📄 জানাযার সলাতের সময়, ফযীলত ও পদ্ধতি
১. সময়: যদি সে উপস্থিত থাকে তবে জানাযার সলাতের সময় তাকে গোসল করানো, কাফন দেওয়া ও পূর্ণ প্রস্তুত করানোর পর থেকে শুরু হয়। আর অনুপস্থিত থাকলে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছার পর।
২. ফযীলত: নাবী বলেছেন:
مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ ، قِيلَ: وَمَا الْقِيرَاطَانِ؟ قَالَ: «مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ
“যে ব্যক্তি জানাযার সলাতে উপস্থিত হয়ে সলাত আদায় করে, তার জন্য এক কিরাত নেকি। আর যে ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে দাফন করানো পর্যন্ত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত নেকি। বলা হলো, দুই কিরাত কতটুকু পরিমাণ? তিনি বললেন, বড়ো দুইটি পাহাড় সমপরিমাণ। ৪৩৪
৩. পদ্ধতি: পুরুষ হলে ইমাম একাকী তার মাথার নিকটে দাঁড়াবে এবং মহিলা হলে মাঝ বরাবর দাঁড়াবে। এটা নাবী এর ফি'লী হাদীস থেকে প্রমাণিত, যা আনাস বর্ণনা করেছেন। ৪৩৫ সলাতের জন্য তাকবীর দিবে। এরপর আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ বলে অনুচ্চস্বরে সূরা ফাতিহাহ পাঠ করবে, যদিও এটি রাতে হয়। অতঃপর তাকবীর দিয়ে তাশাহহুদের দরুদ পাঠ করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে মৃতব্যক্তির জন্য নাবী থেকে বর্ণিত দুআ করবে। তিনি বলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا ، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ.
“হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোটো-বড়ো, নারী-পুরুষ সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন।”৪৩৬
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ – أَوْ مِنْ عَذَابِ النَّارِ
“হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও ও তার প্রতি দয়া করো। তাকে নিরাপদে রাখো ও তার ত্রুটি মার্জনা করো। তাকে মর্যাদা দান করো ও তার প্রবেশ পথকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দ্বারা ধুয়ে দাও এবং পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করো যেমনভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। তার ঘরের বিনিময়ে উত্তম ঘর দান করো, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান করো, তার স্ত্রীর তুলনায় উত্তম স্ত্রী দান করো। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবরের আযাব থেকে বাঁচাও অথবা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।”৪৩৭
اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ سَلَفًا لِوَالِدَيْهِ، وَفَرَطًا وَأَجْرًا :
“হে আল্লাহ! তাকে তার পিতামাতার জন্য পূর্বসূরী, কিয়ামতের ময়দানে অগ্রপথিক ও সওয়াবের মাধ্যম করো।”৪৩৮
অতঃপর আবার তাকবীর দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে। তবে যে দুআ তার কাছে সহজ মনে হবে সেটা পড়তে পারলে ভালো। যেমন-
اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تَفْتِنَا بَعْدَهُ
“হে আল্লাহ! এর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে ফিতনায় ফেলবেন না।”৪৩৯
সবশেষে ডান দিকে একবার সালাম ফিরাবে। তবে দুইটি সালাম ফিরালে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারো সলাতের কিছু অংশ ছুটে গেলে, সে সলাত শুরু করে ইমামের অনুসরণ করবে। এক্ষেত্রে ইমাম যখন সালাম ফিরাবে তখন তার যে অংশ ছুটে যাবে, তা আদায় করে নিবে। আর যদি দাফনের আগে সলাত শেষ হয়ে যায়, তবে তার জন্য করণীয় হলো ক্ববরের সামনে সলাত আদায় করা। নাবী এরূপ করেছেন যা বর্ণিত হয়েছে ঐ মহিলার ঘটনায় যে মসজিদ ঝাড়ু দিত। ৪৪০ মৃত্যুর সংবাদ জানলে-যদিও তা একমাস বা তার বেশি সময় হয়- গায়েবানা জানাযা আদায় করবে। গর্ভচ্যুত সন্তানের বয়স যদি চার মাস বা তার বেশি হয়, তাহলে তার জানাযা আদায় করবে। আর যদি এর কম হয় তবে তার জানাযা পড়া লাগবে না।
টিকাঃ
৪৩৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩২৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪৫।
৪৩৫. আবু দাউদ, হা. ৩১৯৪, তিরমিযী, হা. ১০৪৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৯৪। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী ৮২৬।
