📄 সুন্নাতে রাওয়াতিব সলাতের সংখ্যা
رواتب শব্দটি راتبة শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো সর্বদা চলমান। এই সলাতগুলো ফরয সলাতের অনুগামী। এই সলাতগুলোর উপকারিতা হলো, ফরয সলাতের ঘটতি হলে এগুলোর দ্বারা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। رواتب সলাতের সংখ্যা হলো মোট ১২ রাকআত। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু উমার এর হাদীস। তিনি বলেন,
حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ كانت ساعة لا أدخل على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيها، فحدثتني حفصة أنه كان إذا طلع الفجر، وأذن المؤذن، صلى ركعتين "আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাক'আত সলাত সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দুই রাক'আত; পরে দুই রাক'আত; মাগরিবের পরে দুই রাক'আত; 'ইশার পরে দুই রাক'আত এবং দুই রাক'আত সকালের (ফজরের) সলাতের পূর্বে। [ইবনু 'উমার বলেন) আর সময়টি ছিল এমন, যখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করিনি। উম্মুল মু'মিনীন হাফসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ফজর উদিত হতো এবং মুআযযিন আযান দিতেন তখন দুই রাক'আত সলাত আদায় করতেন। "২৪৪
বারো রাকআত সুন্নাত সলাত আদায়ের ব্যাপারে মুসলিমদের মনোযোগী হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা উচিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لله تعالى فى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয সলাত ব্যতীত ১২ রাকআত নফল সলাত আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।”২৪৫
এগুলো হলো পূর্বে উল্লিখিত ১০ রাকআত আর যোহরের পূর্বে (দুই রাকা'আতের) স্থানে চার রাকআত। ইমাম তিরমিযী উম্মু হাবীবাহ এর বর্ণিত হাদীসে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এসেছে: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمُغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
"যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত; মাগরিবের সলাতের পরে দুই রাকআত, ইশার সলাতের পরে দুই রাকআত এবং ফজরের সলাতের পূর্বে দুই রাকআত।”২৪৬ এমনটি আয়িশাহ এর হাদীসেও সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৭
এই সুন্নাত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুর চাইতে উত্তম।”২৪৮
আয়িশাহ এই রাকআত সম্পর্কে বলেন: وَلَمْ يَكُنْ يَدَعْهُمَا أَبَدًا
"তিনি কখনোই তা (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৯
টিকাঃ
২৪৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮০, ১১৮১, ১১৮২ সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৯। বিভিন্ন হাদীসের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে।
২৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৮১, ফুআ. ৭২৮।
২৪৬. তিরমিযী, হা. ৪১৫।
২৪৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮২।
২৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৫৯।
رواتب শব্দটি راتبة শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো সর্বদা চলমান। এই সলাতগুলো ফরয সলাতের অনুগামী। এই সলাতগুলোর উপকারিতা হলো, ফরয সলাতের ঘটতি হলে এগুলোর দ্বারা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। رواتب সলাতের সংখ্যা হলো মোট ১২ রাকআত। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু উমার এর হাদীস। তিনি বলেন,
حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ كانت ساعة لا أدخل على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيها، فحدثتني حفصة أنه كان إذا طلع الفجر، وأذن المؤذن، صلى ركعتين "আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাক'আত সলাত সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দুই রাক'আত; পরে দুই রাক'আত; মাগরিবের পরে দুই রাক'আত; 'ইশার পরে দুই রাক'আত এবং দুই রাক'আত সকালের (ফজরের) সলাতের পূর্বে। [ইবনু 'উমার বলেন) আর সময়টি ছিল এমন, যখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করিনি। উম্মুল মু'মিনীন হাফসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ফজর উদিত হতো এবং মুআযযিন আযান দিতেন তখন দুই রাক'আত সলাত আদায় করতেন। "২৪৪
বারো রাকআত সুন্নাত সলাত আদায়ের ব্যাপারে মুসলিমদের মনোযোগী হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা উচিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لله تعالى فى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয সলাত ব্যতীত ১২ রাকআত নফল সলাত আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।”২৪৫
এগুলো হলো পূর্বে উল্লিখিত ১০ রাকআত আর যোহরের পূর্বে (দুই রাকা'আতের) স্থানে চার রাকআত। ইমাম তিরমিযী উম্মু হাবীবাহ এর বর্ণিত হাদীসে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এসেছে: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمُغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
"যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত; মাগরিবের সলাতের পরে দুই রাকআত, ইশার সলাতের পরে দুই রাকআত এবং ফজরের সলাতের পূর্বে দুই রাকআত।”২৪৬ এমনটি আয়িশাহ এর হাদীসেও সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৭
এই সুন্নাত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুর চাইতে উত্তম।”২৪৮
আয়িশাহ এই রাকআত সম্পর্কে বলেন: وَلَمْ يَكُنْ يَدَعْهُمَا أَبَدًا
"তিনি কখনোই তা (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৯
টিকাঃ
২৪৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮০, ১১৮১, ১১৮২ সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৯। বিভিন্ন হাদীসের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে।
২৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৮১, ফুআ. ৭২৮।
২৪৬. তিরমিযী, হা. ৪১৫।
