📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 নফল সলাতের ফযীলত এবং শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল

📄 নফল সলাতের ফযীলত এবং শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল


১. ফযীলত: ইলম অর্জন ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের পরে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পথ হলো নফল সলাত আদায় করা। নাবী আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সর্বদা নফল সলাত আদায় করতেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ قَالَ: مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ ...
"নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বলেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি শুধুমাত্র তা দ্বারাই আমার বেশি নৈকট্য লাভ করবে। তবে আমার বান্দা নফল 'ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। এমন কি আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই।" ২৪২
২. শরীয়তসম্মত হওয়ার হিকমাহ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বান্দাদের প্রতি রহমত স্বরূপ নফল সলাতকে শরীয়ত সম্মত করেছেন। তাই তিনি প্রত্যেক ফরয সলাতের সময় নফল সলাতের ব্যবস্থা করেছেন যাতে বান্দা এই নফল সলাতগুলো আদায় করে ঈমান বৃদ্ধি, মর্যাদা সমুন্নত, ফরয আমলগুলো পরিপূর্ণকরণ এবং কিয়ামতের দিন আমলের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। কারণ ফরয আদায়ে কখনো কখনো কমতি হয়ে যায়। (এই কমতিটা আল্লাহ তা'আলা নফল দিয়ে পূর্ণ করে দিবেন।) যেমনটি আবু হুরায়রা এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ فَإِنْ أَتَمَّهَا ، وَإِلَّا قِيلَ: انْظُرُوا هَلْ لَهُ مِنْ تَطَوُّع؟ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوُّعُ أُكْمِلَتِ الْفَرِيضَةُ مِنْ تَطَوُّعِهِ، ثُمَّ يُفْعَلُ بِسَائِرِ الْأَعْمَالِ الْمَفْرُوضَةِ مِثْلُ ذَلِكَ.
"কিয়ামতের দিন মুসলিম বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম ফরয সলাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সে তা পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে (তবে ভালো), অন্যথায় বলা হবে, দেখো তার কোনো নফল সলাত আছে কি না? যদি তার নফল সলাত থেকে থাকে, তবে তা দিয়ে তার ফরয সলাত পূর্ণ করা হবে। অতঃপর অন্যান্য সকল ফরয আমলের ব্যাপারেও অনুরূপ ব্যবস্থা করা হবে। ২৪৩

টিকাঃ
২৪২. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৫০২; সিলসিলাহ সহীহাহ: ১৬৪০।
২৪৩. সুনান আবু দাউদ, হা. ৬৮৪, সুনান নাসাঈ, হা. ৪৬৬, ৪৬৭; ইবনু মাজাহ:১৪২৫; সানাদ সহীহ।

১. ফযীলত: ইলম অর্জন ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের পরে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পথ হলো নফল সলাত আদায় করা। নাবী আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সর্বদা নফল সলাত আদায় করতেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ قَالَ: مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ ...
"নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বলেন: যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি শুধুমাত্র তা দ্বারাই আমার বেশি নৈকট্য লাভ করবে। তবে আমার বান্দা নফল 'ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। এমন কি আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই।" ২৪২
২. শরীয়তসম্মত হওয়ার হিকমাহ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বান্দাদের প্রতি রহমত স্বরূপ নফল সলাতকে শরীয়ত সম্মত করেছেন। তাই তিনি প্রত্যেক ফরয সলাতের সময় নফল সলাতের ব্যবস্থা করেছেন যাতে বান্দা এই নফল সলাতগুলো আদায় করে ঈমান বৃদ্ধি, মর্যাদা সমুন্নত, ফরয আমলগুলো পরিপূর্ণকরণ এবং কিয়ামতের দিন আমলের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। কারণ ফরয আদায়ে কখনো কখনো কমতি হয়ে যায়। (এই কমতিটা আল্লাহ তা'আলা নফল দিয়ে পূর্ণ করে দিবেন।) যেমনটি আবু হুরায়রা এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ فَإِنْ أَتَمَّهَا ، وَإِلَّا قِيلَ: انْظُرُوا هَلْ لَهُ مِنْ تَطَوُّع؟ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوُّعُ أُكْمِلَتِ الْفَرِيضَةُ مِنْ تَطَوُّعِهِ، ثُمَّ يُفْعَلُ بِسَائِرِ الْأَعْمَالِ الْمَفْرُوضَةِ مِثْلُ ذَلِكَ.
"কিয়ামতের দিন মুসলিম বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম ফরয সলাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সে তা পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে (তবে ভালো), অন্যথায় বলা হবে, দেখো তার কোনো নফল সলাত আছে কি না? যদি তার নফল সলাত থেকে থাকে, তবে তা দিয়ে তার ফরয সলাত পূর্ণ করা হবে। অতঃপর অন্যান্য সকল ফরয আমলের ব্যাপারেও অনুরূপ ব্যবস্থা করা হবে। ২৪৩

