📄 কে গোসলের দায়িত্ব নিবে?
সবচেয়ে উত্তম হয় যদি মৃত্যুকে গোসল করানোর দায়িত্ব নির্ভরযোগ্য, আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যে গোসলের সুন্নাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত তিনি নেন। বিশেষ করে তার পরিবারের কেউ বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ। কারণ নাবী কে যাঁরা গোসল করানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁর পরিবারভুক্ত ছিলেন। যেমন- আলী সহ অনেকেই। ৪২০ তবে গোসল করানোর জন্য মানুষের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি হকদার তিনি হলেন, মৃত ব্যক্তি যাকে অসীয়ত করে যাবে। অতঃপর হকদার হবেন তার পিতা। তারপর তার দাদা। এরপর যারা তার আসাবা (যারা বংশের মধ্যে নিকবর্তী)। পরিশেষে তার আত্মীয়-স্বজন।
একজন পুরুষ অপর পুরুষকে এবং একজন মহিলা অপর মহিলাকে গোসল করানোর দায়িত্ব নেওয়া ওয়াজিব। তবে স্বামী-স্ত্রী এর ব্যতিক্রম; উভয়ের একজন অপরজনকে গোসল করাবে। আয়িশাহ এর হাদীস:
لَوْ كُنْتُ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ، مَا غَسَّلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرُ نِسَائِهِ
"যদি আমি গোসল করানোর বিষয়টি আগে জানতাম, যা আমি পরে জেনেছি তাহলে নাবী -কে তাঁর সহধর্মিণীগণ ব্যতীত আর কেউ গোসল করাতেন না। ৪২১
নাবী আয়িশাহ কে বললেন, )لَوْ مِتْ قَيْلِي لَغَسَّلْتُكِ، وَكَفَّئْتُكِ
"যদি তুমি আমার আগে মৃত্যুবরণ করো তবে আমিই তোমাকে গোসল করাবো এবং কাফন দিবো।"৪২২ আসমা বিনতে উমাইস, তিনি তাঁর স্বামী আবু বকর সিদ্দীক কে গোসল করিয়েছেন। ৪২৩
যুদ্ধে শহীদ ব্যক্তিকে গোসল করানো যাবে না।
أَمَرَ بِقَتْلَى أُحُدٍ أَنْ يدفنوا في ثيابهم، وَلَمْ يُغَسَّلُوا، وَلَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِمْ
"নাবী উহুদের শহীদদের তাদের পরিহিত কাপড়েই দাফন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের গোসল করানো হয়নি। তাদের জানাযার সলাতও পড়া হয়নি।"৪২৪
অনুরূপভাবে তাদের কাফন দেননি। তাদের জানাযার সলাত পড়েননি, বরং তাদের ঐ কাপড়েই দাফন করা হয়েছে। যেমনটি আমরা পূর্ববর্তী হাদীসে জেনেছি।
আস-সিক্বতু (السِّقْط): এমন শিশু যে তার মাতৃগর্ভ থেকে শারীরিক পূর্ণ হওয়ার আগেই পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে পুরুষ হোক বা নারী হোক, যদি চার মাস পর্যন্ত পৌঁছে তবে গোসল করাবে, কাফন দিবে ও সলাতও পড়বে। কারণ চার মাস পরে সে পূর্ণ একটা মানুষে পরিণত হয়।
টিকাঃ
৪২০. ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৭। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ১২০৭। আরও দেখুন- ইরওয়া ৬৯৯।
৪২১. আবু দাঊদ, হা. ৩৬১৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৪। ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন। দেখুন- ইরওয়া ৭০২।
৪২২. ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৫; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল ৩/১৬০।
৪২৩. ইমাম মালেক তার মুয়াত্তাতে বর্ণনা করেছেন, ১/২২৩
৪২৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৪৩।
সবচেয়ে উত্তম হয় যদি মৃত্যুকে গোসল করানোর দায়িত্ব নির্ভরযোগ্য, আমানতদার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যে গোসলের সুন্নাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত তিনি নেন। বিশেষ করে তার পরিবারের কেউ বা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ। কারণ নাবী কে যাঁরা গোসল করানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাঁরা তাঁর পরিবারভুক্ত ছিলেন। যেমন- আলী সহ অনেকেই। ৪২০ তবে গোসল করানোর জন্য মানুষের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি হকদার তিনি হলেন, মৃত ব্যক্তি যাকে অসীয়ত করে যাবে। অতঃপর হকদার হবেন তার পিতা। তারপর তার দাদা। এরপর যারা তার আসাবা (যারা বংশের মধ্যে নিকবর্তী)। পরিশেষে তার আত্মীয়-স্বজন।