২৪৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮২।
২৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৫৯।
📄 বিতর সলাতের বিধান, ফযীলত এবং সময়
হুকুম: বিতর সলাত হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। নাবী এই সলাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন:
إن الله وتر يحب الوثر "নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় ভালোবাসেন।”২৫০ অপর হাদীসে তিনি বলেন:
يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ، أَوْتِرُوا، فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرُ، يُحِبُّ الْوِتْرَ “হে কুরআনের অনুসারীরা! বিতর পড়ো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় ভালোবাসেন। "২৫১
বিতর সলাতের ওয়াক্ত/সময়: আলেমদের ঐকমত্যে ইশা এবং ফজরের মধ্যবর্তী সময়টা হলো বিতরের সময়। আল্লাহর রসূল এই সময়ে বিতর সলাত পড়েছেন এবং পড়তে বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ أَمَدَّكُمْ بِصَلَاةٍ، هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ ، صلاة الْوِتْرُ، مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ "আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য লাল বর্ণের ঘোড়ার চাইতেও উত্তম একটি সলাত নির্ধারিত করেছেন। সলাতুল বিতর। যা ইশার পরে ও সুবেহ সাদিকের পূর্বে মধ্যবর্তী সময়ে।”২৫২
যখন ফজরের সময় হয়ে যাবে, তখন বিতরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى ، فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةٌ تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى "রাতের সলাত দুই দুই (রাক'আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাক'আত সলাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সলাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হবে।” ২৫৩ এটা ফজরের সময় হলে বিতরের সময় শেষ হওয়ার দলীল। হাফেজ ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন: উক্ত হাদীসটি থেকে ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (যোটকে আবু আওয়ানা এবং অন্যরা সহীহ বলেছেন) সেটাই স্পষ্ট হয়। আর সেই হাদীসটি হলো (আবু দাউদ ও নাসায়ীর) ইবনু উমার (রাঃ) বলেন:
مَنْ صَلَّى مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَجْعَلْ آخِرَ صَلاتِهِ وِتْرًا، فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِذَلِكَ. فَإِذَا كَانَ الْفَجْرُ فَقَدْ ذَهَبَ كُلُّ صَلاةِ اللَّيْلِ وَالْوِتْرِ.
“যে ব্যক্তি রাতে নফল সালাত আদায় করবে সে যেন বিতর সালাত সর্বশেষে আদায় করে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতে আদেশ করতেন। অতঃপর যখন ফজর হয়ে যায়, তখন রাতের সকল সালাত ও বিতর সালাতের সময় শেষ হয়ে যায়।” ২৫৪
শেষ রাতে বিতর সালাত পড়া প্রথম রাতে পড়ার চেয়ে উত্তম। তবে যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সে শেষ রাতে জাগ্রত হতে পারবে না তার জন্য প্রথম রাতে তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার ইচ্ছা করে তার জন্য শেষ রাতে পড়া মুস্তাহাব। জাবির (রাঃ) বলেছেন:
مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُوْمَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوْتِرْ أَوَّلَهُ، وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَّقُوْمَ آخِرَ اللَّيْلِ فَلْيُوْتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ، فَإِنَّ صَلاةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ
“যে ব্যক্তির আশঙ্কা হবে, শেষ রাতে জাগতে পারবে না, সে যেন রাতের প্রথমভাগেই (ইশার সালাতের পর) বিতর আদায় করে নেয়। আর কেউ যদি শেষ রাতে জাগতে আগ্রহী থাকে (অর্থাৎ শেষ রাতে জাগতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারে) তাহলে সে যেন শেষভাগে বিতর আদায় করে। কারণ শেষ রাতের সালাতে (ফেরেশতারা উপস্থিত) সাক্ষী থাকে। আর এটাই সর্বোত্তম।” ২৫৫
টিকাঃ
২৫০. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৫১. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৪১৬।
২৫২. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৪১৮, তিরমিযী, হা. ৪৫২।
২৫৩. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৯০।
২৫৪. ফাতহুল বারী: ২/৪৮৭।
২৫৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৭৫৫।
📄 বিতর সলাতের পদ্ধতি এবং তার রাকআত সংখ্যা
বিতর সালাতের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো এক রাকআত। যেমনটি ইবনু আব্বাস এবং ইবনু উমার (রাঃ) এর হাদীসে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: الْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِّنْ آخِرِ اللَّيْلِ “বিতর সালাত রাতের শেষাংশে এক রাকআত।” ২৫৬
এ ছাড়াও ইবনু উমার কর্তৃক বর্ণিত আরেক হাদীসে এসেছে: صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى
"এক রাক'আত সলাত আদায় করে নেয়। আর তা পূর্বে পড়া সলাতকে তার জন্য বিতর করে দিবে।” বিতর সলাত তিন রাকআত পড়াও জায়েয। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আয়িশাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে। তিনি বলেন, يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُوهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلَا تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا،
"চার রাক'আত পড়তেন। এই চার রাক'আত আদায়ের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর আরও চার রাক'আত সলাত আদায় করতেন। এই চার রাক'আতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাক'আত আদায় করতেন।”২৫৭
এই তিন রাকআত সলাত দুই সালামে পড়াও জায়েয। আব্দুল্লাহ বিন উমার দুই সালামে তিন রাকআত সলাত আদায় করতেন। যেমন হাদীসে এসেছে: كَانَ يُسَلِّمُ مِن رَّكْعَتَيْنِ حَتَّى يَأْمُرَ بِبَعْضٍ حَاجَتِهِ.
