من زار قبري وجبت له شفاعتي : "যে আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যায়।" এ ছাড়া এ সম্পর্কে যতগুলো হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর একটিও নাবী থেকে সাব্যস্ত নয়। বরং অনেক বিদ্বান সেগুলোকে বানোয়াট এবং মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
টিকাঃ
৬১৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৪১; আহমাদ ২/৫২৭ আবু হুরায়রা এর হাদীস; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, সহীহুত তারগীব, হা. ১৬৬৬।
যখন কোনো মুসলিম মাসজিদে নাববী যিয়ারত করবে, তার জন্য নাবী এর কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব এবং আবু বকর ও উমার এর কবরও যিয়ারত করা মুস্তাহাব। কারণ তা মাসজিদে নাববী যিয়ারত করার অনুগামী। কিন্তু এটি আসল উদ্দেশ্য নয়। এটাই হচ্ছে শরীয়ত।
সম্মত যিয়ারত। তবে শুধুমাত্র কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়ত সম্মত নয়। এ ছাড়াও অন্য কোনো নাবী, সৎ লোকের কবর যিয়ারত করা এবং পৃথিবীর যে কোনো স্থানে সফর করা (এ তিনটি মাসজিد ব্যতীত: মাসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা) হারাম, এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে। যে একাজটি করবে, সে তার নিয়তের কারণে অবশ্যই গুনাহগার হবে। তার উদ্দেশ্যর কারণে পাপী হবে এবং হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিরোধিতাকারী হবে; কারণ হাদীসের বক্তব্য থেকে শুধুমাত্র এই তিনটি মসজিদ যিয়ারত করার বিষয়টি বোঝা যায়।
যিয়ারতের পদ্ধতি: যিয়ারতকারী নাবী এর কবরের সামনে আদবের সাথে ও নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর সে নাবী এর উপর এ বলে সালাম পাঠ করবে: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ "কেউ আমাকে সালাম দিলে আল্লাহ আমার 'রূহ' ফিরিয়ে দিবেন এবং আমি তার সালামের জবাব দিব।”৬১৮
যিয়ারতকারী যদি বলে: السَّلامُ عَلَيْكَ يا خِيَرَةَ اللهِ من خلقه، أشهد أنك قد بلغت الرسالة، وأديت الأمانة، ونصحت الأمة، وجاهدت في الله حق جهاده، اللهم أنه الوَسيلَةَ وَالفَضِيلَةَ ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ ، اللهم اجزه عن أمته خير الجزاء.
"হে আল্লাহর সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত পূর্ণ করেছেন, উম্মাহকে নসীহাহ করেছেন, আল্লাহর রাস্তায় সঠিকভাবে জিহাদ করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি তাকে ওয়াসীলাহ ও মর্যাদা দান করুন, শেষ বিচারের দিন প্রশংসিত স্থান দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। হে আল্লাহ, আপনি তাকে তার উম্মতের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।” তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
অতঃপর সে আবু বকর ও উমর এর উপর সালাম পেশ করবে, তাদের জন্য দুআ করবে এবং রহমতের দুআ করবে। ইবনু উমার থেকে আসার বর্ণিত হয়েছে, যখন তিনি আল্লাহর রসূল এবং তার দুই সাহাবীর উপর সালাম পেশ করতেন, তখন তিনি এর বেশি পড়তেন না: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ الله ، السلام عليك يا أبا بكر، السلام عليك يا أبتاه
অতঃপর তিনি ফিরে চলে আসতেন।
যিয়ারতকারী বা অন্যান্যদের উপর পাথর স্পর্শ করা, চুম্বন করা, তাওয়াফ করা, দুআ করার সময় তাকে সামনে রাখা বা কোনো প্রয়োজনে আল্লাহর রসূল এর নিকট চাওয়া বা কোনো বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য শিফা কামনা করা হারাম। কেননা এসব কিছু আল্লাহর জন্য; আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট আবেদন করা যাবে না। নাবী এর কবর এবং নাবীর দুই সাহাবীর কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব নয় এবং হাজ্জের কোনো শর্তও নয়, যেমন কিছু সাধারণ অজ্ঞ মানুষেরা ধারণা করে থাকে। বরং তা মুস্তাহাব। তার মাঝে ও হাজ্জের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই।
