📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে রোজা রাখা হারাম এবং যে রোজা রাখা মাকরূহ

📄 যে রোজা রাখা হারাম এবং যে রোজা রাখা মাকরূহ


১. শুধু রজব মাসে রোজা রাখা মাকরূহ: জাহেলী যুগে তা করা হতো। তারা মাসটিকে অনেক সম্মন করতো। যদি অন্যান্য মাসের সাথে মিলিয়ে রোজা রাখা হয়, তাহলে মাকরূহ নয়। কেননা তখন এ মাসের সাথেই নির্দিষ্ট হবে না। আহমাদ ইবনু খারশা ইবনে আল-হার বলেন: আমি উমার ইবনুল খাত্তাব কে রজব মাসে রোজা পালনকারীদেরকে প্রহার করতে দেখেছি, যতক্ষণ না তারা তাদের হাত খাবারে রাখতো। আর উমার বলতেন:
كلوا، فإنما هو شهر كانت تعظمه الجاهلية "তোমরা রজব মাসে দিনের বেলা খাও। কারণ এ মাসটিকে জাহেলী যুগের মানুষ সম্মান করত। ৫৬৮
২. শুধুমাত্র জুমুআর দিনে রোজা রাখা মাকরূহ: নাবী বলেছেন:
(لَا تَصُومُوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ، إِلَّا أَنْ تَصُومُوا قَبْلَهُ أَوْ يَوْمَا بَعْدَهُ) "তোমরা শুধু জুমুআর দিন কেউ সওম পালন করবে না। তবে যদি কেউ জুমুআর দিনের আগে বা পরে একদিন পালন করে তাহলে সে জুমুআর দিন সওম পালন করতে পারে। ”৫৬৯ যদি অন্য দিনের সাথে শুক্রবার রোজা রাখে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যেমন পূর্বোক্ত হাদীসে এসেছে।
৩. শুধুমাত্র শনিবারের দিন রোজা রাখা মাকরূহ: নাবী বলেছেন: لَا تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلَّا فِيهَا افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ "তোমাদের উপর ফরয করা সওম ব্যতীত তোমরা শুধু শনিবারে সওম রেখো না। ”৫৭০
উদ্দেশ্য হলো: একক করা নিষেধ এবং শুধু এ দিনটিতে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া নিষেধ। কিন্তু অন্য দিনের সাথে মিলিয়ে রোজা রাখা হলে, কোনো সমস্যা নেই। কেননা নাবী উন্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়া কে বলেছিলেন: যখন তিনি তার নিকটে কোনো এক জুমুআর দিনে প্রবেশ করেছিলেন এমতাবস্থায় জুওয়াইরিয়া রোজাদার ছিলেন: أصمت أمس؟ তুমি কি গতকাল রোজা রেখেছিলে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: تريدين أن تصومي غداً তুমি কি আগামীকাল রোজা রাখতে চাও? তিনি বললেন: না। তিনি তাকে বললেন: তাহলে তুমি রোজা ছেড়ে দাও। ৫৭১ নাবী এর কথা تريدين أن تصومي غداً এটাই প্রমাণ করে যে, অন্য দিনের সাথে শনিবারকে মিলালে রোজা রাখা জায়েয। ইমাম তিরমিযী নিষিদ্ধের হাদীস তাখরীজের পর বলেন: “হাদীসে কারাহিয়্যাতের (অপছন্দনীয়তা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: একজন ব্যক্তি যেন শনিবারকে রোজার সাথে নির্দিষ্ট না করে; কেননা ইহুদিরা শনিবারকে সম্মান করে।”
৪. ইয়াওমুশ শাক তথা সন্দেহের দিনে রোজা রাখা হারাম: তা হলো, শাবান মাসের ত্রিশতম দিন। সেদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে নূতন চাঁদ দেখা যায় না। আর যদি আকাশ মেঘমুক্ত হয়, তাহলে সে দিনটি ইয়াওমুশ শাক হিসেবে গণ্য হবে না। সন্দেহের দিনে রোজা রাখা হারামের দলীল: আম্মার বলেন: مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكٍّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ “যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে সওম রাখল, সে অবশ্যই আবুল কাসেম এর অবাধ্য হলো। ”৫৭২
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: لا يَتَقَدَّمَنَّ أَحَدُكُمْ رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمَهُ، فَلْيَصُمْ ذَلِكَ الْيَوْمَ "তোমরা কেউ রমাযানের একদিন বা দুই দিন আগে সওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে যেন সেদিন সওম পালন করে। ”৫৭৩