টিকাঃ
২৪২. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৫০২; সিলসিলাহ সহীহাহ: ১৬৪০।
২৪৩. সুনান আবু দাউদ, হা. ৬৮৪, সুনান নাসাঈ, হা. ৪৬৬, ৪৬৭; ইবনু মাজাহ:১৪২৫; সানাদ সহীহ।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 নফল সলাতের প্রকারভেদ

📄 নফল সলাতের প্রকারভেদ


নফল সলাত দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট সলাত আদায় করা। এগুলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয়। এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন সুন্নাতে রাওয়াতিব (দিনে রাতে ১২ রাকআত) আর কিছু রয়েছে, যেগুলো ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন- বিতর সলাত, চাশতের সলাত, সূর্য গ্রহণের সলাত।
দ্বিতীয় প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট নয় এমন সুন্নাত সলাত। এগুলোকে সুন্নাতে মুতলাক্বাহ বলা হয়।
প্রথম প্রকারের মধ্যে অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। যার কতগুলো কতকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্য গ্রহণের সলাত; অতঃপর বিতর সলাত; অতঃপর বৃষ্টির সলাত; অতঃপর তারাবীহ এর সলাত।
দ্বিতীয় প্রকারের সলাতগুলো সারারাত আদায় করা শরীয়তসম্মত এবং দিনেও পড়া যায়। তবে নিষিদ্ধ সময়গুলো ব্যতীত। আর রাতের সলাত দিনের সলাতের চেয়ে বেশি ফযীলতপূর্ণ।

নফল সলাত দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট সলাত আদায় করা। এগুলোকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয়। এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন সুন্নাতে রাওয়াতিব (দিনে রাতে ১২ রাকআত) আর কিছু রয়েছে, যেগুলো ফরয সলাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যেমন- বিতর সলাত, চাশতের সলাত, সূর্য গ্রহণের সলাত।
দ্বিতীয় প্রকার: নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট নয় এমন সুন্নাত সলাত। এগুলোকে সুন্নাতে মুতলাক্বাহ বলা হয়।
প্রথম প্রকারের মধ্যে অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। যার কতগুলো কতকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্য গ্রহণের সলাত; অতঃপর বিতর সলাত; অতঃপর বৃষ্টির সলাত; অতঃপর তারাবীহ এর সলাত।
দ্বিতীয় প্রকারের সলাতগুলো সারারাত আদায় করা শরীয়তসম্মত এবং দিনেও পড়া যায়। তবে নিষিদ্ধ সময়গুলো ব্যতীত। আর রাতের সলাত দিনের সলাতের চেয়ে বেশি ফযীলতপূর্ণ।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 যে নফল সলাতগুলো জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নাত

📄 যে নফল সলাতগুলো জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নাত


তারাবীর সলাত, বৃষ্টি প্রার্থনার সলাত এবং সূর্যগ্রহণের সলাত জামাআতে আদায় করা সুন্নাত।

তারাবীর সলাত, বৃষ্টি প্রার্থনার সলাত এবং সূর্যগ্রহণের সলাত জামাআতে আদায় করা সুন্নাত।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সুন্নাতে রাওয়াতিব সলাতের সংখ্যা

📄 সুন্নাতে রাওয়াতিব সলাতের সংখ্যা


رواتب শব্দটি راتبة শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো সর্বদা চলমান। এই সলাতগুলো ফরয সলাতের অনুগামী। এই সলাতগুলোর উপকারিতা হলো, ফরয সলাতের ঘটতি হলে এগুলোর দ্বারা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। رواتب সলাতের সংখ্যা হলো মোট ১২ রাকআত। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু উমার এর হাদীস। তিনি বলেন,
حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ كانت ساعة لا أدخل على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيها، فحدثتني حفصة أنه كان إذا طلع الفجر، وأذن المؤذن، صلى ركعتين "আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাক'আত সলাত সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দুই রাক'আত; পরে দুই রাক'আত; মাগরিবের পরে দুই রাক'আত; 'ইশার পরে দুই রাক'আত এবং দুই রাক'আত সকালের (ফজরের) সলাতের পূর্বে। [ইবনু 'উমার বলেন) আর সময়টি ছিল এমন, যখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করিনি। উম্মুল মু'মিনীন হাফসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ফজর উদিত হতো এবং মুআযযিন আযান দিতেন তখন দুই রাক'আত সলাত আদায় করতেন। "২৪৪
বারো রাকআত সুন্নাত সলাত আদায়ের ব্যাপারে মুসলিমদের মনোযোগী হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা উচিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لله تعالى فى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয সলাত ব্যতীত ১২ রাকআত নফল সলাত আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।”২৪৫
এগুলো হলো পূর্বে উল্লিখিত ১০ রাকআত আর যোহরের পূর্বে (দুই রাকা'আতের) স্থানে চার রাকআত। ইমাম তিরমিযী উম্মু হাবীবাহ এর বর্ণিত হাদীসে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এসেছে: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمُغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
"যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত; মাগরিবের সলাতের পরে দুই রাকআত, ইশার সলাতের পরে দুই রাকআত এবং ফজরের সলাতের পূর্বে দুই রাকআত।”২৪৬ এমনটি আয়িশাহ এর হাদীসেও সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৭
এই সুন্নাত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুর চাইতে উত্তম।”২৪৮
আয়িশাহ এই রাকআত সম্পর্কে বলেন: وَلَمْ يَكُنْ يَدَعْهُمَا أَبَدًا
"তিনি কখনোই তা (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৯

