📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হাজ্জের শর্তসমূহ

📄 হাজ্জের শর্তসমূহ


হাজ্জ ওয়াজিব হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্তারোপ করা হয়েছে:
১. ইসলাম: কাফের ব্যক্তির উপর হাজ্জ ফরয নয় এবং তার পক্ষ থেকে হাজ্জ বিশুদ্ধও হবে না। কেননা ইসলাম ইবাদত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত।
২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া: পাগল ব্যক্তির উপর হাজ্জ ফরয নয় এবং পাগল ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাজ্জ বিশুদ্ধ হবে না। কেননা শরীয়তের হুকুম পালনের জন্য জ্ঞানবান হওয়া শর্ত। আর পাগল ব্যক্তি শরীয়তের হুকুম পালনের যোগ্য নয় এবং তার থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে।
যেমন আলী এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহর রসূল বলেছেন:
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ، عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ ، وَعَنِ الصَّبِيُّ حَتَّى يَبْلُغَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ
“তিন প্রকার লোকের উপর থেকে কলম তুলে রাখা হয়েছে। ১. নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়; ২. নাবালেগ শিশু, যতক্ষণ না প্রাপ্তবয়স্ক হয়; ৩. নির্বোধ পাগল, যতক্ষণ না সুস্থ হয়।”৫৯১
৩. বালেগ হওয়া: শিশুর উপরে হাজ্জ ফরয নয়। কেননা সে শরীয়ত পালনের যোগ্য নয় এবং বালেগ হওয়া পর্যন্ত তার থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেমন পূর্বের হাদীসে বলা হয়েছে, ...رفع الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ “তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।” কিন্তু সে যদি হাজ্জ করে, তাহলে তার হাজ্জ সহীহ বলে গণ্য হবে। তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক নিয়ত করবে, যদি সে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে না পারে। তার এ হাজ্জ ফরয হাজ্জ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। এতে বিদ্বানগণের নিকট কোনো দ্বিমত নেই। ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত। "নিশ্চয় এক মহিলা তার ছোটো শিশুকে উপরে উঠিয়ে বলল: হে আল্লাহর রসূল! এর জন্য কি হাজ্জ রয়েছে? তিনি বললেন: (نَعَمْ، وَلَكِ أَجْرٌ) “হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সওয়াব রয়েছে।”৫৯২ নাবী আরও বলেন: أَيُّمَا صَبِيٌّ حَجَّ ثُمَّ بَلَغَ فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى، وَأَيُّمَا عَبْدٍ حَجَّ ثُمَّ عُتِقَ فَعَلَيْهِ حِجَّةً أُخْرَى) "কোনো শিশু হাজ্জ করল অতঃপর বালেগ হলো। তাহলে তার জন্য আরেকবার হাজ্জ করা আবশ্যক। কোনো দাস হাজ্জ করল অতঃপর দাসত্ব থেকে মুক্ত হলো। তাহলে তার জন্য আরেকবার হাজ্জ করা আবশ্যক। ৫৯৩
৪. স্বাধীন হওয়া: কোনো দাসের উপর হাজ্জ ফরয নয়। কেননা সে গোলাম, যে কোনো কিছুর মালিক নয়। কিন্তু যদি সে তার মনিবের অনুমতি সাপেক্ষে হাজ্জ করে, তাহলে তার হাজ্জ বিশুদ্ধ হবে। বিদ্বানগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কোনো দাস যদি দাসত্বের অবস্থায় হাজ্জ করে অতঃপর যদি সে দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়, তাহলে তার সামর্থ থাকলে তার উপর ইসলামের হাজ্জ করা আবশ্যক। দাসত্বের অবস্থায় সে যে হাজ্জ করেছে সেটা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না। وَأَيُّمَا عَبْدٍ حَجَّ ثُمَّ عُتِقَ فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى “কোনো দাস হাজ্জ করল অতঃপর দাসত্ব থেকে মুক্ত হলো। তাহলে তার জন্য আরেকবার হাজ্জ করা আবশ্যক।”৫৯৪
৫. সক্ষম হওয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন ﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا .... “যেসব মানুষ সফর করার আর্থিক সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আবশ্যক আল্লাহর উদ্দেশ্যে এই গৃহের হাজ্জ করা।" [সূরা আলি ইমরান: ৯৭]
যে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নয়, যেমন কারো নিকটে এমন পরিমাণ পাথেয় নেই যেটা তার হাজ্জ করতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তার পরিবারের জন্যও যথেষ্ট হবে (তার হাজ্জে থাকা অবস্থায়) অথবা সে যদি মক্কায় যাওয়ার জন্য কোনো বাহন না পায় বা যে শারীরিক দিক থেকে সক্ষম নয়, যেমন সে ব্যক্তি অতিবৃদ্ধ অথবা অসুস্থ, যে বাহনে আরোহণ করতে সক্ষম নয় এবং সফরের কষ্ট বহন করতে সক্ষম নয় বা তার জন্য যদি হাজ্জ করতে যাওয়ার রাস্তা নিরাপদ না হয়, যেমন পথে যদি ছিনতাইকারী থাকে বা কোনো মহামারি থাকে, যে কারণে সে নিজের জান ও মালের উপর আশঙ্কা করে। তাই এ ধরনের ব্যক্তিদের উপরে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত হাজ্জ ফরয নয়। আল্লাহ বলেন: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا﴿
"কোনো ব্যক্তির উপর আল্লাহ তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপান না।" [সূরা বাক্বারাহ: ২৮৬]
সাধ্যমত সক্ষমতার কথাই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে সক্ষমতা হলো মাহরাম বিদ্যমান থাকা যিনি তার সফরসঙ্গী হবেন। কারণ মাহরাম ছাড়া তার জন্য হাজ্জ কিংবা যে-কোনো সফর বৈধ নয়। নাবী বলেছেন:
لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، أَنْ تُسَافِرَ سَفَرًا يَكُونُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا، إِلَّا وَمَعَهَا أَبُوهَا، أَوِ ابْنُهَا، أَوْ زَوْجُهَا، أَوْ أَخُوهَا، أَوْ ذُو مَحْرَمٍ مِنْهَا
“যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে তার জন্য বৈধ নয় যে, তিনদিন বা তার অতিরিক্ত সময়ের পথ সফর করবে তার পিতা অথবা তার ছেলে অথবা তার স্বামী অথবা তার ভাই অথবা তার অপর কোনো মাহরাম আত্মীয়কে সঙ্গী করা ব্যতীত।”৫১৫
নাবী এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন:
قَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَّةٌ، وَإِنِّي اكْتُبْتُ فِي غَزْوَةِ وَكَذَا، قَالَ: انْطَلِقُ فَحُجَّ مَعَهَا.
"এক ব্যক্তি বলল, আমার স্ত্রী হাজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং আমাকে অমুক সৈন্য বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বললেন: তুমি যাও এবং তার সাথে হাজ্জ করো।"৫৯৬
যদি কোনো মহিলা মাহরাম ছাড়াই হাজ্জ করে তাহলে তার হাজ্জ বিশুদ্ধ হবে। কিন্তু সে মাহরাম ছাড়া হাজ্জ করার কারণে পাপী হবে।

