📄 কখন সাহু সাজদা ওয়াজিব?
নিম্নোক্ত কারণে সাহু সাজদা ওয়াজিব: ১. যদি সলাতের কোনো কাজ বেশি হয়ে যায়। যেমন- রুকু, সাজদা, কিয়াম, তাশাহহুদ। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন:
صَلَّى بِنَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمْسًا ، فَلَمَّا انْفَتَلَ تَوَشْوَشَ الْقَوْمُ بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: مَا شَأْنُكُمْ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ هَلْ زِيدَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ : لَا ، قَالُوا : فَإِنَّكَ قَدْ صَلَّيْتَ خَمْسًا، فَانْفَتَلَ، ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ. ثُمَّ سَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ. فإذا نسي أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ)
"আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক সলাত আদায় করতে পাঁচ রাকআত আদায় করলেন। সলাত শেষে তিনি ঘুরলে লোকজন পরস্পর কানাঘুষা করতে থাকল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন: ব্যাপার কী? সবাই বলল, হে আল্লাহর রসূল! সলাতের রাকআত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেন: না। তখন সবাই বলল, আপনি তো সলাত পাঁচ রাকআত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি (এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুরলেন এবং দুটি সাজদা করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর বললেন: আমি তোমাদের মতোই মানুষ। আমিও ভুল করি, যেমন তোমরা ভুল করো। তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দুটি সাজদা করে।”২৭৪
সলাত অবস্থায় যখন বেশি হওয়া সম্পর্কে জানা যাবে, তখন তার জন্য বসে যাওয়া আবশ্যক, যদিও সে রুকু অবস্থায় থাকে। কারণ জানার পরেও যদি সে অতিরিক্তের উপর চলমান থাকে তাহলে সে জেনে শুনে বেশি সলাত পড়লো। আর এটা জায়েয নয়।
২. সলাত শেষ হওয়ার পূর্বে সালাম ফিরিয়ে দেওয়া। ইমরান বিন হুসাইন বলেন:
سَلَّمَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ثَلَاثِ رَكَعَاتٍ، مِنَ الْعَصْرِ ، ثُمَّ قَامَ فَدَخَلَ الْحُجْرَةَ ، فَقَامَ رَجُلٌ بَسِيطُ الْيَدَيْنِ، فَقَالَ: أَقْصِرَتِ الصَّلَاةُ يَا رَسُولَ الله؟ فَخَرَجَ ، فَصَلَّى الرَّكْعَةَ الَّتِي كَانَ تَرَكَ، ثُمَّ سَلَّمَ، ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَي السَّهْوِ، ثُمَّ سَلَّمَ.
"রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আসরের সলাতে তিন রাকআত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি তার বাড়ির মধ্যে চলে গেলেন। তখন দীর্ঘ হাত বিশিষ্ট ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সলাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেরিয়ে আসলেন। অতঃপর যে রাকআত সলাত তিনি ছেড়েছিলেন, তা আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর সাহুর দুটি সাজদা করলেন এবং আবার সালাম ফিরালেন। "২৭৫
৩. অশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত করা যাতে অর্থ পরিবর্তন/ভুল হয়ে যায়। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পড়াটা সলাতকে বাতিল করে দেয়। সুতরাং অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল পড়লে সাহু সাজদা দেওয়া ওয়াজিব।
৪. সলাতের কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়া। ইবনু বুহাইনান বলেন: صَلَّى لَنَا رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ مِنْ بَعْضِ الصَّلَوَاتِ، ثُمَّ قَامَ، فَلَمْ يَجْلِسُ ، فَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ وَنَظَرْنَا تَسْلِيمَهُ كَبَّرَ قَبْلَ التَّسْلِيمِ، فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ، ثُمَّ سَلَّمَ .
“আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে দুই রাকআত সলাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় রাকআতে) তিনি না বসে উঠে দাঁড়ালে লোকজন সবাই তার সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল। তিনি সলাত শেষ করলে অর্থাৎ সলাত প্রায় শেষ করলে আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বেই বসে দুটি সাজদা করলেন। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন। "২৭৭
এটা এমন হাদীসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যে হাদীসে মধ্যবর্তী তাশাহহুদ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং এর উপর সকল ওয়াজিবকে তুলনা করা হবে। যেমন- রুকু-সাজদার তাসবীহ, দুই সাজদার মাঝের দুআ, স্থানান্তরের তাকবীরসমূহ ছেড়ে দেওয়া।
৫. রাকআতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে অর্থাৎ কত রাকআত পড়েছে মনে না থাকলে সাহু সাজদা দেওয়া ওয়াজিব। সলাতে সন্দেহ হলে মুসল্লী দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে যে, সলাত কম পড়েছে নাকি বেশি পড়েছে। ফলে তার নিয়ত দুর্বল হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সাজদার মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা প্রয়োজন। আবু হুরায়রা বলেন: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ أَحَدَكُمْ، إِذَا قَامَ يُصَلِّي جَاءَهُ الشَّيْطَانُ فَلَبَسَ عَلَيْهِ، حَتَّى لَا يَدْرِيَ كَمْ صَلَّى، فَإِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ، فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ.
“তোমরা কেউ যখন সলাতে দাঁড়াও, তখন শয়তান তার কাছে এসে তাকে সন্দেহ ও দ্বিধা- দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে দেয়। এমনকি সে কয় রাকআত সলাত আদায় করল তাও স্মরণ করতে পারে না। তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থা হতে দেখলে যেন বসে বসে দুটি (অতিরিক্ত) সাজদা করে নেয়।”২৭৮
এক্ষেত্রে মুসল্লি নিম্নোক্ত দুটি অবস্থার যে-কোনো একটিতে থাকে। ১. সন্দেহটা এমন হয় যে, সে কম পড়েছে না বেশি পড়েছে কোনোটাকে প্রাধান্য দিতে পারে না। এমতাবস্থায় মুসল্লি কমকে হিসাব করবে এবং সাহু সাজদা করবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِذَا شَكٍّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ، فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلَاثًا أَمْ أَرْبَعًا، فَلْيَطْرَحِ الشَّكَ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ، ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلَّمَ ....
“যখন সলাতের মধ্যে তোমাদের কারো এরূপ সন্দেহ হয় যে, সে তিন রাকআত আদায় করেছে না চার রাকআত? তাহলে সে সন্দেহ দূর করে (যে কয় রাকআত আদায় করেছে বলে নিশ্চিত হবে তার উপর) দৃঢ়চিত্ত হবে। এরপর সালাম ফেরানোর পূর্বে দুটি সাজদা করবে।”২৭৯
তবে মুসল্লি যদি কোনোটার প্রবল ধারণা করে এবং একটি প্রাধান্য দিতে পারে, তাহলে সে সেটার উপর আমল করে সাহু সাজদা করবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
فليتحر الصواب، ثم ليتم عليه - أي على التحري - ثم ليسلم، ثم ليسجد سجدتين بعد أن يسلم.
“চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে যেটি সঠিক বলে মনে হবে সেটিই করবে এবং এর উপর ভিত্তি করে সলাত শেষ করবে। অতঃপর সালাম ফিরাবে। অতঃপর সালামের পরে দুটি সাজদা করবে।”২৮০
টিকাঃ
২৭৪. সহীহ মুসলিম, হা. ১১৭০; ফুআ, ৫৭২।
২৭৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১১৮১; ফুআ. ৬৭৪।
২৭৬. অর্থাৎ প্রথম তাশাহ্হুদ ছেড়ে দিলেন।
২৭৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১২৩০, সহীহ মুসলিম, হা. ১১৫৬; ফুআ. ৫৭০।
২৭৮. সহীহুল বুখারী, হা. ১২৩১, মুসিলম, ১১৫২; ফুআ, ৩৮৯।
২৭৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭ ১।
২৮০. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭২।
📄 কখন সাহু সাজদা করা সুন্নাত?
