📄 ওয়াজিবের বর্ণনা
ইসলাম তার শারঈ মূলনীতি অনুযায়ী ধনী-দরিদ্রের কল্যাণের মাঝে সমতা বিধান করেছে। দরিদ্রকে সম্পূর্ণরূপে তার হক গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। একটুও কম করেনি। সেই সাথে ধনীদের সম্পদ সংরক্ষণের প্রতিও উদ্বুদ্ধ করেছে। একারণে ব্যক্তির মধ্যম মানের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণের বিধান করা হয়েছে, উৎকৃষ্টতম না আবার নিকৃষ্টতমও হবে না। তবে পশুর বয়সের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এর চেয়ে কমে যথেষ্ট হবে না। কারণ এতে দরিদ্রদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এর চেয়ে বেশি বয়সেরও গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এতে ধনীদের প্রতি অন্যায় করা হয়।
অসুস্থ-ত্রুটিসম্পন্ন ও বয়োঃবৃদ্ধ গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এটা দরিদ্রদের কোনো উপকারে আসে না। আর এর বিপরীতে পেটুক অর্থাৎ মোটা ও অতিভোজী গ্রহণ করা যাবে না। যে পশু বাচ্চা লালন পালন করে, সেটাও নেওয়া যাবে না। গর্ভবতী নেওয়া যাবে না। প্রজননে ব্যবহৃত পশু নেওয়া যাবে না। দৃষ্টিনন্দন উৎকৃষ্ট পশুও নেওয়া যাবে না। কারণ সেটা সর্বোৎकृष्ट সম্পদ। আর এগুলো নিলে ধনীদের ক্ষতি হয়ে যাবে। নাবী বলেছেন: ... وَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَاهِمْ
"তোমরা তাদের ভালো ভালো সম্পদ নেওয়া থেকে বিরত থাকো।"৫০০
উমার থেকে বর্ণিত। তিনি তার যাকাত আদায়ের আমিলকে (অফিসার) সুফইয়ানকে বলেছিলেন, তোমার সম্প্রদায়কে বলো, আমরা তোমাদের বাচ্চা লালন পালনকারী পশু, গর্ভবতী, অতিভোজী ও পাঠা ছাগল নিবো না। আমরা বরং নিবো জাযআ' ও সানী। এটা আমাদের ও তোমাদের মাঝে মধ্যম মানের সম্পদ। [জাষআ ও সানিয়্যা গবাদি পশুর বয়স বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে উট, গরু ও ছাগলের বয়সে পার্থক্য রয়েছে।]
টিকাঃ
৫০০. সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৯৫।
📄 চতুষ্পদ জন্তুতে অংশীদার
এটা দুই প্রকার: প্রথম প্রকার: ব্যক্তির অংশীদার। অর্থাৎ সম্পদে দুইজনের যৌথ মালিকানায় হয়। একজনের অংশ আরেকজন থেকে আলাদা করা যাবে না। এই ধরনের অংশীদার উত্তরাধিকার সূত্রে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় প্রকার: বৈশিষ্ট্যগত অংশীদার। এই সম্পদে প্রত্যেকের অংশ আলাদাভাবে পার্থক্য করা যায় এবং এর মাঝে শুধু প্রতিবেশিরাই যুক্ত থাকে।
এই দুই প্রকার অংশীদারের সম্পদ এক সম্পদে পরিণত হবে যখন-
> দুই সম্পদের সমষ্টি একত্রে নিসাব পরিমাণ হবে।
> উভয় অংশীদার যাকাত আদায়ের যোগ্য হবে। এক্ষেত্রে যদি দুইজনের একজন কাফের হয় তবে একত্র করা শুদ্ধ হবে না এবং কোনো প্রভাবও ফেলবে না।
> দুইজনের পশু একই গোয়ালঘরে থাকবে। একই চারণভূমিতে একত্রে থাকবে; একসাথে ফিরে আসবে। এমনকি দুধ, ঘাস ও প্রজননের ক্ষেত্রেও একত্রে থাকবে।
এই শর্তগুলো পাওয়া গেলে দুই সম্পদই এক সম্পদে পরিণত হবে। নাবী বলেছেন:
لَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ، وَلَا يُفَرِّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ، فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ
"যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্নগুলোকে একত্রিত করা এবং একত্রগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের পশু একত্রে থাকলে প্রত্যেকেই নিজ অংশের হিসাব করে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করবে।”৫০১
এই শরীকানা যাকাত ওয়াজিব হওয়া বা না হওয়াকে প্রভাবিত করবে। এটা শুধুমাত্র চতুষ্পদ জন্তুতেই হয়ে থাকে।
বিচ্ছিন্ন পশুগুলোর মাঝে একত্রকরণের দৃষ্টান্ত: তিন ব্যক্তি প্রক্যেকেই ৪০ টি করে ছাগলের মালিক। এখন মোট ছাগল ১২০টি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকেরটা আলাদা করলে তাদের উপর তিনটি ছাগল যাকাত দেওয়া ওয়াজিব হবে। কিন্তু আমরা যদি সব ছাগল একত্রিত করি, তবে তাতে মাত্র একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে। এখানে তারা বিচ্ছিন্নগুলোর মাঝে একত্রিত করল, যাতে তাদের উপর তিনটি ছাগল ওয়াজিব না হয়ে বরং একটি ছাগল ওয়াজিব হয়।
একত্রকরণের মাঝে বিচ্ছিন্নকরণের দৃষ্টান্ত: এক ব্যক্তির ৪০ টি ছাগল আছে। যাকাত উত্তোলনকারীর আসার খবর শুনে সেগুলো পৃথক করে, এক স্থানে রাখল ২০টি, আরেক স্থানে রাখল ২০টি। এভাবে আলাদা থাকার দরুন নিসাব পরিমাণ না হওয়ায় তার কাছ থেকে যাকাত উত্তোলন করা হলো না।
টিকাঃ
৫০১. সুনান আবু দাউদ ১৫৬৭। এটা নাবী এর যাকাতের দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ৭৯২। [সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫০-১৪৫১ দুই হাদীসের অংশ থেকেও প্রমাণিত।-সম্পাদক]