📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ইহরামের বিধিনিষেধ

📄 ইহরামের বিধিনিষেধ


শরীয়ত কর্তৃক মুহরিম ব্যক্তির জন্য করা নিষেধ কর্মসমূহ নয়টি:
১. সেলাইযুক্ত কাপড় পরিধান করা: যেমন পায়জামা, পোশাক ও অন্যান্য কাপড় যেগুলো শরীরে পৃথক পৃথকভাবে থাকে। তবে কেউ যদি লুঙ্গি না পায় তাহলে তার জন্য পায়জামা পরিধান করা বৈধ। এ নিষিদ্ধ কাজটি পুরুষদের জন্য। আর মহিলারা যে-কোনো কাপড় পরিধান করতে পারে। তবে নেকাব ও মোজা পরিধান করতে পারবে না। আলোচনা সামনে আসছে।
২. শরীর কিংবা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা: অনুরূপভাবে সুগন্ধির ঘ্রাণ নেওয়াও নিষেধ। তবে যে সমস্ত উদ্ভিদের সুগন্ধ নেই সেগুলোর ঘ্রাণ নেওয়া বৈধ। আর যেগুলোর সুগন্ধ নেই সেগুলো দ্বারা চোখে সুরমাও লাগাতে পারবে।
৩. পশম বা নখ কাটা: চাই সে পুরুষ কিংবা মহিলা হোক। তার জন্য হালকাভাবে মাথা ধৌত করা বৈধ রয়েছে। আর যদি তার কোনো নখ ভেঙ্গে যায়, তাহলে তা নিক্ষেপ করাও বৈধ রয়েছে।
৪. পুরুষের এমন কাপড় দ্বারা মাথা ঢাকা যেটা মাথার সাথে লেগে থাকে: তবে তার জন্য কোনো তাবু বা গাছের মাধ্যমে ছায়া নেওয়া বৈধ রয়েছে। মুহরিম ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে ছাতা দ্বারা ছায়া নেওয়া বৈধ রয়েছে। আর মহিলাদের জন্য নেকাব কিংবা বোরকা দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকা নিষেধ। কোনো গাইরে মাহরাম ব্যক্তি থাকলে উড়না দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকা আবশ্যক। মহিলাদের জন্য মোজা পরিধান করা নিষেধ। তাছাড়া অন্য যে-কোনো কাপড় পরিধান করতে ইচ্ছা করলে পরতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি অজ্ঞতা কিংবা ভুলবশত সুগন্ধি লাগাবে বা মাথা ঢাকবে কিংবা সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করবে, তার কোনো পাপ হবে না। কেননা নাবী বলেছেন: عفي لأمتي الخطأ، وَالنِّسْيَانَ، وَمَا اسْتَكْرِهُوا عَلَيْهِ.
"আমার উম্মত থেকে ভুলবশত কোনো কাজ করলে বা ভুলে গেলে কিংবা কোনো অপছন্দনীয় কাজের প্রতি তাকে বাধ্য করা হলে তার থেকে এগুলো ক্ষমা করা হয়েছে। "৬০৭ তবে যখনই কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি জানতে পারবে বা কোনো ভুলকারী ব্যক্তির স্মরণ হবে কিংবা বাধ্যকরণ দূর হবে, তখনই এই নিষিদ্ধ কাজ থেকে তার ফিরে আসা আবশ্যক।
৫. নিজে বিবাহ করা কিংবা অন্যকে বিবাহ পড়ানো।
৬. যোনিপথে সহবাস করা: প্রথম হালালের পূর্বে এমন কাজ হলে তা হাজ্জ বিনষ্টকারী হয়ে যাবে। যদিও তা আরাফার ময়দানে উপস্থিতির পরে হয়।
৭. লজ্জাস্থান ছাড়াই স্ত্রীর সংস্পর্শে যাওয়া: তবে এটা হাজ্জকে নষ্ট করবে না। তেমনিভাবে তাকে চুমু দেওয়া, স্পর্শ করা বা তার দিকে কামভাব নিয়ে তাকানো হাজ্জকে নষ্ট করবে না।
৮. স্থলচর প্রাণী হত্যা কিংবা শিকার করা: তবে তার জন্য সে সমস্ত দুরাচারী প্রাণীগুলো হত্যা করা বৈধ, যেগুলো নাবী হালাল কিংবা হারামে, মুহরিম কিংবা গাইরে মুহরিম উভয়ের জন্যই হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলো হলো- কাক, ইঁদুর, বিচ্ছু, চিল, সাপ এবং কামড়াতে অভ্যস্ত এমন কুকুর। তার জন্য স্থলের কোনো শিকারে সাহায্য করাও বৈধ নয়। চাই তা ইশারা কিংবা যে-কোনোভাবে হোক না কেন। আর বিশেষভাবে তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো কিছু শিকার করলে সেটাও তার জন্য খাওয়া বৈধ নয়।
৯. মুহরিম কিংবা অন্য ব্যক্তির জন্য হারামের কোনো গাছ বা উদ্ভিদ কাটাও বৈধ নয়, তবে গাছের কারণে সমস্যা হলে ভিন্ন কথা: তবে রাস্তায় চলার পথে কষ্টদায়ক উদ্ভিত কেটে ফেলা বৈধ। তবে সমস্ত আলেমের ঐকমত্যে হারামের গাছসমূহ থেকে ইযখির এবং মানুষ যা কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন করে, সেগুলোকে আলাদা করা হয়েছে।