টিকাঃ
৫৯১. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৪০১; ইবনু মাজাহ, হা. ২০৪১।
৫৯২. সহীহ মুসলিম, হা. ৩১৪৪, ফুআ, ১৩৩৬।
৫৯৩. মুসনাদুশ শাফেঈ, হা. ৭৪৩; বায়হাক্বী ৫/১৭৯; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, ৯৮৬।
৫৯৪. মুসনাদুশ শাফেঈ, হা. ৭৪৩; বায়হাক্বী ৫/১৭৯; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, ৯৮৬।
৫৯৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৩১৬১, ফুআ. ১৩৪০।
৫৯৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হা.৩১৬৩, ফুআ. ১৩৪১।

হাজ্জ ওয়াজিব হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্তারোপ করা হয়েছে:
১. ইসলাম: কাফের ব্যক্তির উপর হাজ্জ ফরয নয় এবং তার পক্ষ থেকে হাজ্জ বিশুদ্ধও হবে না। কেননা ইসলাম ইবাদত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত।
২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া: পাগল ব্যক্তির উপর হাজ্জ ফরয নয় এবং পাগল ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাজ্জ বিশুদ্ধ হবে না। কেননা শরীয়তের হুকুম পালনের জন্য জ্ঞানবান হওয়া শর্ত। আর পাগল ব্যক্তি শরীয়তের হুকুম পালনের যোগ্য নয় এবং তার থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে।
যেমন আলী এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহর রসূল বলেছেন:
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ، عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ ، وَعَنِ الصَّبِيُّ حَتَّى يَبْلُغَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ
“তিন প্রকার লোকের উপর থেকে কলম তুলে রাখা হয়েছে। ১. নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়; ২. নাবালেগ শিশু, যতক্ষণ না প্রাপ্তবয়স্ক হয়; ৩. নির্বোধ পাগল, যতক্ষণ না সুস্থ হয়।”৫৯১
৩. বালেগ হওয়া: শিশুর উপরে হাজ্জ ফরয নয়। কেননা সে শরীয়ত পালনের যোগ্য নয় এবং বালেগ হওয়া পর্যন্ত তার থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেমন পূর্বের হাদীসে বলা হয়েছে, ...رفع الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ “তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।” কিন্তু সে যদি হাজ্জ করে, তাহলে তার হাজ্জ সহীহ বলে গণ্য হবে। তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক নিয়ত করবে, যদি সে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে না পারে। তার এ হাজ্জ ফরয হাজ্জ হিসেবে যথেষ্ট হবে না। এতে বিদ্বানগণের নিকট কোনো দ্বিমত নেই। ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত। "নিশ্চয় এক মহিলা তার ছোটো শিশুকে উপরে উঠিয়ে বলল: হে আল্লাহর রসূল! এর জন্য কি হাজ্জ রয়েছে? তিনি বললেন: (نَعَمْ، وَلَكِ أَجْرٌ) “হ্যাঁ এবং তোমার জন্য সওয়াব রয়েছে।”৫৯২ নাবী আরও বলেন: أَيُّمَا صَبِيٌّ حَجَّ ثُمَّ بَلَغَ فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى، وَأَيُّمَا عَبْدٍ حَجَّ ثُمَّ عُتِقَ فَعَلَيْهِ حِجَّةً أُخْرَى) "কোনো শিশু হাজ্জ করল অতঃপর বালেগ হলো। তাহলে তার জন্য আরেকবার হাজ্জ করা আবশ্যক। কোনো দাস হাজ্জ করল অতঃপর দাসত্ব থেকে মুক্ত হলো। তাহলে তার জন্য আরেকবার হাজ্জ করা আবশ্যক। ৫৯৩
