📄 যাকাত কখন ওয়াজিব হবে? তার দলীল
ভূমি থেকে উৎপন্ন সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার মৌলিক আয়াত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ)
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের অর্জিত পবিত্র সম্পদ থেকে ব্যয় করো এবং ব্যয় করো তা থেকে যা আমরা তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি।" [সূরা বাক্বারাহ : ২৬৭]
শস্যে যাকাত তখনই ওয়াজিব হবে যখন শস্যদানা শক্ত হয়ে উপরে আবরণ বা খোসা হবে। আর ফলমূলে যাকাত ওয়াজিব হয়, যখন ফল পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপক্রম হয়। এর জন্য এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴾وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ
"ফল কর্তনের দিন তোমরা তার হক বুঝিয়ে দাও।"[সুরা আনআম: ১৪১]
সুতরাং যে শস্য ও ফল মেপে সংরক্ষণ করা হয়, তাতে যাকাত আদায় করা ওয়াজিব। যেমন- গম, যব, সরিষা, ভুট্টা, ধান, খেজুর ও কিশমিশ। কিন্তু শুধু ফলমূল ও শাকসবজিতে যাকাত ওয়াজিব হবে না। পাত্রের পরিমাপযোগ্য (ওজন করা যায় এমন) হতে হবে; কারণ নাবী ওয়াসাক তথা পাত্রের মাপকে গণ্য করেছেন। আর মুদ্দাখার বা সংরক্ষণযোগ্য হওয়ার বিষয়টি যাকাত ওয়াজিব হওয়ার উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তা সত্ত্বেও যদি শস্য এবং ফলমূলে মিকইয়াল বা পরিমাপযোগ্য ও মুদ্দাখার বা সংরক্ষণযোগ্য না পাওয়া যায়, তবে তাতে যাকাত নেই।
📄 যাকাতের শর্ত
শস্য ও ফলে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে: ১. নিসাব পরিমাণ হতে হবে। অর্থাৎ পাঁচ ওয়াসাক। নাবী বলেছেন,
لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ "পাঁচ ওয়াসাকের কমে কোনো যাকাত নেই।”৪৮৬
ওয়াসাক হলো উটের বহনযোগ্য শস্যের পরিমাণ। এটা নাবী এর সা' হিসেবে ষাট সা'। তাহলে পাঁচ ওয়াসাক সমান তিনশ সা'। আর নিসাবের পরিমাণ প্রায় ছয়শত বারো কেজি ভালো মানের গমের সমপরিমাণ। সা' এর ওজন অনুযায়ী দুইশ চল্লিশ কেজি। ২. এই নিসাব পরিমাণটা যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সময় মালিকানায় থাকতে হবে।
টিকাঃ
৪৮৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হা. ২১৫৩, ফুআ. ৯৭৯।
📄 ওয়াজিব পরিমাণ
শস্য ও ফলমূলে ওয়াজিবের পরিমাণ: বিনা খরচে সেচ দেওয়া হলে দশ ভাগের এক ভাগ। তা কোনো কিছু থেকে নির্গত পানি হোক বা ঝর্ণার পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হোক। আর সেচের পানিতে খরচ হলে বিশ ভাগের এক ভাগ দিতে হবে। চাই তা বালতি দিয়ে সেচ দেওয়া হোক বা উটের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন:
فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْأَنْهَارُ وَالْعُيُونُ، أَوْ كَانَ بَعْلًا الْعُشْرُ، وَفِيمَا سُقِيَ بِالسَّوَانِي، أَوِ النَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ "যে ভূমি বৃষ্টি, নদ-নদী ও ঝর্ণার পানিতে সিঞ্চিত হয়, অথবা যে ভূমিতে তলদেশ থেকে আপনা আপনিই পানি সিঞ্চিত হয় তাতে উশর বা দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দেওয়া ওয়াজিব। আর যে ভূমি উট, বালতি বা সেচ যন্ত্র দিয়ে সেচ দেওয়া হয় তার যাকাত হলো উশরের অর্ধেক বা বিশ ভাগের এক ভাগ। ৪৮৭
টিকাঃ
৪৮৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৮৩ ইবনু উমার এর হাদীস।
📄 মধুর যাকাত
ইবনু আব্দিল বার অধিকাংশ আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এতে কোনো যাকাত নেই। আর এটাই বিশুদ্ধ। কারণ মধুর যাকাত ওয়াজিবের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সহীহ দলীল কুরআনে কিংবা হাদীসে নেই। কোনো শারঈ বিষয়ের মূলনীতি হলো - ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়ার দলীল না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি দায়মুক্ত বা স্থগিত থাকবে। ইমাম শাফেয়ী বলেন, "মধুতে এক উশর যাকাত দিতে হবে।” -হাদীসটি দুর্বল। এবং (لا يؤخذ منه )তা থেকে গ্রহণ করা হবে না) এই অংশটুকু যঈফ। তবে উমার বিন আব্দুল আযীয থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, (يؤخذ منه), যা যঈফ নয়। আমার মতে, মধুর যাকাত নেই। কেননা যাকাত আদায়ের খাত সম্পর্কে হাদীসের গ্রন্থসমূহ ও আসারগুলোতে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তাতে মধুর যাকাত সম্পর্কে সুসাব্যস্ত কিছু আসেনি, সুতরাং এটাতে যেন ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইবনু মুনযির বলেন, মধুতে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো হাদীস প্রমাণিত নয়।