📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জুমুআর সলাতের পদ্ধতি

📄 জুমুআর সলাতের পদ্ধতি


জুমুআর সলাত দুই রাকআত এবং উভয় রাকআতে উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআত হবে। কারণ নাবী এমনটাই করতেন এবং এটি সুন্নাত। এ ব্যাপারে বিদ্বানগণ সকলেই একমত। প্রথম রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা জুমুআহ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা মুনাফিকুন। ৩৭৪ অথবা প্রথম রাকআতে সূরা আ'লা এবং দ্বিতীয় রাকআতে গশিয়াহ পাঠ করা সুন্নাত। ৩৭৫ এটাই নাবী করতেন।

টিকাঃ
৩৭৪. সহীহ মুসলিম, হা. ১৯১১, ফুআ. ৮৭৭।
৩৭৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৯১৩, ফুআ. ৮৭৮।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জুমুআর সুন্নাতসমূহ

📄 জুমুআর সুন্নাতসমূহ


১. বড়ো প্রতিদান হাসিলের জন্য সলাতে সকাল সকাল গমন করা সুন্নাত: আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। নাবী বলেছেন,
مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ، ثُمَّ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الأولى، فَكَأَنَّمَا قَرَبَ بَدَنَةٌ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثانية، فَكَأَنَّها قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ، فَكَأَنَّها قَرَّبَ دَجَاجَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিন জানাবাতের গোসলের মতো গোসল করে প্রথম পর্যায়ে মসজিদে আগমন করল সে যেন একটি উট কুরবানি করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি গরু কুরবানি করল, যে ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি শিং ওয়ালা দুম্বা কুরবানি করল, যে ব্যক্তি চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করল এবং পঞ্চম পর্যায়ে যে ব্যক্তি আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানি করল। এরপর যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় তখন ফেরেশতারা যিকর (আলোচনা) শুনার জন্য উপস্থিত হয়।"৩৭৬
তিনি আরও বলেন: مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَ اغْتَسَلَ ، وَبَكَّرَ وَابْتَكَرَ، كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطُوَةٍ يَخْطُوهَا أَجْرُ سَنَةٍ صِيَامُهَا وَقِيَامُهَا» “যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাল এবং করল, সকাল সকাল মসজিদে আসল, তার জন্য রয়েছে প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে এক বছরের সিয়াম ও সলাতের নেকি।"৩৭৭
২. জুমুআর দিনে গোসল করা সুন্নাত: আবু হুরায়রা এর পূর্ববর্তী হাদীস: مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ "যে ব্যক্তি জুমুআর দিন জানাবাতের গোসলের মতো গোসল করে...। "৩৭৮
গোসল পরিত্যাগ না করে বরং এর প্রতি আগ্রহী হওয়াই উচিত। বিশেষ করে যাদের শরীরে দুর্গন্ধ আছে। কিছু ওলামা এটাকে ওয়াজিব বলেছেন। মারফু' সূত্রে আবু সাঈদ খুদরী এর একটি বর্ণনাতে রয়েছে: غُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتِلِمٍ "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর জুমুআর দিন গোসল করা ওয়াজিব।"৩৭৯ সম্ভবত ওয়াজিবের কথাটিই বেশি শক্তিশালী। তাই বিনা কারণে গোসল বাদ দেওয়া যাবে না।
৩. সুগন্ধি মাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া ও শরীর থেকে যা দূর করার মতো তা দূর করা সুন্নাত: যেমন- নখ কাটা এবং অন্যান্য কিছু। এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বলতে যা গোসলের অতিরিক্ত কাজকে বোঝানো হয়েছে, যাতে এটা দুর্গন্ধ ও এর উপকরণ দূর করতে সহায়তা করে। যেমন- এমন চুল যেগুলো শরীয়ত প্রণেতা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন, নখ, গুপ্তাঙ্গের লোম কেটে ফেলা, বগলের লোম উপড়ানো, নখ কাটা, গোঁফ ছোটো করা ও পাশাপাশি সুগন্ধি ব্যবহার করা। মারফু' সূত্রে সালমান এর একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, لَا يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ...
"কোনো ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করে সাধ্যানুযায়ী পবিত্রতা অর্জন করবে, তেল মাখবে অথবা স্বীয় ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করবে........।"৩৮০
ইবনু হাজার বলেছেন, مِّنْ طُهْرٍ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা...... এর দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো গোঁফ, নখ ও গুপ্তাঙ্গের লোম কাটা। ৩৮১
৪. সুন্দর সুন্দর কাপড় পরিধান করা সুন্নাত: ইবনু উমার এর হাদীসে বলা হয়েছে, أَنَّ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةٌ سِيَرَاءَ عِنْدَ بَابِ المَسْجِدِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ، فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ،
"উমার বিন খাত্তাব মাসজিদে নাববীর দরজায় ডোরাকাটা রেশমের কাপড় দেখে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি এটা ক্রয় করতেন এবং জুমুআর দিন ও আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন পরিধান করতেন! তবে ভালো হতো। ৩৮২
এই হাদীস থেকে ইমাম বুখারী জুমুআর দিন সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করার দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, باب : يلبس أحسن ما يجد |
হাফেজ ইবনু হাজার অসক্বালানী বলেন, এর দ্বারা দলীল গ্রহণের দিকটা হলো এই যে, জুমুআর জন্য সৌন্দর্য অবলম্বনের মূল ভিত্তিটাকে নাবী স্বীকৃতি দিয়েছেন। ৩৮৩ নাবী বলেছেন:
مَا عَلَى أَحَدِكُمْ لَوِ اشْتَرَى ثَوْبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ، سِوَى ثَوْبِ مِهْتَتِهِ
“তোমাদের কেউ যদি জুমুআর দিনের সচরাচর পরিহিত পোশাক ব্যতীত দুইটি পোশাক ক্রয় করত।"৩৮৪ অর্থাৎ কাজের পোশাক।
৫. জুমু'আর দিনে-রাতে নাবী এর উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা সুন্নাত: তিনি বলেছেন: أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ عَلَى يَوْمِ الْجُمُعَةِ ..
"জুমুআর দিন আমার উপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করো।"৩৮৫
৬. ফজরের সলাতে যথাক্রমে সুরা সাজদাহ ও ইনসান (আদ-দাহর) পড়া সুন্নাত: এর উপরেই আল্লাহর রসূল এর নিয়মিত আমল ছিল। ৩৮৬ আর দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করতেন। নাবী বলেছেন:
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سطع لَهُ نور من تحت قدمه إلى عنان السماء يضيء به يوم القيامة، وغفر له مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
"যে ব্যক্তি জুমুআর দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে ঐ ব্যক্তির পায়ের নিচ থেকে ঊর্ধ্ব গগন পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন তাকে আলোকিত করবে এবং তার দুই জুমুআর মাঝের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।"৩৮৭
৭. যে ব্যক্তিই মসজিদে প্রবেশ করবে ঐ ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হলো না বসে আগে দুই রাকআত সলাত আদায় করে নেওয়া: কারণ নাবী এ ব্যাপারে আদেশ করেছেন। ৩৮৮ তবে ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকবে তখন সলাত সংক্ষেপ করে নিবে।
৮. বেশি বেশি দুআ করা ও দুআ কবুলের সময় চাওয়া সুন্নাত: নাবী বলেছেন:
إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ لَسَاعَةً، لَا يُوَافِقُهَا مُسْلِمٌ ، قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
"নিশ্চয়ই জুমুআর দিনে এমন একটা সময় রয়েছে, এ সময় যে কোনো মুসলিম বান্দা সলাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন।"৩৮৯