টিকাঃ
৬০৭. সুনান ইবনে মাজাহ, হা. ২০৪৫; শাব্দিক পার্থক্য রয়েছে।

শরীয়ত কর্তৃক মুহরিম ব্যক্তির জন্য করা নিষেধ কর্মসমূহ নয়টি:
১. সেলাইযুক্ত কাপড় পরিধান করা: যেমন পায়জামা, পোশাক ও অন্যান্য কাপড় যেগুলো শরীরে পৃথক পৃথকভাবে থাকে। তবে কেউ যদি লুঙ্গি না পায় তাহলে তার জন্য পায়জামা পরিধান করা বৈধ। এ নিষিদ্ধ কাজটি পুরুষদের জন্য। আর মহিলারা যে-কোনো কাপড় পরিধান করতে পারে। তবে নেকাব ও মোজা পরিধান করতে পারবে না। আলোচনা সামনে আসছে।
২. শরীর কিংবা কাপড়ে সুগন্ধি ব্যবহার করা: অনুরূপভাবে সুগন্ধির ঘ্রাণ নেওয়াও নিষেধ। তবে যে সমস্ত উদ্ভিদের সুগন্ধ নেই সেগুলোর ঘ্রাণ নেওয়া বৈধ। আর যেগুলোর সুগন্ধ নেই সেগুলো দ্বারা চোখে সুরমাও লাগাতে পারবে।
৩. পশম বা নখ কাটা: চাই সে পুরুষ কিংবা মহিলা হোক। তার জন্য হালকাভাবে মাথা ধৌত করা বৈধ রয়েছে। আর যদি তার কোনো নখ ভেঙ্গে যায়, তাহলে তা নিক্ষেপ করাও বৈধ রয়েছে।
৪. পুরুষের এমন কাপড় দ্বারা মাথা ঢাকা যেটা মাথার সাথে লেগে থাকে: তবে তার জন্য কোনো তাবু বা গাছের মাধ্যমে ছায়া নেওয়া বৈধ রয়েছে। মুহরিম ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে ছাতা দ্বারা ছায়া নেওয়া বৈধ রয়েছে। আর মহিলাদের জন্য নেকাব কিংবা বোরকা দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকা নিষেধ। কোনো গাইরে মাহরাম ব্যক্তি থাকলে উড়না দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকা আবশ্যক। মহিলাদের জন্য মোজা পরিধান করা নিষেধ। তাছাড়া অন্য যে-কোনো কাপড় পরিধান করতে ইচ্ছা করলে পরতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি অজ্ঞতা কিংবা ভুলবশত সুগন্ধি লাগাবে বা মাথা ঢাকবে কিংবা সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করবে, তার কোনো পাপ হবে না। কেননা নাবী বলেছেন: عفي لأمتي الخطأ، وَالنِّسْيَانَ، وَمَا اسْتَكْرِهُوا عَلَيْهِ.
"আমার উম্মত থেকে ভুলবশত কোনো কাজ করলে বা ভুলে গেলে কিংবা কোনো অপছন্দনীয় কাজের প্রতি তাকে বাধ্য করা হলে তার থেকে এগুলো ক্ষমা করা হয়েছে। "৬০৭ তবে যখনই কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি জানতে পারবে বা কোনো ভুলকারী ব্যক্তির স্মরণ হবে কিংবা বাধ্যকরণ দূর হবে, তখনই এই নিষিদ্ধ কাজ থেকে তার ফিরে আসা আবশ্যক।
৫. নিজে বিবাহ করা কিংবা অন্যকে বিবাহ পড়ানো।
৬. যোনিপথে সহবাস করা: প্রথম হালালের পূর্বে এমন কাজ হলে তা হাজ্জ বিনষ্টকারী হয়ে যাবে। যদিও তা আরাফার ময়দানে উপস্থিতির পরে হয়।
৭. লজ্জাস্থান ছাড়াই স্ত্রীর সংস্পর্শে যাওয়া: তবে এটা হাজ্জকে নষ্ট করবে না। তেমনিভাবে তাকে চুমু দেওয়া, স্পর্শ করা বা তার দিকে কামভাব নিয়ে তাকানো হাজ্জকে নষ্ট করবে না।
৮. স্থলচর প্রাণী হত্যা কিংবা শিকার করা: তবে তার জন্য সে সমস্ত দুরাচারী প্রাণীগুলো হত্যা করা বৈধ, যেগুলো নাবী হালাল কিংবা হারামে, মুহরিম কিংবা গাইরে মুহরিম উভয়ের জন্যই হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলো হলো- কাক, ইঁদুর, বিচ্ছু, চিল, সাপ এবং কামড়াতে অভ্যস্ত এমন কুকুর। তার জন্য স্থলের কোনো শিকারে সাহায্য করাও বৈধ নয়। চাই তা ইশারা কিংবা যে-কোনোভাবে হোক না কেন। আর বিশেষভাবে তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো কিছু শিকার করলে সেটাও তার জন্য খাওয়া বৈধ নয়।
৯. মুহরিম কিংবা অন্য ব্যক্তির জন্য হারামের কোনো গাছ বা উদ্ভিদ কাটাও বৈধ নয়, তবে গাছের কারণে সমস্যা হলে ভিন্ন কথা: তবে রাস্তায় চলার পথে কষ্টদায়ক উদ্ভিত কেটে ফেলা বৈধ। তবে সমস্ত আলেমের ঐকমত্যে হারামের গাছসমূহ থেকে ইযখির এবং মানুষ যা কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন করে, সেগুলোকে আলাদা করা হয়েছে।

