📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ইস্তিসক্বার সংজ্ঞা, হুকুম ও দলীল

📄 ইস্তিসক্বার সংজ্ঞা, হুকুম ও দলীল


১. পরিচয়: الاستسقاء هو طلب السقي من الله تعالى عند حاجة العباد إليه على صفة مخصوصة؛ وذلك إذا أجدبت الأرض، وقحط المطر ؛ لأنه لا يسقي ولا ينزل الغيث إلا الله وحده. "বান্দার প্রয়োজনে বিশেষ পদ্ধতিতে আল্লাহর কাছে পানি চাওয়া বা প্রার্থনা করা। আর এটা তখনই হয়ে থাকে যখন অনাবৃষ্টিতে জমি অনুর্বর হয়ে যায়। কারণ বৃষ্টি কেবল আল্লাহই দিতে পারেন, অন্য কেউ নয়।
২. হুকুম: সলাতুল ইস্তিসক্বা বা বৃষ্টির সলাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ বলেন, خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَسْقِي ، فَتَوَجَّهَ إِلَى القِبْلَةِ يَدْعُو وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَهَرَ فِيهِمَا بِالْقِرَاءَةِ "নাবী আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দুআ করতেন, নিজের চাদর পরিবর্তন করতেন এবং উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআতে দুই রাকআত সলাত আদায় করতেন। "৪০৩

টিকাঃ
৪০৩. সহীহুল বুখারী, হা, ১০২৪; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯৫৬, ফুআ. ৮৯৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 এই সলাতের কারণ

📄 এই সলাতের কারণ


এই সলাতের কারণ হলো অনাবৃষ্টি অর্থাৎ বৃষ্টি না হওয়া। এই কারণেই নাবী আদায় করতেন।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 এই সলাতের সময় এবং পদ্ধতি

📄 এই সলাতের সময় এবং পদ্ধতি


সলাতুল ইস্তিসক্বার সময় এবং পদ্ধতি ঈদের সলাতের মতোই। ইবনু আব্বাস বলেন,
"নাবী صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ كَمَا يُصَلِّي فِي الْعِيدَيْنِ ঈদের সলাত যেভাবে আদায় করতেন সেভাবে এ সলাতও আদায় করতেন। "৪০৪ সলাতটি ঈদের সলাতের ন্যায় মুসল্লাতে (মাঠে) গিয়ে আদায় করা মুস্তাহাব। ঈদের সলাতের মতো জেহরী কেরাতে দুই রাকআত সলাত আদায় করবে। খুতবার আগেই সলাত পড়তে হবে। অনুরূপভাবে তাকবীরের সংখ্যা এবং সলাতে পঠিতব্য ক্বিরাআতও একই। যে কোনো পদ্ধতিতেই ইস্তিসক্বার সলাত আদায় করা জায়েয। এ ক্ষেত্রে মানুষ দুআ করতে পারে এবং সাজদায় গেলে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে পারে। জুমুআর সলাতে ইমাম মিম্বারে থাকাবস্থায় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে পারে। যেমন নাবী জুমুআর দিন মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছেন। ৪০৫

টিকাঃ
৪০৪. নাসাঈ, হা. ১৫২১; তিরমিযী, হা. ৫৫৮, হাসান; দেখুন, ইরওয়াউল গলীল ৩/১৩৩।
৪০৫. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৩৩; সহীহ মুসলিম, হা, ১৯৬৩, ফুআ, ৮৯৭।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সলাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া

📄 সলাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া


ইমাম যখন সলাতের উদ্দেশ্যে বের হবেন তখন মানুষদের উদ্দেশ্যে নসীহত করবেন। তাদেরকে তওবা করার নির্দেশ দিবেন। সেই সাথে অন্যায়-অত্যাচার এবং পরস্পরে হিংসা- বিদ্বেষ ও ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করার নির্দেশ দিবেন। কারণ এ গুলোই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ নাযিল হওয়ার অন্তরায়। বস্তুত, পাপাচার অনাবৃষ্টির কারণ এবং তাক্বওয়া হলো বরকতের কারণ।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
"জনপদগুলোর লোকেরা যদি ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত, তাহলে আমরা তাদের জন্য আসমান এবং জমিনের কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা (সত্যকে) প্রত্যাখ্যান করল। কাজেই তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করলাম।"[সূরা আরাফ: ৯৬]
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে কিন্তু সুগন্ধি মাখা যাবে না, সুন্দর পোশাক পরিধান করবে না। কারণ এই দিনটি বিনয়-নম্র হওয়ার দিন। তিনি অতি নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে বের হবেন। ইবনু আব্বাস বলেন,
خَرَجَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ للاستسقاء متذللاً مُتَوَاضِعًا مُتَخَشَّعًا، مُتَضَرِّعًا،
"নাবী বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য অতি নম্র-ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে বের হতেন।”৪০৬

টিকাঃ
৪০৬. তিরমিযী, হা. ৪৫৮; ইবনু মাজাহ, হা. ১২৬৬; হাসান; দেখুন, ইরওয়াউল গলীল ২/১৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00