📄 চতুষ্পদ জন্তুতে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ
চতুষ্পদ জন্তুর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিম্ন বর্ণিত কিছু শর্ত রয়েছে:
১. চতুষ্পদ জন্তু শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে নিসাব পরিমাণ হতে হবে। উট পাঁচটি, গরু ত্রিশটি, ছাগল চল্লিশটি হলে যাকাত আদায় করতে হবে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ “পাঁচ উটের কম সংখ্যায় যাকাত নেই। ৪৮৯
মুয়ায এর হাদীস: بَعَثَنِي رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ، فَأَمَرَنِي أَنْ أَخُذَ مِنَ الْبَقَرِ مِنْ كُلِّ ثَلَاثِينَ تَبِيعًا وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ
"আল্লাহর রসূল আমাকে ইয়েমেনে সাদকা (যাকাত) উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে প্রতি ত্রিশটি গরুতে একটি তাবি' এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি মুসিন্নাহ আদায়ের নির্দেশ দিলেন।"৪৯০
নাবী বলেছেন:
إِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةٌ مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةٌ فَلَيْسَ فِيهَا صَدَقَةٌ
"চরে বেড়োনো ছাগল চল্লিশের কম হলে তাতে কোনো যাকাত নেই।"৪৯১
২. চতুষ্পদ জন্তু নিসাব পরিমাণ হওয়ার পর মালিকের নিকট এক বছর অতিবাহিত হওয়া। এ ব্যাপারে হাদীস- لَا زَكَاةَ فِي مَالٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ "কোনো সম্পদ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তাতে কোনো যাকাত নেই।"৪৯২
৩. আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নির্দেশে কারো চাষাবাদ ছাড়াই ঘাস উৎপন্ন হয়- এমন মাঠে বিচরণশীল পশু হতে হবে; এক বছর হোক বা তার বেশি। নাবী বলেছেন:
وَفِي صَدَقَةِ الغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ، شَاةٌ،
"মাঠে বিচরণশীল ছাগল যদি ৪০ থেকে ১২০ পর্যন্ত পৌঁছে তবে তাতে একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে।"৪৯৩
নাবী আরও বলেছেন:
فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلِ فِي أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ “মাঠে বিচরণশীল উট প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন যাকাত দিতে হবে।"৪৯৪
তবে যদি এক বছরের কম মাঠে বিচরণ করে আর একে বছরের অধিকাংশ সময় খাদ্য খাওয়াতে হয়, তাহলে সেটা মাঠে বিচরণশীল পশু বলে গণ্য হবে না। আর এতে যাকাতও দিতে হবে না।
৪. আমিল না হওয়া অর্থাৎ যে পশু জমি চাষাবাষ, দ্রব্য সামগ্রী স্থানান্তর অথবা বোঝা বহন করে। কেননা এধরনের পশু বস্ত্রের ন্যায় মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। তবে যদি পশুটা ভাড়া দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভাড়ায় প্রাপ্ত অর্থ থেকে যাকাত দিতে হবে, যদি তা এক বছর অতিবাহিত হয়।
টিকাঃ
৪৮৯. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হা. ২১৫৩, ফুআ. ৯৭৯। আর উটের ذود বলা হয় তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যাকে। এটি স্ত্রী বাচক; এর কোনো এক বচন নেই। যেমন বলা হয়: خمس ذود আরও বলা হয় اخمسة أبعرة، وخمسة جمال، وخمس نوق
৪৯০. হাদীসটি সহীহ। ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন ৫/২৪০; সুনান আবু দাউদ, হা. ১৫৭৬; তিরমিযী, হা. ৬২৩ এবং অন্যান্যরা। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। ইরওয়া নং ৭৯৫।
৪৯১. সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫৪।
৪৯২. তিরমিযী, হা. ৬৩১; ইবনু মাজাহ, হা. ১৭৯২; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। ইরওয়া নং ৭৮৭।