টিকাঃ
৩৭৬. মুত্তাফাকুন বালাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৮৪৯, ফুআ. ৮৫০।
৩৭৭. তিরমিযী, হা. ৪৯৬ এবং তিনি হাসান বলেছেন। এ ছাড়াও মানযুরি হাসান বলেছেন, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৪৭।
৩৭৮. মুত্তাফাকুন বালাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৮৪৯, ফুআ. ৮৫০।
৩৭৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৭৯; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৮৪৬।
৩৮০. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৩।
৩৮১. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৩; দেখুন, ফাতহুল বারী ২/৪৩২।
৩৮২. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৬।
৩৮৩. ফাতহুল বারী ২/৪৩৪।
৩৮৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১০৭৮; ইবনু মাজাহ, হা. ১০৯৫; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ৮৯৮।
৩৮৫. সুনান আবু দাউদ, হা, ১০৪৭; নাসাঈ ৩/৯১; ইবনু মাজাহ, হা. ১০৮৫; হাকিম ১/২৭৮; ইমাম যাহাবী মাওকুফ সূত্রে সহীহ বলেছেন; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ৮৮৯।
৩৮৬. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৯১।
৩৮৭. হাকিম ২/৩৬৮ এবং তিনি সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৩/৯৩৯।
৩৮৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৩০।
৩৮৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৩৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৮৫২, ফুআ. ১৮৫৪।