৪৩৬. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩২০১; তিরমিযী, হা. ১০২৪; ইমাম হাকিম তা মুসতাদরাকে ১/৩৫৮ বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাসান সহীহ। ইমাম হাকিম বলেন, শাইখাইনের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
৪৩৭. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৯৬৩।
৪৩৮. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা. ৬৫৮৯।
৪৩৯. ইমাম মালিক তার মুয়াত্তায় ১/২২৮ বর্ণনা করেন, হা. ১৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা. ৩/৪৮৮, হা. ৬৪২৫; ইবনু হিব্বان যেভাবে আল-ইহসান ৭/৩৪৭৬, হা. ৩০৭৩; এবং তার মুহাক্কিক বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ।
৪৪০. মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ৪৫৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৫৬।
১. সময়: যদি সে উপস্থিত থাকে তবে জানাযার সলাতের সময় তাকে গোসল করানো, কাফন দেওয়া ও পূর্ণ প্রস্তুত করানোর পর থেকে শুরু হয়। আর অনুপস্থিত থাকলে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছার পর।
২. ফযীলত: নাবী বলেছেন:
مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ ، قِيلَ: وَمَا الْقِيرَاطَانِ؟ قَالَ: «مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ
“যে ব্যক্তি জানাযার সলাতে উপস্থিত হয়ে সলাত আদায় করে, তার জন্য এক কিরাত নেকি। আর যে ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে দাফন করানো পর্যন্ত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত নেকি। বলা হলো, দুই কিরাত কতটুকু পরিমাণ? তিনি বললেন, বড়ো দুইটি পাহাড় সমপরিমাণ। ৪৩৪
৩. পদ্ধতি: পুরুষ হলে ইমাম একাকী তার মাথার নিকটে দাঁড়াবে এবং মহিলা হলে মাঝ বরাবর দাঁড়াবে। এটা নাবী এর ফি'লী হাদীস থেকে প্রমাণিত, যা আনাস বর্ণনা করেছেন। ৪৩৫ সলাতের জন্য তাকবীর দিবে। এরপর আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ বলে অনুচ্চস্বরে সূরা ফাতিহাহ পাঠ করবে, যদিও এটি রাতে হয়। অতঃপর তাকবীর দিয়ে তাশাহহুদের দরুদ পাঠ করবে। তারপর তাকবীর দিয়ে মৃতব্যক্তির জন্য নাবী থেকে বর্ণিত দুআ করবে। তিনি বলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا ، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ.
“হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোটো-বড়ো, নারী-পুরুষ সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে আপনি যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখেন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দিবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিন।”৪৩৬
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ – أَوْ مِنْ عَذَابِ النَّارِ
“হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও ও তার প্রতি দয়া করো। তাকে নিরাপদে রাখো ও তার ত্রুটি মার্জনা করো। তাকে মর্যাদা দান করো ও তার প্রবেশ পথকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও বৃষ্টি দ্বারা ধুয়ে দাও এবং পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করো যেমনভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। তার ঘরের বিনিময়ে উত্তম ঘর দান করো, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দান করো, তার স্ত্রীর তুলনায় উত্তম স্ত্রী দান করো। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবরের আযাব থেকে বাঁচাও অথবা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।”৪৩৭
اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ سَلَفًا لِوَالِدَيْهِ، وَفَرَطًا وَأَجْرًا :
“হে আল্লাহ! তাকে তার পিতামাতার জন্য পূর্বসূরী, কিয়ামতের ময়দানে অগ্রপথিক ও সওয়াবের মাধ্যম করো।”৪৩৮
অতঃপর আবার তাকবীর দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে। তবে যে দুআ তার কাছে সহজ মনে হবে সেটা পড়তে পারলে ভালো। যেমন-
اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، وَلَا تَفْتِنَا بَعْدَهُ
“হে আল্লাহ! এর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পর আমাদেরকে ফিতনায় ফেলবেন না।”৪৩৯