একজন পুরুষ অপর পুরুষকে এবং একজন মহিলা অপর মহিলাকে গোসল করানোর দায়িত্ব নেওয়া ওয়াজিব। তবে স্বামী-স্ত্রী এর ব্যতিক্রম; উভয়ের একজন অপরজনকে গোসল করাবে। আয়িশাহ এর হাদীস:
لَوْ كُنْتُ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ، مَا غَسَّلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرُ نِسَائِهِ
"যদি আমি গোসল করানোর বিষয়টি আগে জানতাম, যা আমি পরে জেনেছি তাহলে নাবী -কে তাঁর সহধর্মিণীগণ ব্যতীত আর কেউ গোসল করাতেন না। ৪২১
নাবী আয়িশাহ কে বললেন, )لَوْ مِتْ قَيْلِي لَغَسَّلْتُكِ، وَكَفَّئْتُكِ
"যদি তুমি আমার আগে মৃত্যুবরণ করো তবে আমিই তোমাকে গোসল করাবো এবং কাফন দিবো।"৪২২ আসমা বিনতে উমাইস, তিনি তাঁর স্বামী আবু বকর সিদ্দীক কে গোসল করিয়েছেন। ৪২৩
যুদ্ধে শহীদ ব্যক্তিকে গোসল করানো যাবে না।
أَمَرَ بِقَتْلَى أُحُدٍ أَنْ يدفنوا في ثيابهم، وَلَمْ يُغَسَّلُوا، وَلَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِمْ
"নাবী উহুদের শহীদদের তাদের পরিহিত কাপড়েই দাফন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের গোসল করানো হয়নি। তাদের জানাযার সলাতও পড়া হয়নি।"৪২৪
অনুরূপভাবে তাদের কাফন দেননি। তাদের জানাযার সলাত পড়েননি, বরং তাদের ঐ কাপড়েই দাফন করা হয়েছে। যেমনটি আমরা পূর্ববর্তী হাদীসে জেনেছি।
আস-সিক্বতু (السِّقْط): এমন শিশু যে তার মাতৃগর্ভ থেকে শারীরিক পূর্ণ হওয়ার আগেই পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে পুরুষ হোক বা নারী হোক, যদি চার মাস পর্যন্ত পৌঁছে তবে গোসল করাবে, কাফন দিবে ও সলাতও পড়বে। কারণ চার মাস পরে সে পূর্ণ একটা মানুষে পরিণত হয়।
টিকাঃ
৪২০. ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৭। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ১২০৭। আরও দেখুন- ইরওয়া ৬৯৯।
৪২১. আবু দাঊদ, হা. ৩৬১৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৪। ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন। দেখুন- ইরওয়া ৭০২।
৪২২. ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৬৫; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়াউল গালীল ৩/১৬০।
৪২৩. ইমাম মালেক তার মুয়াত্তাতে বর্ণনা করেছেন, ১/২২৩
৪২৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১৩৪৩।
📄 কাফন দেওয়ার হুকুম ও পদ্ধতি
মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়া ওয়াজিব। নাবী ঐ মুহরিম ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যিনি সওয়ারী থেকে পড়ে যাওয়ার দরুন তার ঘাড় মটকে গিয়েছিল;
وَكَفَّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ
"তাকে দুই কাপড়ে কাফন দাও।"৪২৫
পুরো শরীর ঢেকে দেওয়া ওয়াজিব। যদি একটা ছোটো কাপড় ছাড়া আর কোনো কাপড় না পাওয়া যায় যা পুরো শরীর ঢাকার জন্য যথেষ্ট, তাহলে তার মাথাটা ঢেকে দিবে। আর পায়ের উপর কিছু ইযখিরের ছাল বিছিয়ে দিবে। কারণ মুসআব ইবনু উমাইর এর কাফন দেওয়ার ঘটনায় খব্বাব বলেছেন,
فَأَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُغَطَّيَ رَأْسَهُ ، وَأَنْ نَجْعَلَ عَلَى رِجْلَيْهِ مِنَ الْإِذْخِرِ
"নাবী আমাদেরকে তার মাথাটা ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার পায়ের উপর ইযখিরের ছাল বিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”৪২৬
