📄 জুমুআর সলাতের সময়
যোহরের সময়টাই মূলত জুমুআর সময়, যা সূর্য ঢলার পর থেকে শুরু করে কোনো বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত থাকে। আনাস বিন মালেক এর হাদীস-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الجُمُعَةَ حِينَ تَمِيلُ الشَّمْسُ
"নাবী জুমুআর সলাত আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ত। "৩৫৪
এই হাদীসটা সেসব সাহাবী থেকে বর্ণিত যাদের নিয়ে তিনি তা করেছেন। ৩৫৫
এরপরও যে ব্যক্তি জুমুআর সময় শেষ হওয়ার আগেই এক রাকআত পাবে, সে পূর্ণ জুমুআর সলাতই পেয়ে যাবে, অন্যথায় সে যোহরের সলাত পড়বে। নাবী বলেছেন:
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاةَ “যে ব্যক্তি এক রাকআত সলাত পেল সে যেন পূর্ণ সলাতই পেল।”৩৫৬
এর আলোচনা গত হয়েছে।
টিকাঃ
৩৫৪. সহীহুল বুখারী, হা. ৯০৪।
৩৫৫. দেখুন, ফাতহুল বারী ২/৪৫০।
৩৫৬. সহীহুল বুখারী, হা. ৫৮০।
📄 খুতবা
খুতবা জুমুআর একটি রুকন। এটা ছাড়া জুমুআহ বিশুদ্ধ হবে না। কারণ নাবী এর উপরই অব্যাহত ছিলেন, কখনোই পরিত্যাগ করেননি। জুমুআর খুতবা দুইটি। জুমুআর সলাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য এই দুইটি খুতবাই সলাতের আগে দেওয়া শর্ত।
📄 খুতবার সুন্নাতসমূহ
দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে মুসলিমদের জন্য দুআ করা সুন্নাত। পাশাপাশি শাসকদের জন্য কল্যাণ ও তাওফীক কামনা করা। কারণ নাবী জুমুআর দিনে যখন খুতবা দিতেন তখন দুআ করতেন, আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং মানুষেরা 'আমীন' বলত।
সলাতসহ উভয় খুতবা একজনে দেওয়াই সুন্নাত। খুতবায় সাধ্যানুযায়ী কন্ঠস্বর উঁচু করা ও দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴾وَتَرَكُوكَ قَائِمًا "তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে চলে।" [সূরা জুমুআহঃ ১১]
জাবির বিন সামুরাহ বলেন, كَانَ رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَخْطُبُ قَائِمًا ، ثُمَّ يَجْلِسُ ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ قَائِمًا، فَمَنْ نَبَّأَكَ أَنَّهُ كَانَ يَخْطُبُ جَالِسًا فَقَدْ كَذَبَ "নাবী দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। অতঃপর বসে আবার দাঁড়াতেন এবং খুতবা দিতেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তোমাকে এ মর্মে সংবাদ দিবে যে, নাবী বসে খুতবা দিতেন, তাহলে সে মিথ্যা বলবে।"৩৫৭
খুতবাটা মিম্বার বা কোনো উঁচু স্থানে দেওয়া। কারণ নাবী মিম্বারে খুতবা দিতেন। অর্থাৎ এটা একটা উঁচু জায়গা। কারণ উঁচু স্থান থেকে ঘোষণা বা বক্তব্য দেওয়া অধিক উপযোগী। দুই খুতবার মাঝে একটু বসা সুন্নাত। ইবনু উমার বলেন,
(كَانَ النبي - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ وهو قائم يفصل بينهما بجلوس)
"নাবী দুইটি খুতবাই দাঁড়িয়ে দিতেন, মাঝে একটু বসে দুই খুতবাকে পৃথক করতেন।”৩৫৮
খুতবা দুইটি সংক্ষেপ করা সুন্নাত। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় খুতবাটি প্রথমটির চেয়ে সংক্ষেপ করতে হবে। এ ব্যাপারে মারফু' সূত্রে আম্মারের একটি হাদীস;
إِنَّ طُولَ صَلَاةِ الرَّجُلِ ، وَقِصَرَ خُطْبَتِهِ ، مَئِنَّةٌ مِنْ فِقْهِهِ، فَأَطِيلُوا الصَّلَاةَ، وَاقْصُرُوا الْخُطْبَةَ
"কোনো ব্যক্তির সালতের দীর্ঘতা এবং তার খুতবার সংক্ষিপ্ততাই তার পান্ডিত্যের নিদর্শন। সুতরাং সলাত দীর্ঘ করো এবং খুতবা সংক্ষেপ করো।"৩৫৯