১. বড়ো প্রতিদান হাসিলের জন্য সলাতে সকাল সকাল গমন করা সুন্নাত: আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। নাবী বলেছেন,
مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ، ثُمَّ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الأولى، فَكَأَنَّمَا قَرَبَ بَدَنَةٌ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثانية، فَكَأَنَّها قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ، فَكَأَنَّها قَرَّبَ دَجَاجَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিন জানাবাতের গোসলের মতো গোসল করে প্রথম পর্যায়ে মসজিদে আগমন করল সে যেন একটি উট কুরবানি করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি গরু কুরবানি করল, যে ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি শিং ওয়ালা দুম্বা কুরবানি করল, যে ব্যক্তি চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করল এবং পঞ্চম পর্যায়ে যে ব্যক্তি আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানি করল। এরপর যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় তখন ফেরেশতারা যিকর (আলোচনা) শুনার জন্য উপস্থিত হয়।"৩৭৬
তিনি আরও বলেন: مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَ اغْتَسَلَ ، وَبَكَّرَ وَابْتَكَرَ، كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطُوَةٍ يَخْطُوهَا أَجْرُ سَنَةٍ صِيَامُهَا وَقِيَامُهَا» “যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাল এবং করল, সকাল সকাল মসজিদে আসল, তার জন্য রয়েছে প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে এক বছরের সিয়াম ও সলাতের নেকি।"৩৭৭
২. জুমুআর দিনে গোসল করা সুন্নাত: আবু হুরায়রা এর পূর্ববর্তী হাদীস: مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ "যে ব্যক্তি জুমুআর দিন জানাবাতের গোসলের মতো গোসল করে...। "৩৭৮
গোসল পরিত্যাগ না করে বরং এর প্রতি আগ্রহী হওয়াই উচিত। বিশেষ করে যাদের শরীরে দুর্গন্ধ আছে। কিছু ওলামা এটাকে ওয়াজিব বলেছেন। মারফু' সূত্রে আবু সাঈদ খুদরী এর একটি বর্ণনাতে রয়েছে: غُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتِلِمٍ "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপর জুমুআর দিন গোসল করা ওয়াজিব।"৩৭৯ সম্ভবত ওয়াজিবের কথাটিই বেশি শক্তিশালী। তাই বিনা কারণে গোসল বাদ দেওয়া যাবে না।
৩. সুগন্ধি মাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া ও শরীর থেকে যা দূর করার মতো তা দূর করা সুন্নাত: যেমন- নখ কাটা এবং অন্যান্য কিছু। এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বলতে যা গোসলের অতিরিক্ত কাজকে বোঝানো হয়েছে, যাতে এটা দুর্গন্ধ ও এর উপকরণ দূর করতে সহায়তা করে। যেমন- এমন চুল যেগুলো শরীয়ত প্রণেতা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন, নখ, গুপ্তাঙ্গের লোম কেটে ফেলা, বগলের লোম উপড়ানো, নখ কাটা, গোঁফ ছোটো করা ও পাশাপাশি সুগন্ধি ব্যবহার করা। মারফু' সূত্রে সালমান এর একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, لَا يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ...
"কোনো ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করে সাধ্যানুযায়ী পবিত্রতা অর্জন করবে, তেল মাখবে অথবা স্বীয় ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করবে........।"৩৮০
ইবনু হাজার বলেছেন, مِّنْ طُهْرٍ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা...... এর দ্বারা উদ্দেশ্যে হলো গোঁফ, নখ ও গুপ্তাঙ্গের লোম কাটা। ৩৮১
৪. সুন্দর সুন্দর কাপড় পরিধান করা সুন্নাত: ইবনু উমার এর হাদীসে বলা হয়েছে, أَنَّ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةٌ سِيَرَاءَ عِنْدَ بَابِ المَسْجِدِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ، فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ،
"উমার বিন খাত্তাব মাসজিদে নাববীর দরজায় ডোরাকাটা রেশমের কাপড় দেখে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি এটা ক্রয় করতেন এবং জুমুআর দিন ও আপনার কাছে যখন প্রতিনিধি দল আসে তখন পরিধান করতেন! তবে ভালো হতো। ৩৮২
এই হাদীস থেকে ইমাম বুখারী জুমুআর দিন সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করার দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, باب : يلبس أحسن ما يجد |
হাফেজ ইবনু হাজার অসক্বালানী বলেন, এর দ্বারা দলীল গ্রহণের দিকটা হলো এই যে, জুমুআর জন্য সৌন্দর্য অবলম্বনের মূল ভিত্তিটাকে নাবী স্বীকৃতি দিয়েছেন। ৩৮৩ নাবী বলেছেন:
مَا عَلَى أَحَدِكُمْ لَوِ اشْتَرَى ثَوْبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ، سِوَى ثَوْبِ مِهْتَتِهِ
“তোমাদের কেউ যদি জুমুআর দিনের সচরাচর পরিহিত পোশাক ব্যতীত দুইটি পোশাক ক্রয় করত।"৩৮৪ অর্থাৎ কাজের পোশাক।
৫. জুমু'আর দিনে-রাতে নাবী এর উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা সুন্নাত: তিনি বলেছেন: أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ عَلَى يَوْمِ الْجُمُعَةِ ..
"জুমুআর দিন আমার উপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করো।"৩৮৫
৬. ফজরের সলাতে যথাক্রমে সুরা সাজদাহ ও ইনসান (আদ-দাহর) পড়া সুন্নাত: এর উপরেই আল্লাহর রসূল এর নিয়মিত আমল ছিল। ৩৮৬ আর দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করতেন। নাবী বলেছেন:
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سطع لَهُ نور من تحت قدمه إلى عنان السماء يضيء به يوم القيامة، وغفر له مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
"যে ব্যক্তি জুমুআর দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে ঐ ব্যক্তির পায়ের নিচ থেকে ঊর্ধ্ব গগন পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। কিয়ামতের দিন তাকে আলোকিত করবে এবং তার দুই জুমুআর মাঝের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।"৩৮৭
৭. যে ব্যক্তিই মসজিদে প্রবেশ করবে ঐ ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হলো না বসে আগে দুই রাকআত সলাত আদায় করে নেওয়া: কারণ নাবী এ ব্যাপারে আদেশ করেছেন। ৩৮৮ তবে ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকবে তখন সলাত সংক্ষেপ করে নিবে।
৮. বেশি বেশি দুআ করা ও দুআ কবুলের সময় চাওয়া সুন্নাত: নাবী বলেছেন:
إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ لَسَاعَةً، لَا يُوَافِقُهَا مُسْلِمٌ ، قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
"নিশ্চয়ই জুমুআর দিনে এমন একটা সময় রয়েছে, এ সময় যে কোনো মুসলিম বান্দা সলাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন।"৩৮৯

