📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কখন সাহু সাজদা করা সুন্নাত?

📄 কখন সাহু সাজদা করা সুন্নাত?


যখন শরীয়ত সম্মত দুআ, ক্বিরাআত অন্য স্থানে ভুলে পড়া হয়ে যায়, ঐ স্থানগুলোতে শরীয়ত সম্মত দুআ বা অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও তখন সাহু সাজদা করা সুন্নাত। যেমন- রুকু সাজদায় কুরআন পাঠ করে ফেলা, কিয়ামে তাশাহুদ পড়ে ফেলা। অথচ রুকুতে পড়ার জন্য سبحان ربي العظيم নামে একটি আলাদা দুআ রয়েছে। এই মর্মে আল্লাহর রসূল বলেন:
إِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ
"তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দুটি সাজদা করে।” ২৮১

টিকাঃ
২৮১. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭২।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সাহু সাজদার স্থান এবং পদ্ধতি

📄 সাহু সাজদার স্থান এবং পদ্ধতি


১. সাহু সাজদার স্থান: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহু সাজদার স্থান প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসগুলো দুই প্রকার:
এক প্রকার সালামের পূর্বের কথা প্রমাণ করে। আরেক প্রকার সালামের পরের কথা প্রমাণ করে। এ জন্য কিছু মুহাক্কিকগণ বলেছেন: সাহু সাজদা সালামের আগে বা পরে করার ব্যাপারে মুসল্লি ইচ্ছাধীন। কারণ হাদীসগুলো দুটি বিষয়েই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যদি কেউ সর্বদা সালামের আগে সাহু সাজদা অথবা সর্বদা সালামের পরে করে, কোনো সমস্যা নেই, তা বৈধ হবে। ইমাম যুহরী বলেন, সালামের পূর্বে সাহু সাজদা করা রসূল এর শেষ জীবনের কাজ ছিল।
২. সাহু সাজদার পদ্ধতি: সলাতের সাজদার মতোই দুটি সাজদা। সাজদায় যাওয়া এবং সাজদা থেকে ওঠার জন্য তাকবীর দিতে হয়। অতঃপর সালাম ফিরাতে হয়। কোনো কোনো ফকিহ এর মতে, সালামের পরে সাহু সাজদা দিলে তাশাহ্হুদ পড়তে হবে। এই প্রসঙ্গে নাবী থেকে তিনটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যাদের সামষ্টিক মান হাসান পর্যায়ে। ইবনু হাজার আসক্বালানী এমনটি বর্ণনা করেছেন। ২৮২

টিকাঃ
২৮২. ফাতহুল বারী ৩/১১৯।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 তিলাওয়াতের সাজদা