যখন শরীয়ত সম্মত দুআ, ক্বিরাআত অন্য স্থানে ভুলে পড়া হয়ে যায়, ঐ স্থানগুলোতে শরীয়ত সম্মত দুআ বা অন্য কিছু থাকা সত্ত্বেও তখন সাহু সাজদা করা সুন্নাত। যেমন- রুকু সাজদায় কুরআন পাঠ করে ফেলা, কিয়ামে তাশাহুদ পড়ে ফেলা। অথচ রুকুতে পড়ার জন্য سبحان ربي العظيم নামে একটি আলাদা দুআ রয়েছে। এই মর্মে আল্লাহর রসূল বলেন:
إِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ
"তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দুটি সাজদা করে।” ২৮১
টিকাঃ
২৮১. সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭২।
📄 সাহু সাজদার স্থান এবং পদ্ধতি
১. সাহু সাজদার স্থান: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহু সাজদার স্থান প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসগুলো দুই প্রকার:
এক প্রকার সালামের পূর্বের কথা প্রমাণ করে। আরেক প্রকার সালামের পরের কথা প্রমাণ করে। এ জন্য কিছু মুহাক্কিকগণ বলেছেন: সাহু সাজদা সালামের আগে বা পরে করার ব্যাপারে মুসল্লি ইচ্ছাধীন। কারণ হাদীসগুলো দুটি বিষয়েই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যদি কেউ সর্বদা সালামের আগে সাহু সাজদা অথবা সর্বদা সালামের পরে করে, কোনো সমস্যা নেই, তা বৈধ হবে। ইমাম যুহরী বলেন, সালামের পূর্বে সাহু সাজদা করা রসূল এর শেষ জীবনের কাজ ছিল।
২. সাহু সাজদার পদ্ধতি: সলাতের সাজদার মতোই দুটি সাজদা। সাজদায় যাওয়া এবং সাজদা থেকে ওঠার জন্য তাকবীর দিতে হয়। অতঃপর সালাম ফিরাতে হয়। কোনো কোনো ফকিহ এর মতে, সালামের পরে সাহু সাজদা দিলে তাশাহ্হুদ পড়তে হবে। এই প্রসঙ্গে নাবী থেকে তিনটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যাদের সামষ্টিক মান হাসান পর্যায়ে। ইবনু হাজার আসক্বালানী এমনটি বর্ণনা করেছেন। ২৮২
টিকাঃ
২৮২. ফাতহুল বারী ৩/১১৯।
📄 তিলাওয়াতের সাজদা
১. শরীয়ত সম্মত হওয়া এবং তার হুকুম: সাজদার আয়াত পাঠ করলে এবং শ্রবণ করলে সাজদা করা শরীয়ত সম্মত। ইবনু উমার বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ عَلَيْنَا السُّورَةَ فِيهَا سَجْدَةٌ فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ مَعَهُ، حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا موضعاً الجبهته.
“নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট এমন সূরা পাঠ করতেন, যাতে সাজদার আয়াত আছে। অতঃপর তিনি সাজদা করতেন, আমরাও তার সাথে সাজদা করতাম। এমনকি আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার কপাল স্থাপনের (সাজদা করার) জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না।”২৮৩
সঠিক তথ্য মতে, তিলাওয়াতের সাজদা করা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। যায়েদ বিন সাবিত নাবী এর নিকট সূরা নাজম পাঠ করলেন অতঃপর তিনি সাজদা করলেন না। ২৮৪ এই হাদীস প্রমাণ করে, এটা ওয়াজিব নয়। সলাত এবং সলাতের বাইরে ক্বারী যখন সাজদার আয়াত পাঠ করবে তখন ক্বারী এবং শ্রোতা উভয়ের জন্যই সাজদা করা শরীয়ত সম্মত। নাবী যখন পাঠ করেছেন তখন নিজে সাজদা করেছেন এবং তার সাহাবীরাও তার সাথে সাজদা করেছেন। যেমনটি পূর্বের হাদীসে এসেছে (فيسجد ونسجد معه) সলাতেও সাজদা করা শরীয়ত সম্মত। এর দলীল হলো ইমাম বুখারী ও মুসলিমের আবু রাফেঈ থেকে বর্ণিত হাদীস। আবু রাফেঈ বলেন, صَلَّيْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ العَتَمَةَ ، فَقَرَأَ : إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، فَسَجَدَ، فَقُلْتُ: مَا هَذِهِ؟ قَالَ: سَجَدْتُ بِهَا خَلْفَ أَبِي القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا أَزَالُ أَسْجُدُ بِهَا حَتَّى أَلْقَاهُ.
