📄 রমাযানের সিয়াম ভঙ্গ করার বৈধ ওযরসমূহ
নিম্নের ওযরসমূহের কোনো একটি পাওয়া গেলে রমাযারে সিয়াম না রাখা বৈধ:
প্রথম: অসুস্থতা ও বার্ধক্য: এমন অসুস্থ ব্যক্তি যে রোজা না রাখলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তার জন্য রমাযানে রোজা না রাখা বৈধ। যখন সে সুস্থ হয়ে যাবে, তখন তার উপর ছুটে যাওয়া রোজাগুলো কাযা করা আবশ্যক হবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ... "নির্দিষ্ট কয়েক দিন। যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির, তার জন্য অপর কোনো দিন হতে গণনা করবে।” [সূরা বাক্বারাহ: ১৮৪]
তিনি আরও বলেন:
فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ... "অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে (নিজ আবাসে) উপস্থিত থাকে সে যেন সিয়াম পালন করে। যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির, তার জন্য অপর কোনো দিন হতে গণনা করবে।" [সূরা বাক্বারাহ: ১৮৫]
ঐ অসুস্থতার ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যে অসুস্থতার কারণে অসুস্থ ব্যক্তির উপর রোজা রাখা কঠিন হয়। আর যে অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বা যে ব্যক্তি ভবিষ্যতে রোজা রাখতে অক্ষম, যেমন- বয়ষ্ক ব্যক্তি; সে রোজা রাখবে না এবং তার উপর কাযা করাও আবশ্যক নয়। বরং তার উপর ফিদইয়া আবশ্যক। সে প্রত্যেক দিন একজন মিসকিনকে খাওয়াবে। কারণ মহামহিয়ান আল্লাহ খাদ্য খাওয়ানোকে সিয়ামের সমান করেছেন। যেহেতু সিয়াম ফরযের প্রাথমিক অবস্থায় সিয়াম রাখা, না হলে খাদ্য খাওয়ানো-এর মধ্যে স্বাধীনতা ছিল, তাই ওযরের সময় একে সমমান বা পরিবর্তিত হিসেবে করা হয়েছে।
ইমাম বুখারী বলেন, যে বয়স্ক ব্যক্তি রোজা রাখতে সক্ষম নয়, সে প্রত্যেক দিন একজন মিসকিনকে খাওয়াবে। আনাস যখন বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তিনি এক বছর বা দুই বছর প্রত্যেক দিন একজন মিসকিনকে খাওয়াতেন। ইবনু আব্বাস বলেন, যে সকল বয়স্ক পুরুষ বা মহিলা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তারা প্রত্যেক দিন একজন মিসকিনকে খাওয়াবে। ২৯
অসুস্থতার কারণে কিংবা বয়স্ক হওয়ার কারণে যার অক্ষমতা দূর হওয়া সম্ভব নয়, এমন ব্যক্তি প্রত্যেক দিন একজন মিসকিন ব্যক্তিকে আধা 'সা' গম অথবা খেজুর অথবা চাল বা ইত্যাদি যে- কোনো দেশীয় খাবার খেতে দিবে। এক 'সা'= ২.২৫ কেজি। তাই প্রত্যেক দিন ১.১২৫ কেজি পরিমাণ খাবার খেতে দিবে। আর কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখে, তার সিয়াম বিশুদ্ধ হবে এবং তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
দ্বিতীয়: সফর: মুসাফির ব্যক্তির জন্য রমাযানের সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ এবং পরবর্তীতে কাযা করা আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ...
“যে অসুস্থ অথবা মুসাফির, তার জন্য অপর কোনো দিন হতে গণনা করবে।"[সূরা বাক্বারাহ: ১৮৪]
তিনি বলেন: فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ....
"অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে (নিজ আবাসে) উপস্থিত থাকে সে যেন সিয়াম পালন করে। যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির, তার জন্য অপর কোনো দিন হতে গণনা করবে।”[সূরা বাক্বারাহ: ১৮৫]
নাবী কে সফরে সিয়াম রাখার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: إِنْ شِئْتَ فَصُمْ، وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ.