পুরুষ মুহরীম ব্যক্তির মাথা ঢাকা যাবে না। নাবী বলেছেন: وَلَا تُمَّرُوا رَأْسَهُ "তোমরা তার মাথা ঢেকো না।"৪২৭ মৃত ব্যক্তিকে এমন কাপড় দ্বারা ঢেকে দিবে যাতে তার চামড়া দেখা না যায়। আর তাকে তার পরিহিত বস্ত্র দ্বারা ঢেকে দেওয়া ওয়াজিব; কারণ, মৃত ব্যক্তি এবং তার উত্তরাধিকারীদের উপর কোনো প্রকার অন্যায় আচরণ করা যাবে না। সুন্নাত হলো সুতার সাদা তিন লিফাফে (কাপড়ে) পুরুষকে কাফন দেওয়া। কাপড়টি বিছিয়ে তার উপর মৃতকে চিৎ করে শুইয়ে দিবে। অতঃপর বাম পাশের অংশ উপর দিয়ে ডান পাশে মুড়িয়ে দিবে। অতঃপর ডান পাশের অংশ বামে দিবে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কাপড় দিবে। অতঃপর মাথার কাছে অতিরিক্ত অংশ গিঠ দিবে। যদি অতিরিক্ত অংশ আরও বেশি থাকে তবে পায়ের কাছেও অনুরূপভাবে গিঠ দিবে। এটাই কাফন দেওয়ার সবচেয়ে সঠিক নিয়ম। আয়িশাহ বলেন,
كُفَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ثَلاثَةِ أَثْوَابِ بيض سحولية، لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلَا عِمَامَةٌ، أُدْرِجَ فِيهَا إِدْرَاجًا রাসুল কে কাফন দেওয়া হয়েছিল তিনটি সাদা সূতী ইয়মেনী কাপড়ে। এতে কোনো কুমীস বা পাগড়ী ছিল না। এতে তাঁকে প্রবেশ করানো হয়েছিল বা রাখা হয়েছিল। ৪২৮
এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন,
الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ، وَكَفَّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ، "তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং এটা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন দাও। কারণ এটাই তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক।”৪২৯ নারীদের পাঁচটি সূতী কাপড়; ইযার, খিমার, কুমীস ও দুইটি লিফাফা। আর শিশুকে এক কাপড়ে। তিন কাপড়ে দেওয়া বৈধ। ছোটো মেয়ে হলে একটা কুমীস ও দুইটি লিফাফা।
টিকাঃ
৪২৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৬৬; সহীহ মুসলিম, হা. ১২০৬।
৪২৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৭৬; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪০।
৪২৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৬৫; সহীহ মুসলিম, হা. ১২০৬-৯৩।
৪২৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৬৪; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪১; শেষ শব্দ ইমাম আহমাদ (রাহিঃ) এর ৬/১১৮।
৪২৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৮৭৮; তিরমিযী, হা. ১০০৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৭২; শব্দ ইমাম তিরমিযীর। ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন।
মৃত ব্যক্তিকে কাফন দেওয়া ওয়াজিব। নাবী ঐ মুহরিম ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যিনি সওয়ারী থেকে পড়ে যাওয়ার দরুন তার ঘাড় মটকে গিয়েছিল;
وَكَفَّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ
"তাকে দুই কাপড়ে কাফন দাও।"৪২৫
পুরো শরীর ঢেকে দেওয়া ওয়াজিব। যদি একটা ছোটো কাপড় ছাড়া আর কোনো কাপড় না পাওয়া যায় যা পুরো শরীর ঢাকার জন্য যথেষ্ট, তাহলে তার মাথাটা ঢেকে দিবে। আর পায়ের উপর কিছু ইযখিরের ছাল বিছিয়ে দিবে। কারণ মুসআব ইবনু উমাইর এর কাফন দেওয়ার ঘটনায় খব্বাব বলেছেন,
فَأَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُغَطَّيَ رَأْسَهُ ، وَأَنْ نَجْعَلَ عَلَى رِجْلَيْهِ مِنَ الْإِذْخِرِ
"নাবী আমাদেরকে তার মাথাটা ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার পায়ের উপর ইযখিরের ছাল বিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”৪২৬
