📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 ফরয সলাতের সংখ্যা

📄 ফরয সলাতের সংখ্যা


ফরয সলাতের সংখ্যা হলো পাঁচ (অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত) সেগুলো হলো- ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এবং ইশা। এই প্রসঙ্গে সকলে ঐকমত্যে উপনীত। এর উপর প্রমাণ করে তালহা বিন উবাইদুল্লাহ এর বর্ণিত হাদীস (তিনি বলেন:)
أَنَّ أَعْرَابِيًّا قال : يَا رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاذَا فَرَضَ اللهُ عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ؟ قَالَ: خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي اليَوْمِ وَاللَّيْلَةِ
“এক বেদুঈন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আমার উপর সলাত থেকে কী ফরয করেছেন? তিনি বললেন: দিনে ও রাতে ৫ ওয়াক্ত সলাত। "১৮৮
জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনা সম্মলিত আনাস থেকে বর্ণিত হাদীসও এর উপর প্রমাণ করে। ঐ হাদীসে নাবী কে গ্রাম্য ব্যক্তি কথা বলতে গিয়ে বলেন:
وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا ، وَلَيْلَتِنَا ، قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صَدَقَ
"আপনার দূত বলেছে যে, আমাদের উপর আমাদের দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফরয। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সত্যই বলেছে।"১৮৯

টিকাঃ
১৮৮. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৯৫৬; সহীহ মুসলিম, হা, ১১।
১৮৯. সহীহ মুসলিম, হা. ১২।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 কার উপর সলাত ফরয

📄 কার উপর সলাত ফরয


হায়েয এবং নিফাসগ্রস্ত ব্যতীত বোধশক্তি সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর ও নারীর উপর সলাত ফরয। শিশুদেরকে সাত বছর বয়সে সলাতের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং দশ বছর বয়সে সলাত পরিত্যাগ করলে প্রহার করা হবে। এই সম্পর্কে হাদীস:
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ : فذكر منها وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ "তিন ব্যক্তির উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়। তাতে উল্লেখ রয়েছে, শিশু বালেগ না হওয়া পর্যন্ত।"১৯০
অপর হাদীসে বলেছেন: مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا ، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرَّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ
"তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সলাতের জন্য নির্দেশ দাও এবং তাদের বয়স দশ বছর হলে (সলাত আদায় না করলে) তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে।"১৯১

টিকাঃ
১৯০. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৪০১।
১৯১. সুনান আবু দাউদ, হা. ৪৯৫, তিরমিযী, হা. ৪০৭, আহমাদ: ৩/২০১।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সলাতের শর্তসমূহ

