📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কসরের হুকুম

📄 কসরের হুকুম


মুসাফিরের জন্য চার রাকা'আত বিশিষ্ট সলাতে কসর করা শরীয়ত সম্মত। এ ব্যাপারে বিদ্বানদের মাঝে কোনো মতোবিরোধ নেই। কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে এর দলীল প্রমাণিত। কুরআনের বাণী:
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا "যখন তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো তখন তোমরা সলাত কসর করলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই: যদি তোমরা এ আশঙ্কা করো যে, কাফেররা তোমাদের ফেতনায় ফেলবে।"[সূরা নিসা : ১০১]
ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং অন্য কোনো কারণে সফরে সলাত কসর করা জায়েয। মানুষ যখন নিরাপত্তা লাভ করল তখন রসূল কে কসর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ، فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ
“এটা একটা সাদকা যা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দান করেছেন। সুতরাং তাঁর দেওয়া সাদাক্বা গ্রহণ করো। "৩৩৭
নাবী এবং খুলাফায়ে রাশেদা এর উপরেই বিদ্যমান ছিলেন। ইবনু উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, .. إِنِّي صَحِبْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّفَرِ، فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ، وَصَحِبْتُ أَبًا بَكْرٍ، فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللهُ ...
"আমি সফরে আল্লাহর রসূল এর সাথে ছিলাম, তিনি মৃত্যু অবধি সফর অবস্থায় দুই রাকা'আতের বেশি সলাত আদায় করেননি। আমি আবু বকর এর সাথেও থেকেছি, তিনিও মৃত্যু অবধি সফর অবস্থায় দুই রাকা'আতের বেশি সলাত পড়েননি।” অতঃপর উমার ও উসমান এর নাম উল্লেখ করলেন। আহমাদ ইবনু উমার থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেছেন, إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى رُخَصُهُ، كَمَا يَكْرَهُ أَنْ تُؤْتَى مَعْصِيَتُهُ
"আল্লাহ তা'আলা তাঁর অবকাশ দেওয়া কাজগুলো কার্যকর হওয়া পছন্দ করেন। যেমন তিনি তাঁর অবাধ্যতাকে অপছন্দ করেন। ৩৩৯
ইজমার দলীল: জরুরি প্রয়োজনে সলাত কসর করা এটা দ্বীনের অবশ্য জ্ঞাতব্য বিষয়ের অন্যতম। এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা রয়েছে। উপরন্তু, এই সুন্নাত পরিত্যাগ করার চেয়ে সংরক্ষণ করা ও এই ছাড়টা গ্রহণ করাই শ্রেয় ও অতি উত্তম। অবশ্য কিছু বিদ্বান সফরে পূর্ণ সলাত পড়াকে অপছন্দ করেছেন। এটা এ কারণে যে, নাবী ও তাঁর সাহাবীগণ এই সুন্নাতের উপর জোরালোভাবে অব্যাহত ছিলেন। আর এটা ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস ছিল।

টিকাঃ
৩৩৫. সহীহুল বুখারী, হা. ৭২৮৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৩১৪৮, ফুআ, ১৩৩৭।
৩৩৬. সহীহুল বুখারী, হা. ১১১৭।
৩৩৭. সহীহ মুসলিম, হা. ১৪৫৮, ফুআ. ৬৮৬।
৩৩৮. সহীহ মুসলিম, হা. ১৪৬৪, ফুআ, ৬৮৯।
৩৩৯. আহমাদ, হা. ৫৮৬৬; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন, ইরওয়া ৫৬৪।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যেসব সলাতে কসর জায়েয

📄 যেসব সলাতে কসর জায়েয


চার রাকা'আত বিশিষ্ট সলাতেই কেবল কসর বৈধ। যেমন- যোহর, আসর ও ইশার সলাত। সকলের ঐকমত্যে ফজর ও মাগরিবের সলাতে কসর করা যাবে না। নাবী ও তাঁর সাহাবীগণও তাই করেছেন। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস বলেন,
فَرَضَ اللهُ الصَّلَاةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا، وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ، وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً
“আল্লাহ তা'আলা তোমাদের নাবী এর উপর মুকীম অবস্থায় চার রাকা'আত এবং সফর অবস্থায় দুই রাকা'আত ফরয করেছেন। আর ভয়ের সময় এক রাক'আত ফরয করেছেন।” ৩৪০
সুতরাং এই হাদীস প্রমাণ করে যে, চার রাকআত বিশিষ্ট সলাতই উদ্দেশ্য।

টিকাঃ
৩৪০. সহীহ মুসলিম, হা. ১৪৬০, ফুআ. ৬৮৭

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কসর সলাতের জন্য সফরের দূরত্ব ও এর প্রকারভেদ