টিকাঃ
৬০৭. সুনান ইবনে মাজাহ, হা. ২০৪৫; শাব্দিক পার্থক্য রয়েছে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 নিষিদ্ধ কাজসমূহের ফিদয়া বা জরিমানা

📄 নিষিদ্ধ কাজসমূহের ফিদয়া বা জরিমানা


চুল মুণ্ডন, নক কাটা, সেলাই করা কাপড় পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মাথা ঢাকা, স্ত্রীর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার কারণে বীর্য বের হওয়া এবং বীর্য বের হওয়া ছাড়াই স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা: এসব কাজের জন্য তিন প্রকারের মধ্য হতে যে-কোনো এক ধরনের ফিদয়া প্রদান করতে হবে:
১. তিনদিন রোজা রাখতে হবে।
২. অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়াতে হবে।
৩. অথবা একটি ছাগল যবেহ করতে হবে। নাবী কা'ব বিন উজরাকে বলেছিলেন, যখন তাকে তার মাথার উকুন কষ্ট দিচ্ছিল: اخْلِقْ رَأْسَكَ، وَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ، أَوْ انْسُكْ بِشَاةٍ "মাথা মুণ্ডন করে ফেল। তুমি তিনদিন সওম পালন করো অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়াও অথবা একটি ছাগল কুরবানি করো।"৬০৮
অন্যান্য কাজগুলোকে এগুলোর উপরেই অনুমান করে নিতে হবে। কারণ এগুলো ইহরামে হারাম। কিন্তু এগুলো হাজ্জকে নষ্ট করবে না।
আর কেউ কোনো প্রাণী শিকার করলে তাকে যে-কোনো তিনটি কাজ করতে হবে; হয়তো সে শিকারকৃত প্রাণির ন্যায় অনুরূপ কিছু যবেহ করবে, নয়তো যবেহকৃত প্রাণির মূল্য নির্ণয় করে সেটা দিয়ে এমন খাদ্য ক্রয় করবে যেটা ফিতরা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে; সেখান থেকে প্রতিটি মিসকিনকে এক মুদ গম বা অন্যান্য খাদ্য যেমন খেজুর, যব ইত্যাদি থেকে অর্ধ সা করে দিবে, নয়তো প্রতিদিন মিসকিনকে খাওয়ানোর পরিবর্তে রোজা রাখবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءُ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا "আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক শিকার হত্যা করবে, তার উপর তখন বিনিময় ওয়াজিব হবে, যা (মূল্যের দিক দিয়ে) সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয়, যাকে সে হত্যা করেছে। যার (আনুমানিক মূল্যের) মীমাংসা তোমাদের মধ্য হতে দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি করে দিবে। সেই বিনিময় গৃহপালিত চতুস্পদ জন্তু হাদী স্বরূপ কা'বা ঘরে পৌঁছে দিবে, অথবা তার কাফফারা হলো মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করবে, অথবা এর সমপরিমাণ সিয়াম পালন করবে।"।সূরা মায়িদাহ : ৯৫]
প্রথম হালালের পূর্বেই হাজ্জে কেউ সহবাস করলে, স্ত্রীর সংস্পর্শে আসার কারণে বীর্য বের হলে বা হস্তমৈথুন করলে বা স্ত্রীকে চুমু দিলে বা তাকে কামনার সাথে স্পর্শ করলে বা বারবার তাকালে, হাজ্জ নষ্ট হয়ে যায়। যদিও ভুলবশত বা না জেনে কিংবা বল প্রয়োগের কারণে এগুলোতে লিপ্ত হয়। তার জন্য একটি পশু কুরবানি করা আবশ্যক এবং পুনরায় হাজ্জ করা এবং তাওবা করা আবশ্যক। আর প্রথম হালালের পরে হলে হাজ্জ নষ্ট হবে না। তবে তার জন্য একটি বকরি কুরবানি করা আবশ্যক। বিবাহ সম্পাদন করার বিষয়টিতে তার উপরে ফিদয়া আবশ্যক নয়। শুধুমাত্র আক্বদটা ফাসেদ বলে গণ্য হবে।
আর হারামে কোনো গাছ কিংবা উদ্ভিদ কেটে ফেলা, যেগুলো মানুষ উৎপাদন করেনি; ছোটে গাছের ক্ষেত্রে ছাগল এবং বড়োর ক্ষেত্রে গরু জরিমানা দিতে হবে। ঘাস ও পাতার ক্ষেত্রে তার সমপরিমাণ মূল্য ফিদয়া দিতে হবে। কারণ এগুলোর মূল্য রয়েছে।
যে ইচ্ছাকৃত এই কাজগুলো করবে তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য। কিন্তু যে না জেনে বা ভুলবশত কাটবে, তার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।

টিকাঃ
৬০৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৮১৫; সহীহ মুসলিম, হা. ১২০১।