খতীব সাহেব যখন মুক্তাদির সামনে আসবে তখনই সালাম দিবেন। জাবির বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ سَلَّمَ)
"আল্লাহর রসূল যখন মিম্বারে উঠতেন তখন সালাম দিতেন।”৩৬০
মুয়াযযিনের আযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিম্বারে বসে থাকা সুন্নাত। ইবনু উমার বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ إِذَا صَعِدَ الْمُنْبَرَ حَتَّى يَفْرَغَ الْمُؤَذِّنُ ثُمَّ يَقُومُ، فَيَخْطُبُ
"নাবী মিম্বারে উঠে বসে থাকতেন যতক্ষণ না মুয়াযযিনের আযান শেষ হতো। এরপর দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করতেন।"৩৬১
খতীব সাহেব লাঠি বা এ জাতীয় কিছুর উপর ভর করে খুতবা দিবেন। খতীবের জন্য মুসল্লিদের সামনা সামনি হয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নাহ, নাবী এমনটিই করতেন।
টিকাঃ
৩৫৭. সহীহ মুসলিম, হা. ১৮৮১, ফুআ. ৮৬২।
৩৫৮. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৯২৮; সহীহ মুসলিম, হা. ১৮৮১, ফুআ. ৮৬১।
৩৫৯. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ৬৮৯।
৩৬০. সুনানুল কুবরা, হা. ৫৭৪১।
৩৬১. সুনান আবু দাউদ, হা. ১০৯২।
📄 জুমুআর দিনে নিষিদ্ধ কার্যাবলী
ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় পরস্পর কথা বলা নিষেধ। নাবী বলেছেন:
مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ، فَهُوَ كَالْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا.
"জুমুআর দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় যে ব্যক্তি কথা বলবে সে বোঝা বহনকারী গাধার ন্যায়।”৩৬২
নাবী আরও বলেন:
إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
“ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তুমি যদি তোমার সাথীকে বল, 'চুপ করো' তাহলে তুমিও অনর্থক কাজ করলে। "৩৬৩
অর্থাৎ অনর্থক কথা বললে। অনর্থক কথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত কথাবার্তা। খুতবার সময় মানুষের ঘাড় টপকিয়ে সামনে যাওয়া নিষেধ। কারণ নাবী এক ব্যক্তিকে মানুষের ঘাড় টপকিয়ে সামনে অগ্রসর হতে দেখে বললেন, اجْلِسْ فَقَدْ آذيت "বসো, তুমি লোকদের কষ্ট দিয়েছ।”৩৬৪
এর কারণে মুসল্লিদের কষ্ট হয় আর তাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। যদি কোনো উপায় না থাকে তবে ইমাম তার স্থানে পৌঁছতে মানুষের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে গেলে কোনো অসুবিধা নেই। আর দুজনের মাঝে ফাঁক করাও মাকরূহ বা অপছন্দনীয়। নাবী বলেছেন,
مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ .. ثُمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ، فَصَلَّى مَا كُتِبَ لَهُ ... غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى
“যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করবে... অতঃপর দুজনের মাঝে ফাঁক না করে (মসজিদের দিকে) বের হবে, অতঃপর তার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ সলাত আদায় করবে... তাহলে তার এবং পরবর্তী জুমুআর মাঝের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”৩৬৫
টিকাঃ
৩৬২. আহমাদ ১/২৩০; ইবনু হাজার তার বুলুগুল মারামে বলেন: সানাদে সমস্যা নেই। সুবুলুস সালামা ২/১০১-১০২, হা. ৪২১।
৩৬৩. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৩৯৪; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ৮৫১।
৩৬৪. সুনান আবু দাউদ, হা. ১১১৮; নাসাঈ ৩/১০৩ হাকিম ১/২৮৮ ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ৯১৬।
৩৬৫. সহীহুল বুখারী, হা. ৯১০।