📄 কসর সলাতের জন্য সফরের দূরত্ব ও এর প্রকারভেদ


সলাত কসর করার জন্য সফরের দূরত্ব হলো প্রায় ষোল ফারসাখ। এটা চার বুরুদের সমপরিমাণ যা প্রায় ৪৮ মাইল। (এ হিসাব মতে) ৮০ কিলো মিটারের কাছাকাছি। এটা হলো, দুইজন দূত একই সময়ে ভারী বোঝা নিয়ে পায়ে হেঁটে দুইদিন সফর করার দূরত্ব পরিমাণ। নাবী একদিন ও এক রাতের ভ্রমণকে সফর বলেছেন। ৩৪১
ইবনু আব্বাস ও ইবনু উমার চার বুরূদ পরিমাণ পথ সফর করলে সলাত কসর করতেন এবং সওম ভঙ্গ করতেন। চার বুদ হলো প্রায় ষোল ফারসাখ।
প্রকারভেদ: কয়েক প্রকারের সফর রয়েছে। ১. আস-সাফারুল মুবাহ বা বৈধ সফর: যেমন- বাণিজ্য ও আনন্দের উদ্দেশ্যে সফর; ২. আস-সাফারুল ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় সফর: যেমন- হাজ্জ ও জিহাদের উদ্দেশ্যে সফর; ৩. আস-সাফারুল মাসনুনুল মুসতাহাব বা অন্যান্য বৈধ সফর: যেমন- পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সফর; ৪. দ্বিতীয়বার হাজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সফর। অধিকাংশ আলেমের মতে, হারাম সফরে কসর করা জায়েয হবে না।

টিকাঃ
৩৪১. لا يَحِلُّ امْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ مَسِيرَةً يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لَيْسَ مَعَهَا حُرْمَةٌ : (যে মহিলা আল্লাহ্ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোনো মাহরাম পুরুষকে সাথে না নিয়ে একদিন ও এক রাতের পথ সফর করা জায়িয নয়। সহীহুল বুখারীর শব্দে, হা. ১০৮৮; সহীহ মুসলিম, হা. ৪২১/১৩৩৯)

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 অবস্থান করার নিয়তে সফর করলে কি কসর করা যাবে?

📄 অবস্থান করার নিয়তে সফর করলে কি কসর করা যাবে?


যে ব্যক্তি অবস্থান করার নিয়তে সফর করবে তার বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। কোনো ব্যক্তি যদি অনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করার নিয়তে সফর করে, তবে কসর করা যাবে না। কেননা এতে উপযুক্ত বৈধ কোনো কারণ নেই। অনুরূপভাবে যদি চার দিনের বেশি থাকার নিয়তে সফর করে বা কোনো প্রয়োজনে অবস্থান করে, আর এই ধারণা করে যে, চার দিনের মধ্যে তার কাজটি শেষ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে (বলা যায়) যে, নাবী মক্কায় অবস্থান কালে একুশ ওয়াক্ত সলাত কসর করেছেন। কারণ তিনি চার তারিখ সকালে এসে ইয়াওমুত তারবিয়া (যুলহিজ্জা মাসের আট তারিখ) পর্যন্ত অবস্থান করেন। অতঃপর ফজর সলাত পড়ে বিদায় নেন। সুতরাং নাবী -এর মতো যে ব্যক্তি চার দিন বা তার কম অবস্থান করবে, সে কসর করবে। এর বেশি থাকলে পূর্ণ সলাত পড়বে। ইমাম আহমাদ এটি উল্লেখ করেছেন। ৩৪২
আনাস বলেছেন, "আমরা মক্কায় দশ দিন অবস্থানকালে দশ দিনই সলাত কসর করেছি।" এর অর্থ আমরা উল্লেখ করেছি। কারণ যদি কোনো প্রয়োজনে অবস্থান করে অথচ তার নিয়ত নেই যে, সে চার দিনের বেশি অবস্থান করবে। সে এটাও জানে না যে, তার কাজ কখন শেষ হবে? অথবা বৃষ্টি বর্ষণ বা যুলুমের সম্মুখীন হয়ে আটকে গেলে সে কসর করবে যদিও কয়েক বছর অবস্থান করে। ইবনুল মুনযির বলেছেন, এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, মুসাফির ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত কসর করতে পারবে যতক্ষণ না সে মুকীম হয়ে অবস্থান করার নিয়ত করবে।

টিকাঃ
৩৪২. দেখুন, আল-মুগনী ২/১৩৪-১৩৫; মাজমুউল ফাতওয়া ইবনু বায-ফাতওয়াস সলাহ ৪৫৮ পৃষ্ঠা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00