পুরুষ মুহরীম ব্যক্তির মাথা ঢাকা যাবে না। নাবী বলেছেন: وَلَا تُمَّرُوا رَأْسَهُ "তোমরা তার মাথা ঢেকো না।"৪২৭ মৃত ব্যক্তিকে এমন কাপড় দ্বারা ঢেকে দিবে যাতে তার চামড়া দেখা না যায়। আর তাকে তার পরিহিত বস্ত্র দ্বারা ঢেকে দেওয়া ওয়াজিব; কারণ, মৃত ব্যক্তি এবং তার উত্তরাধিকারীদের উপর কোনো প্রকার অন্যায় আচরণ করা যাবে না। সুন্নাত হলো সুতার সাদা তিন লিফাফে (কাপড়ে) পুরুষকে কাফন দেওয়া। কাপড়টি বিছিয়ে তার উপর মৃতকে চিৎ করে শুইয়ে দিবে। অতঃপর বাম পাশের অংশ উপর দিয়ে ডান পাশে মুড়িয়ে দিবে। অতঃপর ডান পাশের অংশ বামে দিবে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কাপড় দিবে। অতঃপর মাথার কাছে অতিরিক্ত অংশ গিঠ দিবে। যদি অতিরিক্ত অংশ আরও বেশি থাকে তবে পায়ের কাছেও অনুরূপভাবে গিঠ দিবে। এটাই কাফন দেওয়ার সবচেয়ে সঠিক নিয়ম। আয়িশাহ বলেন,
كُفَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ثَلاثَةِ أَثْوَابِ بيض سحولية، لَيْسَ فِيهَا قَمِيصٌ وَلَا عِمَامَةٌ، أُدْرِجَ فِيهَا إِدْرَاجًا রাসুল কে কাফন দেওয়া হয়েছিল তিনটি সাদা সূতী ইয়মেনী কাপড়ে। এতে কোনো কুমীস বা পাগড়ী ছিল না। এতে তাঁকে প্রবেশ করানো হয়েছিল বা রাখা হয়েছিল। ৪২৮
এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন,
الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ، وَكَفَّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ، "তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং এটা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন দাও। কারণ এটাই তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক।”৪২৯ নারীদের পাঁচটি সূতী কাপড়; ইযার, খিমার, কুমীস ও দুইটি লিফাফা। আর শিশুকে এক কাপড়ে। তিন কাপড়ে দেওয়া বৈধ। ছোটো মেয়ে হলে একটা কুমীস ও দুইটি লিফাফা।
টিকাঃ
৪২৫. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৬৬; সহীহ মুসলিম, হা. ১২০৬।
৪২৬. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৭৬; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪০।
৪২৭. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৬৫; সহীহ মুসলিম, হা. ১২০৬-৯৩।
৪২৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১২৬৪; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৪১; শেষ শব্দ ইমাম আহমাদ (রাহিঃ) এর ৬/১১৮।
৪২৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ৩৮৭৮; তিরমিযী, হা. ১০০৫; ইবনু মাজাহ, হা. ১৪৭২; শব্দ ইমাম তিরমিযীর। ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন।
📄 মৃত ব্যক্তির জানাযার সলাত
হুকুম ও দলীল: মৃত ব্যক্তির জানাযার সলাত ফরযে কেফায়া। কিছু লোক তা আদায় করলে অন্যান্যদের থেকে পাপের বোঝা নেমে যাবে। এর দলীল হলো: এক ব্যক্তি ঋণ রেখে মারা গেলে তার ব্যাপারে নাবী صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ এর বাণী: “তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার সলাত আদায় করো।”৪৩০
বাদশা নাজাশীর মৃত্যুর দিন নাবী বললেন, إِنَّ أَذَا لَكُمْ قَدْ مَاتَ، فَقُومُوا فَصَلُّوا عَلَيْهِ “নিশ্চয় তোমাদের ভাই মারা গিয়েছে। সুতরাং তোমরা দাঁড়িয়ে জানযার সলাত পড়ো।”৪৩১
টিকাঃ
৪৩০. সহীহ মুসলিম, হা. ১৬১৯।
৪৩১. সহীহ মুসলিম, হা. ৯৫২-৬৪।
হুকুম ও দলীল: মৃত ব্যক্তির জানাযার সলাত ফরযে কেফায়া। কিছু লোক তা আদায় করলে অন্যান্যদের থেকে পাপের বোঝা নেমে যাবে। এর দলীল হলো: এক ব্যক্তি ঋণ রেখে মারা গেলে তার ব্যাপারে নাবী صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ এর বাণী: “তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযার সলাত আদায় করো।”৪৩০
বাদশা নাজাশীর মৃত্যুর দিন নাবী বললেন, إِنَّ أَذَا لَكُمْ قَدْ مَاتَ، فَقُومُوا فَصَلُّوا عَلَيْهِ “নিশ্চয় তোমাদের ভাই মারা গিয়েছে। সুতরাং তোমরা দাঁড়িয়ে জানযার সলাত পড়ো।”৪৩১
টিকাঃ
৪৩০. সহীহ মুসলিম, হা. ১৬১৯।
৪৩১. সহীহ মুসলিম, হা. ৯৫২-৬৪।