📄 সলাতের শর্তসমূহ


সলাতের শর্ত নয়টি:
১. মুসলিম হওয়া: কোনো কাফেরের সলাত সহীহ হবে না। কেননা তার আমল বাতিল বলে গণ্য।
২. বোধশক্তি সম্পন্ন হওয়া: পাগলের সলাত সহীহ হবে না। কেননা সে শরীয়তের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নয়।
৩. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের উপর সালাত ওয়াজিব নয়। তবে সাত বছরে তাদেরকে সালাতের আদেশ করা হবে এবং দশ বছর বয়সে প্রহার করা হবে। রাসূল বলেন:
"তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের জন্য নির্দেশ দাও।"
৪. সাধ্যমত ছোট ও বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন করা: ইবনু উমার হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে আল্লাহ্‌র রসূল বলেছেন:
"পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না।"
৫. সালাতের ওয়াক্ত হওয়া: আল্লাহ তা'আলা বলেন:
"নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত।" [সূরা নিসা: ১০৩]
জিবরীল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে আল্লাহ্‌র রসূল এর পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করলেন। অতঃপর বললেন:
"এই দুই সময়ের মাঝেই সময়।"
সুতরাং ওয়াক্ত হওয়া ওয়াজিব না হলে এবং সময় অতিক্রম হয়ে গেলে সালাত শুদ্ধ হবে না।
৬. সাধ্যমতো কোনো জিনিস দ্বারা সতর ঢেকে রাখা, যাতে চামড়া না দেখা যায়: আল্লাহ তা'আলা এই মর্মে বলেন:
“হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ করো।” [সূরা আরাফ: ৩১] আল্লাহ্‌র রসূল বলেন:
"কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা ওড়না ছাড়া সালাত আদায় করলে আল্লাহ তার সালাত কবুল করবেন না।"
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মানুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। আল্লাহর রসূল এই প্রসঙ্গে জাবিরকে বলেন: إِذَا صَلَّيْتَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٌ، فَإِنْ كَانَ وَاسِعًا فَالْتَحِفْ بِهِ، وَإِنْ كَانَ ضَيِّقًا فَاتَّزِرْ بِهِ
“যখন এক কাপড়ে সলাত পড়বে তখন কাপড় যদি বড়ো হয়, তাহলে শরীরে জড়িয়ে পরবে। আর যদি ছোটো হয় তাহলে লুঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করবে।” ১৯৭
তবে উত্তম হলো কাঁধে কোনো কাপড় রাখা। কারণ যে কাপড়ের কিছু অংশ কাঁধে থাকে না, তা পরিধান করে সলাত আদায় করতে আল্লাহর রসূল নিষেধ করেছেন। হাত এবং মুখ ছাড়া পুরো শরীর মহিলার জন্য সতর। তবে যদি সে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি সামনে সলাত পড়ে, তাহলে পুরো শরীর (হাত এবং মুখসহ) ঢেকে রাখবে। রসূল বলেছেন: المرأة عورة “মহিলারা আবরণীয় বস্তু। "১৯৮
لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضِ إِلَّا بِخمار
"মহান আল্লাহ প্রাপ্তবয়স্কা নারীর সলাত ওড়না পরিধান ব্যতীত কবুল করেন না।”১৯৯
৭. সাধ্যমত সলাতের স্থান, কাপড় এবং শরীর থেকে নাপাকি দূর করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ “আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্র করুন।" [সূরা মুদ্দাসীর: ৪]
আল্লাহর রসূল বলেছেন: تَنَزَّهُوا مِنَ الْبَوْلِ فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنْهُ “প্রস্রাবের ছিটা থেকে বেঁচে থাকো। কেনান অধিকাংশ কবরের আযাব এ থেকেই হয়।”২০০
অন্য হাদীসে আল্লাহর রসূল আসমা কে কাপড়ে লেগে থাকা রক্ত ধৌত করার পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: فَلْتَحْتُهُ ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ، ثُمَّ تَنْضَحُهُ، ثُمَّ تُصَلِّى فِيهِ “তা ঘষবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং পানির ছিটা দিকে। অতঃপর সেই কাপড়ে সলাত আদায় করবে।”২০১
অপর হাদীসে আল্লাহর রসূল তার সাহাবীদেরকে মসজিদের প্রস্রাব করে দেওয়া আরব বেদুঈনের প্রস্রাবের নাপাকি দূর করার জন্য বলেন:
أريقوا عَلَى بَوْلِهِ سَجْلًا مِنْ مَاءٍ "ওর প্রস্রাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও।” ২০২
৮. সাধ্যমত কিবলামুখী হওয়া: এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَوَلِ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ “অতএব আপনি মসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরিয়ে নিন।" [সূরা বাক্বারাহ : ১৪৪] আল্লাহর রসূল বলেছেন:
إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ، ثُمَّ اسْتَقْبِلِ القِبْلَةَ "যখন তুমি সলাতে দাঁড়ানোর ইচ্ছে করবে, তখন প্রথমে তুমি যথানিয়মে ওযু করবে। তারপর কিবলামুখী দাঁড়াবে।” ২০৩
৯. নিয়ত করা: কোনো অবস্থাতেই নিয়ত ছাড়া চলবে না। আল্লাহর রসূল বলেছেন: إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنَّيَاتِ “প্রত্যেক কাজ নিয়ত অনুযায়ী হয়ে থাকে।”২০৪ নিয়তের স্থান হলো অন্তর। আর এর মূল হলো কোনো জিনিসের উপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়া। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা শরীয়ত সম্মত নয়। কেননা নাবী মুখে নিয়ত উচ্চারণ করেননি এবং তার সাহাবীদের থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি।

টিকাঃ
১৯২. যে সকল বিষয়ের উপর সলাতের শুদ্ধতা নির্ভর করে।
১৯৩. ছোট নাপাকী এবং বড় নাপাকী।
১৯৪. সহীহ মুসলিম, হা. ৪২৩, কুফা. ২১৪।
১৯৫. তিরমিযী, হা. ৩৯৩, নাসায়ীঃ ১/৯১।
১৯৬. সুনান আবু দাউদ, হা. ৬৪১, তিরমিযী, হা. ৩৭৬, ইবনু মাজাহ, হা. ৩৫১।
১৯৭. সহীহুল বুখারী, হা. ৩৬১, সহীহ মুসলিম, হা. ৩০১০।
১৯৮. তিরমিযী, হা. ৩৯৭।
১৯৯. সুনান নাসাঈ, হা, ৬৪১।
২০০. দারাকুলী: ১/৯৭ (৪৫৩)।
২০১. সহীহুল বুখারী, হা. ২২৭, সহীহ মুসলিম, হা. ২৯১।
২০২. সহীহুল বুখারী, হা. ২২০।
২০৩. সহীহুল বুখারী, হা. ৬২৫১, সহীহ মুসলিম, হা. ৩৯৭।
২০৪. মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ১; সহীহ মুসলিম, হা. ১৯০৭।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 সলাতের রুকনসমূহ