চুল মুণ্ডন, নক কাটা, সেলাই করা কাপড় পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মাথা ঢাকা, স্ত্রীর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার কারণে বীর্য বের হওয়া এবং বীর্য বের হওয়া ছাড়াই স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা: এসব কাজের জন্য তিন প্রকারের মধ্য হতে যে-কোনো এক ধরনের ফিদয়া প্রদান করতে হবে:
১. তিনদিন রোজা রাখতে হবে।
২. অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়াতে হবে।
৩. অথবা একটি ছাগল যবেহ করতে হবে। নাবী কা'ব বিন উজরাকে বলেছিলেন, যখন তাকে তার মাথার উকুন কষ্ট দিচ্ছিল: اخْلِقْ رَأْسَكَ، وَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ، أَوْ انْسُكْ بِشَاةٍ "মাথা মুণ্ডন করে ফেল। তুমি তিনদিন সওম পালন করো অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়াও অথবা একটি ছাগল কুরবানি করো।"৬০৮
অন্যান্য কাজগুলোকে এগুলোর উপরেই অনুমান করে নিতে হবে। কারণ এগুলো ইহরামে হারাম। কিন্তু এগুলো হাজ্জকে নষ্ট করবে না।
আর কেউ কোনো প্রাণী শিকার করলে তাকে যে-কোনো তিনটি কাজ করতে হবে; হয়তো সে শিকারকৃত প্রাণির ন্যায় অনুরূপ কিছু যবেহ করবে, নয়তো যবেহকৃত প্রাণির মূল্য নির্ণয় করে সেটা দিয়ে এমন খাদ্য ক্রয় করবে যেটা ফিতরা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে; সেখান থেকে প্রতিটি মিসকিনকে এক মুদ গম বা অন্যান্য খাদ্য যেমন খেজুর, যব ইত্যাদি থেকে অর্ধ সা করে দিবে, নয়তো প্রতিদিন মিসকিনকে খাওয়ানোর পরিবর্তে রোজা রাখবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءُ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا "আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক শিকার হত্যা করবে, তার উপর তখন বিনিময় ওয়াজিব হবে, যা (মূল্যের দিক দিয়ে) সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয়, যাকে সে হত্যা করেছে। যার (আনুমানিক মূল্যের) মীমাংসা তোমাদের মধ্য হতে দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি করে দিবে। সেই বিনিময় গৃহপালিত চতুস্পদ জন্তু হাদী স্বরূপ কা'বা ঘরে পৌঁছে দিবে, অথবা তার কাফফারা হলো মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করবে, অথবা এর সমপরিমাণ সিয়াম পালন করবে।"।সূরা মায়িদাহ : ৯৫]
প্রথম হালালের পূর্বেই হাজ্জে কেউ সহবাস করলে, স্ত্রীর সংস্পর্শে আসার কারণে বীর্য বের হলে বা হস্তমৈথুন করলে বা স্ত্রীকে চুমু দিলে বা তাকে কামনার সাথে স্পর্শ করলে বা বারবার তাকালে, হাজ্জ নষ্ট হয়ে যায়। যদিও ভুলবশত বা না জেনে কিংবা বল প্রয়োগের কারণে এগুলোতে লিপ্ত হয়। তার জন্য একটি পশু কুরবানি করা আবশ্যক এবং পুনরায় হাজ্জ করা এবং তাওবা করা আবশ্যক। আর প্রথম হালালের পরে হলে হাজ্জ নষ্ট হবে না। তবে তার জন্য একটি বকরি কুরবানি করা আবশ্যক। বিবাহ সম্পাদন করার বিষয়টিতে তার উপরে ফিদয়া আবশ্যক নয়। শুধুমাত্র আক্বদটা ফাসেদ বলে গণ্য হবে।
আর হারামে কোনো গাছ কিংবা উদ্ভিদ কেটে ফেলা, যেগুলো মানুষ উৎপাদন করেনি; ছোটে গাছের ক্ষেত্রে ছাগল এবং বড়োর ক্ষেত্রে গরু জরিমানা দিতে হবে। ঘাস ও পাতার ক্ষেত্রে তার সমপরিমাণ মূল্য ফিদয়া দিতে হবে। কারণ এগুলোর মূল্য রয়েছে।
যে ইচ্ছাকৃত এই কাজগুলো করবে তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য। কিন্তু যে না জেনে বা ভুলবশত কাটবে, তার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।

টিকাঃ
৬০৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৮১৫; সহীহ মুসলিম, হা. ১২০১।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হাদী ও তার বিধান

