📄 মধুর যাকাত
ইবনু আব্দিল বার অধিকাংশ আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এতে কোনো যাকাত নেই। আর এটাই বিশুদ্ধ। কারণ মধুর যাকাত ওয়াজিবের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সহীহ দলীল কুরআনে কিংবা হাদীসে নেই। কোনো শারঈ বিষয়ের মূলনীতি হলো - ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়ার দলীল না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি দায়মুক্ত বা স্থগিত থাকবে। ইমাম শাফেয়ী বলেন, "মধুতে এক উশর যাকাত দিতে হবে।” -হাদীসটি দুর্বল। এবং (لا يؤخذ منه )তা থেকে গ্রহণ করা হবে না) এই অংশটুকু যঈফ। তবে উমার বিন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, (يؤخذ منه), যা যঈফ নয়। আমার মতে, মধুর যাকাত নেই। কেননা যাকাত আদায়ের খাত সম্পর্কে হাদীসের গ্রন্থসমূহ ও আসারগুলোতে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তাতে মধুর যাকাত সম্পর্কে সুসাব্যস্ত কিছু আসেনি, সুতরাং এটাতে যেন ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইবনু মুনযির বলেন, মধুতে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো হাদীস প্রমাণিত নয়।
📄 রিকায (গুপ্তধন)
রিকায: রিকায হলো ঐ সম্পদ যা জাহেলী যুগে মাটির নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। এগুলো হলো স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা কুফরের আলামত সম্বলিত সম্পদ। এই সম্পদ অর্জনে কোনো অর্থ ব্যয় বা বড়ো কোনো কাজের মাধ্যমেও আসেনি। অপরদিকে যে সম্পদ অর্থ ব্যয় বা বড়ো কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয় সেটা রিকায নয়। রিকায কম বা বেশি হোক, এক পঞ্চমাংশ যাকাত আদায় করতে হবে। এর উপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া কিংবা নিসাব পরিমাণ পূর্ণ হওয়াও শর্ত না। একটি আম হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নাবী বলেন: وَفِي الرِّكَارِ الحُمُسُ "রিকাযে এক পঞ্চমাংশ যাকাত দিবে।”৪৮৮
আর এটা ফায় হিসেবে সাধারণ মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সম্পদ হওয়া শর্ত নয়। তা স্বর্ণ, রৌপ্য বা অন্য কিছু হতে পারে।
জাহেলী যুগের প্রোথিত সম্পদ চেনার মাধ্যম: এর উপর কুফরের আলামত পাওয়া যাবে। যেমন- তাদের নাম লেখা থাকবে। মূর্তি খোদাই করা থাকবে। এ ছাড়াও অন্যান্য আলামত রয়েছে।
মা'দিন বা খনিজ সম্পদ: জমিন থেকে উৎপন্ন কিন্তু জমিনের জাতভুক্ত নয় এমন সম্পদ। এটি কোনো উদ্ভিদ নয়। সেটা প্রবাহমানও হতে পারে। যেমন- পেট্রোল ও আলকাতরা। অথবা কঠিন পদার্থও হতে পারে। যেমন- লোহা, তামা, সোনা, রুপা ও পারদ। সকলের ঐকমত্যে এতে যাকাত ওয়াজিব। এর আলোচনা পূর্বে হয়েছে। 'ভূমি থেকে উৎপন্ন সম্পদের যাকাত' এই অধ্যায়ে এসংক্রান্ত একাধিক আম (ব্যাপক) দলীল উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ "হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের অর্জিত পবিত্র সম্পদ থেকে ব্যয় করো এবং ব্যয় করো তা থেকে যা আমরা তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি।” [সুরা বাক্বারাহ: ২৬৭]
টিকাঃ
৪৮৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৯৯; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৭১০ আবু হুরায়রা এর হাদীস।