৪. স্বাধীন হওয়া: কোনো দাসের উপর হাজ্জ ফরয নয়। কেননা সে গোলাম, যে কোনো কিছুর মালিক নয়। কিন্তু যদি সে তার মনিবের অনুমতি সাপেক্ষে হাজ্জ করে, তাহলে তার হাজ্জ বিশুদ্ধ হবে। বিদ্বানগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কোনো দাস যদি দাসত্বের অবস্থায় হাজ্জ করে অতঃপর যদি সে দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়, তাহলে তার সামর্থ থাকলে তার উপর ইসলামের হাজ্জ করা আবশ্যক। দাসত্বের অবস্থায় সে যে হাজ্জ করেছে সেটা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না। وَأَيُّمَا عَبْدٍ حَجَّ ثُمَّ عُتِقَ فَعَلَيْهِ حِجَّةٌ أُخْرَى “কোনো দাস হাজ্জ করল অতঃপর দাসত্ব থেকে মুক্ত হলো। তাহলে তার জন্য আরেকবার হাজ্জ করা আবশ্যক।”৫৯৪
৫. সক্ষম হওয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন ﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ....
"যেসব মানুষ সফর করার আর্থিক সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আবশ্যক আল্লাহর উদ্দেশ্যে এই গৃহের হাজ্জ করা।" [সূরা আলি ইমরান: ৯৭]
যে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নয়, যেমন কারো নিকটে এমন পরিমাণ পাথেয় নেই যেটা তার হাজ্জ করতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তার পরিবারের জন্যও যথেষ্ট হবে (তার হাজ্জে থাকা অবস্থায়) অথবা সে যদি মক্কায় যাওয়ার জন্য কোনো বাহন না পায় বা যে শারীরিক দিক থেকে সক্ষম নয়, যেমন সে ব্যক্তি অতিবৃদ্ধ অথবা অসুস্থ, যে বাহনে আরোহণ করতে সক্ষম নয় এবং সফরের কষ্ট বহন করতে সক্ষম নয় বা তার জন্য যদি হাজ্জ করতে যাওয়ার রাস্তা নিরাপদ না হয়, যেমন পথে যদি ছিনতাইকারী থাকে বা কোনো মহামারি থাকে, যে কারণে সে নিজের জান ও মালের উপর আশঙ্কা করে। তাই এ ধরনের ব্যক্তিদের উপরে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত হাজ্জ ফরয নয়। আল্লাহ বলেন: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا﴿
"কোনো ব্যক্তির উপর আল্লাহ তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপান না।" [সূরা বাক্বারাহ: ২৮৬]
সাধ্যমত সক্ষমতার কথাই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে সক্ষমতা হলো মাহরাম বিদ্যমান থাকা যিনি তার সফরসঙ্গী হবেন। কারণ মাহরাম ছাড়া তার জন্য হাজ্জ কিংবা যে-কোনো সফর বৈধ নয়। নাবী বলেছেন:
لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ، أَنْ تُسَافِرَ سَفَرًا يَكُونُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا، إِلَّا وَمَعَهَا أَبُوهَا، أَوِ ابْنُهَا، أَوْ زَوْجُهَا، أَوْ أَخُوهَا، أَوْ ذُو مَحْرَمٍ مِنْهَا
“যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে তার জন্য বৈধ নয় যে, তিনদিন বা তার অতিরিক্ত সময়ের পথ সফর করবে তার পিতা অথবা তার ছেলে অথবা তার স্বামী অথবা তার ভাই অথবা তার অপর কোনো মাহরাম আত্মীয়কে সঙ্গী করা ব্যতীত।”৫১৫
নাবী এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন:
قَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَّةٌ، وَإِنِّي اكْتُبْتُ فِي غَزْوَةِ وَكَذَا، قَالَ: انْطَلِقُ فَحُجَّ مَعَهَا.
"এক ব্যক্তি বলল, আমার স্ত্রী হাজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং আমাকে অমুক সৈন্য বাহিনীতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বললেন: তুমি যাও এবং তার সাথে হাজ্জ করো।"৫৯৬
যদি কোনো মহিলা মাহরাম ছাড়াই হাজ্জ করে তাহলে তার হাজ্জ বিশুদ্ধ হবে। কিন্তু সে মাহরাম ছাড়া হাজ্জ করার কারণে পাপী হবে।