"যদি তুমি চাও, তাহলে রোজা রাখো। আর চাইলে ছাড়তেও পারো।”
তিনি মক্কার পথে রমাযানের সিয়াম অবস্থায় যাত্রা করলেন। 'কুদাঈদ' নামক স্থানে পৌঁছে তিনি রোজা ছেড়ে দিলেন। অতঃপর মানুষেরাও রোজা ছেড়ে দিল। ৫০০
যে পরিমাণ সফরে সলাত কসর করা বৈধ, সে পরিমাণ সফরে রোজা ভঙ্গ করাও বৈধ। ৫০১ আর তা হচ্ছে প্রায় ৪৮ মাইল অর্থাৎ প্রায় ৮০ কিলোমিটার। বৈধ সফরের কারণে রমাযানের সিয়াম ভাঙ্গা যাবে। আর সফরটি নাফরমানির সফর হয় কিংবা 'রোজা পালন করবে না' এজন্য হয়, তাহলে এই সফরে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ নয়। যদি কোনো মুসাফির রোজা রাখে, তাহলে তার রোজা বিশুদ্ধ বলে গণ্য হবে এবং তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন:
(كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ، وَلَا الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ)
"আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সফরে যেতাম। রোজাদার ব্যক্তি বেরোজাদারকে (যে সওম পালন করছে না) এবং বেরোজাদার ব্যক্তি রোজাদারকে দোষারোপ করত না।”৫০২
তবে শর্ত হলো, সওমটা সফরে তার উপরে যেন কঠিন হয়ে না পড়ে। যদি তার উপরে কঠিন হয় কিংবা সে যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে রোজা ভঙ্গ করাই উত্তম। সে তখন ছাড়টাকে গ্রহণ করবে। কারণ নাবী সফরে এক রোজাদার ব্যক্তিকে দেখলেন, যাকে কঠিন তাপের কারণে ছায়া প্রদান করা হচ্ছে। আর মানুষেরা তার পাশে ভিড় জমাচ্ছে। অতঃপর তিনি বলেন:
لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ .
"সফরে সওম পালন কোনো কল্যাণকর বিষয় নয়।”৫০৩
তৃতীয়: ঋতুস্রাব ও নেফাস: যে মহিলার রমাযানে ঋতুস্রাব বা নেফাস আসবে, সে অবশ্যই রোজা ভঙ্গ করবে। এ অবস্থায় তার জন্য রোজা রাখা হারাম। যদি সে রোজা রাখে, তবুও বিশুদ্ধ হবে না। যেমন আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নাবী বলেছেন:
أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلُّ وَلَمْ تَصُمْ؟ فَذَلِكِ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا.
"আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সলাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? এটাই হচ্ছে তাদের দ্বীনের কমতি।”৫০৪ আর তাদের উপরে রোজাগুলো কাযা করা আবশ্যক। যেমন আয়িশাহ বলেছেন,
كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ، فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ، وَلَا نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلَاةِ.
"আমাদের এরূপ হতো। তখন আমাদেরকে শুধু সওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, সলাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না।”৫৩৫
চতুর্থ: গর্ভধারণ ও দুগ্ধপান: যদি কোনো মহিলা গর্ভবতী কিংবা স্তন্যদানকারিণী হয় এবং সে নিজের বা তার সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করে, তাহলে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ। আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ، وَشَطْرَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الحَامِلِ أَوِ الْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوِ الصِّيَامَ.
"আল্লাহ্ তা'আলা মুসাফির লোকের সিয়াম ও সলাত অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের সওম অথবা সিয়াম মাফ করে দিয়েছেন।”৫৩৬
আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলা ভাঙ্গা রোজার কাযা আদায় করবে, যদি তারা নিজেদের জীবনের উপর (ক্ষতির) ভয় করে। আর যদি গর্ভবতী মহিলা তার ভ্রুণ বা গর্ভের শিশুর (ক্ষতির) প্রতি অথবা দুগ্ধদানকারিণী মহিলা তার শিশুর (ক্ষতির) প্রতি আশংকা করে, তাহলে প্রতিদিনের কাযা করার সাথে সাথে একজন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াবে। ইবনু আব্বাস এর হাদীস।
(وَالْحُبْلَى وَالْمُرْضِعُ إِذَا خَافَنَا عَلَى أَوْلَادِهِمَا أَفْطَرْنَا وَأَطْعَمَنَا)
"গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারিনী সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করলে তাদের জন্যও সওম ভঙ্গের অনুমতি আছে।”৫৩৭
তাই বলা চলে রমাযানের সিয়াম ভঙ্গের কারণ চারটি: ১.সফর, ২. অসুস্থতা, ৩. হায়েয ও নিফাস এবং ৪. ক্ষতির আশঙ্কা। যেমন- গর্ববর্তী, দুগ্ধদানকারি।