📄 জানাযার সলাতের শর্ত, রুকন ও সুন্নাত সমূহ
১. শর্ত: শর্তসমূহ: নিয়ত করা, শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (বিবেকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) হওয়া, কিবলামুখী হওয়া, সতর ঢাকা ও অপবিত্রতা দূর করা। কারণ এটা সলাতেরই অন্তর্ভুক্ত। মৃতকে মুসল্লার সামনে উপস্থিত রাখা যদি (মৃত) নিজ অঞ্চলের হয়, মুসুল্লি এবং মৃত উভয়েই মুসলিম হওয়া ও পবিত্রতা অর্জন করা; যদিও ওযরবশত মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।
২. রুকন: রুকনগুলো হলো: সক্ষম ব্যক্তির দাঁড়িয়ে সলাত পড়া ফরয। কারণ এটা এমন একটা সলাত যেখানে ফরয সলাতের ন্যায় দাঁড়িয়ে আদায় করা আবশ্যক। চার তাকবীর দেওয়া, (নাবী বাদশা নাজাশীর জন্য চার তাকবীর দিয়েছেন), সূরা ফাতিহাহ পাঠ করা। আম হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, لا صَلَاةَ لَمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ “যে ব্যক্তি সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ে না, তার সলাত হয় না।”৪৩২
নাবী এর উপর দুরুদ পাঠ করা এবং মৃতব্যক্তির জন্য দুআ। নাবী বলেছেন:
إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ "যখন মৃতের জানাযা পড়বে তখন একনিষ্ঠচিত্তে তার জন্য দুআ করবে।”৪৩৩
সালাম ফিরানে। আম হাদীস: "সালামের মাধ্যমেই সলাত শেষ হয়।" ও সবশেষে রুকুনগুলোর মাঝে- ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এ ক্ষেত্রে একটা রুকন অন্যটির আগে আনা যাবে না।
৩. সুন্নাতসমূহ: প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফউল ইয়াদাঈন করা, ক্বিরাআতর আগে 'আউযুবিল্লাহ' বলা, নিজের এবং মুসলমানদের জন্য দুআ করা এবং অনুচ্চস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করা।
টিকাঃ
৪৩২. সহীহ মুসলিম, হা, ৩৯৪।
৪৩৩. দা, হা. ৩১৯৯। হাসান, দেখুন- ইরওয়াউল গালীল ৩/১৭৯।
১. শর্ত: শর্তসমূহ: নিয়ত করা, শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (বিবেকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) হওয়া, কিবলামুখী হওয়া, সতর ঢাকা ও অপবিত্রতা দূর করা। কারণ এটা সলাতেরই অন্তর্ভুক্ত। মৃতকে মুসল্লার সামনে উপস্থিত রাখা যদি (মৃত) নিজ অঞ্চলের হয়, মুসুল্লি এবং মৃত উভয়েই মুসলিম হওয়া ও পবিত্রতা অর্জন করা; যদিও ওযরবশত মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।
২. রুকন: রুকনগুলো হলো: সক্ষম ব্যক্তির দাঁড়িয়ে সলাত পড়া ফরয। কারণ এটা এমন একটা সলাত যেখানে ফরয সলাতের ন্যায় দাঁড়িয়ে আদায় করা আবশ্যক। চার তাকবীর দেওয়া, (নাবী বাদশা নাজাশীর জন্য চার তাকবীর দিয়েছেন), সূরা ফাতিহাহ পাঠ করা। আম হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, لا صَلَاةَ لَمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ “যে ব্যক্তি সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ে না, তার সলাত হয় না।”৪৩২
নাবী এর উপর দুরুদ পাঠ করা এবং মৃতব্যক্তির জন্য দুআ। নাবী বলেছেন:
إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ "যখন মৃতের জানাযা পড়বে তখন একনিষ্ঠচিত্তে তার জন্য দুআ করবে।”৪৩৩
সালাম ফিরানে। আম হাদীস: "সালামের মাধ্যমেই সলাত শেষ হয়।" ও সবশেষে রুকুনগুলোর মাঝে- ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এ ক্ষেত্রে একটা রুকন অন্যটির আগে আনা যাবে না।
৩. সুন্নাতসমূহ: প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফউল ইয়াদাঈন করা, ক্বিরাআতর আগে 'আউযুবিল্লাহ' বলা, নিজের এবং মুসলমানদের জন্য দুআ করা এবং অনুচ্চস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করা।
টিকাঃ
৪৩২. সহীহ মুসলিম, হা, ৩৯৪।
৪৩৩. দা, হা. ৩১৯৯। হাসান, দেখুন- ইরওয়াউল গালীল ৩/১৭৯।