নাবী এর কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যে সমস্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল এর কবর যিয়ারত হাজ্জের অন্তর্ভুক্ত, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। সেগুলো যঈফ কিংবা মাওযু। যেমন من حج ولم يزرني فقد جفاني : (যে হাজ্জ করল অথচ আমার কবর যিয়ারত করল না, সে আমার সাথে কঠোরতা করল।"
من زار قبري وجبت له شفاعتي : "যে আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যায়।" এ ছাড়া এ সম্পর্কে যতগুলো হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর একটিও নাবী থেকে সাব্যস্ত নয়। বরং অনেক বিদ্বান সেগুলোকে বানোয়াট এবং মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
টিকাঃ
৬১৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ২০৪১; আহমাদ ২/৫২৭ আবু হুরায়রা এর হাদীস; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, সহীহুত তারগীব, হা. ১৬৬৬।
📄 মাদীনার আরও যে সমস্ত জায়গায় যিয়ারত করা সুন্নাত
মদীনা যিয়ারতকারীর জন্য সে পুরুষ কিংবা মহিলা হোক, মাসজিদে কুবার দিকে অযু করে বের হওয়া এবং তাতে সলাত পড়া মুস্তাহাব। কারণ নাবী মসজিদে কুবায় আরোহিত অবস্থায় ও হেঁটে যেতেন এবং দুই রাকআত সলাত পড়েছেন। ৬১৯ নাবী বলেছেন: (مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءَ، فَصَلَّى فِيهِ صَلَاةَ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ) "যে ব্যক্তি তার ঘরে পবিত্র হলো, অতঃপর মসজিদে কুবায় গমন করল এবং তাতে সলাত পড়ল, তার জন্য উমরার সমপরিমাণ সওয়াব নির্ধারিত হয়ে গেল।”৬২০
শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য 'বাকী কবরস্থান' এবং উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের কবর যিয়ারত সুন্নাহ। যেমন হামযা ও অন্যান্যদের কবর যিয়ারত করা, তাদের প্রতি সালাম পাঠ করা এবং তাদের জন্য দুআ করা সুন্নাহ। কারণ নাবী তাদের কবর যিয়ারত করেছেন এবং তাদের জন্য দুআ করেছেন। নাবী বলেছেন: (زوروا القبور فإنها تذكر الموت)
তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ তা মুত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”৬২১
নাবী তার সাহাবীদেরকে শিখিয়ে দিতেন, যে তারা যখন কবর যিয়ারত করবে, তারা যেন বলে: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا ، إِنْ شَاءَ اللهُ لَلَاحِقُونَ، أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
"হে কবরবাসী বিশ্বাসী মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহ চাইলে আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার আবেদন জানাচ্ছি। "৬২২ মদীনার এই স্থানগুলো যিয়ারত করা সুন্নাত।
এ ছাড়া অন্যান্য স্থান, যেগুলোর ব্যাপারে সাধারণ লোকেরা ধারণা করে থাকে যে সেস্থানে যিয়ারত কর শরীয়ত সম্মত; যেমন- মাবরাকুন নাক্কাহ; মাসজিদে জুমুআ, বিরুল খাতাম, বিরে উসমান, মাসজিদুস সাবআ এবং মাসজিদুল কিবলাতাইন, এগুলোর ব্যাপারে কোনো দলীল নেই। নাবী থেকে এমনকিছু সাব্যস্ত নেই যে তিনি এ স্থানগুলো যিয়ারত করেছেন কিংবা যিয়ারতের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো সালাফে সালেহ থেকেও বর্ণিত নেই যে, তিনি এগুলো যিয়ারত করেছেন। মদীনার মাসজিদুন নাবী ও মসজিদে কুবা ব্যতীত অন্য কোনো মাসজিদের বিশেষ মর্যাদা নেই। নাবী বলেছেন: مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
"যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা পরিত্যাজ্য।"৬২৩
সুতরাং, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, যখন মদীনা যিয়ারত করবে সে শরীয়ত সম্মত স্থানগুলো যিয়ারত করবে এবং যে স্থানগুলো যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত নয়, সেগুলো পরিহার করবে।
