📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 এর হুকুম ও দলীল

📄 এর হুকুম ও দলীল


জুমুআহ পুরুষের উপর ফরযে আইন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের জুমু'আর দিনে সলাতের জন্য আহ্বান করা হবে তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দাও।” [সূরা জুমুআহঃ ৯]
رَوَاحُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِم : "জুমু'আর জন্য মধ্যাহ্নের পর যাত্রা করা প্রত্যেক সাবালক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।”৩৫০
নাবী আরও বলেছেন: لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ “লোকেরা যেন অবশ্যই জুমু'আর সলাত পরিত্যাগ করা থেকে বিরত থাকে; নতুবা অবশ্যই আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন। অতঃপর তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।"৩৫১
ইমাম নাববী বলেছেন, “এই হাদীসের আলোকে জুমুআহ ফরযে আইন।"৩৫২
একটু পরে যে হাদীস আসবে তাতে রয়েছে, জুমুআহ হলো যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ওয়াজিব....।

টিকাঃ
৩৫০. সুনান নাসায়ী, হা. ১৩৭১; আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে' হা. ৩৫২১।
৩৫১. সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ৮৬৫।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কাদের উপর ওয়াজিব?

📄 কাদের উপর ওয়াজিব?


জুমুআহর সলাত প্রত্যেক মুসলিম, পুরুষ, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, জুমু'আয় আসতে সক্ষম ও মুকীম ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। সুতরাং দাস, মহিলা, শিশু, পাগল, অসুস্থ অথবা মুসাফিরের জন্য ওয়াজিব নয়। নাবী বলেছেন:
الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلَّا أَرْبَعَةٌ : عَبْدٌ مَمْلُوكٌ، أَوِ امْرَأَةٌ، أَوْ صَبِيٌّ، أَوْ مَرِيضٌ.
"জামাআতের সাথে জুমুআহ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ও ওয়াজিব। তবে চার শ্রেণির ব্যক্তি ছাড়া; দাস, মহিলা, শিশু ও অসুস্থ।”৩৫৩
মুসাফিরের জন্যও জুমুআহ ওয়াজিব নয়। কেননা নাবী সফরে জুমুআর সলাত পড়েননি। একবার হাজ্জের সময় আরাফার দিন জুমুআর সাথে মিলে গেল। এরপরও তিনি যোহর সলাত পড়ে এর সাথে আসরের সলাত জমা করেছিলেন। তবে যদি মুসাফির এমন এক শহরে এসে উপস্থিত হয় যেখানে জুমু'আহর সলাত হচ্ছে, তাহলে সেখানে মুসলিমদের সাথে জুমু'আহ পড়বে। আর দাস-দাসী, মহিলা, শিশু, অসুস্থ অথবা মুসাফির যদি জুমুআর সলাতে উপস্থিত হয়, তাহলে তা বিশুদ্ধ বলে গণ্য হবে এবং এ ক্ষেত্রে সে যোহরের সলাত পড়া থেকে বিরত থাকবে।

টিকাঃ
৩৫২. শারছন নাববী ৬/১৫২।
৩৫৩. আবু দাউদ, হা. ১০৬৭; আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৫৯২।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জুমুআর সলাতের সময়

📄 জুমুআর সলাতের সময়


যোহরের সময়টাই মূলত জুমুআর সময়, যা সূর্য ঢলার পর থেকে শুরু করে কোনো বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত থাকে। আনাস বিন মালেক এর হাদীস-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الجُمُعَةَ حِينَ تَمِيلُ الشَّمْسُ
"নাবী জুমুআর সলাত আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ত। "৩৫৪
এই হাদীসটা সেসব সাহাবী থেকে বর্ণিত যাদের নিয়ে তিনি তা করেছেন। ৩৫৫
এরপরও যে ব্যক্তি জুমুআর সময় শেষ হওয়ার আগেই এক রাকআত পাবে, সে পূর্ণ জুমুআর সলাতই পেয়ে যাবে, অন্যথায় সে যোহরের সলাত পড়বে। নাবী বলেছেন:
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاةَ “যে ব্যক্তি এক রাকআত সলাত পেল সে যেন পূর্ণ সলাতই পেল।”৩৫৬
এর আলোচনা গত হয়েছে।

টিকাঃ
৩৫৪. সহীহুল বুখারী, হা. ৯০৪।
৩৫৫. দেখুন, ফাতহুল বারী ২/৪৫০।
৩৫৬. সহীহুল বুখারী, হা. ৫৮০।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 খুতবা

📄 খুতবা


খুতবা জুমুআর একটি রুকন। এটা ছাড়া জুমুআহ বিশুদ্ধ হবে না। কারণ নাবী এর উপরই অব্যাহত ছিলেন, কখনোই পরিত্যাগ করেননি। জুমুআর খুতবা দুইটি। জুমুআর সলাত বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য এই দুইটি খুতবাই সলাতের আগে দেওয়া শর্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00