📄 ঈদের সলাতের হুকুম ও এর দলীল
ঈদের সলাত ফরযে কেফায়া। কিছু লোক তা আদায় করলে অবশিষ্টদের থেকে পাপের বোঝা নেমে যাবে। অপরদিকে সকলেই যদি তা বর্জন করে, তাহলে সকলেই পাপের ভাগিদার হবে। কারণ এটা ইসলামের বাহ্যিক নিদর্শনসমূহের অন্যতম। নাবী এটা নিয়মিত আদায় করেছেন। অনুরূপভাবে তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণও। এমনকি নাবী মহিলাদেরও তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ঋতুবমী মহিলাদেরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা মুসল্লা থেকে দুরে থাকবে। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, এর গুরুত্ব ও ফযীলত কত বেশি! মহিলাদের নির্দেশ দিয়েছেন এজন্যই যে, তারা কোনো সভায় অংশ গ্রহণ করতে পারে না। এ দিক থেকে পুরুষেরা এক ধাপ এগিয়ে। আর বিদ্বানদের কেউ কেউ ফরযে আইন হওয়াকেই শক্তিশালী বলেছেন।
📄 শর্তসমূহ
গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ: ১. সময় হওয়া; ২. নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্তির উপস্থিতি; ৩. স্থায়ী বসবাস। সময় হওয়ার আগে সলাত পড়া জায়েয নেই। আবার তিনজন ব্যক্তির কমেও এই সলাত আদায় করা বৈধ নয়। আর স্থায়ী বাসিন্দা ব্যতীত কোনো মুসাফিরের উপর এ সলাত ওয়াজিব নয়।
📄 সলাত আদায়ের স্থানসমূহ
দালানের বাইরে খোলা ময়দানে এ সলাত আদায় করা সুন্নাহ। আবু সাঈদ এর হাদীস-
كَانَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالْأَضْحَى إِلَى الْمُصَلَّى ...
"নাবী ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সলাত আদায়ের জন্য বের হয়ে ঈদগাহে যেতেন।”৩৯১
এখান থেকে উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহই ভালে জানেন- এই নিদর্শন প্রকাশ করা। তবে ওযর থাকলে জামে' মসজিদে আদায় করা বৈধ। যেমন- বৃষ্টি, প্রচণ্ড বাতাস ইত্যাদি।
টিকাঃ
৩৯১. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৯৫৬; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯৩৮, ফুআ. ৮৮৯।
📄 সময়
ঈদের সলাতের সময় চাশতের সলাতের মতো সূর্য বর্শার সমপরিমাণ উদিত হওয়ার পর থেকে পশ্চিম আকাশে ঢলার সময় পর্যন্ত। এ সলাত নাবী ও তার খলীফাগণ সূর্য উদিত হওয়ার পর আদায় করতেন। কারণ সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বের সময়টা নিষিদ্ধ সময়। ৩৯২ ঈদুল আযহা প্রথম ওয়াক্তে অনতিবিলম্বে আদায় করা ও ঈদুল ফিতর একটু বিলম্বে আদায় করা সুন্নাত। কারণ কুরবানি করার জন্য ঈদুল আযহার সলাত মানুষের অনতিবিলম্বে আদায় করা দরকার। অন্যদিকে যাকাতুল ফিতর আদায়ের জন্য ঈদুল ফিতরের সলাতের সময় একটু প্রশস্ত হওয়া প্রয়োজন।
টিকাঃ
৩৯২. দেখুন, মুগনী ২/২৩২-২৩৩।
৩৯৩. আহমাদ ১/৩৭; নাসাঈ ১/২৩২; বায়হাক্বী ৩/২০০; সহীহ ইবনু খুঝায়মাহ, হা. ১৫২৫; সহীহ; দেখুন, ইরওয়াউল গালীল ৩/১০৬।