📄 কীসের দ্বারা জামাআত পাওয়া যাবে?
ইমামের সাথে এক রাকআত পেলে জামাআত পাওয়া যাবে। আল্লাহর রসূল বলেন:
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ
“যে ব্যক্তি সলাতের এক রাকআত পেল, সে সলাতই পেল।”
তবে রুকুর মাধ্যমে রাকআত পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা এর হাদীসে এসেছে:
إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا، وَلَا تَعُدُّوهَا شَيْئًا، وَمَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ.
"যদি তোমরা আমাদের সাজদা অবস্থায় সলাতে আসো, তাহলে তোমরা সাজদা করো। আর এটাকে কিছুই মনে করবে না। যে ব্যক্তি রুকু পেল, সে সলাত পেয়ে গেল।”৩০০
টিকাঃ
৩০০ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৮০।
📄 জামাআত ত্যাগের জন্য কার ওযর ধর্তব্য হবে?
নিম্নোক্ত অবস্থাগুলো জামাআত পরিত্যাগের জন্য ওযর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে:
১. এমন অসুস্থ ব্যক্তি যে, যদি সে জামাআতে যায় তাহলে তার কষ্ট হবে। আল্লাহ তা'আলা কবলেন:
لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ
“অন্ধের কোনো দোষ নেই, খোঁড়ার কোনো দোষ নেই, রোগীর কোনো দোষ নেই।"[সুরা ফাতহ : ১৭)
আল্লাহর রসূল যখন অসুস্থ হলেন তখন মসজিদে যাওয়া হতে বিরত থেকে বললেন:
مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلُّ بِالنَّاسِ
"আবু বকরকে লোকদের ইমামতি করতে বলো।” ৩০১
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন,
لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عنها مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ، أَوْ مَرِيضٌ.
"আমরা নিজেদেরকে দেখেছি যে, সর্বজনবিদিত মুনাফিক এবং অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত কেউই সলাতের জামাআত পরিত্যাগ করে না।"৩০২
অনুরূপভাবে মসজিদে গেলে যার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে তার ওজরও গ্রহণযোগ্য হবে।
২. পায়খানা ও প্রস্রাবের বেগ আসা অথবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার উপস্থিত হওয়া। আয়িশাহ মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন,
لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ، وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ.
"খাবার হাজির হলে কোনো সলাত নেই। এবং পায়খানা-প্রস্রাবের বেগ নিয়ে সলাত হবে না।"৩০৩
৩. যে নিখোঁজ হওয়ার আশংকা করে অথবা সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় করে অথবা ক্ষতির আশংকা করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। রসূল বলেছেন:
مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ اتَّبَاعِهِ، عُذْرٌ ، قَالُوا: وَمَا الْعُذْرُ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ: خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ، لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّى
“যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনল এবং কোনো ওযর তাকে সাড়া দিতে বাধা দিলো না- তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল ওজর কী? তিনি বললেন: ভয়-ভীতি অথবা অসুস্থতা।- তার অন্যত্র সলাত আল্লাহ কবুল করবেন না। "৩০৪
অনুরূপ সকল প্রকার ভয় হোক সেটা নিজের উপর অথবা সম্পদের উপর অথবা পরিবারের উপর অথবা সন্তানের উপর। ভয়ের কারণে জামাআত ছেড়ে দেওয়ার ওজর গ্রহণ যোগ্য হবে। কারণ ভয়টাই ওজর।
৪. তুষার, বরফ, কাদা, বৃষ্টি অথবা অন্ধকার রাতে খুব ঠাণ্ডা বাতাসে জামাআতে যেতে কষ্ট হলে। ইবনু উমার বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ المُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ ذَاتُ مَطَرٍ، يَقُولُ : أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ
"আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শীত বা বর্ষণমুখর রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে, শোন! তোমরা নিজ নিজ গৃহে সলাত আদায় করো।”৩০৫
৫. ইমামের লম্বা ক্বিরাআতে কষ্ট হলে। এক ব্যক্তি মুয়াজ বিন জাবালের সাথে সলাত পড়তো। যখন মুয়াজ ক্বিরাআত লম্বা করল তখন সে জামাআত ছেড়ে দিয়ে একাকি সলাত পড়ে নিল। অতঃপর আল্লাহর রসূল কে এই সংবাদ দেওয়া হলে তিনি তাকে তিরষ্কার করেননি। ৩০৬