টিকাঃ
৩৭৬. মুত্তাফাকুন বালাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৮৪৯, ফুআ. ৮৫০।
৩৭৭. তিরমিযী, হা. ৪৯৬ এবং তিনি হাসান বলেছেন। এ ছাড়াও মানযুরি হাসান বলেছেন, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৪৭।
৩৭৮. মুত্তাফাকুন বালাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৮৪৯, ফুআ. ৮৫০।
৩৭৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৭৯; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৮৪৬।
৩৮০. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৩।
৩৮১. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৩; দেখুন, ফাতহুল বারী ২/৪৩২।
৩৮২. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৮৬।
৩৮৩. ফাতহুল বারী ২/৪৩৪।
৩৮৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১০৭৮; ইবনু মাজাহ, হা. ১০৯৫; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ৮৯৮।
৩৮৫. সুনান আবু দাউদ, হা, ১০৪৭; নাসাঈ ৩/৯১; ইবনু মাজাহ, হা. ১০৮৫; হাকিম ১/২৭৮; ইমাম যাহাবী মাওকুফ সূত্রে সহীহ বলেছেন; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ৮৮৯।
৩৮৬. সহীহুল বুখারী, হা. ৮৯১।
৩৮৭. হাকিম ২/৩৬৮ এবং তিনি সহীহ বলেছেন। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৩/৯৩৯।
৩৮৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৩০।
৩৮৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৩৫; সহীহ মুসলিম, হা. ৮৫২, ফুআ. ১৮৫৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00