📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 দুই সলাতের মাঝে জমা করা শরীয়ত সম্মত এবং তা বৈধ

📄 দুই সলাতের মাঝে জমা করা শরীয়ত সম্মত এবং তা বৈধ


যে সফরে সলাত কসর করা যায় সে সফরে যোহর-আসর ও মাগরিব-ইশার মাঝে উভয়ের যে কোনো একটি সময়ে সলাত জমা করা বৈধ। মুয়ায এর হাদীস-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ زَيْعِ الشَّمْسِ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَجْمَعَهَا إِلَى العَصْرِ يُصَلِّيَهُمَا جَمِيعًا، وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ زَيْغِ الشَّمْسِ صَلَّى الظُّهْرَ وَالعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ سَارَ، وَكَانَ يَفْعَل مِثْلَ ذَلِكَ في المغرب والعشاء»
"নাবী তাবুকের যুদ্ধে সূর্য ঢলার পূর্বে সফর করার সময় যোহরের সলাতকে পিছিয়ে আসরের সঙ্গে মিলিয়ে যোহর-আসর এক সাথে আদায় করতেন। আবার সূর্য ঢলার পরে সফরে বের হলে যোহর-আসর এক সাথে আদায় করে তারপর সফরের উদ্দেশ্যে বের হতেন। তিনি মাগরিব-ইশার সলাতেও এরূপ করতেন। "৩৪৬
এক্ষেত্রে সফরকারী চলমান হোক কিংবা বিরতিতে থাকুক, একই বিধান। কারণ এটা সফরের একটা বিশেষ ছাড়। সুতরাং অন্যান্য ছাড়ের ন্যায় এখানে চলমান থাকা বা না থাকার বিষয়টি ধর্তব্য নয়। তবে সফর বিরতিতে থাকাকালীন জমা না করাই উত্তম। কারণ নাবী বিরতিকালীন অবস্থায়ও মিনাতে গিয়ে জমা করেননি।
এমন অসুস্থ-মুকীম ব্যক্তির জন্য সলাত জমা করা বৈধ, যার জমা করলে কষ্ট লাঘব হয়। ইবনু আব্বাস বলেন,
جَمَعَ رَسُولُ اللَّهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ ، وَالْمُغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ، وَلَا مَطَرٍ "আল্লাহর রসূল মদীনাতে বৃষ্টি ও ভয়ের কারণ ছাড়াই যোহর-আসর ও মাগরিব-ইশার সলাত জমা করেছেন। "৩৪৭
অন্য বর্ণনায় : فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا مَطَرِ "না ভয়ের কারণে, না সফরের। ৩৪৮
এখানে অসুস্থতার কারণটাই শুধু অবশিষ্ট থাকল। এ ব্যাপারে নাবী মুস্তাহাযাহ (ইস্তেহাযাগ্রস্থ) মহিলাকে দুই সলাতের মাঝে জমা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর ইস্তিহাযাহ এক প্রকার রোগ। পূর্বোল্লিখিত হাদীসে ইবনু আব্বাস কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তিনি এটা কেন করেছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, যাতে তিনি তাঁর উম্মতকে কষ্টে না ফেলে দেন। মানুষ যখনই কোনো কষ্টে পতিত হবে আর সেই সময় জমা না করার দরুন কষ্ট আরও বেড়ে যাওয়ার অশঙ্কা থাকলে, ঐ ব্যক্তির জন্য জমা করা জায়েয। হোক সে অসুস্থ অথবা অসুস্থতাহীন মা'যূর (ওজরপ্রাপ্ত)। হোক সে মুকীম অথবা মুসাফির। তবে সফর ও অসুস্থতার কারণ ছাড়াও এমন কিছু ওযর আছে যার জন্য সলাত জমা করা বৈধ আছে:
১. প্রবল বৃষ্টি: যার কারণে কাপড় ভিজে যায় এবং এর কারণে মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ব্যক্তি কষ্টে পতিত হয়।
২. কাঁদামাটি: যার কারণে মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে যায়।
৩. প্রাকৃতিকভাবে প্রচন্ড ঠাণ্ডা বাতাস। এ ছাড়া আরও কিছু ওযর রয়েছে, যার জন্য সলাত জমা না করলে মুকাল্লাফ ব্যক্তির কষ্ট হতে পারে।

টিকাঃ
৩৪৬. সুনান আবু দাউদ, হা. ১২০৮; তিরমিযী, হা. ৫৫৩ এবং তিনি হাসান গরীব বলেছেন। আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৫৭৮। অর্থগত বর্ণনা।
৩৪৭. সুনান আবু দাউদ, হা. ১২১১।
৩৪৮. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫১৮, ফুআ. ৭০৫।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 শরীয়তসিদ্ধ জমাকৃত সলাতের পরিসীমা

📄 শরীয়তসিদ্ধ জমাকৃত সলাতের পরিসীমা


যেসব সলাতে জমা করা শরীয়ত সম্মত; সেগুলো হলো, মুসাফির এবং যারা এর আওতাভুক্ত তাদের সকলেই যোহর-আসর ও মাগরিব-ইশা এই চার ওয়াক্তেই কেবল সলাত জমা করতে পারবে। অনুরূপভাবে বৃষ্টি এবং এ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত যা আছে সেগুলোর কারণেও মুকীম অবস্থায় যোহর-আসর একত্রে ও মাগরিব-ইশা একত্রে; এই চার ওয়াক্তে জমা করা যাবে। ৩৪৯
একটু আগেই ইবনু আব্বাস এর হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে। আবু বকর, উমার ও উসমান এটা করতেন। কারণ কষ্ট হওয়ার কারণেই দুই ইশা ও দুই যোহরের মাঝে জমা যায়।

টিকাঃ
৩৪৯. দুই ইশা বলতে মাগরিব ও ইশা এবং দুই যুহর বলতে যুহর ও আসর। আধিক্যতার দিকে লক্ষ্য করে একে অপরের নামকরণ হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00