📄 তিলাওয়াতের সাজদা


১. শরীয়ত সম্মত হওয়া এবং তার হুকুম: সাজদার আয়াত পাঠ করলে এবং শ্রবণ করলে সাজদা করা শরীয়ত সম্মত। ইবনু উমার বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ عَلَيْنَا السُّورَةَ فِيهَا سَجْدَةٌ فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ مَعَهُ، حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا موضعاً الجبهته.
“নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট এমন সূরা পাঠ করতেন, যাতে সাজদার আয়াত আছে। অতঃপর তিনি সাজদা করতেন, আমরাও তার সাথে সাজদা করতাম। এমনকি আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার কপাল স্থাপনের (সাজদা করার) জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না।”২৮৩
সঠিক তথ্য মতে, তিলাওয়াতের সাজদা করা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। যায়েদ বিন সাবিত নাবী এর নিকট সূরা নাজম পাঠ করলেন অতঃপর তিনি সাজদা করলেন না। ২৮৪ এই হাদীস প্রমাণ করে, এটা ওয়াজিব নয়। সলাত এবং সলাতের বাইরে ক্বারী যখন সাজদার আয়াত পাঠ করবে তখন ক্বারী এবং শ্রোতা উভয়ের জন্যই সাজদা করা শরীয়ত সম্মত। নাবী যখন পাঠ করেছেন তখন নিজে সাজদা করেছেন এবং তার সাহাবীরাও তার সাথে সাজদা করেছেন। যেমনটি পূর্বের হাদীসে এসেছে (فيسجد ونسجد معه) সলাতেও সাজদা করা শরীয়ত সম্মত। এর দলীল হলো ইমাম বুখারী ও মুসলিমের আবু রাফেঈ থেকে বর্ণিত হাদীস। আবু রাফেঈ বলেন, صَلَّيْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ العَتَمَةَ ، فَقَرَأَ : إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، فَسَجَدَ، فَقُلْتُ: مَا هَذِهِ؟ قَالَ: سَجَدْتُ بِهَا خَلْفَ أَبِي القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا أَزَالُ أَسْجُدُ بِهَا حَتَّى أَلْقَاهُ.
“আমি একবার আবু হুরায়রা -এর সাথে ইশার সলাত আদায় করেছিলাম। তিনি সলাতে إِذَ السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরা তিলাওয়াত করে সাজদা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? তিনি বললেন, এই সূরা তিলাওয়াতে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে আমি সাজদা করেছিলাম। তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আমি সাজদা করতে থাকব।”২৮৫
যদি ক্বারী সাজদা না করে তাহলে শ্রোতাও সাজদা করবে না। কেননা শ্রোতা ক্বারীর অনুগামী। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যায়েদ বিন সাবিত এর হাদীসে। সূরা নাজম পড়ে যায়েদ সাজদা করেননি, তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাজদা করেননি।
২. ফযীলত: আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي ، يَقُولُ : يَا وَيْلَهُ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ، وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ.
"মানুষ যখন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সাজদায় যায়, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে পড়ে এবং বলতে থাকে, হায়! আমার দুর্ভাগ্য! বনী আদম সাজদার জন্য আদিষ্ট হলো। তারপর সে সাজদা করল এবং এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হলো। আর আমাকে সাজদার জন্য আদেশ করা হলো, কিন্তু আমি তা অস্বীকার করলাম, ফলে আমার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হলো।"২৮৬
৩. সাজদার পদ্ধতি বর্ণনা: একটি সাজদা করতে হবে। সাজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর দিতে হবে এবং সলাতের সাজদার মতোই سُبْحَانَ رَبِّيَّ الْأَعْلَى বলতে হবে। سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي. “হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।" এই দুআও পড়া যেতে পারে। কেউ যদি এই দুআ পাঠ করে,
سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ
"আমার চেহারা সেই মহান সত্তার জন্য সাজদা করল যিনি নিজ শক্তি ও সামর্থে একে সৃষ্টি করেছেন এবং এতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন।" তাতেও কোনো সমস্যা নেই।২৮৭
৪. কুরআন মাজিদে তিলাওয়াতের সাজদার স্থানসমূহ: কুরআন মাজিদে সাজদার স্থান মোট ১৫টি। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে তা উল্লেখ করা হলো: ১. সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ২০৬; ২. সূরা রাদ, আয়াত নং ১৫; ৩. সূরা নাহল ৪৯-৫০; ৪. সূরা ইসরা ১০৭-১০৯; ৫. সূরা মারয়াম ৫৮; ৬. সূরা হাজ্জ ১৮; ৭. সূরা হাজ্জ ৭৭; ৮. সূরা ফুরক্বান ৭৩; ৯. সূরা নামল ২৫-২৬; ১০. সূরা সাজদাহ ১৫; ১১. সূরা ফুসসিলাত ৩৭-৩৮; ১২. সূরা নাজম ৬২; ১৩. সূরা ইনশিক্বাক ২০-২১; ১৪. সূরা আলাক্ব ১৯;
১৫তম সাজদা হলো সূরা (ص) সদ-এর সাজদা। এটা শুকরিয়ার সাজদা। ইবনু আব্বাস বলেন:
ليست ص مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ ، وَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْجُدُ فِيهَا.
"সূরা স-দ এর সাজদা অত্যাবশ্যক সাজদাসমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি তা তিলাওয়াতের পর সাজদা করতে দেখেছি।”২৮৮

টিকাঃ
২৮৩. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৭৬, সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭৫।
২৮৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৭৩।
২৮৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৭৮, সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭৮।
২৮৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৮১।
২৮৭. সুনান আবু দাঊদ, হা. ১৪১৪; জামে তিরমিযী, হা. ৫৮০।
২৮৮. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৬৯।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 শুকরিয়ার সাজদা

📄 শুকরিয়ার সাজদা


যে ব্যক্তি কোনো নিয়ামত লাভ করবে অথবা তার কোনো বিপদ দূরীভূত হবে অথবা কোনো সু- সংবাদ লাভ করবে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো আল্লাহর রসূল অনুসরণ করে আল্লাহর সাজদায় লুটিয়ে পড়া। এর জন্য কিবলামুখী হওয়া শর্ত নয়, তবে কিবলামুখী হওয়া উত্তম。
নাবী শুকরিয়ার সাজদা করতেন। আবু বকর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَتَاهُ أَمْرٌ يَسُرُّهُ أَوْ بُشِّرَ بِهِ ، خَرَّ سَاجِدًا، شُكْرًا للَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কোনো খুশির খবর আসলে তিনি মহামহিম আল্লাহ্র সমীপে কৃতজ্ঞতার সাজদায় লুটিয়ে পড়তেন।”
নাবী এর সাহাবীগণও কৃতজ্ঞতার সাজদা করতেন। এই সাজদার বিধান তিলাওয়াতের সাজদার অনুরূপ এবং পদ্ধতিও একই।

টিকাঃ
'সুনান আবু দাউদ, হা. ২৭৭৪, তিরমিযী, হা. ১৫৭৮, ইবনু মাজাহ, হা. ১৩৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00