টিকাঃ
৫২৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৪৫০৫।
৫৩০. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৪৩
৫০০. সহীহুল বুখারী, হা. ৪৪৯১।
৫০১. দেখুন, মুগনী: ৩/৪৩।
৫০২. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৪৭।
৫০৩. সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৪৬।
৫০৪. সহীহুল বুখারী, হা, ৩০৪ ।
৫৩৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৬৫০, ফুআ. ২৩৫।
৫৩৬. তিরমিযী, হা. ৭১৫ এবং তিনি হাসান বলেছেন; নাসাঈ ২/১০৩; ইবনু মাজাহ, হা. ১৬৬৭; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, সহীহ সুনানুন নাসাঈ, হা. ২১৪৫।
৫৩৭. আবু দাউদ, হা. ২৩১৮, ২৩১৭; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া ৪/১৮,২৫ এভাবে ইবনু উমার থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
📄 রোজাদারের রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
সেগুলো ঐ সকল বিষয় যেগুলো রোজাদারের রোজাকে নষ্ট ও ভঙ্গ করে দেয়। নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলোর কোনো একটির কারণে রোজাদারের রোজা ভেঙ্গে যাবে।
প্রথম: ইচ্ছাকৃত খাওয়া অথবা পান করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ... “প্রত্যুষে কালো সুতা হতে সাদা সুতা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা খাবার খাও ও পান করো। তারপর রাতের আগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো।” [সুরা বাক্বারাহ: ১৮৭]
আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, রোজাদারের জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানা-পিনা বৈধ নয়। কিন্তু যে ব্যক্তি ভুলে পানাহার করবে তার সিয়াম বিশুদ্ধ হবে। যখনই তার স্মরণে আসবে অথবা তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে, সে পানাহার বর্জন করবে। নাবী বলেন: ( مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ، فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ، فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ، فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ)
“সওম পালনকারী ভুলক্রমে যদি খাবার খায় বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সওম পুরা করে নেয়। কারণ আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। ৫৩৮ আর নাকের ড্রপের মাধ্যমে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। আর যে জিনিসগুলো খাওয়া ও পান করার পরিপূরক; যেমন স্যালাইন, তা পেট পর্যন্ত পৌঁছালেই রোজা ভঙ্গ হবে, যদিও তা মুখ দিয়ে না পৌঁছে অর্থাৎ খাওয়া না হয়।
দ্বিতীয়: সহবাস: সহবাসের মাধ্যমে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই কোনো রোজাদার সঙ্গম করলেই রোজা ভেঙ্গে যাবে। তার উপর আবশ্যক তাওবা ও ইস্তিগফার করা এবং সহবাস করা রোজার দিনটির কাযা আদায় করা। আর সে এই কাযা আদায় করবে কাফফারার মাধ্যমে। সে একটি গোলাম আজাদ করবে। আর সক্ষম না হলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখবে। আর সে এতেও সক্ষম না হলে ৬০ জন মিসকিনকে খাবার দিবে। আবু হুরায়রা এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,
بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ. قَالَ: مَا لَكَ؟ قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي وَأَنَا صَائِمٌ ، فَقَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : هَلْ تَجِدُ رَقَبَةٌ تُعْتِقُهَا؟ قَالَ: لا، قَالَ : هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ، قَالَ : لا ، فَقَالَ: فَهَلْ تَجِدُ إِطْعَامَ سِتِّينَ مِسْكِينًا. قَالَ: لَا، قَالَ: فَمَكَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَقٍ فِيهَا تَمْرُ - وَالعَرَقُ المِكْتَلُ - قَالَ : أَيْنَ السَّائِلُ؟ فَقَالَ : أَنَا ، قَالَ : خُذْهَا ، فَتَصَدَّقُ بِهِ. فَقَالَ الرَّجُلُ : أَعَلَى أَفْقَرَ مِنِّي يَا رَسُولَ الله؟ فَوَاللَّهُ مَا بَيْنَ لَا بَيْهَا - يُرِيدُ الحَرَّتَيْنِ - أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي، فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ، ثُمَّ قَالَ : أَطْعِمْهُ أَهْلَكَ.