সবশেষে ডান দিকে একবার সালাম ফিরাবে। তবে দুইটি সালাম ফিরালে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারো সলাতের কিছু অংশ ছুটে গেলে, সে সলাত শুরু করে ইমামের অনুসরণ করবে। এক্ষেত্রে ইমাম যখন সালাম ফিরাবে তখন তার যে অংশ ছুটে যাবে, তা আদায় করে নিবে। আর যদি দাফনের আগে সলাত শেষ হয়ে যায়, তবে তার জন্য করণীয় হলো ক্ববরের সামনে সলাত আদায় করা। নাবী এরূপ করেছেন যা বর্ণিত হয়েছে ঐ মহিলার ঘটনায় যে মসজিদ ঝাড়ু দিত। ৪৪০ মৃত্যুর সংবাদ জানলে-যদিও তা একমাস বা তার বেশি সময় হয়- গায়েবানা জানাযা আদায় করবে। গর্ভচ্যুত সন্তানের বয়স যদি চার মাস বা তার বেশি হয়, তাহলে তার জানাযা আদায় করবে। আর যদি এর কম হয় তবে তার জানাযা পড়া লাগবে না।
টিকাঃ
৪৩৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩২৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪৫।
৪৩৫. আবু দাউদ, হা. ৩১৯৪, তিরমিযী, হা. ১০৪৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৯৪। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান। শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী ৮২৬।
৪৩৬. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩২০১; তিরমিযী, হা. ১০২৪; ইমাম হাকিম তা মুসতাদরাকে ১/৩৫৮ বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাসান সহীহ। ইমাম হাকিম বলেন, শাইখাইনের শর্তে সহীহ। ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
৪৩৭. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৯৬৩।
৪৩৮. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা. ৬৫৮৯।
৪৩৯. ইমাম মালিক তার মুয়াত্তায় ১/২২৮ বর্ণনা করেন, হা. ১৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হা. ৩/৪৮৮, হা. ৬৪২৫; ইবনু হিব্বان যেভাবে আল-ইহসান ৭/৩৪৭৬, হা. ৩০৭৩; এবং তার মুহাক্কিক বলেন, ইমাম মুসলিমের শর্তে সহীহ।
৪৪০. মুত্তাফাকুন আলাইহি; সহীহুল বুখারী, হা. ৪৫৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৫৬।
📄 মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে চলা
মৃতদেহের পিছু পিছু কবরের দিকে গমন করা সুন্নাহ। নাবী বলেছেন,
مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ ، قِيلَ: وَمَا الْقِيرَاطَانِ؟ قَالَ: «مِثْلُ الْجِبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ
“যে ব্যক্তি জানাযার সলাতে উপস্থিত হয়ে সলাত আদায় করে, তার জন্য এক কিরাত নেকি। আর যে ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে দাফন করানো পর্যন্ত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত নেকি। বলা হলো, দুই কিরাত কতটুকু পরিমাণ? তিনি বললেন, বড়ো দুইটি পাহাড় সমপরিমাণ। "৪৪১ তাই কোনো মুসলিম যখন অপর মুসলিমের মৃত্যু সংবাদ শুনবে, তখন তার উচিত মৃতদেহ কাঁধে বহন করার উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং তার জানাযা আদায় করে দাফন করা। নাবী বলেছেন:
حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ ....
"একজন মুসলিম অপর মুসলিমের উপর পাঁচটি হক রয়েছে: সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া এবং জানাযায় অংশ গ্রহণ করা...।"৪৪২
এই বিষয়টি তখনই জোরদার হবে যখন তার জানাযায় কেউ উপস্থিত হবে না। আর মৃতদেহটা কোনো গাড়ি কিংবা কোনো বাহনে নিয়ে গেলে কোনো অসুবিধা নেই। বিশেষ করে যদি কবরস্থান দূরে হয়। লাশ অনুসরণকারীর জন্য উচিত তা বহন করার কাজে শরীক হওয়া।
মৃতব্যক্তিকে বিশেষ কোনো কবরস্থানে দাফন করা শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত। কারণ নাবী মৃতব্যক্তিকে বাকী' নামক কবরস্থানে দাফন করতেন। এ ব্যাপারে হাদীসগুলো মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত। কোনো একজন সাহাবী থেকেও এ মর্মে বর্ণিত হয়নি যে, তিনি কবরস্থান বৈ অন্য কোনো স্থানে দাফন করেছেন।
মৃতব্যক্তিকে দ্রুত গোসল করানো, কাফন দেওয়া, জানাযার সলাত পড়া ও দাফন করা সুন্নাহ। নাবী বলেছেন: إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَلَا تَحْبِسُوهُ، وَأَسْرِعُوا بِهِ إِلَى قَبْرِهِ
"তোমাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে আটকে রেখো না, বরং তাকে দ্রুত কবরে পাঠাও। ৪৪৩
