📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 এই সলাতের সময় এবং পদ্ধতি

📄 এই সলাতের সময় এবং পদ্ধতি


সলাতুল ইস্তিসক্বার সময় এবং পদ্ধতি ঈদের সলাতের মতোই। ইবনু আব্বাস বলেন,
"নাবী صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ كَمَا يُصَلِّي فِي الْعِيدَيْنِ ঈদের সলাত যেভাবে আদায় করতেন সেভাবে এ সলাতও আদায় করতেন। "৪০৪ সলাতটি ঈদের সলাতের ন্যায় মুসল্লাতে (মাঠে) গিয়ে আদায় করা মুস্তাহাব। ঈদের সলাতের মতো জেহরী কেরাতে দুই রাকআত সলাত আদায় করবে। খুতবার আগেই সলাত পড়তে হবে। অনুরূপভাবে তাকবীরের সংখ্যা এবং সলাতে পঠিতব্য ক্বিরাআতও একই। যে কোনো পদ্ধতিতেই ইস্তিসক্বার সলাত আদায় করা জায়েয। এ ক্ষেত্রে মানুষ দুআ করতে পারে এবং সাজদায় গেলে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে পারে। জুমুআর সলাতে ইমাম মিম্বারে থাকাবস্থায় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে পারে। যেমন নাবী জুমুআর দিন মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছেন। ৪০৫

টিকাঃ
৪০৪. নাসাঈ, হা. ১৫২১; তিরমিযী, হা. ৫৫৮, হাসান; দেখুন, ইরওয়াউল গলীল ৩/১৩৩।
৪০৫. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৩৩; সহীহ মুসলিম, হা, ১৯৬৩, ফুআ, ৮৯৭।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সলাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া

📄 সলাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া


ইমাম যখন সলাতের উদ্দেশ্যে বের হবেন তখন মানুষদের উদ্দেশ্যে নসীহত করবেন। তাদেরকে তওবা করার নির্দেশ দিবেন। সেই সাথে অন্যায়-অত্যাচার এবং পরস্পরে হিংসা- বিদ্বেষ ও ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করার নির্দেশ দিবেন। কারণ এ গুলোই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ নাযিল হওয়ার অন্তরায়। বস্তুত, পাপাচার অনাবৃষ্টির কারণ এবং তাক্বওয়া হলো বরকতের কারণ।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
"জনপদগুলোর লোকেরা যদি ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমরা তাদের জন্য আসমান এবং জমিনের কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা (সত্যকে) প্রত্যাখ্যান করল। কাজেই তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলাম।"[সূরা আরাফ: ৯৬]
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে কিন্তু সুগন্ধি মাখা যাবে না, সুন্দর পোশাক পরিধান করবে না। কারণ এই দিনটি বিনয়-নম্র হওয়ার দিন। তিনি অতি নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে বের হবেন। ইবনু আব্বাস বলেন,
خَرَجَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ للاستسقاء متذللاً مُتَوَاضِعًا مُتَخَشَّعًا، مُتَضَرِّعًا،
"নাবী বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য অতি নম্র-ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে বের হতেন।”৪০৬

টিকাঃ
৪০৬. তিরমিযী, হা. ৪৫৮; ইবনু মাজাহ, হা. ১২৬৬; হাসান; দেখুন, ইরওয়াউল গলীল ২/১৩৩।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ইস্তিসক্বার সলাতে খুতবা

