📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 শর্তসমূহ

📄 শর্তসমূহ


গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ: ১. সময় হওয়া; ২. নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্তির উপস্থিতি; ৩. স্থায়ী বসবাস। সময় হওয়ার আগে সলাত পড়া জায়েয নেই। আবার তিনজন ব্যক্তির কমেও এই সলাত আদায় করা বৈধ নয়। আর স্থায়ী বাসিন্দা ব্যতীত কোনো মুসাফিরের উপর এ সলাত ওয়াজিব নয়।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সলাত আদায়ের স্থানসমূহ

📄 সলাত আদায়ের স্থানসমূহ


দালানের বাইরে খোলা ময়দানে এ সলাত আদায় করা সুন্নাহ। আবু সাঈদ এর হাদীস-
كَانَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالْأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى ...
"নাবী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সলাত আদায়ের জন্য বের হয়ে ঈদগাহে যেতেন।”৩৯১
এখান থেকে উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহই ভালে জানেন- এই নিদর্শন প্রকাশ করা। তবে ওযর থাকলে জামে' মসজিদে আদায় করা বৈধ। যেমন- বৃষ্টি, প্রচণ্ড বাতাস ইত্যাদি।

টিকাঃ
৩৯১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৯৫৬; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯৩৮, ফুআ. ৮৮৯।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সময়

📄 সময়


ঈদের সলাতের সময় চাশতের সলাতের মতো সূর্য বর্শার সমপরিমাণ উদিত হওয়ার পর থেকে পশ্চিম আকাশে ঢলার সময় পর্যন্ত। এ সলাত নাবী ও তার খলীফাগণ সূর্য উদিত হওয়ার পর আদায় করতেন। কারণ সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বের সময়টা নিষিদ্ধ সময়। ৩৯২ ঈদুল আযহা প্রথম ওয়াক্তে অনতিবিলম্বে আদায় করা ও ঈদুল ফিতর একটু বিলম্বে আদায় করা সুন্নাত। কারণ কুরবানি করার জন্য ঈদুল আযহার সলাত মানুষের অনতিবিলম্বে আদায় করা দরকার। অন্যদিকে যাকাতুল ফিতর আদায়ের জন্য ঈদুল ফিতরের সলাতের সময় একটু প্রশস্ত হওয়া প্রয়োজন।

টিকাঃ
৩৯২. দেখুন, মুগনী ২/২৩২-২৩৩।
৩৯৩. আহমাদ ১/৩৭; নাসাঈ ১/২৩২; বায়হাক্বী ৩/২০০; সহীহ ইবনু খুঝায়মাহ, হা. ১৫২৫; সহীহ; দেখুন, ইরওয়াউল গালীল ৩/১০৬।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ঈদের সলাতের পদ্ধতি এবং সলাতে যা তিলাওয়াত করা হবে

📄 ঈদের সলাতের পদ্ধতি এবং সলাতে যা তিলাওয়াত করা হবে


পদ্ধতি: খুতবার পূর্বে দুই রাকআত সলাত। উমার বলেন,
صَلَاةُ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى رَكْعَتَانِ، رَكْعَتَانِ، تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَى
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবানীতে সফরের সলাত দুই রাকআত, জুমুআহর সালাত দুই রাকআত এবং ঈদের সালাত দুই রাকআত। এগুলো পূর্ণ সালাত, কসর নয়। তাই যে মিথ্যা বলবে, সে ব্যর্থ হবে।”
প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে সালাত শুরু করার পর ‘আউযু বিল্লাহ’ বলার আগেই ছয় তাকবীর দিবে এবং দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিবে কিয়ামের তাকবীর ছাড়া। আয়িশাহ হতে মারফু সূত্রে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে:
“يُكَبِّرُ فِي الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى، فِي الْأُوْلَى سَبْعَ تَكْبِيْرَاتٍ سِوَى تَكْبِيْرَةِ الرُّكُوْعِ، وَفِي الثَّانِيَةِ خَمْسَ تَكْبِيْرَاتٍ سِوَى تَكْبِيْرَةِ الرُّكُوْعِ “ঈদুল ফিতর ও আযহায় প্রথম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমার পর সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীর ব্যতীত পাঁচ তাকবীর।”
প্রত্যেক তাকবীরের সাথে হস্তদ্বয় উত্তোলন করতে হবে।
لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ التَّكْبِيْرِ “নবী তাকবীরের সময় তাঁর হস্তদ্বয় ওঠাতেন।” ‘আউযু বিল্লাহ’ বলার পর উচ্চস্বরে কিরাআতও পাঠ করতে হবে, এতে কোনো মতবিরোধ নেই। সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। প্রথম রাকাতে সূরা ‘আ’লা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘গশিয়া’ পড়া সুন্নাত। সামুরাহ বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الْعِيْدَيْنِ: ﴿سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَىٰ﴾ وَ﴿هَلْ أَتَاكَ حَدِيْثُ الْغَاشِيَةِ﴾ “নবী দুই ঈদে সূরা ‘আ’লা’ এবং সূরা ‘গশিয়া’ পড়তেন।” সহীহ সূত্রে প্রমাণিত আছে যে, তিনি প্রথম রাকাতে সূরা ‘ক্বাফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ‘ক্বমার’ পড়তেন। এক্ষেত্রে যিনি ইমাম থাকবেন তিনি সুন্নাহ পালনার্থে কখনো এটা বা কখনো ওটা পাঠ করবেন। পাশাপাশি মুসল্লিদের অবস্থাও বিবেচনা করবেন এবং তাদের জন্য যেটা সহজ সেটাই করবেন।

টিকাঃ
৩৯৪. সুনান আবূ দাউদ, হা. ১১৫৯; সহীহ দেখুন, ইরওয়াউল গালীল ৩/২৬৩।
৩৯৫. আহমদ ৪/৩৬৬; ইমাম আলবানী হাসান বলেছেন, ইরওয়া ১/৩৪১।
৩৯৬. আহমদ ৫/৭; ইবনু মাজাহ, হা. ১২৮৩; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ১/৩৪১।
৩৯৭. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৯১।
৩৯৮. সহীহ বুখারী, হা. ৯৬৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৯৬৭, ফুআদ, ৫৮৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00