📄 হাদী ও তার বিধান


ما يهدى إلى البيت الحرام من بهيمة الأنعام الإبل والبقر والغنم - تقرباً إلى الله تعالى.
"আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ হারামে যেই চতুষ্পদ জন্তু (উট, গরু ও ছাগল) পাঠানো হয় তাকে হাদী বলা হয়।"
হাদীর প্রকারসমূহ: ১. হাজ্জে তামাতু এবং ক্বিরানের হাদী: যে মসজিদে হারামে উপস্থিত হবে না, তার জন্য এটা আবশ্যক। আর এটি কুরবানির জন্য, ক্ষতিপূরণের জন্য নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْي “যে ব্যক্তি তামাত্ত্ব (হাজ্জে তামাতু) করে উমরাহ্ ও হাজ্জ একত্র করার মাধ্যমে তাহলে যা সহজ প্রাপ্য তা-এই কুরবানি করবে।"[সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬]
যদি তার নিকট হাদী বা হাদীর ক্রয়ের মতো অর্থ না থাকে, তবে হাজ্জের সময়ই তিনদিন রোজা রাখবে। أيام التشريق এর দিনগুলোতেও তার জন্য রোজা রাখা বৈধ এবং হাজ্জ থেকে ফিরে এসে সাতটি রোজা রাখবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ﴾ "কিন্তু যদি কেউ তা (পশু) না পায়, তবে তাকে হাজ্জের সময় তিন দিন এবং (ঘরে) ফিরে আসার পর সাত দিন সিয়াম পালন করতে হবে।" [সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬]
আর হাজ্জ পালনকারীর জন্য হাজ্জে তামাতু ও ক্বিরানের কুরবানির পশুর গোশত খাওয়াও মুস্তাহাব। মহান আল্লাহ বলেন:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَنَ "তা থেকে খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাঞ্চাকারী অভাবগ্রস্তকে খাওয়াও।"[সূরা হাজ্জ: ৩৬)
২. ক্ষতিপূরণের জন্য হাদী: তা হলো কোনো ওয়াজিব বর্জন করার কারণে বা ইহরামের নিষিদ্ধ কাজসমূহে লিপ্ত হওয়ার কারণে কিংবা কোনোভাবে বাধাগ্রস্থ হলে যে ওয়াজিব ফিদয়া দেওয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْي
"কিন্তু যদি তোমরা বাধাগ্রস্ত হও, তবে যা সম্ভব কুরবানী দিবে।" সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬)
من نسي من نسكه شيئاً أو تركه، فليرق دماً :ইবনু আব্বাস বলেন:
“কোনো ব্যক্তি হাজ্জের কোনো পালনীয় বিষয় ভুলে গেলে বা ছেড়ে দিলে, সে যেন একটি পশু যবেহ করে।”৬০৯ এ ধরনের পশুর গোশত খাওয়া বৈধ নয়। বরং তা হারামের দরিদ্রদের মাঝে সাদকা করে দিতে হবে।
৩. মুস্তাহাব হাদী: এটি প্রত্যেক হাজ্জ পালনকারী ও প্রত্যেক উমরা পালনকারীর জন্য মুস্তাহাব। কারণ এটি নাবী করেছেন। নাবী বিদায় হাজ্জে একশটি উট কুরবানি করেছিলেন।
এ ধরনের হাদী থেকে খাওয়াও মুস্তাহাব। কারণ নাবী প্রত্যেক উটের কিছু গোশতের টুকরা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর তা রান্না করা হয়েছিল এবং নাবী তা খেয়েছিলেন ও তার ঝোল পান করেছিলেন। ৬১০ البضعة গোশতের টুকরা।
মুহরিম ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্যদের জন্য মক্কায় হাদী পাঠানো বৈধ রয়েছে। যাতে তা যবেহ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুহরিম ব্যক্তিদের জন্য যা হারাম তা অন্যদের জন্য হারাম নয়।
