📄 গহনার যাকাত
বিদ্বানদের মাঝে এ ব্যাপারে কোনো ইখতিলাফ নেই যে, সংরক্ষণ এবং ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত গহনায় যাকাত আদায় করা ওয়াজিব। হারামকৃত গহনার ক্ষেত্রে একই হুকুম। যেমন কোনো পুরুষ যদি স্বর্ণের আংটি বানায় কিংবা কোনো মহিলা যদি প্রাণির আকৃতিতে গহনা বানায় অথবা তাতে প্রাণির ছবি থাকে। বৈধ পন্থায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বা ধার দেওয়ার জন্য প্রস্তুতকৃত গহনার ক্ষেত্রে বিদ্বানদের বিশুদ্ধ মত হলো- এতে যাকাত দেওয়া ওয়াজিব। এর কারণ হলো:
১. স্বর্ণ-রৌপ্য যাকাত ওয়াজিবের ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদীসগুলো আম। আর এই আম হাদীসগুলো গহনাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
২. হাদীস বিশারদগণ আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি তার পিতা, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন:
أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا، وَفِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ، فَقَالَ لَهَا: أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا؟ قَالَتْ: لَا ، قَالَ : أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ الله بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ؟ قَالَ: فَخَلَعَتْهُمَا، فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ،
"একজন মহিলা আল্লাহর রসূল এর কাছে আসল। সঙ্গে তার একটি মেয়ে। মেয়েটির হাতে পরিহিত স্বর্ণের দুইটি মোটা বালা। তখন তিনি বললেন: তুমি কি এর যাকাত আদায় করো? সে বলল, না। তিনি বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনমিয়ে তোমাকে আগুনের বালা পরিয়ে দিবেন? সাথে সাথে মহিলাটি বালা দুটি খুলে নাবী এর কাছে ফেলে দিল।”৪৮৪
এই হাদীসটি এই বিষয়ের দলীল। এছাড়াও এর শাহেদ (সমর্থক হাদীস) সহীহ ও অন্যান্য হাদীস রয়েছে।
৩. এই মতটি অধিক নিরাপদ এবং দায়মুক্ত থাকার জন্য অধিক উপযোগী। নাবী বলেছেন, "সন্দেহপূর্ণ বিষয় ছেড়ে সন্দেমুক্ত বিষয়ের দিকে ধাবিত হও।”
টিকাঃ
৪৮৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৫৬৩; নাসাঈ, হা. ২৪৭৯; বায়হাক্বি ৪/১৪০; ইবনু কত্তান সহীহ সানাদে তার নাসবুর রায়াহ গ্রন্থে ২/৩৭০ বর্ণনা করেন; শাইখ আলবানী হাসান বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী ৫১৮।
📄 ব্যাবসায়িক পণ্যের যাকাত
العروض বা উরুয: একবচনে عرض বা আর্য বা عَرَض আরায। আরয হলো- মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত পণ্য। এটা যে-কোনো প্রকার পণ্য হতে পারে। এই নামকরণের কারণ হলো- এটি স্থির নয়; বরং আসে আবার চলে যায়। আর ব্যবসায়ী নির্দিষ্টভাবে পণ্যটাই চায় না বরং এর লভ্যাংশ হিসেবে টাকা চায়।
ব্যাবসায়িক পণ্যে যাকাত ওয়াজিব। কারণ কুরআনে আমভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّابِلِ وَالْمَحْرُومِ "তাদের সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।"[সূরা যারিয়াত: ১৯]
অন্যত্র বলা হয়েছে, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ
"হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা তোমাদের অর্জিত পবিত্র সম্পদ থেকে ব্যয় করো।" [সূরা বাক্বারাহ: ২৬৭]
নাবী মুয়ায বিন জাবাল -কে বলেছিলেন:
فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةٌ فِي أَمْوَالِهِمْ ، تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ، وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
"তাদেরকে জানাবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর তাদের সম্পদে সাদকা ফরয করেছেন। যা ধনীদের থেকে উত্তোলন করে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”৪৮৫
নিঃসন্দেহে ব্যাবসায়িক পণ্য এক ধরনের সম্পদ।
ব্যাবসায়িক পণ্যে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্তসমূহ: ১. নিজ কর্মে ঐ সম্পদের মালিক হওয়া: যেমন- ক্রয়-বিক্রয়, হাদীয়া গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রের সম্পদ বা জোরপূর্বক গ্রহণকৃত কোনো সম্পদ এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। ২. ব্যবসার নিয়তে ঐ সম্পদের মালিক হওয়া। ৩. মূল্য নিসাব পরিমাণ হওয়া। পূর্বোল্লিখিত পাঁচটি শর্তও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
অতঃপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে স্বর্ণ বা রৌপ্যের যে কোনো একটির মাধ্যমে এর মূল্য নির্ধারণ করার পর যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে আড়াই শতাংশ যাকাত ওয়াজিব হবে। মূল্য নির্ধারণের সময় যা দিয়ে পণ্য ক্রয় করা হয়েছে, সেই মূল্য ধর্তব্য নয়। কেননা এর মূল্য উর্ধ্বঃগতি ও নিম্নগতি অনুসারে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বরং বছর শেষের মূল্যটাই ধর্তব্য।
টিকাঃ
৪৮৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৯৫, সহীহ মুসলিম ১৯/২৯, আবু দাউদ ১৫৮৪।