৬. সফর সঙ্গি ছুটে যাওয়ার ভয়। এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তি সলাতের অপেক্ষা করার সময় তার মন সফর সঙ্গি ছুটে যাওয়ার ভয়ে ব্যস্ত থাকে।
৭. নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু নিকটবর্তী হলে। যেমন কারো নিকট আত্মীয় মৃত্যু সজ্জায় রয়েছে। আর সে ব্যক্তি মৃত্যু নিকটবর্তী ব্যক্তি নিকট থেকে তাকে শাহাদাতের তালক্বীন দিতে চায়। এমন ওজর জামাআত পরিত্যাগের জন্য গ্রহণ যোগ্য হবে।
৮. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির পিছনে ঋণদাতা লেগে থাকে এবং ঋণ পরিশোধ করার কিছু না থাকে, ঋণদাতা তার পিছনে লেগে থাকার কারণে সে কষ্ট পায়, এমতাবস্থায় জামাআত পরিত্যাগ করতে পারে।
টিকাঃ
৩০১ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩২, সহীহ মুসলিম, হা. ১৪৮৬, ফুআ. ৬৯৭।
৩০২ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩২।
৩০৩ সহীহ মুসলিম, হা. ১১৩৩, ফুআ. ৫৬০।
৩০৪ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৫১; অর্থগত বর্ণনা।
৩০৫ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩২, সহীহ মুসলিম, হা. ৬৯৭।
৩০৬ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৬৫।
📄 একই মাসজিদে একাধিক জামাআত করা
যদি মাসজিদের নিয়মিত ইমামের জামাআতে উপস্থিত হতে বিলম্ব হওয়ার দরুন কারো কারো সলাত ছুটে যায় তাহলে তারা ঐ মসজিদে দ্বিতীয় জামাআত করে সলাত আদায় করবে। এটাই সঠিক মাসআলা। আল্লাহর রসূল বলেছেন: صَلَاةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلَاتِهِ وَحْدَهُ
"নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির সাথে সলাত আদায় (জামাআতে) একাকী সলাত আদায়ের চেয়ে উত্তম। ৩০৭
অপর হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি জামাআত শেষ হওয়ার পর মাসজিদে আসলে আল্লাহর রসূল বলেন:
من يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّي مَعَهُ ؟ فَقَامَ أحد القوم، فَصَلَّى مَعَ الرجل.
"তোমাদের মধ্যে কে এই ব্যক্তির সাথে সলাত আদায় করে সাদকা করতে চায়? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং তার সাথে সলাত আদায় করল। "৩০৮
এমনিভাবে মসজিদ যদি রাস্তা অথবা বাজারের পাশে হয়, তাহলে সেখানে একাধিক জামাআত করাতে কোনো সমস্যা নেই। বিশেষ করে, যদি মসজিদের নিয়মিত ইমাম না থাকে আর বাজারের মানুষ ও পথচারীরা সেখান দিয়ে বারংবার যাতায়াত করে।
তবে যদি কোনো মসজিদে দু বা ততোধিক জামাআত নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয় আর মানুষ এটাকে অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তা বৈধ নয়। কেননা নাবী এবং তাঁর সাহাবীদের আমলে এমন কিছু হয়েছে বলে জানা যায়নি।
নিয়মিত ইমামের সাথে জামাআতে উপস্থিত হওয়াতে অবহেলা এবং অলসতার কারণে মুসলিমদের কালিমা এবং দাওয়াতে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো এটা প্রথম ওয়াক্ত থেকে সলাত বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
টিকাঃ
৩০৭ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৫৪।
৩০৮ তিরমিযী, হা. ২২০।
📄 ফরয সলাতের ইকামত দেওয়া হলে অন্য সলাত আদায়ের বিধান
যদি মুয়াজ্জিন ফরয সলাতের ইকামত দেওয়া শুরু করে, তাহলে কারো জন্য নফল সলাত শুরু করা বৈধ নয়। যদি সে এমতাবস্থায় নফল সলাত শুরু করে তাহলে সে ফরয ছেড়ে নফল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ
"সলাতের ইকামাত দেওয়া হলে ফরয সলাত ছাড়া অন্য কোনো সলাত নেই।”৩০৯
মুয়াজ্জিন ইকামত দেওয়া অবস্থায় এক ব্যক্তিকে আল্লাহর রসূল ফজরের সলাত পড়তে দেখলেন। অতঃপর বললেন: أَنْصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا ؟
“তুমি কি ফজরের (ফরয) সলাত চার রাকআত পড়বে?” ৩১০
তবে নফল সলাত শুরু করার পর যদি মুয়াজ্জিন ইকামত দেওয়া শুরু করে তাহলে তাকবীরে তাহরীমার ফযীলত লাভের জন্য হালকাভাবে সলাত শেষ করে দিবে। এই দ্রুত সলাত পড়াটা হবে ফরয সলাত ধরার জন্য।
কিছু কিছু আলেমের মতে, যদি প্রথম রাকআতে থাকা অবস্থায় ইকামত দেয় তাহলে সলাত ছেড়ে দিবে। আর যদি দ্বিতীয় রাকআতে থাকে, তাহলে সালাত হালকাভাবে শেষ করে জামাআতে অংশগ্রহণ করবে।
টিকাঃ
৩০৯ সহীহ মুসলিম, হা. ১৫২৯, ফুআ, ৭১০।
৩১০ সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৩৫, ফুআ. ৭১১।