টিকাঃ
৫৯১. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৪০১; ইবনু মাজাহ, হা. ২০৪১।
৫৯২. সহীহ মুসলিম, হা. ৩১৪৪, ফুআ, ১৩৩৬।
৫৯৩. মুসনাদুশ শাফেঈ, হা. ৭৪৩; বায়হাক্বী ৫/১৭৯; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, ৯৮৬।
৫৯৪. মুসনাদুশ শাফেঈ, হা. ৭৪৩; বায়হাক্বী ৫/১৭৯; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া, ৯৮৬।
৫৯৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৩১৬১, ফুআ. ১৩৪০।
৫৯৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হা.৩১৬৩, ফুআ. ১৩৪১।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 উমরার হুকুম ও তার দলীল

📄 উমরার হুকুম ও তার দলীল


সক্ষম ব্যক্তির উপর জীবনে একবার উমরা করা ওয়াজিব। মহান আল্লাহ বলেন: وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ “আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও 'উমরাহকে পূর্ণ করো।” [সুরা বাক্বারাহ: ১৯৬]
নাবী আয়িশাহ কে বলেছিলেন যখন সে জানতে চাইল: মহিলাদের উপরে কি জিহাদ ফরয? আল্লাহর রসূল বলেন: نَعَمْ، عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ، لَا قِتَالَ فِيهِ : الْحَجَّ وَالْعُمْرَةُ “হ্যাঁ। তাদের উপর জিহাদ ফরয। তবে তাতে কোনো যুদ্ধ নেই। আর সে জিহাদ হচ্ছে হাজ্জ ও উমরা করা।”৫৯৭
আবু রাযীন যখন জানতে চাইল যে তার পিতা হাজ্জ, উমরা ও বাহনে আরোহণ করতে সক্ষম নয় তখন তিনি বলেছিলেন : حُجَّ، عَنْ أَبِيكَ، وَاعْتَمِرُ “তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হাজ্জ ও উমরা পালন করো।”৫৯৮
উমরার রুকন তিনটি: ১. ইহরাম বাঁধা, ২. তাওয়াফ করা ও ৩. সাঈ করা।

টিকাঃ
৫৯৭. আহমাদ ৬/১৬৫; ইবনু মাজাহ, হা. ২৯০১।
৫৯৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৮১০; নাসাঈ ৫/১১১; ইবনু মাজাহ, হা. ২৯০৪, ২৯০৫; আহমাদ ১/২৪৪; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ২৪৭৩।

