📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 নফল সলাতের জন্য নিষিদ্ধ সময়সমূহ

📄 নফল সলাতের জন্য নিষিদ্ধ সময়সমূহ


যে সময়গুলোতে নফল সলাত আদায় করা নিষেধ সেগুলো মোট পাঁচটি:
প্রথম: ফজরের সলাত আদায় করার পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। রসূল বলেছেন: لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الفجر حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ
"ফজরের সলাতের পরে সূর্য ওঠা পর্যন্ত কোনো সলাত নেই।”২৬৩
দ্বিতীয়: সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে চোখের দেখা বর্শা পরিমাণ উঁচু না হওয়া পর্যন্ত। এক বর্শার পরিমাণ প্রায় এক মিটার। সূর্য এক মিটার উচু হতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। সূর্য উদিত হওয়ার পর যখন এক বর্শা পরিমাণ বা এক মিটার পরিমাণ উঁচু হবে তখন নিষিদ্ধ সময় শেষ হয়ে যাবে। রসূল আমর বিন আব্বাসকে বলেন: صَلِّ صَلَاةَ الصُّبْحِ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ.
“তুমি ফজরের সলাত আদায় করো, অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে না ওঠা পর্যন্ত সলাত থেকে বিরত থাকো।”২৬৪
তৃতীয়: সূর্য মধ্যাকাশে উপস্থিত হওয়ার সময় থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে যোহরের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত। উকবা বিন আমের বলেন: تَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّي فِيهِنَّ، أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةٌ حَتَّى تَرْتَفِعَ ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَزُولَ، وَحِينَ تَتَضَيَّفُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ.
“আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন সময়ে আমাদেরকে সলাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। ১. সূর্য যখন আলোকোভাসিত হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে তা পরিষ্কারভাবে উপরে ওঠা পর্যন্ত, ২. সূর্য ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, ৩. সূর্য ক্ষীণ আলো হওয়ার পর থেকে তা সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।”২৬৬
تتضيف للغروب এর অর্থ হলো সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়া।
চতুর্থ: আসরের সলাতের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। ২৬৭ রসূল বলেছেন: لَا صَلَاةَ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ.
"ফজরের পরে সূর্য ওঠা পর্যন্ত কোনো সলাত নেই এবং আসরের পরে সূর্য ডোবা পর্যন্ত কোনো সলাত নেই।”২৬৮
পঞ্চম: সূর্য ডুবতে শুরুর পর থেকে সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত। যেমন পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
এই পাঁচ নিষিদ্ধ সময় তিনটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেই তিনটি সময় হলো: ১. ফজরের সলাতের পর থেকে নিয়ে সূর্য এক বর্শা বা এক মিটার উঁচু না হওয়া পর্যন্ত। ২. সূর্য মধ্যাকাশে হওয়ার পর থেকে নিয়ে পশ্চিম দিকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত। ৩. আসরের সলাতের পর থেকে নিয়ে সূর্য ডোবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
এই সময়গুলোতে সলাত নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য: নাবী বর্ণনা করেছেন যে, কাফেররা সূর্য উদিত হওয়া এবং ডোবার সময় পূজা করে। সুতরাং এ দুই সময়ে সলাত আদায় করাটা তাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়। আমর বিন আবাসা এর হাদীসে এসেছে:
فَإِنَّها - أي الشمس - تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ .... فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ.
“অতঃপর তা -সূর্য- উদিত হওয়ার সময় শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং তখন কাফেররা সূর্যকে সাজদা করে...। কারণ তা -সূর্য- শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং তখন কাফেররা সূর্যকে সাজদা করে।”২৬৯
এটা হলো সূর্য উদিত হওয়া এবং সূর্য ডোবার সময় সলাত নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ।
সূর্য উদিত হওয়ার পর কিছু সময় এবং মধ্যকাশে থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত সলাত নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য: নাবী এর কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ
"কারণ তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। ২ ৭০
সুতরাং এই সময়গুলোতে নফল সলাত পড়া বৈধ নয়। তবে যদি কোনো সলাত পড়ার দলীল পাওয়া যায় তাহলে তা আদায় করা বৈধ। যেমন- তাওয়াফের দুই রাকআত সলাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، لَا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى فِيهِ أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ
“হে আবদে মানাফের বংশধর! তোমরা কাউকে রাত বা দিনের যে কোনো সময়ে এই ঘরের তাওয়াফ করতে ও সলাত আদায় করতে বাঁধা দিবে না।”২৭১
অনুরূপভাবে ফজরের সুন্নাত ফজরের পরে আদায় করা, যোহরের সুন্নাতের কাযা আসরের পরে আদায় করা। বিশেষ করে যখন যোহরের সলাত আসরের সাথে জমা করে আদায় করা হবে তখন অনুরূপ কারণবশত যে সলাতগুলো পড়া হয় সেগুলোও আদায় করা বৈধ।

টিকাঃ
২৬৩. সহীহুল বুখারী, হা. ৫৮৬, সহীহ মুসলিম, হা. ৮২৭।
২৬৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৩২।
২৬৫. সূর্য উচু হওয়ার শেষ স্থান। কেননা উঁচু হয় পূর্বাকাশে যখন পূর্বাকাশে উচু হওয়া শেষ হয় তখন পশ্চিমাকাশে ঢলে পরে।
২৬৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৩১।
২৬৭. অর্থাৎ সূর্য ডুবতে শুরু করা পর্যন্ত।
২৬৮. ইবনু মাজাহ, হা. ১২৫০।
২৬৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৩২।
২৭০. সহীহ মুসলিম, হা, ৮৩২।
২৭১. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৮৯৪, তিরমিযী, হা. ৮৬৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00