কিছু লোক দেরিতে কাফন-দাফন করে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায় অথবা সপ্তাহের কোনো একদিন নির্বাচন করে দাফন করা হয়। এসব সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ। অনুরূপ লাশ নিয়ে চলার সময় দ্রুত চলা সুন্নাত। নাবী বলেছেন, أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةٌ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ، وَإِنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ فَشَرٌ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ
"লাশ নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হও। যদি সে সৎ হয়ে থাকে তাহলে ভালো। তোমরা তাকে সেদিকেই পাঠিয়ে দাও। আর যদি এর বিপরীত হয় তাহলে খারাপ; তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে তাকে দ্রুত নামিয়ে দিলে। "৪৪৪
খুব বেশি তাড়াহুড়া না করে বরং দ্রুততায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা কিছু আলেমের নিকট পছন্দনীয়। লাশ বহনকারীদের উচিত ধীরস্থিরভাবে গাম্ভীর্য বজায় রেখে চলা। এ সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ না করা। সেটা কুরআন তিলাওয়াত বা যে-কোনো বিষয়ই হোক। নাবী থেকে এমন কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়। যে এরূপ করবে সে সুন্নাতের বিপরীত করল। মহিলাদের জন্য লাশের সাথে বের হওয়া জায়েয নয়। উম্মে আত্বিয়্যাহ এর হাদীস: نُهِينَا عَنِ اتَّبَاعِ الجَنَائِزِ
"লাশের অনুসরণ করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।"৪৪৫
লাশ বহন করা এবং সেটার অনুসরণ করা শুধু পুরুষদের জন্যই নির্দিষ্ট। অনুসরণকারী ব্যক্তির জন্য লাশ মাটিতে না রাখা পর্যন্ত বসা মাকরূহ। কেননা নাবী লাশ না রাখা পর্যন্ত বসতে নিষেধ করেছেন। ৪৪৬
টিকাঃ
৪৪১. সহীহ মুসলিম ৯৪৫/৫২।
৪৪২. সহীহুল বুখারী, হা. ১২৪০।
৪৪৩. ত্ববারানী ১২/৩৪০, হা. ১৩৬১৩; ইবনে হাজার হাসান বলেছেন। ফাতহুল বারী ৩/২১৯।
৪৪৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৫১; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪৪; শব্দ ইমাম বুখারী।
৪৪৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৭৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৩৮; শব্দ ইমাম মুসলিম।
৪৪৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩১০; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৫৯।
মৃতদেহের পিছু পিছু কবরের দিকে গমন করা সুন্নাহ। নাবী বলেছেন,
مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ ، قِيلَ: وَمَا الْقِيرَاطَانِ؟ قَالَ: «مِثْلُ الْجِبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ
“যে ব্যক্তি জানাযার সলাতে উপস্থিত হয়ে সলাত আদায় করে, তার জন্য এক কিরাত নেকি। আর যে ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে দাফন করানো পর্যন্ত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত নেকি। বলা হলো, দুই কিরাত কতটুকু পরিমাণ? তিনি বললেন, বড়ো দুইটি পাহাড় সমপরিমাণ। "৪৪১ তাই কোনো মুসলিম যখন অপর মুসলিমের মৃত্যু সংবাদ শুনবে, তখন তার উচিত মৃতদেহ কাঁধে বহন করার উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং তার জানাযা আদায় করে দাফন করা। নাবী বলেছেন:
حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ ....
"একজন মুসলিম অপর মুসলিমের উপর পাঁচটি হক রয়েছে: সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া এবং জানাযায় অংশ গ্রহণ করা...।"৪৪২
এই বিষয়টি তখনই জোরদার হবে যখন তার জানাযায় কেউ উপস্থিত হবে না। আর মৃতদেহটা কোনো গাড়ি কিংবা কোনো বাহনে নিয়ে গেলে কোনো অসুবিধা নেই। বিশেষ করে যদি কবরস্থান দূরে হয়। লাশ অনুসরণকারীর জন্য উচিত তা বহন করার কাজে শরীক হওয়া।
মৃতব্যক্তিকে বিশেষ কোনো কবরস্থানে দাফন করা শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত। কারণ নাবী মৃতব্যক্তিকে বাকী' নামক কবরস্থানে দাফন করতেন। এ ব্যাপারে হাদীসগুলো মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত। কোনো একজন সাহাবী থেকেও এ মর্মে বর্ণিত হয়নি যে, তিনি কবরস্থান বৈ অন্য কোনো স্থানে দাফন করেছেন।
