📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ঈদের সলাতের পদ্ধতি এবং সলাতে যা তিলাওয়াত করা হবে

📄 ঈদের সলাতের পদ্ধতি এবং সলাতে যা তিলাওয়াত করা হবে


পদ্ধতি: খুতবার পূর্বে দুই রাকআত সলাত। উমার বলেন,
صَلَاةُ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى رَكْعَتَانِ، رَكْعَتَانِ، تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবানীতে সফরের সলাত দুই রাকআত, জুমুআহর সালাত দুই রাকআত এবং ঈদের সালাত দুই রাকআত। এগুলো পূর্ণ সালাত, কসর নয়। তাই যে মিথ্যা বলবে, সে ব্যর্থ হবে।”
প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে সালাত শুরু করার পর ‘আউযু বিল্লাহ’ বলার আগেই ছয় তাকবীর দিবে এবং দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিবে কিয়ামের তাকবীর ছাড়া। আয়িশাহ হতে মারফু সূত্রে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে:
“يُكَبِّرُ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى، فِي الْأُوْلَى سَبْعَ تَكْبِيْرَاتٍ سِوَى تَكْبِيْرَةِ الرُّكُوْعِ، وَفِي الثَّانِيَةِ خَمْسَ تَكْبِيْرَاتٍ سِوَى تَكْبِيْرَةِ الرُّكُوْعِ “ঈদুল ফিতর ও আযহায় প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমার পর সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর ব্যতীত পাঁচ তাকবীর।”
প্রত্যেক তাকবীরের সাথে হস্তদ্বয় উত্তোলন করতে হবে।
لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ التَّكْبِيْرِ “নবী তাকবীরের সময় তাঁর হস্তদ্বয় ওঠাতেন।” ‘আউযু বিল্লাহ’ বলার পর উচ্চস্বরে কিরাআতও পাঠ করতে হবে, এতে কোনো মতবিরোধ নেই। সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। প্রথম রাকাতে সূরা ‘আ’লা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘গশিয়া’ পড়া সুন্নাত। সামুরাহ বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيْدَيْنِ: ﴿سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَىٰ﴾ وَ﴿هَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ الْغَاشِيَةِ﴾ “নবী দুই ঈদে সূরা ‘আ’লা’ এবং সূরা ‘গশিয়া’ পড়তেন।” সহীহ সূত্রে প্রমাণিত আছে যে, তিনি প্রথম রাকাতে সূরা ‘ক্বাফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘ক্বমার’ পড়তেন। এক্ষেত্রে যিনি ইমাম থাকবেন তিনি সুন্নাহ পালনার্থে কখনো এটা বা কখনো ওটা পাঠ করবেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের অবস্থাও বিবেচনা করবেন এবং তাদের জন্য যেটা সহজ সেটাই করবেন।

টিকাঃ
৩৯৪. সুনান আবূ দাউদ, হা. ১১৫৯; সহীহ দেখুন, ইরওয়াউল গালীল ৩/২৬৩।
৩৯৫. আহমদ ৪/৩৬৬; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া ১/৩৪১।
৩৯৬. আহমদ ৫/৭; ইবনু মাজাহ, হা. ১২৮৩; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১/৩৪১।
৩৯৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৯১।
৩৯৮. সহীহ বুখারী, হা. ৯৬৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৬৭, ফুআদ, ৫৮৮।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 খুতবার স্থান

📄 খুতবার স্থান


ঈদের সালাতে খুতবা হবে সালাতের পর। কারণ ইবনু উমার বলেন,
كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُوْ بَكْرٍ، وَعُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، يُصَلُّوْنَ قَبْلَ الْخُطْبَةِ “নবী , আবূ বকর ও উমার তারা সবাই খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত আদায় করতেন।”

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ঈদের সলাত কাযা করার বিধান

📄 ঈদের সলাত কাযা করার বিধান


কারো ঈদের সলাত ছুটে গেলে তার জন্য কাযা আদায় করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। নাবী থেকে দলীল বর্ণিত হয়নি। কেননা এটা নির্দিষ্ট জামাআতের সলাত। সুতরাং এটা জামাআত ছাড়া শরীয়ত অনুমোদিত নয়।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 এর সুন্নাহসমূহ

