📄 ইমামতি ও জামাআত বিষয়ে বিভিন্ন বিধান
ইমামতি ও জামাআত সংশ্লিষ্ট পূর্বের আলোচনার ব্যতিক্রম কতিপয় বিধিবিধানা:
১. জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য ইমামের কাছাকাছি দাঁড়ানো মুস্তাহাব। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা ইমামের ঠিক পিছনে একদম কাছাকাছি দাঁড়াবে। নাবী বলেন:
لِيَلِنِي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ
"তোমাদের মধ্য হতে যারা জ্ঞানী, অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান তারা আমার পিছনে দাঁড়াবে। তারপর দাঁড়াবে তাদের নিকটবর্তী স্তরের লোক। তারপর দাঁড়াবে তাদের নিকটবর্তী স্তরের লোক।"৩২৫
এর হিকমাহ হলো: ইমামের নিকট থেকে তার শিখবে, প্রয়োজন হলে ক্বিরাআতে ইমামকে সাহায্য করা (লোকমা দেওয়া) ও সলাতে কিছু হয়ে গেলে স্বেচ্ছায় তাদের মধ্য হতে একজন তার (ইমামের) প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।
২. প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর প্রতি আগ্রহী হওয়া: প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর প্রতি আগ্রহী হওয়া ও সেই সাথে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকা মুক্তাদির জন্য মুস্তাহাব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রসূল বলেছেন:
تَقَدَّمُوا فَأْتَمُّوا بِي ، وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ، لَا يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ
"তোমরা সামনের কাতারে এসো এবং আমাকে অনুসরণ করো। তাহলে তোমাদের পরবর্তী লোকেরা তোমাদের অনুসরণ করবে। কোনো সম্প্রদায় প্রথম কাতার থেকে পিছনে সরে আসতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে পশ্চাদ্বর্তী করে দেবেন।"৩২৬
তিনি আরও বলেছেন: لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النَّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَأَسْتَهَمُوا "আযান দেওয়া এবং প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মাঝে কি পরিমাণ নেকি আছে এটা যদি মানুষ জানতে পারতো, তাহলে তা অর্জনের জন্য লটারি করে হলেও তা করত।"৩২৭
অপরদিকে মহিলারা সব সময় পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মুস্তাহাব। এ প্রসঙ্গে নাবী বলেছেন: خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا ، وَشَرُّهَا آخِرُهَا ، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا، وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا.
"পুরুষদের সর্বোত্তম কাতার হলো প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হলো শেষ কাতার। আর মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হলো শেষ কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হলো প্রথম কাতার।"৩২৮
৩. পরস্পর মিলে কাতার সোজা করা, ফাঁক বন্ধ করা এবং ধারাবাহিকভাবে প্রথম কাতার থেকে পূর্ণ করা: সলাত শুরু করার আগে ফাঁক বন্ধ করা ও কাতার সোজা করার নির্দেশ দেওয়া ইমামের জন্য মুস্তাহাব। এটা নাবী করেছেন। তিনি বলতেন: سَرُّوا صُفُوفَكُمْ، فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفٌ، مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ . "তোমরা কাতার সোজা করো। নিশ্চয়ই কাতার সোজা করা সলাতের পরিপূর্ণতা।"৩২৯
আনাস বলেন, সলাতের ইকামত দেওয়া হলে আল্লাহর রসূল আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ، وَتَرَاصُّوا، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي.
"তোমাদের কাতার সোজা করো এবং পরস্পর মিলে দাঁড়াও। কারণ আমি আমার পিছনে থেকে তোমাদের দেখতে পাই।"৩৩০
আনাস রা. আরও বলেন,
كَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ، وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ.
"আমাদের প্রত্যেকেই পরস্পরে কাঁধে কাঁধ ও পায়ে পা মিলিয়ে দাঁড়াতেন।"৩৩১
প্রথম কাতার পূর্ণ করে তার পরের কাতারগুলো পূর্ণ করা মুস্তাহাব। যদি অপূর্ণ থাকে তাহলে যেন কাতারের শেষে থাকে। এ বিষয়ে নাবী ﷺ বলেছেন:
أَلَا تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا ؟ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ الله، وَكَيْفَ تَصُفُّفُ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا؟ قَالَ: يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الْأَوَلَ وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفُ
"তোমরা কি সেভাবেই কাতার বন্দি হবে না, যেভাবে ফিরিশতামণ্ডলী তাদের রবের নিকট কাতার বন্দি হন? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল ﷺ! ফিরিশতারা কীভাবে তাঁদের রবের নিকট কাতার বন্দি হন? উত্তরে বললেন: তাঁরা প্রথম থেকে কাতার সোজা করেন এবং পরস্পরে মিলে মিলে দাঁড়ান।"৩৩২
৪. কাতারের পিছনে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির সলাত: কাতারের পিছনে কোনো ব্যক্তি নিঃসঙ্গ সলাت আদায় করলে তা বিশুদ্ধ হবে না। এ ব্যাপারে নাবী ﷺ বলেছেন:
لَا صَلَاةَ لمنفرد خَلْفَ الصَّفَّ
"পিছনের কাতারে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির সলাত হয় না।"৩৩৩
رَأَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي وَحْدَهُ خَلْفَ الصَّفُ فَأَمَرَهُ أَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ.
"আল্লাহর রসূল ﷺ এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে কাতারের পিছনে একাকী সলাত আদায় করছে। তখন তিনি তাকে পুনরায় সলাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন।”৩৩৪
টিকাঃ
৩২৫ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩২।
৩২৬ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৮, ফুআ. ৪৩৮।
৩২৭ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৭, ফুআ. ৪৩৭।
৩২৮ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৪০, ফুআ, ৪৪০।
৩২৯ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৩, ফুআ. ৪৩৩।
৩৩০ সহীহুল বুখারী, হা. ৭১৯।
৩৩১ সহীহুল বুখারী, হা. ৭২৫।
৩৩২ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৩৪, ফুআ. ৪৩০।
৩৩৩ আহমাদ ৪/২৩; ইবনু মাজাহ, হা. ১০০৩; ইমাম আহমাদ হাসান বলেছেন। ইমাম বুসীরী সহীহ বলেছেন যাওয়ায়েদ ইবনু মাজাহতে এবং ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহ ইবনু মাজাহ, হা. ৮২২।
৩৩৪ আহমাদ ৪/২২৮; সুনান আবু দাউদ, হা. ৬৮২; তিরমিযী, হা. ২৩০; ইবনু মাজাহ, হা. ১০০৪; ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন। আহমাদ শাকের সহীহ বলেছেন, হাওয়াশিউত তিরমিযী ১/৪৪৮-৪৫০; ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহত তিরমিযী ১৯১।