৪৯৩. সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫৪।
৪৯৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৫৭৫।
📄 ওয়াজিবের পরিমাণ
১. উটে ওয়াজিবের পরিমাণ: আবশ্যক যাকাতের পরিমাণ: পাঁচটি উটে একটি জাযআ'৪৯৫ মেষ, অথবা সানিয়্যাহ ৪৯৬ ছাগল। আর দশটি উটে দুইটি ছাগী। পনেরোটি উটে তিনটি ছাগী। বিশটিতে চারটি ছাগী। পাঁচশ থেকে পয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতে মাখায। বিনতে মাখায হলো- এক বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে এমন মেয়ে উট। এটাকে এই নামে নামকরণ করার কারণ হলো, অধিকাংশ সময় এর মা গর্ভবতী হয়। এখানে মাখায অর্থ: হামেল বা গর্ভবতী। তবে এটা না পেলে একটা ইবনু লাবুন বা দুই বছরের পুরুষ উট যথেষ্ট হবে। ইবনু লাবুন হলো-যা দুই বছর পূর্ণ হয়ে তিন বছরে পদার্পণ করেছে। এটাকে নামকরণ করার কারণ হলো, অধিকাংশ সময় তার মা দ্বিতীয়বার গর্ভ ধারণ করে থাকে।
৩৬ থেকে ৪৫ পর্যন্ত একটি দুই বছরের বিনতে লাবুন।
৪৬ থেকে ৬০ পর্যন্ত একটি হিক্কাহ। হিক্কাহ হলো তিন বছর পূর্ণ হয়ে চার বছরে পদার্পণ করেছে এমন উষ্ট্রী। এর নামকরণ করা হয়েছে এ জন্য যে, এটি নর উট দ্বারা মিলিত হওয়ার উপযুক্ত হয়েছে। এছাড়াও বলা হয় যে, এর উপর সওয়ার হওয়া এবং বোঝা বহন করার উপযুক্ত হওয়ার কারণে এমন নাম রাখা হয়েছে।
৬১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত একটি জাযআ'। উটের জাযআ' বলা হয় যেটা চার বছর পূর্ণ হয়ে পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছে। এটা নামকরণের কারণ, এ সময় এর সামনের দাঁতগুলো পড়ে যায়।
৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত দুইটি বিনতে লাবুন।
৯১ থেকে ১২০ পর্যন্ত দুইটি হিক্কাহ।
১২০ টার বেশি হয়ে গেলে প্রতি ৪০ টাতে একটি বিনতে লাবুন। প্রতি ৫০ টাতে একটি হিক্কাহ। কিতাবুস সদাক্বাতে এ ব্যাপারে আনাস থেকে একটি হাদীস রয়েছে।
فِي أَرْبَعِ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ ، فَمَا دُونَهَا مِنَ الغَنَمِ مِنْ كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ إِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ، فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضِ أُنْثَى،
“২৪ বা তার চেয়ে কম সংখ্যক উটের যাকাত ছাগল দিয়ে আদায় করতে হবে; প্রতি পাঁচটিতে একটি ছাগল। আর ২৫ থেকে ৩৫ পর্যন্ত হলে একটি মাদী বিনতে মাখায......।"৪৯৭
উটের যাকাতের হক:
ওয়াজিবের পরিমাণ সংখ্যা হতে পর্যন্ত
১টি ছাগল ৫ ৯
২টি ছাগল ১০ ১৪
৩টি ছাগল ১৫ ১৯
৪টি ছাগল ২০ ২৪
১টি বিনতে মাখায ২৫ ৩৫
১টি বিনতে লাবুন ৩৬ ৪৫
১টি হিক্কাহ ৪৬ ৬০
১টি জাযআ ৬১ ৭৫
২টি বিনতে লাবুন ৭৬ ৯০
২টি হিক্কাহ ৯১ ১২০
১২০ এর বেশি হলে প্রতি চল্লিশটি উটে একটি বিনতে লাবুন এবং প্রতি পঞ্চাশটি উটে একটি হিক্কাহ দেওয়া ওয়াজিব।
২. গরুতে ওয়াজিবের পরিমাণ: গরু ৩০ থেকে ৩৯ পর্যন্ত পৌঁছলে একটি তাবী' দিতে হবে। তাবি' বলা হয় যে গরুর বাচ্চার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এই নামকরণের কারণ হলো, এ বয়সের বাছুর তার মায়ের অনুসরণ করে। ৪০ থেকে ৫৯ পর্যন্ত হলে একটি মুসিন্নাহ দিতে হবে। মুসিন্নাহ হলো যে গরুর বাচ্চার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এটা নামকরণের কারণ হলো এ সময়ে দাঁত গজায়।
৬০ থেকে ৬৯ পর্যন্ত দুইটি তাবী' দিতে হবে। অতঃপর প্রতি ৩০ টাতে একটি তাবী' এবং প্রতি ৪০ টাতে একটি মুসিন্নাহ দিতে হবে। এভাবেই চলতে থাকবে। মুয়ায এর হাদীস:
أَمَرَنِي أَنْ أَخُذَ مِنَ الْبَقَرِ مِنْ كُلِّ ثَلَاثِينَ تَبِيعًا وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ
"আমাকে প্রতি ত্রিশটি গরুতে একটা তাবি' এবং প্রতি চল্লিশটি গরুতে একটা মুসিন্নাহ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। "৪৯৮
গরুর যাকাতের হক:
ওয়াজিবের পরিমাণ সংখ্যা হতে পর্যন্ত
১টি তাবী ৩০ ৩৯
১টি মুসিন্নাহ ৪০ ৫৯
২টি তাবী ৬০ ৬৯
২টি মুসিন্নাহ ৭০ ৭৯
এর বেশি হলে প্রতি ৩০ টাতে একটি তাবী' এবং প্রতি ৪০ টাতে একটি মুসিন্নাহ দিতে হবে।
৩. ছাগলের ওয়াজিবের পরিমাণ: ছাগল ৪০ থেকে ১২০ পর্যন্ত হলে একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে। ১২১ থেকে ২০০ পর্যন্ত হলে দুইটি ছাগল দিতে হবে। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত তিনটি ছাগল দিতে হবে। এই পরিমাণের পর এভাবেই চলমান থাকবে প্রতি ১০০ টাতে একটি ছাগল দিতে হবে। এটা আনাস এর হাদীসে এসেছে:
وَفِي صَدَقَةِ الغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ شَاةٌ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ إِلَى مِائَتَيْنِ شَاتَانِ، فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ إِلَى ثَلاثِ مِائَةٍ ، فَفِيهَا ثَلَاثُ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلاثِ مِائَةٍ، فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ
"বিচরণশীল ছাগল ৪০ থেকে ১২০ পর্যন্ত হলে একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে। এর বেশি ১২১ থেকে ২০০ পর্যন্ত হলে দুইটি ছাগল দিতে হবে। এর বেশি ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত তিনটি ছাগল দিতে হবে। ৩০০ এর বেশি হলে প্রতি ১০০ তে একটি ছাগল।" ৪৯৯
ওয়াজিবের পরিমাণ সংখ্যা হতে পর্যন্ত
১টি ছাগল ৪০ ১২০
২টি ছাগল ১২১ ২০০
৩টি ছাগল ২০১ ৩০০
এর বেশি হলে প্রতি ১০০ তে একটি ছাগল।
টিকাঃ
৪৯৫. ছোটো বাচ্চা। ছাগলের বাচ্চা এক বছর পূর্ণ করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পন করেছে বা দ্বিতীয় বছরে পা দিয়েছে।
৪৯৬. দুই বছর পূর্ণ করে তিন বছরে পদার্পন করেছে বা তিন বছরে পা দিয়েছে।
৪৯৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫৪।
৪৯৮. হাদীসটি সহীহ। ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন ৫/২৪০; সুনান আবু দাউদ, হা. ১৫৭৬; তিরমিযী, হা. ৬২৩ এবং অন্যান্যরা। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। ইরওয়া নং ৭৯৫।
৪৯৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫৪।
📄 ওয়াজিবের বর্ণনা
ইসলাম তার শারঈ মূলনীতি অনুযায়ী ধনী-দরিদ্রের কল্যাণের মাঝে সমতা বিধান করেছে। দরিদ্রকে সম্পূর্ণরূপে তার হক গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। একটুও কম করেনি। সেই সাথে ধনীদের সম্পদ সংরক্ষণের প্রতিও উদ্বুদ্ধ করেছে। একারণে ব্যক্তির মধ্যম মানের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণের বিধান করা হয়েছে, উৎকৃষ্টতম না আবার নিকৃষ্টতমও হবে না। তবে পশুর বয়সের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এর চেয়ে কমে যথেষ্ট হবে না। কারণ এতে দরিদ্রদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এর চেয়ে বেশি বয়সেরও গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এতে ধনীদের প্রতি অন্যায় করা হয়।
অসুস্থ-ত্রুটিসম্পন্ন ও বয়োঃবৃদ্ধ গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এটা দরিদ্রদের কোনো উপকারে আসে না। আর এর বিপরীতে পেটুক অর্থাৎ মোটা ও অতিভোজী গ্রহণ করা যাবে না। যে পশু বাচ্চা লালন পালন করে, সেটাও নেওয়া যাবে না। গর্ভবতী নেওয়া যাবে না। প্রজননে ব্যবহৃত পশু নেওয়া যাবে না। দৃষ্টিনন্দন উৎকৃষ্ট পশুও নেওয়া যাবে না। কারণ সেটা সর্বোৎकृष्ट সম্পদ। আর এগুলো নিলে ধনীদের ক্ষতি হয়ে যাবে। নাবী বলেছেন: ... وَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَاهِمْ
"তোমরা তাদের ভালো ভালো সম্পদ নেওয়া থেকে বিরত থাকো।"৫০০
উমার থেকে বর্ণিত। তিনি তার যাকাত আদায়ের আমিলকে (অফিসার) সুফইয়ানকে বলেছিলেন, তোমার সম্প্রদায়কে বলো, আমরা তোমাদের বাচ্চা লালন পালনকারী পশু, গর্ভবতী, অতিভোজী ও পাঠা ছাগল নিবো না। আমরা বরং নিবো জাযআ' ও সানী। এটা আমাদের ও তোমাদের মাঝে মধ্যম মানের সম্পদ। [জাষআ ও সানিয়্যা গবাদি পশুর বয়স বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে উট, গরু ও ছাগলের বয়সে পার্থক্য রয়েছে।]
টিকাঃ
৫০০. সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৯৫।
📄 চতুষ্পদ জন্তুতে অংশীদার
এটা দুই প্রকার: প্রথম প্রকার: ব্যক্তির অংশীদার। অর্থাৎ সম্পদে দুইজনের যৌথ মালিকানায় হয়। একজনের অংশ আরেকজন থেকে আলাদা করা যাবে না। এই ধরনের অংশীদার উত্তরাধিকার সূত্রে এবং ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় প্রকার: বৈশিষ্ট্যগত অংশীদার। এই সম্পদে প্রত্যেকের অংশ আলাদাভাবে পার্থক্য করা যায় এবং এর মাঝে শুধু প্রতিবেশিরাই যুক্ত থাকে।
এই দুই প্রকার অংশীদারের সম্পদ এক সম্পদে পরিণত হবে যখন-
> দুই সম্পদের সমষ্টি একত্রে নিসাব পরিমাণ হবে।
> উভয় অংশীদার যাকাত আদায়ের যোগ্য হবে। এক্ষেত্রে যদি দুইজনের একজন কাফের হয় তবে একত্র করা শুদ্ধ হবে না এবং কোনো প্রভাবও ফেলবে না।
> দুইজনের পশু একই গোয়ালঘরে থাকবে। একই চারণভূমিতে একত্রে থাকবে; একসাথে ফিরে আসবে। এমনকি দুধ, ঘাস ও প্রজননের ক্ষেত্রেও একত্রে থাকবে।
এই শর্তগুলো পাওয়া গেলে দুই সম্পদই এক সম্পদে পরিণত হবে। নাবী বলেছেন:
لَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ، وَلَا يُفَرِّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ، وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ، فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ
"যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্নগুলোকে একত্রিত করা এবং একত্রগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের পশু একত্রে থাকলে প্রত্যেকেই নিজ অংশের হিসাব করে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করবে।”৫০১
এই শরীকানা যাকাত ওয়াজিব হওয়া বা না হওয়াকে প্রভাবিত করবে। এটা শুধুমাত্র চতুষ্পদ জন্তুতেই হয়ে থাকে।
বিচ্ছিন্ন পশুগুলোর মাঝে একত্রকরণের দৃষ্টান্ত: তিন ব্যক্তি প্রক্যেকেই ৪০ টি করে ছাগলের মালিক। এখন মোট ছাগল ১২০টি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকেরটা আলাদা করলে তাদের উপর তিনটি ছাগল যাকাত দেওয়া ওয়াজিব হবে। কিন্তু আমরা যদি সব ছাগল একত্রিত করি, তবে তাতে মাত্র একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে। এখানে তারা বিচ্ছিন্নগুলোর মাঝে একত্রিত করল, যাতে তাদের উপর তিনটি ছাগল ওয়াজিব না হয়ে বরং একটি ছাগল ওয়াজিব হয়।
একত্রকরণের মাঝে বিচ্ছিন্নকরণের দৃষ্টান্ত: এক ব্যক্তির ৪০ টি ছাগল আছে। যাকাত উত্তোলনকারীর আসার খবর শুনে সেগুলো পৃথক করে, এক স্থানে রাখল ২০টি, আরেক স্থানে রাখল ২০টি। এভাবে আলাদা থাকার দরুন নিসাব পরিমাণ না হওয়ায় তার কাছ থেকে যাকাত উত্তোলন করা হলো না।
টিকাঃ
৫০১. সুনান আবু দাউদ ১৫৬৭। এটা নাবী এর যাকাতের দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া নং ৭৯২। [সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫০-১৪৫১ দুই হাদীসের অংশ থেকেও প্রমাণিত।-সম্পাদক]