📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 নফল সলাতের প্রকারভেদ

📄 নফল সলাতের প্রকারভেদ


নফল সলাত দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট সলাত আদায় করা। এগুলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয়। এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন সুন্নাতে রাওয়াতিব (দিনে রাতে ১২ রাকআত) আর কিছু রয়েছে, যেগুলো ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন- বিতর সলাত, চাশতের সলাত, সূর্য গ্রহণের সলাত।
দ্বিতীয় প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট নয় এমন সুন্নাত সলাত। এগুলোকে সুন্নাতে মুতলাক্বাহ বলা হয়।
প্রথম প্রকারের মধ্যে অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। যার কতগুলো কতকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্য গ্রহণের সলাত; অতঃপর বিতর সলাত; অতঃপর বৃষ্টির সলাত; অতঃপর তারাবীহ এর সলাত।
দ্বিতীয় প্রকারের সলাতগুলো সারারাত আদায় করা শরীয়তসম্মত এবং দিনেও পড়া যায়। তবে নিষিদ্ধ সময়গুলো ব্যতীত। আর রাতের সলাত দিনের সলাতের চেয়ে বেশি ফযীলতপূর্ণ।

নফল সলাত দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট সলাত আদায় করা। এগুলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয়। এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন সুন্নাতে রাওয়াতিব (দিনে রাতে ১২ রাকআত) আর কিছু রয়েছে, যেগুলো ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন- বিতর সলাত, চাশতের সলাত, সূর্য গ্রহণের সলাত।
দ্বিতীয় প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট নয় এমন সুন্নাত সলাত। এগুলোকে সুন্নাতে মুতলাক্বাহ বলা হয়।
প্রথম প্রকারের মধ্যে অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। যার কতগুলো কতকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্য গ্রহণের সলাত; অতঃপর বিতর সলাত; অতঃপর বৃষ্টির সলাত; অতঃপর তারাবীহ এর সলাত।
দ্বিতীয় প্রকারের সলাতগুলো সারারাত আদায় করা শরীয়তসম্মত এবং দিনেও পড়া যায়। তবে নিষিদ্ধ সময়গুলো ব্যতীত। আর রাতের সলাত দিনের সলাতের চেয়ে বেশি ফযীলতপূর্ণ।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে নফল সলাতগুলো জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নাত

📄 যে নফল সলাতগুলো জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নাত


তারাবীর সলাত, বৃষ্টি প্রার্থনার সলাত এবং সূর্যগ্রহণের সলাত জামাআতে আদায় করা সুন্নাত।

তারাবীর সলাত, বৃষ্টি প্রার্থনার সলাত এবং সূর্যগ্রহণের সলাত জামাআতে আদায় করা সুন্নাত।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সুন্নাতে রাওয়াতিব সলাতের সংখ্যা

📄 সুন্নাতে রাওয়াতিব সলাতের সংখ্যা


رواتب শব্দটি راتبة শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো সর্বদা চলমান। এই সলাতগুলো ফরয সলাতের অনুগামী। এই সলাতগুলোর উপকারিতা হলো, ফরয সলাতের ঘটতি হলে এগুলোর দ্বারা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। رواتب সলাতের সংখ্যা হলো মোট ১২ রাকআত। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু উমার এর হাদীস। তিনি বলেন,
حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ كانت ساعة لا أدخل على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيها، فحدثتني حفصة أنه كان إذا طلع الفجر، وأذن المؤذن، صلى ركعتين "আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাক'আত সলাত সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দুই রাক'আত; পরে দুই রাক'আত; মাগরিবের পরে দুই রাক'আত; 'ইশার পরে দুই রাক'আত এবং দুই রাক'আত সকালের (ফজরের) সলাতের পূর্বে। [ইবনু 'উমার বলেন) আর সময়টি ছিল এমন, যখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করিনি। উম্মুল মু'মিনীন হাফসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ফজর উদিত হতো এবং মুআযযিন আযান দিতেন তখন দুই রাক'আত সলাত আদায় করতেন। "২৪৪
বারো রাকআত সুন্নাত সলাত আদায়ের ব্যাপারে মুসলিমদের মনোযোগী হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা উচিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لله تعالى فى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয সলাত ব্যতীত ১২ রাকআত নফল সলাত আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।”২৪৫
এগুলো হলো পূর্বে উল্লিখিত ১০ রাকআত আর যোহরের পূর্বে (দুই রাকা'আতের) স্থানে চার রাকআত। ইমাম তিরমিযী উম্মু হাবীবাহ এর বর্ণিত হাদীসে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এসেছে: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمُغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
"যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত; মাগরিবের সলাতের পরে দুই রাকআত, ইশার সলাতের পরে দুই রাকআত এবং ফজরের সলাতের পূর্বে দুই রাকআত।”২৪৬ এমনটি আয়িশাহ এর হাদীসেও সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৭
এই সুন্নাত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুর চাইতে উত্তম।”২৪৮
আয়িশাহ এই রাকআত সম্পর্কে বলেন: وَلَمْ يَكُنْ يَدَعْهُمَا أَبَدًا
"তিনি কখনোই তা (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৯

