📄 রমাযান মাসের শুরু ও শেষ যেভাবে সাব্যস্ত হবে
রমাযান মাসের সূচনা সাব্যস্ত হবে নিজে বা অন্যের মাধ্যমে কিংবা কোনো সংবাদের মাধ্যমে নূতন চাঁদ দেখার দ্বারা। যদি একজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম নূতন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে রমাযান মাসের সূচনা সাব্যস্ত হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
"অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে (নিজ আবাসে) উপস্থিত থাকে সে যেন সিয়াম পালন করে।” [সুরা বাক্বারাহ: ১৮৫]
নাবী বলেছেন: إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا "যখন তোমরা চাঁদ দেখবে, তখন সিয়াম রাখবে।”৫২২
ইবনু উমার এর বর্ণিত হাদীস: أخبرت النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ برؤية رمضان فَصَامَهُ، وَأَمَرَ النَّاسَ بِصِيَامِهِ
"আমি নাবী কে রমাযানের চাঁদ দেখার সংবাদ দিলাম। অতঃপর তিনি নিজে সওম রাখলেন এবং মানুষদের সওম রাখার নির্দেশ দিলেন। ”৫২৩
যদি নূতন চাঁদ দেখা না যায় বা কোনো ন্যায়পরায়ণ মুসলিম চাঁদ দেখার সাক্ষ্য না দেয়, তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা আবশ্যক। এ দুটি বিষয় ছাড়া মাসের মধ্যে প্রবেশ সাব্যস্ত হবে না। ১. নূতন চাঁদ দেখা বা ২. শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। নাবী বলেছেন: صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُبِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِينَ
"তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে সিয়াম ভাঙ্গবে। আকাশ যদি মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে শাবানের গণনা ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।"৫২৫
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে রমাযান মাসের সমাপ্তি সাব্যস্ত হবে। যদি দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম নূতন চাঁদ না দেখার সাক্ষ্য দেয়, তাহলে রমাযান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা আবশ্যক।
টিকাঃ
৫২২. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৯০০; সহীহ মুসলিম, হা. ১০৮০।
৫২৩. সুনান আবু দাউদ, হা. ২৩৪২; হাকিম তার মুসতাদরাকে সহীহ বলেছেন, ১/৪২৩।
৫২৪. কিছু বর্ণনায় غُمَّ عليكم আর কিছু বর্ণনায় غُبِّيَ عليكم রয়েছে। অর্থ গোপন হয়ে যাওয়, প্রকাশিত না হওয়া।
৫২৫. মুত্তাফাকুন আলাইহিঃ সহীহুল বুখারী, হা. ১৯০৯; সহীহ মুসলিম, হা. ১০৮১।
📄 সওমের নিয়তের সময় এবং নিয়তের হুকুম
রোজাদারের উপর সিয়ামের নিয়ত করা আবশ্যক। এটি তার অন্যতম একটি রুকন। নাবী বলেছেন: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى "প্রত্যেক কাজ (প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।”৫২৬
ওয়াজিব (ফরয) সিয়ামের ক্ষেত্রে সে রাতেই নিয়ত করবে, যদিও ফজরের এক মিনিট পূর্বে হয়। যেমন: রমাযানের সিয়াম, কাফফারার রোজা, মানতের রোজা ইত্যাদি। নাবী বলেছেন:
مَنْ لَمْ يُبَيِّتِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ، فَلَا صِيَامَ لَهُ
"যে ব্যক্তি রাত থাকতে ফরয সিয়ামের নিয়ত করল না, তার সিয়াম হবে না।”৫২৭
যে ব্যক্তি দিনের বেলায় রোজার নিয়ত করবে এবং যদি সে রাত্রে কোনো কিছু না খায়, তাহলে নফল রোজা ব্যতীত ফরয রোজা তার পক্ষ হতে যথেষ্ট হবে না। আর দিনের বেলায় নফল রোজার নিয়ত করলে রোজাটি বৈধ হবে, যদিও সে রাত্রে কোনো কিছু না খায় বা পান না করে। আয়িশাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ : هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ؟ فَقُلْنَا : لَا ، قَالَ: «فَإِنِّي إِذَنْ صَائِمٌ»
"নাবী একদিন ঘরে আসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: তোমাদের কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: তাহলে আমি সওম রাখলাম। ”৫২৮
আর ফরয রোজার বেলায় দিনে নিয়ত করলে তা ধর্তব্য হবে না, বরং রাতেই নিয়ত করা আবশ্যক। রমাযান মাসের শুরুতে পুরো মাসের জন্য একবার নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। তবে প্রত্যেক দিন নিয়ত করা মুস্তাহাব।
টিকাঃ
৫২৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯০৭।
৫২৭. তিরমিযী, হা, ৭৩০; নাসাঈ ২৩৩১; ইবনু মাজাহ, হা. ১৭০০; নাসাঈর শব্দে। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, তিরমিযী, হা. ৫৮৩।
৫২৮. সহীহ মুসলিম, হা. ১১৫৪।