📄 ইস্তিসক্বার সলাতে খুতবা


ইস্তিসক্বার সলাতের পর ইমাম সাহেব একটা খুতবা দিবেন, যাতে সামগ্রিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে। সেখানে তিনি তাওবা করার নির্দেশ দিবেন। বেশি বেশি দান-সাদকা, আল্লাহর পথে প্রত্যাবর্তন ও যাবতীয় পাপ কাজ বর্জনের নির্দেশ দিবেন। সেই সাথে খুতবায় বেশি বেশি ইস্তিগফার করবেন, ক্ষমা প্রার্থনা করার আদেশ সুচক আয়াতসমূহ তিলাওয়াত ও বৃষ্টি চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুআ করা উচিত। যেমন তিনি বলেছেন, )اللهم أغثنا( অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দাও। ৪০৭ তিনি আরও বলেন:
«اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْئًا مُغِيثًا، مَرِيئًا مَرِيعًا، عَاجِلًا غَيْرَ آجِلٍ، نَافِعًا غَيْرَ ضَارٌ»
“হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো। যা হবে কল্যাণময় ও সজীবতা দানকারী; বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি; উপকারী ও ক্ষতিকর নয়। ৪০৮
اللَّهُمَّ أَنْتَ اللهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ، أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ، وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلَى حِينٍ
“হে আল্লাহ! আপনি আল্লাহ। আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। আপনি অমুখাপেক্ষী, আমরা সবাই আপনার কাছে মুখাপেক্ষী। আপনি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। আপনি আমাদের জন্য যা বর্ষণ করবেন, তা দ্বারা আমাদের জন্য প্রবল শক্তি ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করুন। "৪০৯
অনুরূপভাবে তিনি দু'হাত উত্তোলন করবেন। কারণ নাবী এরূপ করতেন। এমনকি তাঁর বগলের সুভ্রতা প্রকাশ পেত। লোকেরাও তাদের হাত উত্তোলন করবে। কারণ নাবী যখন জুমুআর সলাতে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন তখন লোকেরাও (সাহাবীগণ) তাঁর সাথে হাত উত্তোলন করেছিল। পাশাপাশি নাবী এর উপর বেশি বেশি দরুদ পড়তে হবে। । কারণ দুআ কবুলের এটাও একটা মাধ্যম।

টিকাঃ
৪০৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১০১৪; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯৮৩, ফুআ. ৮৯৭: ইস্তিস্কার দীর্ঘ হাদীস।
৪০৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ১১৫৯; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সানাদের তাখরীজ মিশকাত, হা. ১৫০৭।
৪০৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ১১৭৩; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, সানাদের তাখরীজ মিশকাত, হা. ১৫০৮।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সলাতে যে সুন্নাতগুলো পালন করা উচিত

📄 সলাতে যে সুন্নাতগুলো পালন করা উচিত


১. এ ব্যাপারে নাবী থেকে প্রমাণিত দুআগুলো বেশি বেশি পড়তে হবে। দুআর শেষে কিবলামুখী হয়ে চাদর উল্টিয়ে নিবে। অর্থাৎ ডান পাশের অংশ বাম পাশে এবং বাম পাশের অংশ ডান পাশে নিতে হবে। এভাবে চাদরটা অনেকটাই আবায়া'র মতো হবে। এ কথা প্রমাণিত যে, নাবী মানুষের দিকে তাঁর পিঠ ফিরিয়েছেন। কিবলামুখী হয়ে দুআ করেছেন। অতঃপর তাঁর চাদর উল্টিয়ে দিয়েছেন। ৪১০ চাদর উল্টানোর কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, চলমান অবস্থার পরিবর্তন আশা করা।
২. ইস্তিসক্বার সলাতের জন্য মহিলা-শিশুসহ সকল মুসলিমের বের হওয়াই সুন্নাহ।
৩. বিনয়-নম্র ও নতজানু হয়ে বের হওয়া সুন্নাত। কারণ নাবী বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য অতি নম্র- ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে বের হতেন। ৪১১
৪. বৃষ্টি বর্ষণের সময় সেখানেই অবস্থান করা সুন্নাহ, যাতে তার উপরে বৃষ্টি পড়ে। আর বলতে হবে اللَّهُمَّ صَيِّباً نَافِعاً "হে আল্লাহ মুষলধারে এবং উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।" আরও বলতে হবে مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ "আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে বৃষ্টি বর্ষণ হয়েছে।”
৫. বৃষ্টি বেশি হয়ে গেলে এবং ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বলতে হবে..... اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الظُّرَابِ وَالْآكَامِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ “হে আল্লাহ আমাদের উপর নয় বরং আশেপাশে বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! ছোটো ছোটো পাহাড়, স্তুপ, উপত্যকায় ও গাছের কাণ্ডের উপর বর্ষণ করুন।”
ظراب-ছোটো ছোটো পাহাড়। آكام -স্তুপ, টিলা যা কোনো এক স্থানে অনেকগুলি পাথরের সমষ্টিকে বুঝায়।

টিকাঃ
৪১০. সহীহুল বুখারী, হা. ১০১১; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ৮৬৩।
৪১১. তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাসান সহীহ বলেছেন।
৪১২. সহীহুল বুখারী, হা. ১০২১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯৬৩, ফুআ. ৮৯৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00