এর অর্থ হলো: সাবধানতার জন্য কেউ যেন রমাযানের একদিন আগে রোজা না রাখে। কেননা রোজা নূতন চাঁদ দেখার সাথে সম্পৃক্ত। তাই এ কৃত্রিমতার কোনো প্রয়োজন নেই। আর যে ব্যক্তি আগে থেকেই রোজা রাখে, তার জন্য কোনো সমস্যা নেই। কেননা সে ব্যক্তি রমাযানের উদ্দেশ্যে উক্ত রোজা রাখছে না। তেমনিভাবে কাযা ও মানতের রোজাও ওয়াজিব হওয়ার কারণে রাখা যাবে।
৫. দুই ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম: আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত:
نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الفِطْرِ وَالنَّحْرِ. "নাবী ঈদুল ফিতরের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। ”৫৭৪
উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
(هَذَانِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِمَا : يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ، وَالْيَوْمُ الْآخَرُ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ) "আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুই দিনে সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন যে দিন তোমরা তোমাদের সওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত খাও। ”৫৭৫
৬. আইয়ামুত তাশরীক (যিলহাজ্জ মাসের ১১, ১২, ১৩ তারিখ) রোজা রাখা মাকরূহ: নাবী বলেছেন:
أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرِ الله عز وجل "এই দিনগুলো খাওয়া-দাওয়া করার এবং আল্লাহকে স্মরণ করার দিন। ”৫৭৬
নাবী বলেন:
(يَوْمُ عَرَفَةَ، وَيَوْمُ النَّحْرِ، وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الْإِسْلَامِ، وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ) "আমাদের মুসলিম জনগণের ঈদের দিন হচ্ছে আরাফার দিন, কুরবানীর দিন ও তাশরীকের দিন। এ দিনগুলো হচ্ছে খাওয়া-দাওয়া করার দিন। "৫৭৭
তবে তামাতু ও কিরান হাজ্জ পালনকারীদের জন্য এ দিনগুলোতে রোজা রাখার ক্ষেত্রে ছাড় প্রদান করা হয়েছে। তারা যদি হাদী না পায়। আয়িশাহ ও ইবনু উমার বলেন:
(لَمْ يُرَخَّصْ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ أَنْ يُصَمْنَ، إِلَّا لَمَنْ لَمْ يَجِدِ الهَدْيَ)
"যার নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সওম পালন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”৫৭৮

টিকাঃ
৫৬৮. ইরওয়াউল গালীল ৪/১১৩।
৫৬৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৮৫; সহীহ মুসলিম, হা. ২৫৭৩, ফুআ. ১১৪৪।
৫৭০. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৪২১; তিরমিযী, হা. ৭৪৪; ইবনু মাজাহ, হা. ১৭২৬; হাকিম ১/৪৩৫; ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন এবং ইমাম হাকিম ইমাম বুখারির শর্তে সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী মাওকুফ বলেছেন; আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ৫৯৪
৫৭১. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৮৬।
৫৭২. ইমাম বুখারী তার সহীহাতে তালীক করেছেন, ফাতহুল বারী ৪/১৪৩;... ইমাম তিরমিযী, হা. ৬৮৯ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসটি হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ৫৫৩।
৫৭৩. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯১৪।
৫৭৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৯১।
৫৭৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৯০।
৫৭৬. সহীহ মুসলিম, হা. ২৫৬৭,২৫৬৮, ফুআ. ১১৪১।
৫৭৭. তিরমিযী, হা. ৭৭৩; এবং তিনি হাসান বলেছেন; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ৬২০।
৫৭৮. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৯৭, ১৯৯৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00