📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যাকাত ওয়াজিব করার হিকমাহ ও যাদের উপর ওয়াজিব (যাকাত ওয়াজিবের শর্তসমূহ)

📄 যাকাত ওয়াজিব করার হিকমাহ ও যাদের উপর ওয়াজিব (যাকাত ওয়াজিবের শর্তসমূহ)


যাকাত ওয়াজিব করার পিছনে বেশ কিছু হিকমাহ রয়েছে। সেগুলো হলো:
১. যাকাত বান্দার আখলাককে পবিত্র করে। কৃপণতা ও লোভ-লালসা থেকে মুক্ত করে। তাকে দানশীল ও বদান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে।
২. যাকাত মুসলিমদের অন্তরকে পবিত্র করে। ধনীদের প্রতি গরীবদের হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখে।
৩. যাকাত মুসলিম সমাজকে উন্নত করে। অভাবীদের অভাব দূর করে। বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করে এবং ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে।
৪. যাকাত ইসলামী নিদর্শনসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। যেমন- আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, দ্বীনের প্রচার-প্রসার এবং এ জাতীয় অন্যান্য ভালো কাজ।
৫. যাকাত সম্পদকে বৃদ্ধি করে এবং তাতে বরকত দান করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴿يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ﴾ “আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৭৬]
যাদের উপর যাকাত ওয়াজিব: যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে:
১. ইসলাম: কাফেরের উপর যাকাত ওয়াজিব নয়। আর যদি সে যাকাত আদায় করে, তাহলে তার থেকে তা কবুল করা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সে ইসলাম গ্রহণ করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ “আর তাদের কাছ থেকে দান-খয়রাত কবুল করা হয় না এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে।”[সুরা তাওবা: ৫৪]
সুতরাং যদি তাদের দান গৃহীত না-ই হয়, তাহলে এই কর্তব্য পালনে তাদের কোনো উপকার নেই। আবু বকর এর নিম্নের বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে। তিনি বলেন,
هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ “এটাই সেই ফরয যাকাত যেটা আল্লাহর রসূল মুসলিমদের উপর ফরয করেছেন। "৪৭১ কিন্তু তারপরও তার হিসাব হবে। কারণ বিশুদ্ধ মতে, সে শরীয়তের শাখাগত মাসআলায় সম্বোধিত।
২. স্বাধীন হওয়া: দাস-দাসীর উপর যাকাত ওয়াজিব নয়। কেননা দাস কোনো কিছুর মালিক নয়। অন্যদিকে মুকাতাব দাসের মালিকানাও অত্যন্ত নগণ্য। আর দাসের অধীনে যা আছে তা সবই মূলত তার মনীবের। অর্থাৎ নিজের বলতে কিছুই নেই। এ কারণেই মূলত তার উপর যাকাত ওয়াজিব নয়।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের স্থির মালিক হওয়া: ৪৭২ এই নিসাব পরিমাণ সম্পদটি বিনা অভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হিসাবে পূর্ণ মালিকানায় থাকতে হবে। যেমন খাবার-দাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও বাসস্থান সম্বলিত প্রয়োজন। কারণ যাকাত ওয়াজিব হয়েছে মূলত দরিদ্রদের সহযোগিতা করার জন্য। তাই নিসাব হচ্ছে যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে ধনী হিসেবে বিবেচনা করা হয় সেই পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। এটাই তার উপর ওয়াজিব। নাবী বলেছেন:
لَيْسَ فِيهَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ “পাঁচ ওয়াসাকের কমে কোনো যাকাত নেই। পাঁচ উটের কমে কোনো যাকাত নেই এবং পাঁচ উকিয়ার কমে কোনো যাকাত নেই। "৪৭৩
৪. সম্পদের উপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া: নিসাব পরিমাণ সম্পদ ব্যক্তির মালিকানায় বারো চন্দ্র মাস অতিবাহিত হতে হবে। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন:
لَا زَكَاةَ فِي مَالٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ “কোনো সম্পদ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তাতে কোনো যাকাত নেই। "৪৭৪
এই শর্তটি চতুষ্পদ জন্তু, দুই মুদ্রা (সোনা ও রুপা) ও ব্যাবসায়িক পণ্যের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু শস্য, ফলমূল, মায়াদিন (খনিজ সম্পদ) ও রিকাযের (গুপ্তধন) ক্ষেত্রে এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: ﴾وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ﴿
"তোমরা শস্য কাটার দিন শস্যের প্রাপ্য আদায় করে দাও।” [সূরা আনআম: ১৪১]
মায়াদিন ও রিকায এ দুটি ভূমি থেকে উৎপন্ন সম্পদ। সুতরাং এই সম্পদের যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এক বছর অতিবাহিত হওয়া ধর্তব্য নয়। এগুলো শস্য ও ফলমূলের মতো।

টিকাঃ
৪৭১. সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৫৪। আর এটা সেই কিতাবে ছির আনাস বিন মালিক কে বাহরাইনে প্রেরণ করার সময় আবু বকর যা লিখে দিয়েছিলেন।
৪৭২. مستقراً বা স্থিরতার উদ্দেশ্য হচ্ছে ধ্বংসের সম্মুখীন না হওয়া। যদি ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তবে তাতে যাকাত নেই।
৪৭৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৪৪৭, সহীহ মুসলিম, হা. ৯৭৯।
৪৭৪. ইবনু মাজাহ, হা. ১৭৯২।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যাকাতের প্রকারভেদ

📄 যাকাতের প্রকারভেদ


যাকাত দুই প্রকার: ১. সম্পদের যাকাত, যা সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত। ২. শরীরের যাকাত, শরীরের সাথে সম্পৃক্ত। এটাই যাকাতুল ফিতর।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ঋণের যাকাত

📄 ঋণের যাকাত


ঋণটা যদি নিঃস্ব ব্যক্তির উপর থাকে আর সে যদি এক বছরের জন্য ঋণ নিয়ে থাকে, তাহলে ঐ এক বছরই ঋণদাতা এর যাকাত আদায় করবে। পক্ষান্তরে সচ্ছল ব্যক্তির উপর ঋণ থাকলে, ঋণদাতা প্রতি বছরই এর যাকাত দিবে। কারণ সম্পদটি তার নিজের কাছে থাকার যে হুকুম এটাও সেই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00