মৃতব্যক্তিকে দ্রুত গোসল করানো, কাফন দেওয়া, জানাযার সলাত পড়া ও দাফন করা সুন্নাহ। নাবী বলেছেন: إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَلَا تَحْبِسُوهُ، وَأَسْرِعُوا بِهِ إِلَى قَبْرِهِ
"তোমাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে আটকে রেখো না, বরং তাকে দ্রুত কবরে পাঠাও। ৪৪৩
কিছু লোক দেরিতে কাফন-দাফন করে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায় অথবা সপ্তাহের কোনো একদিন নির্বাচন করে দাফন করা হয়। এসব সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ। অনুরূপ লাশ নিয়ে চলার সময় দ্রুত চলা সুন্নাত। নাবী বলেছেন, أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ فَإِنْ تَكُ صَالِحَةٌ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ، وَإِنْ تَكُ سِوَى ذَلِكَ فَشَرٌ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ
"লাশ নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হও। যদি সে সৎ হয়ে থাকে তাহলে ভালো। তোমরা তাকে সেদিকেই পাঠিয়ে দাও। আর যদি এর বিপরীত হয় তাহলে খারাপ; তোমরা তোমাদের ঘাড় থেকে তাকে দ্রুত নামিয়ে দিলে। "৪৪৪
খুব বেশি তাড়াহুড়া না করে বরং দ্রুততায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা কিছু আলেমের নিকট পছন্দনীয়। লাশ বহনকারীদের উচিত ধীরস্থিরভাবে গাম্ভীর্য বজায় রেখে চলা। এ সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ না করা। সেটা কুরআন তিলাওয়াত বা যে-কোনো বিষয়ই হোক। নাবী থেকে এমন কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়। যে এরূপ করবে সে সুন্নাতের বিপরীত করল। মহিলাদের জন্য লাশের সাথে বের হওয়া জায়েয নয়। উম্মে আত্বিয়্যাহ এর হাদীস: نُهِينَا عَنِ اتَّبَاعِ الجَنَائِزِ
"লাশের অনুসরণ করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।"৪৪৫
লাশ বহন করা এবং সেটার অনুসরণ করা শুধু পুরুষদের জন্যই নির্দিষ্ট। অনুসরণকারী ব্যক্তির জন্য লাশ মাটিতে না রাখা পর্যন্ত বসা মাকরূহ। কেননা নাবী লাশ না রাখা পর্যন্ত বসতে নিষেধ করেছেন। ৪৪৬
টিকাঃ
৪৪১. সহীহ মুসলিম ৯৪৫/৫২।
৪৪২. সহীহুল বুখারী, হা. ১২৪০।
৪৪৩. ত্ববারানী ১২/৩৪০, হা. ১৩৬১৩; ইবনে হাজার হাসান বলেছেন। ফাতহুল বারী ৩/২১৯।
৪৪৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৫১; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪৪; শব্দ ইমাম বুখারী।
৪৪৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৭৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৩৮; শব্দ ইমাম মুসলিম।
৪৪৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১৩১০; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৫৯।
📄 মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা, কবরের বর্ণনা এবং এ সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ
কবর গভীর করা, প্রশস্ত করা ও তাতে লাহদ করে দেওয়া সুন্নাহ। লাহদ হলো- কবরের নিচে পাশের দিকে কিবলামুখে একটি গর্ত খনন করা। যদি লাহদ করা অসম্ভাব হয়, তবে শাক্ব করাতে কোনো সমস্যা নেই। শাক্ব হলো- মৃতব্যক্তির জন্য কবরের মাঝে গর্ত খনন করা। তবে লাহদই উত্তম। নাবী বলেছেন: اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لِغَيْرِنَا
"লাহদ হলো আমাদের জন্য অর্থাৎ মুসলিমদের জন্য। আর শাক্ব হলো অন্যদের জন্য।"৪৪৯
মৃতদেহ লাহদের মধ্যে কিবলামুখী করে ডান কাতে রাখবে। লাহদের খোলা অংশটা ইট এবং মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিবে। অতঃপর তার উপর মাটির স্তুপ করে দিবে। কবরকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এক বিঘত বা উটের কুঁজ পরিমাণ উঁচু করতে হবে। এটা প্রমাণিত নাবী এবং দুই সাহাবী এর কবরের বর্ণনায়। ৪৪৮ এটা এ কারণে যে, যেন মনে হয় এটা একটা কবর। সুতরাং এর অবমাননা করা যাবে না। এর পরিচিতি বুঝার জন্য এর উপর পাথর বা অন্য কিছু স্থাপন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কবরের উপর ভবন নির্মাণ করা, প্লাস্টার করা ও এর উপর বসা হারাম। তেমনি এর উপর লেখালেখি করাও মাকরুহ। তবে কবরকে চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজন অনুপাতে লেখা যাবে। জাবির বলেন, نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ، وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ، وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ "আল্লাহর রসূল কবর প্লাস্টার করতে, এর উপর বসতে ও এর উপর ভবন নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।"৪৫০ তিরমিযী বৃদ্ধি করেছেন, এর উপর লেখা যাবে না।