টিকাঃ
২৪৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮০, ১১৮১, ১১৮২ সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৯। বিভিন্ন হাদীসের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে।
২৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৮১, ফুআ. ৭২৮।
২৪৬. তিরমিযী, হা. ৪১৫।
২৪৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮২।
২৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৫৯।

رواتب শব্দটি راتبة শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো সর্বদা চলমান। এই সলাতগুলো ফরয সলাতের অনুগামী। এই সলাতগুলোর উপকারিতা হলো, ফরয সলাতের ঘটতি হলে এগুলোর দ্বারা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। رواتب সলাতের সংখ্যা হলো মোট ১২ রাকআত। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু উমার এর হাদীস। তিনি বলেন,
حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ كانت ساعة لا أدخل على النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فيها، فحدثتني حفصة أنه كان إذا طلع الفجر، وأذن المؤذن، صلى ركعتين "আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাক'আত সলাত সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দুই রাক'আত; পরে দুই রাক'আত; মাগরিবের পরে দুই রাক'আত; 'ইশার পরে দুই রাক'আত এবং দুই রাক'আত সকালের (ফজরের) সলাতের পূর্বে। [ইবনু 'উমার বলেন) আর সময়টি ছিল এমন, যখন আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করিনি। উম্মুল মু'মিনীন হাফসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ফজর উদিত হতো এবং মুআযযিন আযান দিতেন তখন দুই রাক'আত সলাত আদায় করতেন। "২৪৪
বারো রাকআত সুন্নাত সলাত আদায়ের ব্যাপারে মুসলিমদের মনোযোগী হওয়া এবং গুরুত্বারোপ করা উচিত। আল্লাহর রসূল বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لله تعالى فى كُلِّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
“কোনো মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফরয সলাত ব্যতীত ১২ রাকআত নফল সলাত আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করেন অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।”২৪৫
এগুলো হলো পূর্বে উল্লিখিত ১০ রাকআত আর যোহরের পূর্বে (দুই রাকা'আতের) স্থানে চার রাকআত। ইমাম তিরমিযী উম্মু হাবীবাহ এর বর্ণিত হাদীসে দুই রাকআত বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেছেন। ঐ হাদীসে এসেছে: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمُغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ
"যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত; মাগরিবের সলাতের পরে দুই রাকআত, ইশার সলাতের পরে দুই রাকআত এবং ফজরের সলাতের পূর্বে দুই রাকআত।”২৪৬ এমনটি আয়িশাহ এর হাদীসেও সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: كَانَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ
"নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৭
এই সুন্নাত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত। আল্লাহর রসূল বলেছেন: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) দুনিয়া ও তার মাঝের সকল কিছুর চাইতে উত্তম।”২৪৮
আয়িশাহ এই রাকআত সম্পর্কে বলেন: وَلَمْ يَكُنْ يَدَعْهُمَا أَبَدًا
"তিনি কখনোই তা (সুন্নাত) ছাড়তেন না।”২৪৯

টিকাঃ
২৪৪. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮০, ১১৮১, ১১৮২ সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৯। বিভিন্ন হাদীসের বর্ণনাকে একত্রিত করা হয়েছে।
২৪৫. সহীহ মুসলিম, হা. ১৫৮১, ফুআ. ৭২৮।
২৪৬. তিরমিযী, হা. ৪১৫।
২৪৭. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৮২।
২৪৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৪১০, সহীহ মুসলিম, হা. ২৬৭৭।
২৪৯. সহীহুল বুখারী, হা. ১১৫৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00