টিকাঃ
২৪৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮০, ১১৮১, ১১৮২ সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৯। বিভিন্ন হাদীসের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে।
২৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৮১, ফুআ. ৭২৮।
২৪৬. তিরমিযী, হা. ৪১৫।
২৪৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮২।
২৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৫৯।

رواتب শব্দটি راتبة শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো সর্বদা চলমান। এই সলাতগুলো ফরয সলাতের অনুগামী। এই সলাতগুলোর উপকারিতা হলো, ফরয সলাতের ঘটতি হলে এগুলোর দ্বারা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। رواتب সলাতের সংখ্যা হলো মোট ১২ রাকআত। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু উমার এর হাদীস। তিনি বলেন,
حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ كانت ساعة لا أدخل على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيها، فحدثتني حفصة أنه كان إذا طلع الفجر، وأذن المؤذن، صلى ركعتين "আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাক'আত সলাত সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দুই রাক'আত; পরে দুই রাক'আত; মাগরিবের পরে দুই রাক'আত; 'ইশার পরে দুই রাক'আত এবং দুই রাক'আত সকালের (ফজরের) সলাতের পূর্বে। [ইবনু 'উমার বলেন) আর সময়টি ছিল এমন, যখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করিনি। উম্মুল মু'মিনীন হাফসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ফজর উদিত হতো এবং মুআযযিন আযান দিতেন তখন দুই রাক'আত সলাত আদায় করতেন। "২৪৪
বারো রাকআত সুন্নাত সলাত আদায়ের ব্যাপারে মুসলিমদের মনোযোগী হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা উচিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لله تعالى فى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয সলাত ব্যতীত ১২ রাকআত নফল সলাত আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।”২৪৫
এগুলো হলো পূর্বে উল্লিখিত ১০ রাকআত আর যোহরের পূর্বে (দুই রাকা'আতের) স্থানে চার রাকআত। ইমাম তিরমিযী উম্মু হাবীবাহ এর বর্ণিত হাদীসে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এসেছে: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمُغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
"যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত; মাগরিবের সলাতের পরে দুই রাকআত, ইশার সলাতের পরে দুই রাকআত এবং ফজরের সলাতের পূর্বে দুই রাকআত।”২৪৬ এমনটি আয়িশাহ এর হাদীসেও সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৭
এই সুন্নাত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুর চাইতে উত্তম।”২৪৮
আয়িশাহ এই রাকআত সম্পর্কে বলেন: وَلَمْ يَكُنْ يَدَعْهُمَا أَبَدًا
"তিনি কখনোই তা (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৯

টিকাঃ
২৪৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮০, ১১৮১, ১১৮২ সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৯। বিভিন্ন হাদীসের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে।
২৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৮১, ফুআ. ৭২৮।
২৪৬. তিরমিযী, হা. ৪১৫।
২৪৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮২।
২৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৫৯।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 বিতর সলাতের বিধান, ফযীলত এবং সময়

