📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কোনো ব্যক্তি ফরয সলাত আদায়ের পর মসজিদে প্রবেশ করলে আদায়কৃত সলাত পুনরায় জামাআতের সাথে আদায় করা কি তার উপর আবশ্যক?

📄 কোনো ব্যক্তি ফরয সলাত আদায়ের পর মসজিদে প্রবেশ করলে আদায়কৃত সলাত পুনরায় জামাআতের সাথে আদায় করা কি তার উপর আবশ্যক?


না, আদায়কৃত সলাত পুনরায় জামাআতের সাথে আদায় করা তার জন্য ওয়াজিব নয়। এটা তার জন্য সুন্নাত। এমতাবস্থায় প্রথম সলাত ফরয আর দ্বিতীয়টি সুন্নাত হলে বিবেচিত হবে। আবু যার এর হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রসূল বলেছেন:
كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا ، أَوْ يُمِيتُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا؟ قَالَ : قُلْتُ : فَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا ، فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّ، فَإِنَّهَا لَكَ نَافِلَةٌ “তোমার অবস্থা তখন কেমন হবে যখন তোমার ওপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে, যে সলাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করবে অথবা সলাতকে তার নির্ধারিত সময়ে নষ্ট করবে? তিনি বলেন, আমি বললাম, আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন: তুমি সলাতকে তার নির্ধারিত সময়ে আদায় করবে। অতঃপর যদি তাদের সাথেও সলাত পাও তাহলে তাদের সাথেও সলাত আদায় করবে। সেটা তোমার জন্য নফল হয়ে যাবে।”২৯৭
অপর এক হাদীসে আল্লাহর রসূল এক ব্যক্তিকে জামাআত শেষ হওয়ার পর মাসজিদে একাকী সলাত পড়তে দেখে বললেন:
أَلَا رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ
“তোমাদের মাঝে এমন কেউ কি আছে যে এই ব্যক্তিকে সাদকা করতে পারে তার সাথে সলাত আদায় করে।”২৯৮
যদি পুনরায় জামাআতে সলাত পড়া ওয়াজিব হতো, তাহলে তিনি বলতেন, “তোমাদের মাঝে কে আছে যে এই ব্যক্তির সাথে জামাআতে সলাত আদায় করতে পারে?”
অপর হাদীসে আল্লাহর রসূল বলেন:
مَنْ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ؟ فَقَامَ أَحَدُ القَوْمِ، فَصَلَّى مَعَ الرَّجُلِ
“তোমাদের মধ্যে কে এই ব্যক্তির সাথে সলাত আদায় করে সাদকা করতে চায়? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল এবং তার সাথে সলাত আদায় করল।”২৯৯

টিকাঃ
২৯৪ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৫১, ইবনু মাজাহ, হা. ৭৯৩।
২৯৫ সহীহ মুসলিম, হা. ৬৫৪।
২৯৬ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৬৭; আহমাদ ২/৬৭; হাকিম ১/২০৯ এবং ইমাম হাকিম সহীহ বলেছেন।
২৯৭ সহীহ মুসলিম, হা. ১৫২৯, ফুআ. ৬৪৮।
২৯৮ সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৩৫, ফুআ. ৬৪৯।
২৯৯ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৫৮।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জামাআতের জন্য সর্বনিম্ন সংখ্যা

📄 জামাআতের জন্য সর্বনিম্ন সংখ্যা


ইমামসহ দুইজন ব্যক্তির মাধ্যমে জামাআত সংঘটিত হবে। আল্লাহর রসূল বলেন: الاثْنَانِ فَمَا فَوْقَهُمَا جَمَاعَةٌ “দুইজন বা তার চেয়ে বেশি হলে জামাআত সংঘটিত হয়।”

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কীসের দ্বারা জামাআত পাওয়া যাবে?

📄 কীসের দ্বারা জামাআত পাওয়া যাবে?


ইমামের সাথে এক রাকআত পেলে জামাআত পাওয়া যাবে। আল্লাহর রসূল বলেন:
مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلَاةِ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ
“যে ব্যক্তি সলাতের এক রাকআত পেল, সে সলাতই পেল।”
তবে রুকুর মাধ্যমে রাকআত পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা এর হাদীসে এসেছে:
إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا، وَلَا تَعُدُّوهَا شَيْئًا، وَمَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ.
"যদি তোমরা আমাদের সাজদা অবস্থায় সলাতে আসো, তাহলে তোমরা সাজদা করো। আর এটাকে কিছুই মনে করবে না। যে ব্যক্তি রুকু পেল, সে সলাত পেয়ে গেল।”৩০০

টিকাঃ
৩০০ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৮০।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 জামাআত ত্যাগের জন্য কার ওযর ধর্তব্য হবে?

📄 জামাআত ত্যাগের জন্য কার ওযর ধর্তব্য হবে?