📄 এর সুন্নাহসমূহ


১. সুন্নাত হলো ঈদের সলাত জনপদের বাইরে এমন এক প্রশস্ত স্থানে আদায় করা যেখানে মুসলিমরা তাদের এই নিদর্শন প্রকাশের জন্য জমায়েত হতে পারবে। আর যদি কোনো কারণবশত মসজিদে আদায় করতে হয় তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
২. ঈদুল আযহার সলাত অবিলম্বে আদায় করা এবং ঈদুল ফিতরের সলাত একটু দেরিতে আদায় করা সুন্নাত। এর বিবরণ সময়ের আলোচনায় অর্থাৎ চতুর্থ মাসআলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. ঈদুল ফিতরের সলাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে কিছু খেজুর খেয়ে বের হওয়া ও কুরবানির দিন সলাত আদায় করে খাওয়া সুন্নাত। নাবী ঈদুল ফিতরের দিন বেজোড় সংখ্যার কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। ৩৯৯ আর কুরবানির দিন সলাত আদায় না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। ৪০০
৪. ফজরের সলাতের পর সকাল সকাল পায়ে হেঁটে ঈদের সলাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া, যাতে ইমামের নিকটবর্তী থাকতে পারে। পাশাপাশি সলাতের জন্য অপেক্ষায় থাকার ফযীলত অর্জিত হয়।
৫. মুসলিম ব্যক্তি গোসল করে সুন্দর পোশাক পরিধান করে সুগন্ধি মেখে সুন্দরভাবে সাজবে।
৬. ঈদের সলাতে এমন খুতবা দিতে হবে যাতে দ্বীনের সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। মানুষদের যাকাতুল ফিতরের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে, তারা কি বের করবে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দিতে হবে, কুরবানি করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে হবে এবং এর হুকুম স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দিতে হবে। বক্তব্যে মহিলাদের জন্য একটা অংশ থাকবে। কারণ তাদেরও প্রয়োজন নাবী কে অনুসরণ করা। তিনি সলাত ও খুতবা শেষে মহিলাদের কাছে যেতেন এবং তাদেরকে উপদেশ দিতেন। ৪০১ বর্ণনা অনুযায়ী এ কাজটি সলাতের পর হবে।
৭. বেশি বেশি ঈদের তাকবীর বলাও সুন্নাত। আল্লাহ তা'আলা বলেন: (وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ)
"আর তোমরা যেন নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পারো, তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন তারজন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করো এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" [সুরা বাক্বারা : ১৮৫]
পুরুষেরা বাড়িতে, মাসজিদে ও হাটে-বাজারে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করবে এবং মহিলারা নিম্নস্বরে পাঠ করবে।
৮. রাস্তা পরিবর্তন করা। তিনি এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতেন, অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন। জাবির বলেন, كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدٍ خَالَفَ الطَّرِيقَ
"নাবী ঈদের দিন রাস্তা পরিবর্তন করতেন।"৪০২
এর হিকমাহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দুটো রাস্তাই যেন তাঁর জন্য সাক্ষ্য দেয়। আরও বলা হয়েছে, এতে ইসলামের নিদর্শন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া আরও কিছু তাৎপর্য রয়েছে। ঈদের দিন পরস্পরে একে অপরকে বলবে, تَقَبَّلَ الله منا ومنك صالح الأعمال অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং তোমার সৎ আমল কবুল করুন! বলে শুভেচ্ছ বিনিময় করাতে কোনো সমস্য নেই। সাহাবীগণ একে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে অতি আনন্দের সাথে এরূপ করতেন।

টিকাঃ
৩৯৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৫৩।
৪০০. তিরমিযী, হা. ৫৪২; ইবনু মাজাহ, হা. ১৭৫৬; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ১৪২২।
৪০১. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৭৮।
৪০২. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৮৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00