📄 বিতর সলাতের বিধান, ফযীলত এবং সময়


হুকুম: বিতর সলাত হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। নাবী এই সলাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন:
إن الله وتر يحب الوثر "নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় ভালোবাসেন।”২৫০ অপর হাদীসে তিনি বলেন:
يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ، أَوْتِرُوا، فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرُ، يُحِبُّ الْوِتْرَ “হে কুরআনের অনুসারীরা! বিতর পড়ো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় ভালোবাসেন। "২৫১
বিতর সলাতের ওয়াক্ত/সময়: আলেমদের ঐকমত্যে ইশা এবং ফজরের মধ্যবর্তী সময়টা হলো বিতরের সময়। আল্লাহর রসূল এই সময়ে বিতর সলাত পড়েছেন এবং পড়তে বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ أَمَدَّكُمْ بِصَلَاةٍ، هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ ، صلاة الْوِتْرُ، مَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ "আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য লাল বর্ণের ঘোড়ার চাইতেও উত্তম একটি সলাত নির্ধারিত করেছেন। সলাতুল বিতর। যা ইশার পরে ও সুবেহ সাদিকের পূর্বে মধ্যবর্তী সময়ে।”২৫২
যখন ফজরের সময় হয়ে যাবে, তখন বিতরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى ، فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةٌ تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى "রাতের সলাত দুই দুই (রাক'আত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাক'আত সলাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সলাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হবে।” ২৫৩ এটা ফজরের সময় হলে বিতরের সময় শেষ হওয়ার দলীল। হাফেজ ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন: উক্ত হাদীসটি থেকে ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (যোটকে আবু আওয়ানা এবং অন্যরা সহীহ বলেছেন) সেটাই স্পষ্ট হয়। আর সেই হাদীসটি হলো (আবু দাউদ ও নাসায়ীর) ইবনু উমার (রাঃ) বলেন:
مَنْ صَلَّى مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَجْعَلْ آخِرَ صَلاتِهِ وِتْرًا، فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِذَلِكَ. فَإِذَا كَانَ الْفَجْرُ فَقَدْ ذَهَبَ كُلُّ صَلاةِ اللَّيْلِ وَالْوِتْرِ.
“যে ব্যক্তি রাতে নফল সালাত আদায় করবে সে যেন বিতর সালাত সর্বশেষে আদায় করে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতে আদেশ করতেন। অতঃপর যখন ফজর হয়ে যায়, তখন রাতের সকল সালাত ও বিতর সালাতের সময় শেষ হয়ে যায়।” ২৫৪
শেষ রাতে বিতর সালাত পড়া প্রথম রাতে পড়ার চেয়ে উত্তম। তবে যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, সে শেষ রাতে জাগ্রত হতে পারবে না তার জন্য প্রথম রাতে তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার ইচ্ছা করে তার জন্য শেষ রাতে পড়া মুস্তাহাব। জাবির (রাঃ) বলেছেন:
مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُوْمَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوْتِرْ أَوَّلَهُ، وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَّقُوْمَ آخِرَ اللَّيْلِ فَلْيُوْتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ، فَإِنَّ صَلاةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ
“যে ব্যক্তির আশঙ্কা হবে, শেষ রাতে জাগতে পারবে না, সে যেন রাতের প্রথমভাগেই (ইশার সালাতের পর) বিতর আদায় করে নেয়। আর কেউ যদি শেষ রাতে জাগতে আগ্রহী থাকে (অর্থাৎ শেষ রাতে জাগতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারে) তাহলে সে যেন শেষভাগে বিতর আদায় করে। কারণ শেষ রাতের সালাতে (ফেরেশতারা উপস্থিত) সাক্ষী থাকে। আর এটাই সর্বোত্তম।” ২৫৫

টিকাঃ
২৫০. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৫১. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৪১৬।
২৫২. সুনান আবু দাউদ, হা. ১৪১৮, তিরমিযী, হা. ৪৫২।
২৫৩. সহীহুল বুখারী, হা. ৯৯০।
২৫৪. ফাতহুল বারী: ২/৪৮৭।
২৫৫. সহীহ মুসলিম, হা. ৭৫৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00