“আমি একবার আবু হুরায়রা -এর সাথে ইশার সলাত আদায় করেছিলাম। তিনি সলাতে إِذَ السَّمَاءُ انْشَقَّتْ সূরা তিলাওয়াত করে সাজদা করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? তিনি বললেন, এই সূরা তিলাওয়াতে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে আমি সাজদা করেছিলাম। তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আমি সাজদা করতে থাকব।”২৮৫
যদি ক্বারী সাজদা না করে তাহলে শ্রোতাও সাজদা করবে না। কেননা শ্রোতা ক্বারীর অনুগামী। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যায়েদ বিন সাবিত এর হাদীসে। সূরা নাজম পড়ে যায়েদ সাজদা করেননি, তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাজদা করেননি।
২. ফযীলত: আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي ، يَقُولُ : يَا وَيْلَهُ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ، وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ.
"মানুষ যখন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সাজদায় যায়, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে পড়ে এবং বলতে থাকে, হায়! আমার দুর্ভাগ্য! বনী আদম সাজদার জন্য আদিষ্ট হলো। তারপর সে সাজদা করল এবং এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হলো। আর আমাকে সাজদার জন্য আদেশ করা হলো, কিন্তু আমি তা অস্বীকার করলাম, ফলে আমার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হলো।"২৮৬
৩. সাজদার পদ্ধতি বর্ণনা: একটি সাজদা করতে হবে। সাজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর দিতে হবে এবং সলাতের সাজদার মতোই سُبْحَانَ رَبِّيَّ الْأَعْلَى বলতে হবে। سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي. “হে আমাদের রব আল্লাহ্! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।" এই দুআও পড়া যেতে পারে। কেউ যদি এই দুআ পাঠ করে,
سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ
"আমার চেহারা সেই মহান সত্তার জন্য সাজদা করল যিনি নিজ শক্তি ও সামর্থে একে সৃষ্টি করেছেন এবং এতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন।" তাতেও কোনো সমস্যা নেই।২৮৭
৪. কুরআন মাজিদে তিলাওয়াতের সাজদার স্থানসমূহ: কুরআন মাজিদে সাজদার স্থান মোট ১৫টি। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে তা উল্লেখ করা হলো: ১. সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ২০৬; ২. সূরা রাদ, আয়াত নং ১৫; ৩. সূরা নাহল ৪৯-৫০; ৪. সূরা ইসরা ১০৭-১০৯; ৫. সূরা মারয়াম ৫৮; ৬. সূরা হাজ্জ ১৮; ৭. সূরা হাজ্জ ৭৭; ৮. সূরা ফুরক্বান ৭৩; ৯. সূরা নামল ২৫-২৬; ১০. সূরা সাজদাহ ১৫; ১১. সূরা ফুসসিলাত ৩৭-৩৮; ১২. সূরা নাজম ৬২; ১৩. সূরা ইনশিক্বাক ২০-২১; ১৪. সূরা আলাক্ব ১৯;
১৫তম সাজদা হলো সূরা (ص) সদ-এর সাজদা। এটা শুকরিয়ার সাজদা। ইবনু আব্বাস বলেন:
ليست ص مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ ، وَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْجُدُ فِيهَا.
"সূরা স-দ এর সাজদা অত্যাবশ্যক সাজদাসমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি তা তিলাওয়াতের পর সাজদা করতে দেখেছি।”২৮৮
টিকাঃ
২৮৩. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৭৬, সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭৫।
২৮৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৭৩।
২৮৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৭৮, সহীহ মুসলিম, হা. ৫৭৮।
২৮৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৮১।
২৮৭. সুনান আবু দাঊদ, হা. ১৪১৪; জামে তিরমিযী, হা. ৫৮০।
২৮৮. সহীহুল বুখারী, হা. ১০৬৯।