৪. মানত করার হাদী: তা হলো হাজ্জ পালনকারী বায়তুল্লাহর নিকটে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যে মানত করে, তার জন্য এ নযর পূর্ণ করা আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ
"অতঃপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মানত পূর্ণ করে।" [সূরা হাজ্জ : ২৯] এ হাদী থেকে তার জন্য খাওয়া বৈধ নয়।
হাদী যবেহ করার সময়: হাজ্জে তামাতু ও ক্বিরানের হাদী যবেহ করার সময়, কুরবানির দিন ঈদের সলাতের পর থেকে আয়্যামুত তাশরীকের শেষ দিন পর্যন্ত। আর ক্ষতি পূরণের যবেহ যখন ইচ্ছা করতে পারে। তেমনিভাবে ওয়াজিব বর্জনের যবেহ যখন ইচ্ছা করতে পারে।
আর কোনো কারণে হাজ্জে বাধাপ্রাপ্ত হলে, একটি বকরী বা উটের এক সপ্তমাংশ কিংবা গরুর এক সপ্তমাংশ কুরবানি করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْي “কিন্তু যদি তোমরা বাধাগ্রস্ত হও, তবে যা সম্ভব কুরবানী দিবে।”(সূরা বাক্বারাহ : ১৯৬]
জবাই করার স্থান: তামাণ্ডু ও ক্বিরানের হাদী জবাই করার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো: সেগুলো মিনায় যবেহ করা। তবে যদি সে হারামের যে-কোনো স্থানে যবেহ করে তাও তার জন্য বৈধ রয়েছে।
তেমনিভাবে কোনো ওয়াজিব বর্জনের ফিদয়া বা নিষিদ্ধকাজসমূহের লিপ্ত হওয়ার জন্য যে ফিদয়া প্রদান করা হয়, সেগুলোও শুধুমাত্র হারামেই যবেহ করতে হবে। তবে হাজ্জে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে যে স্থানে বাঁধাপ্রাপ্ত হবে সেই স্থানেই যবেহ করবে। আর রোজা যে-কোনো স্থানেই রাখা বৈধ।
তবে মুস্তাহবা হলে হাজ্জ পালন অবস্থায় তিনটি রোজা রাখবে এবং ফিরে এসে সাতটি রোজা রাখবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَقِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ
"যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি তামাতু (হাজে তামাতু) করে উমরাহ্ ও হাজ্জ একত্রর মাধ্যমে, তাহলে যা সহজ প্রাপ্য তা'ই কুরবানি করবে। কিন্তু যদি কেউ তা (পশু) না পায়, তবে তাকে হাজ্জের সময় তিন দিন এবং (ঘরে) ফিরে আসার পর সাত দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এভাবেই দশদিন পূর্ণ করবে।" (সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬)
মুস্তাহাব হলো হাজ্জ পালনকারী নিজেই জবাই করবে। অন্য কেউ যবেহ করলে কোনো সমস্যা নেই। জবাইর সময় بِسْمِ الله، اللهم هذا منك ولك এ দুআ বলা মুস্তাহাব।
হাদীর শর্তসমূহ: কুরবানির শর্তগুলোই হাদীর শর্ত হিসেবে প্রযাজ্য হবে:
১. হাদীর পশুটি চতুষ্পদ প্রাণী হওয়া আবশ্যক। (অর্থাৎ উট, গরু বা ছাগল হওয়া আবশ্যক)।
২. সেটিকে দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে। যেমন: অসুস্থতা, দৃষ্টিহীনতা, লেংড়া এবং দুর্বলতা থেকে মুক্ত হতে হবে।
৩. সেটির শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বয়স পরিপূর্ণ হতে হবে। যেমন উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে, গরুর বয়স দুই বছর হতে হবে এবং ছাগলের বয়স এক বছর হতে হবে ও ভেড়ার বয়স ছয় মাস হতে হবে।