📄 সলাতের রুকনসমূহ


الأركان বা রুকনসমূহ: যে সমস্ত জিনিসের সমন্বয়ে ইবাদত গঠিত হয় এবং যেগুলো ব্যতীত ইবাদাত বিশুদ্ধ হয় না, সেগুলোর সমষ্টিকে আরকান বলা হয়।
আরকান এবং শর্তের মাঝে পার্থক্য: শর্ত ইবাদতের আগে এসে ইবাদতের সাথে চলমান থাকে। আর আরকান ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত কথা এবং কাজগুলোকে বুঝায়।
সলাতের রুকন হলো মোট ১৪ টি। এই রুকনগুলো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বা অজ্ঞতাবশত যদি কারো ছুটে যায় তাহলে সলাত বাতিল হয়ে যাবে।
১. কিয়াম করা (দাঁড়ানো): দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য ফরয সলাতে দাঁড়িয়ে সলাত পড়া একটি রুকন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: ﴾وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ﴿ "আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।” [সূরা বাক্বারাহ: ২৩৮]
আল্লাহর রসূল ইমরান বিন হুসাইন কে বলেন: صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبِ . "দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করা। তা সক্ষম না হলে বসে; যদি তাতেও সক্ষম না হও, তাহলে শুয়ে।”২০৫
যদি ওজরের কারণে কেউ ফরয সলাতে কিয়াম ছেড়ে দেয়, (যেমন অসুস্থতা বা এ জাতীয় কোনো সমস্যা) তাহলে তার ওজর গ্রহণযোগ্য হবে। এমতাবস্থায় সে সাধ্যানুপাতে বসে অথবা শুয়ে সলাত আদায় করবে।
তবে নফল সলাতে কিয়াম করা সুন্নাত, রুকন নয়। বসে সলাত আদায়কারীর সলাতের চেয়ে দাঁড়িয়ে সলাত আদায়কারীর সলাত বেশি ফযীলতপূর্ণ। আল্লাহর রসূল বলেন: صَلَاةَ الْقَاعِدِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلَاةِ الْقَائِمِ "কেউ বসে সলাত আদায় করলে তা দাঁড়িয়ে সলাতের অর্ধেক সমান হয়। ۲۰۶
২. সলাতের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমা দেওয়া: অর্থাৎ সলাতের প্রারম্ভে 'আল্লাহু আকবার' বলা। তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া সলাত হবে না। আল্লাহর রসূল সলাত ভুলকারী ব্যক্তিকে বলেন: إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبِّرْ “যখন তুমি সলাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলো।”২০৭
অপর হাদীসে তিনি বলেন: وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ، وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ "সলাত তাকবীর দিয়ে শুরু হয় আর সালাম ফিরানো দ্বারা শেষ হয়। ২০৮ সুতরাং তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সলাত হবে না।
৩. প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা: আল্লাহর রসূল বলেছেন : لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ “যে ব্যক্তি সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না তার সলাত হলো না।”২০৯
এই বিধান থেকে সলাতে মাসবুক ব্যক্তি (যার রাকআত ছুটে যায়) কে বাদ রাখা হয়েছে। যদি মাসবুক ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় অথবা কিয়ামের এমন অবস্থায় পায়, যখন তার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা সম্ভব নয়, তাহলে তাকে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে না। অনুরূপভাবে জেহরী সলাতে (যে সলাতগুলোতে জোরে তিলাওয়াত করা হয়) মুক্তাদীকে সূরা ফাতিহা পাঠ করা হতে বাদ রাখা হয়েছে। তবে মুক্তাদী যদি ইমামের চুপ থাকার সময়টাতে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলতে পারে, তাহলে সেটা তার জন্য উত্তম। সতর্কতা গ্রহণ করে। [উপর্যুক্ত হাদীসের আলোকে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহাহ পাঠ করা আবশ্যক- এই মতের পক্ষেই আলেমদের একদল।-সম্পাদক]
৪. প্রত্যেক রাকআতে রুকু করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا “হে মু'মিনগণ! তোমরা রুকু করো, সাজদাহ করো।” [সুরা হাজ্জ: ৭৭] আল্লাহর রসূল সলাতে ভুলকারীকে বলেন: ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا "তারপর তুমি ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে।”২১০
৫-৬. রুকু থেকে ওঠা এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানো: আল্লাহর রসূল সলাতে ভুলকারীকে বলেন: ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا. "তারপর তুমি ধীরস্থিরভাবে রুকু করবে। এরপর মাথা তুলে ঠিক সোজা হয়ে দাঁড়াবে।”২১১
