📄 শর্তসমূহ এবং যাদের উপর ওয়াজিব
বড়ো-ছোটো প্রত্যেক মুসলিম নারী, পুরুষ, স্বাধীন ও দাসের উপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। পূর্বে বর্ণিত ইবনু উমারের হাদীস।
গর্ভস্থ সন্তানের যখন রূহ ফুঁকে দেওয়া হয় তখনও তার পক্ষ থেকে আদায় করা মুস্তাহাব। অর্থাৎ এ সময় তার চার মাস হয়ে যায়। সালাফগণ গর্ভস্থ সন্তানের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতেন। যেমনটি উসমান ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।
ব্যক্তি নিজে এবং স্ত্রী কিংবা নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে যাদের ভরণপোষণ দেয়, তাদের পক্ষ থেকে তার উপর এটি আদায় করা ওয়াজিব। অনুরূপভাবে দাসের পক্ষ থেকেও আদায় করতে হবে। কারণ এটা তারে মনিবের উপর ওয়াজিব। নাবী বলেছেন:
لَيْسَ فِي الْعَبْدِ صَدَقَةٌ إِلَّا صَدَقَةُ الْفِطْرِ
"সদাকাতুল ফিতর ছাড়া দাসের উপর আর কোনো যাকাত নেই। ৫০০
এটা তার উপরই ওয়াজিব হবে, যার নিকট তার এবং তার পরিবারের ঈদের দিন-রাতের জন্য যথেষ্ট খাবার এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর মতো সামর্থ্য থাকার পরও অতিরিক্ত কিছু থাকবে।
ফিতরা দুইটি শর্ত সাপেক্ষে ওয়াজিব: ১. ইসলাম: মুসলিম হওয়া। কোনো কাফেরের উপর তা ওয়াজিব নয়। ২. তার এবং তার পরিবারের ঈদের দিন ও রাতের জন্য যথেষ্ট খাবার এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর মতো সামর্থ্য থাকার পরও অতিরিক্ত কিছু থাকা।
টিকাঃ
৫০০. সহীহ মুসলিম ৯৮২/১০।
📄 ওয়াজিব করণের তাৎপর্য
যাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করণের বেশ কিছু হিকমাহ রয়েছে: ১. অশ্লীল কথাবার্তা এবং বেহুদা কাজে লিপ্ত হওয়ার দরুন রোজাদার ব্যক্তির যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে, তা থেকে তাকে পবিত্রকরণ। ২. ঈদের দিন ফকির ও মিসকিনদেরকে কারো কাছে হাত পাতা থেকে বিরত রাখা এবং তাদের জন্য আনন্দ-উৎফুল্লের ব্যবস্থা করা; যাতে এই দিনটি সকল শ্রেণির মানুষের জন্য আনন্দের কারণ হতে পারে। ইবনু আব্বাস এর হাদীস-
قَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةٌ لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ
"আল্লাহর রসূল যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন অশ্লীল কথাবার্তা এবং বেহুদা কথা থেকে রোজাদারের পবিত্রতা এবং মিসকিনদের খাবার স্বরূপ। "৫০৪
৩. এতে পূর্ণ রমাযান মাসের সিয়াম পালন, তারাবীহ ও এই বরকতময় মাসে সাধ্যানুযায়ী সৎ আমল করার মাধ্যমে বান্দার উপর আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।
📄 ওয়াজিবের পরিমাণ ও কী দিয়ে আদায় করতে হবে?
যাকাতুল ফিতর প্রত্যেক দেশের প্রধান খাদ্যদ্রব্যের এক সা' দিয়ে আদায় করা ওয়াজিব। সেটা গম, যব, খেজুর, কিশমিশ, পনীর, চাল ও ভুট্টা ইত্যাদি দিয়ে হতে পারে। এটি নাবী থেকে সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন পূর্বে বর্ণিত ইবনু উমার এর হাদীস।
একটি সমাজ তাদের সম্পূর্ণ ফিতরা একজন ব্যক্তিকে প্রদান করতে পারবে। অনুরূপ একজন লোক তার ফিতরা কোনো একটি সমাজকে বা গোষ্ঠিকে প্রদান করতে পারবে। এটা বৈধ। খাদ্যের মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে না। কেননা এটি আল্লাহর রসূল এর নির্দেশ এবং তাঁর সাহাবীদের আমলের পরিপন্থী। তাঁরা এক সা' খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিতরা আদায় করতেন। কারণ যাকাতুল ফিতর এমন একটি ইবাদত যা একটি নির্দিষ্ট বস্তু দ্বারা আদায় করা ফরয; আর তা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য। সুতরাং এটা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে না।
📄 ওয়াজিব এবং আদায় করার সময়
ঈদের রাতে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে যাকাতুল ফিতর আদায় করার ওয়াজিবের হুকুম শুরু হয়। কারণ তখন রমাযানের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফিতরা আদায় করার দুটি সময় রয়েছে। একটি ফযীলতপূর্ণ সময়, আরেকটি বৈধ সময়।
ফযীলতপূর্ণ সময়: ঈদের দিন ফজর উদিত হওয়ার পর থেকে ঈদের সলাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত। ইবনু উমার এর হাদীস- أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِزَكَاةِ الفِطْرِ قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ
"নাবী ঈদের সলাতে বের হওয়ার আগেই যাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।"৫০৫
বৈধ সময়: এই সময়টি ঈদের একদিন বা দুইদিন আগে। ইবনু উমার এবং অন্যান্যরা এরূপ করতেন। ঈদের সলাতের পর ফিতরা আদায় করা জায়েয হবে না। যদি কেউ তা করে তাহলে সেটা সাধারণ সাদকা হিসেবে গণ্য হবে এবং পরে আদায় করার ফলে তাকে গুনাহগার হতে হবে। নাবী বলেছেন:
مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ، فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ، وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ
"সলাতের আগে আদায় করলে তা যাকাতুল ফিতর হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সলাতের পরে আদায় করবে তারটা সাধারণ সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।"৫০৬
টিকাঃ
৫০৪. আবু দাউদ ১৬০৯; ইবনু মাজাহ ১৮২৭।
৫০৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১৫০৯
৫০৬. আবু দাউদ ১৬০৯।