টিকাঃ
৬০৯. বায়হাকী ৫/১৫২।
৬১০. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১২১৮।

ما يهدى إلى البيت الحرام من بهيمة الأنعام الإبل والبقر والغنم - تقرباً إلى الله تعالى. "আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ হারামে যেই চতুষ্পদ জন্তু (উট, গরু ও ছাগল) পাঠানো হয় তাকে হাদী বলা হয়।"
হাদীর প্রকারসমূহ: ১. হাজ্জে তামাতু এবং ক্বিরানের হাদী: যে মসজিদে হারামে উপস্থিত হবে না, তার জন্য এটা আবশ্যক। আর এটি কুরবানির জন্য, ক্ষতিপূরণের জন্য নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْي “যে ব্যক্তি তামাত্ত্ব (হাজ্জে তামাতু) করে উমরাহ্ ও হাজ্জ একত্র করার মাধ্যমে তাহলে যা সহজ প্রাপ্য তা-এই কুরবানি করবে।"[সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬]
যদি তার নিকট হাদী বা হাদীর ক্রয়ের মতো অর্থ না থাকে, তবে হাজ্জের সময়ই তিনদিন রোজা রাখবে। أيام التشريق এর দিনগুলোতেও তার জন্য রোজা রাখা বৈধ এবং হাজ্জ থেকে ফিরে এসে সাতটি রোজা রাখবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ﴾ "কিন্তু যদি কেউ তা (পশু) না পায়, তবে তাকে হাজ্জের সময় তিন দিন এবং (ঘরে) ফিরে আসার পর সাত দিন সিয়াম পালন করতে হবে।" [সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬]
আর হাজ্জ পালনকারীর জন্য হাজ্জে তামাতু ও ক্বিরানের কুরবানির পশুর গোশত খাওয়াও মুস্তাহাব। মহান আল্লাহ বলেন:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَنَ "তা থেকে খাও এবং ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাঞ্চাকারী অভাবগ্রস্তকে খাওয়াও।"[সূরা হাজ্জ: ৩৬)
২. ক্ষতিপূরণের জন্য হাদী: তা হলো কোনো ওয়াজিব বর্জন করার কারণে বা ইহরামের নিষিদ্ধ কাজসমূহে লিপ্ত হওয়ার কারণে কিংবা কোনোভাবে বাধাগ্রস্থ হলে যে ওয়াজিব ফিদয়া দেওয়া হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْي
"কিন্তু যদি তোমরা বাধাগ্রস্ত হও, তবে যা সম্ভব কুরবানী দিবে।" সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬)
من نسي من نسكه شيئاً أو تركه، فليرق دماً :ইবনু আব্বাস বলেন:
“কোনো ব্যক্তি হাজ্জের কোনো পালনীয় বিষয় ভুলে গেলে বা ছেড়ে দিলে, সে যেন একটি পশু যবেহ করে।”৬০৯ এ ধরনের পশুর গোশত খাওয়া বৈধ নয়। বরং তা হারামের দরিদ্রদের মাঝে সাদকা করে দিতে হবে।
৩. মুস্তাহাব হাদী: এটি প্রত্যেক হাজ্জ পালনকারী ও প্রত্যেক উমরা পালনকারীর জন্য মুস্তাহাব। কারণ এটি নাবী করেছেন। নাবী বিদায় হাজ্জে একশটি উট কুরবানি করেছিলেন।
এ ধরনের হাদী থেকে খাওয়াও মুস্তাহাব। কারণ নাবী প্রত্যেক উটের কিছু গোশতের টুকরা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর তা রান্না করা হয়েছিল এবং নাবী তা খেয়েছিলেন ও তার ঝোল পান করেছিলেন। ৬১০ البضعة গোশতের টুকরা।
মুহরিম ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্যদের জন্য মক্কায় হাদী পাঠানো বৈধ রয়েছে। যাতে তা যবেহ করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। মুহরিম ব্যক্তিদের জন্য যা হারাম তা অন্যদের জন্য হারাম নয়।