৭. সাজদা করা: আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَاسْجُدُوا "সাজদাহ করো।" [সূরা হাজ্জ : ৭৭] আল্লাহর রসূল সলাতে ভুলকারীকে বলেন: ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا "তারপর ধীরস্থিরভাবে সাজদাহ করবে।”২১২
প্রত্যেক রাকআতে সাতটি অঙ্গের উপরে দুটি করে সাজদা হবে। যেমনটি ইবনু আব্বাসের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেছেন: أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُم عَلَى الْجَبْهَةِ، وَأَشَارَ بِيَدِهِ عَلَى أَنْفِهِ وَاليَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ، وَأَطْرَافِ القَدَمَيْنِ "আমাকে সাত অঙ্গে সাজদাহ্ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কপাল- (এ বলে তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন) দুই হাত; দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের প্রান্তদেশ (পায়ের আঙ্গুলসমূহ)।”২১৩
৮-৯. সাজদা থেকে ওঠা এবং দুই সাজদার মাঝে বসা: রসূল সলাতে ভুলকারীকে বলেন: ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا. "অতঃপর মাথা তুলে ধীরস্থিরভাবে বসবে।”২১৪
১০. সকল রুকন পালনের সময় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা: অর্থাৎ সলাতে স্থিরতা অবলম্বন করা। এর পরিমাণ হবে প্রত্যেকটা রুকনে যা আবশ্যকীয় আছে তা বলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সময়। কারণ আল্লাহর রসূল সলাতে ভুলকারীকে সকল রুকনে স্থিরতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সলাতে স্থিরতা না থাকার কারণে পুনরায় সলাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
১১. শেষ তাশাহহুদ: আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন: كُنَّا نَقُولُ قَبْلَ أَنْ يُفْرَضَ عليها التَّشَهُدُ : السَّلامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا تَقُولُوا السَّلامُ عَلَى اللَّهُ، وَلَكِنْ قُولُوا: التَّحِيَّاتُ اللَّه "আমাদের উপর তাশাহহুদ ফরয হওয়ার আগে আমরা বলতাম : السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ আল্লাহর উপর তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর নাবী বললেন: তোমরা السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ বলো না, বরং বলো, التَّحِيَّاتُ لِلهِ।”২১৫ সুতরাং ইবনু মাসউদ এর কথা قَبْلَ أَنْ يُفْرَضَ )ফরয হওয়ার পূর্বে) প্রমাণ করে যে, তাশাহহুদ ফরয।
১২. শেষ তাশাহহুদের জন্য বসা: রসূল শেষ তাশাহহুদে বসেছেন এবং তিনি এতে অবিচল ছিলেন। আর তিনি বলেছেন: صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي “তোমরা আমাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছ, সেভাবে সলাত আদায় করবে।”২১৬
১৩. সালাম ফেরানো: আল্লাহর রসূল বলেছেন: وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ "আর সালামের দ্বারা (পার্থিব সকল কাজ) হালাল হয়।”২১৭ এ ছাড়াও তিনি ডান এবং বাম দিকে السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ বলতেন।
১৪. আরকানগুলো ধারাবাহিকভাবে আদায় করা: কারণ নাবী এগুলোকে ধারাবাহিকভাবে আদায় করতেন এবং তিনি বলেছেন: صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي “তোমরা আমাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছো সেভাবে সলাত আদায় করবে।" এ ছাড়াও তিনি সলাতে ভুলকারীকে শিক্ষা দিতে গিয়ে ثم শব্দ বলেছেন, যেটা ধারাবাহিকতার ব্যাপারে প্রমাণ করে।

টিকাঃ
২০৫. সহীহুল বুখারী, হা. ১১১৭।
২০৬. সহীহ মুসলিম, হা. ১৬০০, ফুআ, ৭৩৫; সুনান নাসাঈ, হা. ১৬৫৯।
২০৭. সহীহুল বুখারী, হা. ৭৯৩, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৩৯৭।
২০৮. সুনান আবু দাউদ, হা. ৬১, ইবনু মাজাহ, হা. ২৭৫, তিরমিযী, হা. ৩।
২০৯. সহীহুল বুখারী, হা. ৭৫৬, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ, ৩৯৮।
২১০. সহীহুল বুখারী, হা. ৬২৫১, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৩৯৭।
২১১. সহীহুল বুখারী, হা. ৬২৫১।
২১২. সহীহুল বুখারী, হা. ৬২৫১।
২১৩. সহীহুল বুখারী, হা. ৮০৯, সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ৪৯০।
২১৪. সহীহুল বুখারী, হা. ৬২৫১।
২১৫. সুনান নাসাঈ ১/২৪০।
২১৬. সহীহুল বুখারী, হা. ৬৩১।
২১৭. আবু দাউদ: ৬১, তিরমিযী, হা. ৩, ইবন মাযাহ: ২৫৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00