সক্ষম ব্যক্তির উপর জীবনে একবার উমরা করা ওয়াজিব। মহান আল্লাহ বলেন: وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ “আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাজ্জ ও 'উমরাহকে পূর্ণ করো।” [সুরা বাক্বারাহ: ১৯৬]
নাবী আয়িশাহ কে বলেছিলেন যখন সে জানতে চাইল: মহিলাদের উপরে কি জিহাদ ফরয? আল্লাহর রসূল বলেন: نَعَمْ، عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ، لَا قِتَالَ فِيهِ : الْحَجَّ وَالْعُمْرَةُ “হ্যাঁ। তাদের উপর জিহাদ ফরয। তবে তাতে কোনো যুদ্ধ নেই। আর সে জিহাদ হচ্ছে হাজ্জ ও উমরা করা।”৫৯৭
আবু রাযীন যখন জানতে চাইল যে তার পিতা হাজ্জ, উমরা ও বাহনে আরোহণ করতে সক্ষম নয় তখন তিনি বলেছিলেন : حُجَّ، عَنْ أَبِيكَ، وَاعْتَمِرُ “তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হাজ্জ ও উমরা পালন করো।”৫৯৮
উমরার রুকন তিনটি: ১. ইহরাম বাঁধা, ২. তাওয়াফ করা ও ৩. সাঈ করা।

টিকাঃ
৫৯৭. আহমাদ ৬/১৬৫; ইবনু মাজাহ, হা. ২৯০১।
৫৯৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৮১০; নাসাঈ ৫/১১১; ইবনু মাজাহ, হা. ২৯০৪, ২৯০৫; আহমাদ ১/২৪৪; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ২৪৭৩।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 হাজ্জ ও উমরার মীকাত

📄 হাজ্জ ও উমরার মীকাত


মীকাতের আবিধানিক অর্থ: الحد বা সীমানা বা সীমা। পরিভাষায়: هو موضع العبادة أو زمنها "ইবাদতের স্থান বা সময়কে মীকাত বলা হয়।” মীকাত দুই প্রকার: ১. সময় ২. স্থানগত।
হাজ্জ ও উমরার সময়ের মীকাত: উমরা: বছরের যে কোনো সময়ে উমরা আদায় করা বৈধ।
হাজ্জ: হাজ্জের জন্য মাস নির্ধারিত। হাজ্জের কোনো আমলই এ মাসগুলো ছাড়া অন্য মাসে বৈধ হবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿الْحَجُّ أَشْهُرُ مَعْلُومَاتُ﴾ “হাজ্জ হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট মাসে।” [সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬] সে মাসগুলো হলো শাওয়াল, যুল ক্ব'দাহ ও যুল হিজ্জাহ।
হাজ্জ ও উমরার স্থানগত মীকাত: হাজ্জ ও উমরা পালনকারীর জন্য ইহরাম ছাড়া এ সীমানাগুলো অতিক্রম করা বৈধ নয়। নাবী সেগুলো ইবনু আব্বাস এর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। وَقَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأَهْلِ المَدِينَةِ ذَا الحُلَيْفَةِ، وَلِأَهْلِ الشَّأْمِ الْجُحْفَةَ، وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ المَنَازِلِ، وَلِأَهْلِ اليَمَنِ يَلَمْلَمَ، هُنَّ هُنَّ، وَلَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ أَرَادَ الحَجَّ وَالْعُمْرَةَ، وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ، فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ مِنْ مَكَّةَ
“আল্লাহর রসূল মদীনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাহ; সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য জুহফা; নাজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল; ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলামকে মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এগুলো ঐসব এলাকার লোকদের মীকাত এবং এর বাইরের যে সব লোক হাজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ঐসব এলাকা হয়ে আসবে, তাদের মীকাত। আর যেসব লোক উল্লিখিত মীকাতসমূহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা স্বস্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে, এভাবে যারা আরও ভিতরে, তারা সে স্থান হতে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকে।”৫৯৯
যে ব্যক্তি এ মীকাতগুলো ইহরাম ছাড়াই অতিক্রম করবে, তার উপরে উক্ত স্থানে ফিরে আসা আবশ্যক, যদি তার ফিরে আসা সম্ভব হয়। আর ফিরে আসা সম্ভব না হলে তার উপরে ফিদয়া আবশ্যক। আর ফিদয়া হচ্ছে একটি ছাগল, যা সে মক্কায় যবেহ করবে এবং হারামের মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করে দিবে।
আর যারা মীকাতগুলোর বাইরের অধীবাসী হবে (অর্থাৎ মীকাতের স্থানগুলোর ভেতরের), তারা নিজেদের স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। পূর্বের হাদীসে যেমন বলা হয়েছে। وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ، فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ
“আর যেসব লোক উল্লিখিত মীকাতসমূহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা স্বস্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে।”৬০০