৪. মানত করার হাদী: তা হলো হাজ্জ পালনকারী বায়তুল্লাহর নিকটে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যে মানত করে, তার জন্য এ নযর পূর্ণ করা আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ
"অতঃপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মানত পূর্ণ করে।" [সূরা হাজ্জ : ২৯] এ হাদী থেকে তার জন্য খাওয়া বৈধ নয়।
হাদী যবেহ করার সময়: হাজ্জে তামাতু ও ক্বিরানের হাদী যবেহ করার সময়, কুরবানির দিন ঈদের সলাতের পর থেকে আয়্যামুত তাশরীকের শেষ দিন পর্যন্ত। আর ক্ষতি পূরণের যবেহ যখন ইচ্ছা করতে পারে। তেমনিভাবে ওয়াজিব বর্জনের যবেহ যখন ইচ্ছা করতে পারে।
আর কোনো কারণে হাজ্জে বাধাপ্রাপ্ত হলে, একটি বকরী বা উটের এক সপ্তমাংশ কিংবা গরুর এক সপ্তমাংশ কুরবানি করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْي “কিন্তু যদি তোমরা বাধাগ্রস্ত হও, তবে যা সম্ভব কুরবানী দিবে।”(সূরা বাক্বারাহ : ১৯৬]
জবাই করার স্থান: তামাণ্ডু ও ক্বিরানের হাদী জবাই করার ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো: সেগুলো মিনায় যবেহ করা। তবে যদি সে হারামের যে-কোনো স্থানে যবেহ করে তাও তার জন্য বৈধ রয়েছে।
তেমনিভাবে কোনো ওয়াজিব বর্জনের ফিদয়া বা নিষিদ্ধকাজসমূহের লিপ্ত হওয়ার জন্য যে ফিদয়া প্রদান করা হয়, সেগুলোও শুধুমাত্র হারামেই যবেহ করতে হবে। তবে হাজ্জে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে যে স্থানে বাঁধাপ্রাপ্ত হবে সেই স্থানেই যবেহ করবে। আর রোজা যে-কোনো স্থানেই রাখা বৈধ।
তবে মুস্তাহবা হলে হাজ্জ পালন অবস্থায় তিনটি রোজা রাখবে এবং ফিরে এসে সাতটি রোজা রাখবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَقِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ
"যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি তামাতু (হাজে তামাতু) করে উমরাহ্ ও হাজ্জ একত্রর মাধ্যমে, তাহলে যা সহজ প্রাপ্য তা'ই কুরবানি করবে। কিন্তু যদি কেউ তা (পশু) না পায়, তবে তাকে হাজ্জের সময় তিন দিন এবং (ঘরে) ফিরে আসার পর সাত দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এভাবেই দশদিন পূর্ণ করবে।" (সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬)
মুস্তাহাব হলো হাজ্জ পালনকারী নিজেই জবাই করবে। অন্য কেউ যবেহ করলে কোনো সমস্যা নেই। জবাইর সময় بِسْمِ الله، اللهم هذا منك ولك এ দুআ বলা মুস্তাহাব।
হাদীর শর্তসমূহ: কুরবানির শর্তগুলোই হাদীর শর্ত হিসেবে প্রযাজ্য হবে:
১. হাদীর পশুটি চতুষ্পদ প্রাণী হওয়া আবশ্যক। (অর্থাৎ উট, গরু বা ছাগল হওয়া আবশ্যক)।
২. সেটিকে দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে। যেমন: অসুস্থতা, দৃষ্টিহীনতা, লেংড়া এবং দুর্বলতা থেকে মুক্ত হতে হবে।
৩. সেটির শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বয়স পরিপূর্ণ হতে হবে। যেমন উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে, গরুর বয়স দুই বছর হতে হবে এবং ছাগলের বয়স এক বছর হতে হবে ও ভেড়ার বয়স ছয় মাস হতে হবে।

টিকাঃ
৬০৯. বায়হাকী ৫/১৫২।
৬১০. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ১২১৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00