এটা শিরক ও কবরমুখী (কবরের প্রতি আকৃষ্ট) হওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে অজ্ঞরা ধোঁকায় পড়ে যাবে এবং শিরকে লিপ্ত হবে। কবরে লাইটিং করাও হারাম। কারণ এতে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য হয় ও সম্পদ নষ্ট হয়। এর উপরে মসজিদ নির্মাণ করা, এর কাছে বা নিকটে সলাত আদায় করাও হারাম। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন,
لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
“আল্লাহ তা'আলা ইহুদি-খ্রীস্টানদের প্রতি লা'নাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নাবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছিল।” ৪৫১
কবরের উপর হাঁটা, জুতা দিয়ে পদদলিত করা, কবরের উপর বসা বা কোনোভাবে কবরকে অবজ্ঞা করা হারাম। আবু হুরায়রা বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتُحْرِقَ ثِيَابَهُ، فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ
“কবরের উপর বসার চেয়ে তোমাদের কেউ জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসার দরুন তার কাপড় পুড়ে চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, এটাই তার জন্য উত্তম।” ৪৫২
তিনি কবরকে পদদলিত করতে নিষেধ করেছেন। ৪৫৩
দাফন শেষে মৃতব্যক্তির জন্য দুআ করা মুস্তাহাব। নাবী এরূপ করেছেন। মৃতব্যক্তির দাফন শেষ হলে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেন,
اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
“তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও। তার সুদৃঢ়তা কামনা করো। কারণ তাকে জিজ্ঞেস করা হবে।” ৪৫৪
তবে কবরের কাছে সূরা ফাতিহা বা কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা ঘৃণিত বিদআত। কারণ নাবী এটা করেননি, সাহাবীরাও করেননি। নাবী বলেছেন:
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
“যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” ৪৫৫
টিকাঃ
৪৪৭. তিরমিযী, হা. ১০৫৬ এবং তিনি হাসান বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ৮৩৫।
৪৪৮. দেখুন, আশ-শারহুল মুমতি ৪/৪৫৮।
৪৪৯. সিমেন্ট-বালু, সুড়কি দিয়ে বাড়ি নির্মানের মতো প্লাস্টার করা।
৪৫০. সহীহ মুসলিম ৯৭০/৯৪।
৪৫১. সহীহুল বুখারী, হা. ৪৩৫।
৪৫২. সহীহ মুসলিম ৯৭১/৯৬
৪৫৩. তিরমিযী, হা. ১৬৪ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন।
৪৫৪. আবু দাউদ ৩২২১
৪৫৫. বুখারী, মুসলিম ১৭১৮/১৮।
কবর গভীর করা, প্রশস্ত করা ও তাতে লাহদ করে দেওয়া সুন্নাহ। লাহদ হলো- কবরের নিচে পাশের দিকে কিবলামুখে একটি গর্ত খনন করা। যদি লাহদ করা অসম্ভাব হয়, তবে শাক্ব করাতে কোনো সমস্যা নেই। শাক্ব হলো- মৃতব্যক্তির জন্য কবরের মাঝে গর্ত খনন করা। তবে লাহদই উত্তম। নাবী বলেছেন: اللَّحْدُ لَنَا وَالشَّقُّ لِغَيْرِنَا
"লাহদ হলো আমাদের জন্য অর্থাৎ মুসলিমদের জন্য। আর শাক্ব হলো অন্যদের জন্য।"৪৪৯
মৃতদেহ লাহদের মধ্যে কিবলামুখী করে ডান কাতে রাখবে। লাহদের খোলা অংশটা ইট এবং মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিবে। অতঃপর তার উপর মাটির স্তুপ করে দিবে। কবরকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এক বিঘত বা উটের কুঁজ পরিমাণ উঁচু করতে হবে। এটা প্রমাণিত নাবী এবং দুই সাহাবী এর কবরের বর্ণনায়। ৪৪৮ এটা এ কারণে যে, যেন মনে হয় এটা একটা কবর। সুতরাং এর অবমাননা করা যাবে না। এর পরিচিতি বুঝার জন্য এর উপর পাথর বা অন্য কিছু স্থাপন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কবরের উপর ভবন নির্মাণ করা, প্লাস্টার করা ও এর উপর বসা হারাম। তেমনি এর উপর লেখালেখি করাও মাকরুহ। তবে কবরকে চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজন অনুপাতে লেখা যাবে। জাবির বলেন, نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ، وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ، وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْهِ "আল্লাহর রসূল কবর প্লাস্টার করতে, এর উপর বসতে ও এর উপর ভবন নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।"৪৫০ তিরমিযী বৃদ্ধি করেছেন, এর উপর লেখা যাবে না।