নিম্নোক্ত অবস্থাগুলো জামাআত পরিত্যাগের জন্য ওযর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে:
১. এমন অসুস্থ ব্যক্তি যে, যদি সে জামাআতে যায় তাহলে তার কষ্ট হবে। আল্লাহ তা'আলা কবলেন:
لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ
“অন্ধের কোনো দোষ নেই, খোঁড়ার কোনো দোষ নেই, রোগীর কোনো দোষ নেই।"[সুরা ফাতহ : ১৭)
আল্লাহর রসূল যখন অসুস্থ হলেন তখন মসজিদে যাওয়া হতে বিরত থেকে বললেন:
مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلُّ بِالنَّاسِ
"আবু বকরকে লোকদের ইমামতি করতে বলো।” ৩০১
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন,
لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عنها مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ، أَوْ مَرِيضٌ.
"আমরা নিজেদেরকে দেখেছি যে, সর্বজনবিদিত মুনাফিক এবং অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত কেউই সলাতের জামাআত পরিত্যাগ করে না।"৩০২
অনুরূপভাবে মসজিদে গেলে যার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে তার ওজরও গ্রহণযোগ্য হবে।
২. পায়খানা ও প্রস্রাবের বেগ আসা অথবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার উপস্থিত হওয়া। আয়িশাহ মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন,
لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ، وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ.
"খাবার হাজির হলে কোনো সলাত নেই। এবং পায়খানা-প্রস্রাবের বেগ নিয়ে সলাত হবে না।"৩০৩
৩. যে নিখোঁজ হওয়ার আশংকা করে অথবা সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় করে অথবা ক্ষতির আশংকা করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। রসূল বলেছেন:
مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ اتَّبَاعِهِ، عُذْرٌ ، قَالُوا: وَمَا الْعُذْرُ يَا رَسُولَ الله؟ قَالَ: خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ، لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّى
“যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনল এবং কোনো ওযর তাকে সাড়া দিতে বাধা দিলো না- তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল ওজর কী? তিনি বললেন: ভয়-ভীতি অথবা অসুস্থতা।- তার অন্যত্র সলাত আল্লাহ কবুল করবেন না। "৩০৪
অনুরূপ সকল প্রকার ভয় হোক সেটা নিজের উপর অথবা সম্পদের উপর অথবা পরিবারের উপর অথবা সন্তানের উপর। ভয়ের কারণে জামাআত ছেড়ে দেওয়ার ওজর গ্রহণ যোগ্য হবে। কারণ ভয়টাই ওজর।
৪. তুষার, বরফ, কাদা, বৃষ্টি অথবা অন্ধকার রাতে খুব ঠাণ্ডা বাতাসে জামাআতে যেতে কষ্ট হলে। ইবনু উমার বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ المُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ ذَاتُ مَطَرٍ، يَقُولُ : أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ
"আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শীত বা বর্ষণমুখর রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে, শোন! তোমরা নিজ নিজ গৃহে সলাত আদায় করো।”৩০৫
৫. ইমামের লম্বা ক্বিরাআতে কষ্ট হলে। এক ব্যক্তি মুয়াজ বিন জাবালের সাথে সলাত পড়তো। যখন মুয়াজ ক্বিরাআত লম্বা করল তখন সে জামাআত ছেড়ে দিয়ে একাকি সলাত পড়ে নিল। অতঃপর আল্লাহর রসূল কে এই সংবাদ দেওয়া হলে তিনি তাকে তিরষ্কার করেননি। ৩০৬
৬. সফর সঙ্গি ছুটে যাওয়ার ভয়। এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তি সলাতের অপেক্ষা করার সময় তার মন সফর সঙ্গি ছুটে যাওয়ার ভয়ে ব্যস্ত থাকে।
৭. নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু নিকটবর্তী হলে। যেমন কারো নিকট আত্মীয় মৃত্যু সজ্জায় রয়েছে। আর সে ব্যক্তি মৃত্যু নিকটবর্তী ব্যক্তি নিকট থেকে তাকে শাহাদাতের তালক্বীন দিতে চায়। এমন ওজর জামাআত পরিত্যাগের জন্য গ্রহণ যোগ্য হবে।
৮. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির পিছনে ঋণদাতা লেগে থাকে এবং ঋণ পরিশোধ করার কিছু না থাকে, ঋণদাতা তার পিছনে লেগে থাকার কারণে সে কষ্ট পায়, এমতাবস্থায় জামাআত পরিত্যাগ করতে পারে।

টিকাঃ
৩০১ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩২, সহীহ মুসলিম, হা. ১৪৮৬, ফুআ. ৬৯৭।
৩০২ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩২।
৩০৩ সহীহ মুসলিম, হা. ১১৩৩, ফুআ. ৫৬০।
৩০৪ সুনান আবু দাউদ, হা. ৫৫১; অর্থগত বর্ণনা।
৩০৫ সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩২, সহীহ মুসলিম, হা. ৬৯৭।
৩০৬ সহীহ মুসলিম, হা. ৪৬৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00