টিকাঃ
৫৯৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৫২৪; সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৯৩, ফুআ, ১১৮১; অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ইরাকবাসীর মীকাত যাতু ইরাক।
৬০০. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৫২৪; সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৯৩, ফুআ. ১১৮১।

মীকাতের আবিধানিক অর্থ: الحد বা সীমানা বা সীমা। পরিভাষায়: هو موضع العبادة أو زمنها "ইবাদতের স্থান বা সময়কে মীকাত বলা হয়।” মীকাত দুই প্রকার: ১. সময় ২. স্থানগত।
হাজ্জ ও উমরার সময়ের মীকাত: উমরা: বছরের যে কোনো সময়ে উমরা আদায় করা বৈধ।
হাজ্জ: হাজ্জের জন্য মাস নির্ধারিত। হাজ্জের কোনো আমলই এ মাসগুলো ছাড়া অন্য মাসে বৈধ হবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿الْحَجُّ أَشْهُرُ مَعْلُومَاتُ﴾ “হাজ্জ হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট মাসে।” [সূরা বাক্বারাহ: ১৯৬] সে মাসগুলো হলো শাওয়াল, যুল ক্ব'দাহ ও যুল হিজ্জাহ।
হাজ্জ ও উমরার স্থানগত মীকাত: হাজ্জ ও উমরা পালনকারীর জন্য ইহরাম ছাড়া এ সীমানাগুলো অতিক্রম করা বৈধ নয়। নাবী সেগুলো ইবনু আব্বাস এর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। وَقَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأَهْلِ المَدِينَةِ ذَا الحُلَيْفَةِ، وَلِأَهْلِ الشَّأْمِ الْجُحْفَةَ، وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ المَنَازِلِ، وَلِأَهْلِ اليَمَنِ يَلَمْلَمَ، هُنَّ هُنَّ، وَلَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ أَرَادَ الحَجَّ وَالْعُمْرَةَ، وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ، فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ مِنْ مَكَّةَ
“আল্লাহর রসূল মদীনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাহ; সিরিয়ার অধিবাসীদের জন্য জুহফা; নাজদবাসীদের জন্য কারনুল মানাযিল; ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলামকে মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এগুলো ঐসব এলাকার লোকদের মীকাত এবং এর বাইরের যে সব লোক হাজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ঐসব এলাকা হয়ে আসবে, তাদের মীকাত। আর যেসব লোক উল্লিখিত মীকাতসমূহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা স্বস্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে, এভাবে যারা আরও ভিতরে, তারা সে স্থান হতে। এমনকি মক্কাবাসীগণ মক্কা থেকে।”৫৯৯
যে ব্যক্তি এ মীকাতগুলো ইহরাম ছাড়াই অতিক্রম করবে, তার উপরে উক্ত স্থানে ফিরে আসা আবশ্যক, যদি তার ফিরে আসা সম্ভব হয়। আর ফিরে আসা সম্ভব না হলে তার উপরে ফিদয়া আবশ্যক। আর ফিদয়া হচ্ছে একটি ছাগল, যা সে মক্কায় যবেহ করবে এবং হারামের মিসকিনদের মাঝে বণ্টন করে দিবে।
আর যারা মীকাতগুলোর বাইরের অধীবাসী হবে (অর্থাৎ মীকাতের স্থানগুলোর ভেতরের), তারা নিজেদের স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধবে। পূর্বের হাদীসে যেমন বলা হয়েছে। وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ، فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ
“আর যেসব লোক উল্লিখিত মীকাতসমূহের অভ্যন্তরে বসবাস করে, তারা স্বস্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে।”৬০০

টিকাঃ
৫৯৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৫২৪; সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৯৩, ফুআ, ১১৮১; অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ইরাকবাসীর মীকাত যাতু ইরাক।
৬০০. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৫২৪; সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৯৩, ফুআ. ১১৮১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00