"দুই রাক'আতের মাঝে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর কাউকে কোনো প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দিতেন।”২৫৮
অনুরূপ এই তিন রাকআত সলাত ধারাবাহিক এক তাশাহ্হুদ ও এক সালামে আদায় করাও জায়েয। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে আয়িশাহ এর হাদীসে। তিনি বলেন: كان النبي صلى الله عليه وسلم يوتر بثلاث لَا يَقْعُدُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ
“নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন রাকআত বিতর পড়তেন। শেষ রাকআত ব্যতীত বসতেন না।”২৫৯
এই তিন রাকআত সলাত দুই তাশাহ্হুদ ও এক সালামে আদায় করা যাবে না, যাতে মাগরিবের সলাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়ে যায়। কেননা আল্লাহর রসূল এর থেকে নিষেধ করেছেন। ২৬০ বিতর সলাত পাঁচ এবং সাত রাকআতও পড়া জায়েয। এগুলোতেও শুধু শেষ রাকআতে বসতে হবে অর্থাৎ একটি মাত্র তাশাহহুদ ও সালামে সলাত আদায় করতে হবে। আয়িশাহ বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ، لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ إِلَّا فِي آخِرِهَا.
"আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলা তেরো রাকআত সলাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাকআত বিতর করতেন এবং এতে একেবারে শেষে ছাড়া কোনো বৈঠক করতেন না।”২৬১
এ ছাড়াও উম্মু সালামাহ এর হাদীসে একই কথা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوتِرُ بِسَبْعٍ أَوْ بِخَمْسٍ، لَا يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِتَسْلِيمٍ وَلَا كَلَامٍ.
"আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাত অথবা পাঁচ রাকআত বিতর পড়তেন। তাদের মাঝে সালাম অথবা কথা বলার মাধ্যমে পার্থক্য করতেন না।”২৬২
টিকাঃ
২৫৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৭৫২, ৭৫৩।
২৫৭. সহীহুল বুখারী, হা. ৩৫৬৯।
২৫৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৯১।
২৫৯. সুনান নাসাঈ, হা. ১৬৯৮।
২৬০. দারাকুৎনী: ২/২৪-২৫, হাকেম: ১/৩০৪।
২৬১. সহীহ মুসলিম, হা. ৭৩৭।
২৬২. ইবনু মাজাহ, হা. ১১৯২।
📄 নফল সলাতের জন্য নিষিদ্ধ সময়সমূহ
যে সময়গুলোতে নফল সলাত আদায় করা নিষেধ সেগুলো মোট পাঁচটি:
প্রথম: ফজরের সলাত আদায় করার পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। রসূল বলেছেন: لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الفجر حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ
"ফজরের সলাতের পরে সূর্য ওঠা পর্যন্ত কোনো সলাত নেই।”২৬৩
দ্বিতীয়: সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে চোখের দেখা বর্শা পরিমাণ উঁচু না হওয়া পর্যন্ত। এক বর্শার পরিমাণ প্রায় এক মিটার। সূর্য এক মিটার উচু হতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। সূর্য উদিত হওয়ার পর যখন এক বর্শা পরিমাণ বা এক মিটার পরিমাণ উঁচু হবে তখন নিষিদ্ধ সময় শেষ হয়ে যাবে। রসূল আমর বিন আব্বাসকে বলেন: صَلِّ صَلَاةَ الصُّبْحِ، ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ.