এটা শিরক ও কবরমুখী (কবরের প্রতি আকৃষ্ট) হওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে অজ্ঞরা ধোঁকায় পড়ে যাবে এবং শিরকে লিপ্ত হবে। কবরে লাইটিং করাও হারাম। কারণ এতে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য হয় ও সম্পদ নষ্ট হয়। এর উপরে মসজিদ নির্মাণ করা, এর কাছে বা নিকটে সলাত আদায় করাও হারাম। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন,
لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
“আল্লাহ তা'আলা ইহুদি-খ্রীস্টানদের প্রতি লা'নাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নাবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছিল।” ৪৫১
কবরের উপর হাঁটা, জুতা দিয়ে পদদলিত করা, কবরের উপর বসা বা কোনোভাবে কবরকে অবজ্ঞা করা হারাম। আবু হুরায়রা বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
لَأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتُحْرِقَ ثِيَابَهُ، فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ
“কবরের উপর বসার চেয়ে তোমাদের কেউ জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসার দরুন তার কাপড় পুড়ে চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, এটাই তার জন্য উত্তম।” ৪৫২
তিনি কবরকে পদদলিত করতে নিষেধ করেছেন। ৪৫৩
দাফন শেষে মৃতব্যক্তির জন্য দুআ করা মুস্তাহাব। নাবী এরূপ করেছেন। মৃতব্যক্তির দাফন শেষ হলে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেন,
اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
“তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা চাও। তার সুদৃঢ়তা কামনা করো। কারণ তাকে জিজ্ঞেস করা হবে।” ৪৫৪
তবে কবরের কাছে সূরা ফাতিহা বা কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করা ঘৃণিত বিদআত। কারণ নাবী এটা করেননি, সাহাবীরাও করেননি। নাবী বলেছেন:
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
“যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” ৪৫৫
টিকাঃ
৪৪৭. তিরমিযী, হা. ১০৫৬ এবং তিনি হাসান বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী, হা. ৮৩৫।
৪৪৮. দেখুন, আশ-শারহুল মুমতি ৪/৪৫৮।
৪৪৯. সিমেন্ট-বালু, সুড়কি দিয়ে বাড়ি নির্মানের মতো প্লাস্টার করা।
৪৫০. সহীহ মুসলিম ৯৭০/৯৪।
৪৫১. সহীহুল বুখারী, হা. ৪৩৫।
৪৫২. সহীহ মুসলিম ৯৭১/৯৬
৪৫৩. তিরমিযী, হা. ১৬৪ এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন।
৪৫৪. আবু দাউদ ৩২২১
৪৫৫. বুখারী, মুসলিম ১৭১৮/১৮।
📄 শোক প্রকাশ করার বিধান ও পদ্ধতি
বিপদে শোক প্রকাশ করা ও বিপদ সহ্য করে স্থির থাকা।
বিপদে ধৈর্য ধারণ করে সওয়াবের আশা করার ফযীলত সংক্রান্ত বিভিন্ন দুয়া ও যিক্র-আযকার বর্ণিত হয়েছে।
মৃতব্যক্তির পরিবারের শোক পালন করা শরীয়ত সম্মত। এতে তাদের দুঃখ হালকা হয় এবং এটি তাদের সন্তুষ্টি ও ধৈর্যধারণে উদ্বুদ্ধ করে। নাবী থেকে যা প্রমাণিত সেটা যদি তার জানা থাকে, তাহলে এর মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করা যেতে পারে। এছাড়া উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যাবে এমন উত্তম বাক্যাবলির মধ্যে যা তার জন্য সহজ হয়, তা দিয়েও প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে শরীয়তের পরিপন্থী হওয়া যাবে না। উসামা বিন যায়েদ বলেন, আমরা নাবী এর নিকটে ছিলাম। তাঁর এক মেয়ে তাঁকে এ মর্মে ডেকে পাঠালেন যে, তার একটা শিশু বা ছেলে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তখন নাবী বললেন: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى، فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ
“তার কাছে ফিরে যাও। অতঃপর তাকে বলো أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى আল্লাহ তা'আলা যা নিয়েছেন সেটা তারই এবং যা দিয়েছেন সেটাও তার। সবকিছুই তার নিকটে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। সুতরাং তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন ধৈর্যধারণ করে এবং নেকির আশা করে।”৪৫৬
