📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ব্যাবসায়িক পণ্যের যাকাত

📄 ব্যাবসায়িক পণ্যের যাকাত


العروض বা উরুয: একবচনে عرض বা আর্য বা عَرَض আরায। আরয হলো- মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত পণ্য। এটা যে-কোনো প্রকার পণ্য হতে পারে। এই নামকরণের কারণ হলো- এটি স্থির নয়; বরং আসে আবার চলে যায়। আর ব্যবসায়ী নির্দিষ্টভাবে পণ্যটাই চায় না বরং এর লভ্যাংশ হিসেবে টাকা চায়।
ব্যাবসায়িক পণ্যে যাকাত ওয়াজিব। কারণ কুরআনে আমভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّابِلِ وَالْمَحْرُومِ "তাদের সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।"[সূরা যারিয়াত: ১৯]
অন্যত্র বলা হয়েছে, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ
"হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা তোমাদের অর্জিত পবিত্র সম্পদ থেকে ব্যয় করো।" [সূরা বাক্বারাহ: ২৬৭]
নাবী মুয়ায বিন জাবাল -কে বলেছিলেন:
فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةٌ فِي أَمْوَالِهِمْ ، تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ، وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
"তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর তাদের সম্পদে সাদকা ফরয করেছেন। যা ধনীদের থেকে উত্তোলন করে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”৪৮৫
নিঃসন্দেহে ব্যাবসায়িক পণ্য এক ধরনের সম্পদ।
ব্যাবসায়িক পণ্যে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ: ১. নিজ কর্মে ঐ সম্পদের মালিক হওয়া: যেমন- ক্রয়-বিক্রয়, হাদীয়া গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রের সম্পদ বা জোরপূর্বক গ্রহণকৃত কোনো সম্পদ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। ২. ব্যবসার নিয়তে ঐ সম্পদের মালিক হওয়া। ৩. মূল্য নিসাব পরিমাণ হওয়া। পূর্বোল্লিখিত পাঁচটি শর্তও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
অতঃপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে স্বর্ণ বা রৌপ্যের যে কোনো একটির মাধ্যমে এর মূল্য নির্ধারণ করার পর যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে আড়াই শতাংশ যাকাত ওয়াজিব হবে। মূল্য নির্ধারণের সময় যা দিয়ে পণ্য ক্রয় করা হয়েছে, সেই মূল্য ধর্তব্য নয়। কেননা এর মূল্য উর্ধ্বঃগতি ও নিম্নগতি অনুসারে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বরং বছর শেষের মূল্যটাই ধর্তব্য।

টিকাঃ
৪৮৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৯৫, সহীহ মুসলিম ১৯/২৯, আবু দাউদ ১৫৮৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00