টিকাঃ
৬১৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৯৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৩৯৯।
৬২০. আহমাদ ৩/৪৮৭; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪১২; নাসাঈ ২/৩৭; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তারগীব, হা. ১১৮১।
৬২১. সহীহ মুসলিম, হা. ২১৪৯, ফুআ, ৯৭৬।
৬২২. সহীহ মুসলিম, হা. ২১৪৭, ফুআ, ৯৭৫।
৬২৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৮৪, ফুআ. ১৭১৮।
মদীনা যিয়ারতকারীর জন্য সে পুরুষ কিংবা মহিলা হোক, মাসজিদে কুবার দিকে অযু করে বের হওয়া এবং তাতে সলাত পড়া মুস্তাহাব। কারণ নাবী মসজিদে কুবায় আরোহিত অবস্থায় ও হেঁটে যেতেন এবং দুই রাকআত সলাত পড়েছেন। ৬১৯ নাবী বলেছেন: (مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءَ، فَصَلَّى فِيهِ صَلَاةَ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ) "যে ব্যক্তি তার ঘরে পবিত্র হলো, অতঃপর মসজিদে কুবায় গমন করল এবং তাতে সলাত পড়ল, তার জন্য উমরার সমপরিমাণ সওয়াব নির্ধারিত হয়ে গেল।”৬২০
শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য 'বাকী কবরস্থান' এবং উহুদ যুদ্ধের শহীদগণের কবর যিয়ারত সুন্নাহ। যেমন হামযা ও অন্যান্যদের কবর যিয়ারত করা, তাদের প্রতি সালাম পাঠ করা এবং তাদের জন্য দুআ করা সুন্নাহ। কারণ নাবী তাদের কবর যিয়ারত করেছেন এবং তাদের জন্য দুআ করেছেন। নাবী বলেছেন: (زوروا القبور فإنها تذكر الموت)
তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ তা মুত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”৬২১
নাবী তার সাহাবীদেরকে শিখিয়ে দিতেন, যে তারা যখন কবর যিয়ারত করবে, তারা যেন বলে: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا ، إِنْ شَاءَ اللهُ لَلَاحِقُونَ، أَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
"হে কবরবাসী বিশ্বাসী মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহ চাইলে আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার আবেদন জানাচ্ছি। "৬২২ মদীনার এই স্থানগুলো যিয়ারত করা সুন্নাত।
এ ছাড়া অন্যান্য স্থান, যেগুলোর ব্যাপারে সাধারণ লোকেরা ধারণা করে থাকে যে সেস্থানে যিয়ারত কর শরীয়ত সম্মত; যেমন- মাবরাকুন নাক্কাহ; মাসজিদে জুমুআ, বিরুল খাতাম, বিরে উসমান, মাসজিদুস সাবআ এবং মাসজিদুল কিবলাতাইন, এগুলোর ব্যাপারে কোনো দলীল নেই। নাবী থেকে এমনকিছু সাব্যস্ত নেই যে তিনি এ স্থানগুলো যিয়ারত করেছেন কিংবা যিয়ারতের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো সালাফে সালেহ থেকেও বর্ণিত নেই যে, তিনি এগুলো যিয়ারত করেছেন। মদীনার মাসজিদুন নাবী ও মসজিদে কুবা ব্যতীত অন্য কোনো মাসজিদের বিশেষ মর্যাদা নেই। নাবী বলেছেন: مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
"যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা পরিত্যাজ্য।"৬২৩
সুতরাং, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, যখন মদীনা যিয়ারত করবে সে শরীয়ত সম্মত স্থানগুলো যিয়ারত করবে এবং যে স্থানগুলো যিয়ারত করা শরীয়ত সম্মত নয়, সেগুলো পরিহার করবে।
টিকাঃ
৬১৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৯৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৩৯৯।
৬২০. আহমাদ ৩/৪৮৭; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪১২; নাসাঈ ২/৩৭; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তারগীব, হা. ১১৮১।
৬২১. সহীহ মুসলিম, হা. ২১৪৯, ফুআ, ৯৭৬।
৬২২. সহীহ মুসলিম, হা. ২১৪৭, ফুআ, ৯৭৫।
৬২৩. সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৮৪, ফুআ. ১৭১৮।