এটা এক ধরনের উত্তম বাক্য যা শোক প্রকাশের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। আর শোক প্রকাশের সময় মানুষের মাঝে প্রচলিত এমন কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকা উচিত যার কোনো শারঈ ভিত্তি নেই। তন্মধ্যে:
১. চেয়ার, লাইটিং ও হাফেজে কুরআন সম্বলিত নির্দিষ্ট কোনো এক স্থানে শোক প্রকাশের জন্য একত্রিত হওয়া।
২. শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে আগত লোকদের মেহমানদারি করার জন্য শোক প্রকাশের দিনগুলোতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা। জারীর আল বাজালী বলেন,
“যে ব্যক্তি গাল চাপড়ায়, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলী যুগের ন্যায় অভিযোগ করে, ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”৪৬০
যেমন এরূপ বলা: “হায়! ধ্বংস আমার জন্য” ইত্যাদি। নাবী বলেছেন: النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ، وَدِرْعُ مِنْ جَرَبٍ
“বিলাপকারী যদি মৃত্যুর আগে তাওবা না করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পায়জামা ও মরিচা ধরা বর্ম পরিয়ে ওঠানো হবে।”৪৬১
টিকাঃ
৪৫৬. সহীহুল বুখারী, হা, ৭৩৭৭, সহীহ মুসলিম ৯২৩/১১।
৪৬০. সহীহুল বুখারী, হা. ১২৯৪।
৪৬১. সহীহ মুসলিম, ফুআ. ৯৩৪/২৯।
বিপদে শোক প্রকাশ করা ও বিপদ সহ্য করে স্থির থাকা।
বিপদে ধৈর্য ধারণ করে সওয়াবের আশা করার ফযীলত সংক্রান্ত বিভিন্ন দুয়া ও যিক্র-আযকার বর্ণিত হয়েছে।
মৃতব্যক্তির পরিবারের শোক পালন করা শরীয়ত সম্মত। এতে তাদের দুঃখ হালকা হয় এবং এটি তাদের সন্তুষ্টি ও ধৈর্যধারণে উদ্বুদ্ধ করে। নাবী থেকে যা প্রমাণিত সেটা যদি তার জানা থাকে, তাহলে এর মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করা যেতে পারে। এছাড়া উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যাবে এমন উত্তম বাক্যাবলির মধ্যে যা তার জন্য সহজ হয়, তা দিয়েও প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে শরীয়তের পরিপন্থী হওয়া যাবে না। উসামা বিন যায়েদ বলেন, আমরা নাবী এর নিকটে ছিলাম। তাঁর এক মেয়ে তাঁকে এ মর্মে ডেকে পাঠালেন যে, তার একটা শিশু বা ছেলে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তখন নাবী বললেন: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى، فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ
“তার কাছে ফিরে যাও। অতঃপর তাকে বলো أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى আল্লাহ তা'আলা যা নিয়েছেন সেটা তারই এবং যা দিয়েছেন সেটাও তার। সবকিছুই তার নিকটে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। সুতরাং তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন ধৈর্যধারণ করে এবং নেকির আশা করে।”৪৫৬
এটা এক ধরনের উত্তম বাক্য যা শোক প্রকাশের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। আর শোক প্রকাশের সময় মানুষের মাঝে প্রচলিত এমন কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকা উচিত যার কোনো শারঈ ভিত্তি নেই। তন্মধ্যে:
১. চেয়ার, লাইটিং ও হাফেজে কুরআন সম্বলিত নির্দিষ্ট কোনো এক স্থানে শোক প্রকাশের জন্য একত্রিত হওয়া।
২. শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে আগত লোকদের মেহমানদারি করার জন্য শোক প্রকাশের দিনগুলোতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা। জারীর আল বাজালী বলেন,
“যে ব্যক্তি গাল চাপড়ায়, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলী যুগের ন্যায় অভিযোগ করে, ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”৪৬০
যেমন এরূপ বলা: “হায়! ধ্বংস আমার জন্য” ইত্যাদি। নাবী বলেছেন: النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَعَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانٍ، وَدِرْعُ مِنْ جَرَبٍ
“বিলাপকারী যদি মৃত্যুর আগে তাওবা না করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পায়জামা ও মরিচা ধরা বর্ম পরিয়ে ওঠানো হবে।”৪৬১
টিকাঃ
৪৫৬. সহীহুল বুখারী, হা, ৭৩৭৭, সহীহ মুসলিম ৯২৩/১১।
৪৬০. সহীহুল বুখারী, হা. ১২৯৪।
৪৬১. সহীহ মুসলিম, ফুআ. ৯৩৪/২৯।