📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ভীতির সলাতের বিধান, শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল ও এর শর্তসমূহ

📄 ভীতির সলাতের বিধান, শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল ও এর শর্তসমূহ


এর হুকুম: ভীতির সলাত জায়েয প্রত্যেক বৈধ যুদ্ধে। যেমন কাফের, বিদ্রোহী ও ইসলাম বিরোধীদের সাথে যুদ্ধ। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا .... "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে কাফেররা তোমাদের ফেতনায় ফেলবে।" [সূরা নিসা: ১০১]
যাদের সাথে যুদ্ধ করা বৈধ তাদেরকে এর উপরই বাকি কিয়াস করা হয়েছে। শত্রুর আক্রমনের ভয় থাকলে অথবা পালানোর ভয় থাকলে যদি সেই পালানোটা বৈধ হয়, এবং শত্রু দলে কোনো শত্রু বা হিংস্র জন্তু ঢুকে যাওয়ায় মানুষ নিজের উপর ভীতির আশঙ্কা করলে সেই সময় ভীতির সলাত আদায় করা জায়েয। যেমন এমন হিংস্র পশু যে তার পরিবার অথবা সম্পদ লুণ্ঠন করতে চায়, অত্যাচারী প্রতিপক্ষ ইত্যাদি।
শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল হলো কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা: কুরআনের দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَهُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِنْ وَرَابِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةً أُخْرَى لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ... "যখন তুমি তাদের মধ্যে থাকবে তখন তাদের মধ্যে একটা দল যেন তোমার সাথে দাঁড়ায় এবং তারা যেন নিজেদের অস্ত্র ধারণ করে থাকে, যখন সাজদা করবে তখন তারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান নেয়। এরপর অপর দল যারা সলাত পড়েনি তারা যেন এসে তোমার সাথে সলাত আদায় করে এবং তারা যেন কাফেরদের থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং অস্ত্র ধারণ করে থাকে।” [সূরা নিসা: ১০২] আল্লাহর রসূল এ সলাত আদায় করেছেন এবং সাহাবীরা এর উপর একমত হয়েছেন।
এর শর্তসমূহ: ভীতির সলাত দুটি শর্তে শরীয়তে অনুমোদিত। প্রথম শর্ত: যাদের সাথে যুদ্ধের অনুমতি আছে শত্রু তাদের মধ্যকার হতে হবে। যেমন কাফের, বিদ্রোহী ও ইসলাম বিরোধীদের সাথে যুদ্ধ। এর আলোচনা পূর্বে চলে গেছে। দ্বিতীয় শর্ত: সলাত পড়া অবস্থায় মুসলমানদের উপর আক্রমনের ভয় থাকলে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ভীতির সলাতের পদ্ধতি

📄 ভীতির সলাতের পদ্ধতি


ভীতির সলাত বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে নাবী থেকে সাহল বিন আবি হাসমা আনসারী এর সূত্রে একটা বিশেষ পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। আর এটাই কুরআনে বর্ণিত পদ্ধতির সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। এতে সলাতের সতর্কতা রয়েছে, রয়েছে যুদ্ধেরও সতর্কতা। পাশাপাশি এটা শত্রুদের অন্তরজ্বালার কারণ। নাবী এই বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন 'যাতুর রিক্বা' নামক যুদ্ধে। সাহল যেভাবে এই পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন :
أَنَّ طَائِفَةً صَفَّتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَطَائِفَةٌ وِجَاهَ الْعَدُوِّ ، فَصَلَّى بِالَّتِي مَعَهُ رَكْعَةً، ثُمَّ ثَبَتَ قَائِمًا، وَأَتَمُّوا لِأَنْفُسِهِمْ، ثُمَّ انْصَرَفُوا، وَصَفُّوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ ، وَجَاءَتِ الْأُخْرَى، فَصَلَّى بِهِمُ الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ مِنْ صَلَاتِهِ، ثُمَّ ثَبَتَ جَالِسًا وَأَتَمُّوا لِأَنْفُسِهِمْ، ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمْ»
একদল নাবী এর সাথে কাতার সোজা করল, আরেকদল শত্রুর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াল। অতঃপর নাবী তাঁর সাথে দাঁড়ানো লোকদের নিয়ে এক রাকআত সলাত আদায় করে দাঁড়িয়ে রইলেন, এরপর তারা নিজেদের সলাত পূর্ণ করে নিল। অতঃপর তারা গিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো, এবার অপর দলটি এসে নাবী এর বাকি এক রাকআতের সাথে আদায় করল। অতঃপর তিনি বসে রইলেন। পরে তারাও নিজেদের সলাত পূর্ণ করে নিল। এরপর নাবী তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন। ৩৯০

টিকাঃ
৩৯০. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৪১; সুনান আবু দাউদ, হা. ১২৩৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00