📄 রোজার জন্য মাকরূহ (অপছন্দনীয়) কাজসমূহ
রোজাদারের জন্য কিছু অপছন্দনীয় বিষয় রয়েছে, যেগুলো রোজাকে ত্রুটিযুক্ত করে এবং তার সওয়াব কমিয়ে দেয়। সেগুলো হলো-
১. কুলি করা ও নাকের মধ্যে পানি নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা: কারণ এর ফলে পানি পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাবী মুহাম্মাদ বলেছেন:
وَبَالِغ فِي الإِسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا “রোজা পালনকারী না হলে নাকের গভীরে পানি পৌঁছাও। ৫৫৩
২. যৌন উত্তেজনার সাথে চুম্বন করা: যে ব্যক্তি নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। তাই রোজাদারের জন্য স্ত্রী বা দাসীকে চুমু দেওয়া মাকরূহ। কেননা তা যৌন উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়। যার কারণে বীর্যপাত হয় কিংবা সহবাসে লিপ্ত হয়ে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি সে রোজা নষ্ট করা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আয়িশাহ আল্লাহর রসূল এর ক্ষেত্রে বলেছেন: )وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لِإِرْبِهِ( "তিনি তার প্রয়োজন পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রক ছিলেন। "৫৫৪
তেমনভাবে রোজাদার যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী সকল বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে। যেমন স্ত্রী বা দাসীর দিকে বেশি বেশি তাকানো কিংবা তাদের সাথে সহবাসের চিন্তা করা। কারণ এগুলোর কারণে বীর্যপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বা তাদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৩. কফ গিলে ফেলা: কারণ এটা পেটে পৌঁছে যায় এবং এর দ্বারা শক্তি অর্জিত হয়। তাছাড়া কফ গিলে ফেলা এক প্রকার নোংরামি ও ক্ষতিকর কাজ।
৪. প্রয়োজন ছাড়াই কোনো খাবারের স্বাদ নেওয়া: যদি খাবারের স্বাদ দেখার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যেমন কোনো রাঁধুনী লবন দেখল। তবে এক্ষেত্রে তা গলায় যাতে না পৌঁছে, সে ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
টিকাঃ
৫৫৩. তিরমিযী, হা. ৭৮৮ এবং তিনি সহীহ বলেছেন; নাসাঈ ১/৬৬; জা, হা. ৪০৭; আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুন নাসাঈ, হা. ৮৫।
৫৫৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৯২৭; সহীহ মুসলিম, হা. ২৯২৮, ফুআ, ১১০৬।