“তুমি ফজরের সলাত আদায় করো, অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে উপরে না ওঠা পর্যন্ত সলাত থেকে বিরত থাকো।”২৬৪
তৃতীয়: সূর্য মধ্যাকাশে উপস্থিত হওয়ার সময় থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে যোহরের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত। উকবা বিন আমের বলেন: تَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّي فِيهِنَّ، أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةٌ حَتَّى تَرْتَفِعَ ، وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَزُولَ، وَحِينَ تَتَضَيَّفُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ.
“আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন সময়ে আমাদেরকে সলাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। ১. সূর্য যখন আলোকোভাসিত হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে তা পরিষ্কারভাবে উপরে ওঠা পর্যন্ত, ২. সূর্য ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত, ৩. সূর্য ক্ষীণ আলো হওয়ার পর থেকে তা সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।”২৬৬
تتضيف للغروب এর অর্থ হলো সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়া।
চতুর্থ: আসরের সলাতের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। ২৬৭ রসূল বলেছেন: لَا صَلَاةَ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ.
"ফজরের পরে সূর্য ওঠা পর্যন্ত কোনো সলাত নেই এবং আসরের পরে সূর্য ডোবা পর্যন্ত কোনো সলাত নেই।”২৬৮
পঞ্চম: সূর্য ডুবতে শুরুর পর থেকে সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত। যেমন পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
এই পাঁচ নিষিদ্ধ সময় তিনটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেই তিনটি সময় হলো: ১. ফজরের সলাতের পর থেকে নিয়ে সূর্য এক বর্শা বা এক মিটার উঁচু না হওয়া পর্যন্ত। ২. সূর্য মধ্যাকাশে হওয়ার পর থেকে নিয়ে পশ্চিম দিকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত। ৩. আসরের সলাতের পর থেকে নিয়ে সূর্য ডোবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
এই সময়গুলোতে সলাত নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য: নাবী বর্ণনা করেছেন যে, কাফেররা সূর্য উদিত হওয়া এবং ডোবার সময় পূজা করে। সুতরাং এ দুই সময়ে সলাত আদায় করাটা তাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যায়। আমর বিন আবাসা এর হাদীসে এসেছে:
فَإِنَّها - أي الشمس - تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ .... فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ.
“অতঃপর তা -সূর্য- উদিত হওয়ার সময় শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং তখন কাফেররা সূর্যকে সাজদা করে...। কারণ তা -সূর্য- শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে অস্ত যায় এবং তখন কাফেররা সূর্যকে সাজদা করে।”২৬৯
এটা হলো সূর্য উদিত হওয়া এবং সূর্য ডোবার সময় সলাত নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ।
সূর্য উদিত হওয়ার পর কিছু সময় এবং মধ্যকাশে থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত সলাত নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য: নাবী এর কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ
"কারণ তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। ২ ৭০
সুতরাং এই সময়গুলোতে নফল সলাত পড়া বৈধ নয়। তবে যদি কোনো সলাত পড়ার দলীল পাওয়া যায় তাহলে তা আদায় করা বৈধ। যেমন- তাওয়াফের দুই রাকআত সলাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، لَا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى فِيهِ أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ
“হে আবদে মানাফের বংশধর! তোমরা কাউকে রাত বা দিনের যে কোনো সময়ে এই ঘরের তাওয়াফ করতে ও সলাত আদায় করতে বাঁধা দিবে না।”২৭১
অনুরূপভাবে ফজরের সুন্নাত ফজরের পরে আদায় করা, যোহরের সুন্নাতের কাযা আসরের পরে আদায় করা। বিশেষ করে যখন যোহরের সলাত আসরের সাথে জমা করে আদায় করা হবে তখন অনুরূপ কারণবশত যে সলাতগুলো পড়া হয় সেগুলোও আদায় করা বৈধ।
টিকাঃ
২৬৩. সহীহুল বুখারী, হা. ৫৮৬, সহীহ মুসলিম, হা. ৮২৭।
২৬৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৩২।
২৬৫. সূর্য উচু হওয়ার শেষ স্থান। কেননা উঁচু হয় পূর্বাকাশে যখন পূর্বাকাশে উচু হওয়া শেষ হয় তখন পশ্চিমাকাশে ঢলে পরে।
২৬৬. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৩১।
২৬৭. অর্থাৎ সূর্য ডুবতে শুরু করা পর্যন্ত।
২৬৮. ইবনু মাজাহ, হা. ১২৫০।
২৬৯. সহীহ মুসলিম, হা. ৮৩২।
২৭০. সহীহ মুসলিম, হা, ৮৩২।
২৭১. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৮৯৪, তিরমিযী, হা. ৮৬৮।