“আমরা আল্লাহর রসূল-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। আল্লাহর রসূল বললেন: তোমার কী হয়েছে? সে বলল, আমি রোজা অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। আল্লাহর রসূল বললেন: কোনো ক্রীতদাস তুমি মুক্ত করতে পারবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেন: তুমি কি একাধারে দুইমাস সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেন: ষাটজন মিসকিন খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। রাবী বলেন, তখন নাবী থেমে গেলেন, আমরাও এই অবস্থায় ছিলাম। এ সময় নাবী-এর কাছে এক 'আরাক পেশ করা হলো যাতে খেজুর ছিল। 'আরাক হলো ঝুড়ি। নাবী বললেন: প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলল, আমি। তিনি বললেন: এগুলো নিয়ে সাদকা করে দাও। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার চাইতেও বেশি অভাবগ্রস্তকে সাদকা করব? আল্লাহর শপথ, মদীনার উভয় প্রান্তের মধ্যে আমার পরিবারের চেয়ে অভাবগ্রস্ত কেউ নেই। আল্লাহর রসূল হেসে ওঠলেন এবং তাঁর দাঁত (আনইয়াব) দেখা গেল। অতঃপর তিনি বললেন: এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও।”৫৩৯
সহবাসের আওতাভুক্ত বিষয়: ইচ্ছাকৃত মনী বের করলে, সেটাও সহবাস এর আওতাভুক্ত হবে। যদি কোনো রোজাদার চুম্বন, স্পর্শকরণ কিংবা হস্তমৈথুন বা অন্য কোনো উপায়ে বীর্যপাত করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ এগুলো কাম উত্তেজনার সাথে করা হয়ে থাকে, যা রোজা ভেঙ্গে দেয়। তার উপর কাফফারা ছাড়াই কাযা করা আবশ্যক। কারণ কাফফারা শুধুমাত্র সহবাসের সাথেই আবশ্যক এবং এব্যাপারে নির্দিষ্ট দলীল রয়েছে।
কিন্তু যদি কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তির স্বপ্নদোষ হয় বা অসুস্থতার কারণে কামভাব ছাড়াই বীর্যপাত হয়, তাহলে সিয়াম বতিল হবে না। কেননা এ ব্যাপারে বান্দার কোনো স্বাধীনতা নেই।
তৃতীয়: ইচ্ছাকৃত বমি করা: ইচ্ছাকৃত পেটে চাপ প্রয়োগ করে মুখ দিয়ে খাদ্য ও পানীয় বের করা। কিন্তু এমনিতেই যদি বমি হয় তাহলে তার রোজার মধ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। كَلَيْهِ قَضَاءُ، وَمَنْ اسْتَقَاءَ فَلْيَقْضِ : কেননা নাবী বলেছেন: مَنْ ذَرَعَهُ الْقَيْءُ، فَلَيْسَ عَ
“যার (অনিচ্ছাকৃত) বমি হয়, তাকে কাযা করতে হবে না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে, তাকে কাযা করতে হবে।” ৫৪০
চতুর্থ: শিঙা লাগানো: শিরার রক্ত ছাড়া চর্মের রক্ত রেব করা। তাই রোজাদার শিঙা লাগালে ر الحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ) :রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। নাবী বলেছেন: أَفْطَ
"হিজামাকারী এবং যাকে হিজামা করানো হয়েছে, তাদের উভয়ের সওম ভঙ্গ হয়েছে।” ৫৪১
তেমনিভাবে যে শিঙা লাগায় তার রোজাও নষ্ট হয়ে যাবে। তবে যদি পৃথক যন্ত্রের সাহায্যে শিঙা লাগায় এবং তাতে রক্ত চোষার কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। আল্লাহ তা'আলাই সর্বজ্ঞ।
হিজামার আওতাভুক্ত বিষয়: যদি শিরা কেটে বা সুস্থতার জন্য যে-কোনো মাধ্যমে রক্ত বের করা হয়, তাহলে তাও হিজামার অন্তর্ভুক্ত হবে।
কিন্তু যদি যখম বা কামড়ের কারণে কিংবা নাক দিয়ে রক্ত বের হয় তাহলে তা হিজামার আওতাভুক্ত হবে না।
মহিলাদের পঞ্চম: হায়েয ও নেফাসের রক্ত বের হওয়া; যখনই কোনো মহিলা হায়েয বা নেফাসের রক্ত দেখবে, সে রোজা ভেঙ্গে ফেলবে এবং তার উপর কাযা করা আবশ্যক। নাবী ক্ষেত্রে বলেছেন: )أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ(
"আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সলাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না?"৫৪২
ষষ্ঠ: রোজা ভঙ্গ করার নিয়ত করা: যে ইফতার করার সময়ের পূর্বেই রোজা ছেড়ে দেওয়ার নিয়ত করবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে, যদিও সে খাবার না খায়। কেননা নিয়ত রোজার দুই রুকনের অন্যতম একটি রুকন। সুতরাং, রোজা ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃত নিয়ত ভঙ্গ করলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।
সপ্তম: ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করা: কারণ তা ইবাদতের জন্য অসঙ্গতিপূর্ণ। আল্লাহ তা'আলা বলেন: لَينْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ ....
"যদি তুমি (আল্লাহর) অংশীদার স্থির করো, তাহলে তোমার কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে।” [সূরা যুমার: ৬৫]
টিকাঃ
৫৩৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৩৩; সহীহ মুসলিম, হা. ফুয়াদ আব্দুল বাক্বী ১১৫৫।
৫৩৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৯৩৬; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১১১১।
৫৪০. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৩৭০; তিরমিযী, হা. ৭২০; ইবনু মাজাহ, হা. ১৬৭৬।
৫৪১. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৩৬৭; ইবনু মাজাহ, হা. ১৯৮৩।
৫৪২. সহীহুল বুখারী, হা. ৩০৪।