📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 আযান ও ইকামতের পরিচয় ও হুকুম

📄 আযান ও ইকামতের পরিচয় ও হুকুম


ক. আযান ও ইকামতের পরিচয়: আযানের আভিধানিক অর্থ: ঘোষণা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَأَذَانَ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে।”[সূরা তাওবাহ : ৩] অর্থাৎ ঘোষণা করা প্রচার করা।
شرعاً: الإعلام بدخول وقت الصلاة بذكر مخصوص. পরিভাষায়: নির্দিষ্ট যিকর বা শব্দাবলির মাধ্যমে সলাতের সময়ে প্রবেশের জন্য যে ঘোষণা দেওয়া হয় তাকেই আযান বলে।
ইকামতের আভিধানিক অর্থ: اقامة শব্দটি أقام ফেল বা ক্রিয়ার মাসদার। এর অর্থ উপবিষ্ট ব্যক্তিকে (সলাতের জন্য) দাঁড় করানো।
شرعاً: الإعلام بالقيام إلى الصلاة بذكر مخصوص ورد به الشارع. পরিভাষায়: শরীয়ত প্রণেতা কর্তৃক বর্ণিত নির্দিষ্ট যিকরের বা শব্দাবলির দ্বারা সলাতে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়াকে ইকামত বলা হয়।
খ. আযান ও ইকামতের হুকুম: পুরুষদের ক্ষেত্রে আযান এবং ইকামত দেওয়া শরীয়ত সম্মত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের জন্য আযান ও ইকামত দেওয়া ফরযে কেফায়া, যখন কেউ একজন তা আদায় করবে তখন অন্যদের থেকে এর দায়ভার চলে যাবে। কারণ এই দুটি হলো ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শন। সুতরাং এই দুটিকে বন্ধ করে দেওয়া বৈধ নয়।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 আযান ও ইকামত সহীহ হওয়ার জন্য শর্তসমূহ

📄 আযান ও ইকামত সহীহ হওয়ার জন্য শর্তসমূহ


১. মুসলিম হওয়া: কোনো কাফেরের আযান ও ইকামত বৈধ নয়।
২. জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া: অন্যান্য ইবাদতের মতো কোনো পাগল, নেশাগ্রস্থ এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না, এমন ছেলে শিশুর আযান ইকামত বৈধ নয়।
৩. পুরুষ হওয়া: কণ্ঠস্বরের ফিতনার কারণে মহিলাদের আযান ও ইকামত বৈধ নয়। অনুরূপ কোনো হিজড়ার আযান ইকামত বৈধ নয়, তার যৌনাঙ্গ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে।
৪. সলাতের ওয়াক্তে আযান হওয়া: সুতরাং সলাতের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে আযান দেওয়া সঠিক নয়। তবে ফজর এবং জুমুআর প্রথম আযান ব্যতীত। কারণ এ দুটি সময় হওয়ার পূর্বেই জায়েয। আর ইকামত হবে সলাতের দাঁড়ানো মনস্থ করার সময়।
৫. আযানের বাক্যগুলো ধারাবাহিক এবং মধ্যবর্তী বিলম্ব ছাড়া একের পর এক হওয়া। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে অনুরূপ ইকামতও (বর্ণনা অচিরেই সামনে আসবে)।
৬. আযান এবং ইকামত আরবী ভাষা এবং ঐ শব্দাবলি দ্বারা হওয়া যে শব্দে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 মুয়ায্যিনের মুস্তাহাব গুণাবলী

📄 মুয়ায্যিনের মুস্তাহাব গুণাবলী


১. ন্যায়পরায়ণ ও বিশুদ্ধ হওয়া: কারণ তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। যার দিকে সলাত এবং সিয়ামের বিষয়টা সোপর্দ করা হয়। সুতরাং তিনি যদি ন্যায়পরায়ণ বিশ্বস্ত না হন, তাহলে অসময়ে আযান দিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে পারেন।
২. প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানবান হওয়া: ভালো মন্দের পার্থক্যকারী শিশুর আযান সঠিক বলে বিবেচিত।
৩. সময় সম্পর্কে জ্ঞানী হওয়া: যাতে তিনি সময় অনুসন্ধান করতে পারেন এবং প্রথম ওয়াক্তে আযান দিতে পারেন। যদি তিনি সময় সম্পর্কে অজ্ঞ হন তাহলে কখনো কখনো ভুল করতে পারেন।
৪. উঁচু আওয়াজ বিশিষ্ট হওয়া, যাতে মানুষ তার আযান শুনতে পায়।
৫. ছোটো এবং বড়ো অপবিত্রতা হতে পবিত্র হওয়া।
৬. কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া।
৭. দুই কানে দুই আঙ্গুল রাখা এবং حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ বলার সময় ডান দিকে আর حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ বলার সময় বাম দিকে চেহারা ঘোরানো।
৮. আযান ধীর গতিতে দেওয়া আর ইকামত দ্রুত গতিতে দেওয়া।

টিকাঃ
* قوى الصوت : উচু আওয়াজ।

📘 ফিকহুল মুয়াসস্যার > 📄 আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা

📄 আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা


আযান ও ইকামতের পদ্ধতি: আযান এবং ইকামতের কয়েকটি পদ্ধতি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো: আবু মাহযুরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أن رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم علمه الأذان بنفسه، فقال: تَقُولُ: اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهَ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهَ، حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، اللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ : ثُمَّ اسْتَأْخَرَ عَنِّي غَيْرَ بَعِيدٍ، ثُمَّ ، قَالَ : وَتَقُولُ: إِذَا أَقَمْتَ الصَّلَاةَ، اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ، قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই তাকে আযান শিক্ষা দেন। তিনি বলেন: তুমি বলো,
اَللهُ اَكْبَرُ، اَللهُ اَكْبَرُ، اَللهُ اَكْبَرُ، اَللهُ اَكْبَرُ، اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ، اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ، حَيَّ عَلَى الصَّلٰوةِ، حَيَّ عَلَى الصَّلٰوةِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، اَللهُ اَكْبَرُ، اَللهُ اَكْبَرُ، لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ.
কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলো। অতঃপর তিনি বলেন: তুমি সলাতের ইকামতে বলো, اَللهُ اَكْبَرُ اَللهُ اَكْبَرُ، اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ، اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ، حَيَّ عَلَى الصَّلٰوةِ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، قَدْ قَامَتِ الصَّلٰوةُ، قَدْ قَامَتِ الصَّلٰوةُ، اَللهُ اَكْبَرُ اَللهُ اَكْبَرُ، لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ.
এটা হলো বেলাল হতে বর্ণিত হাদীস অনুপাতে। সে হাদীসে বলা হয়েছে: أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ الأَذَانَ، وَأَنْ يُوتِرَ الإِقَامَةَ، إِلَّا الْإِقَامَةَ
“বিলাল -কে আযানের বাক্য দুই বার করে ও ইকামতের বাক্য বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়।”১৭০
সুতরাং আযানের শব্দগুলো দুবার দুবার আর قَدْ قَامَتِ الصَّلٰوةُ ব্যতীত ইকামতের শব্দগুলো একবার একবার করে।
এটা হলো আযান ইকামতের মুস্তাহাব বর্ণনা। বেলাল আল্লাহর রসূল এর মৃত্যু অবধি সফর এবং মুকীম উভয় অবস্থায় আযান দিতেন (আর এটা ছিল তার আযান এবং ইকামতের পদ্ধতি)।
যদি কোনো মুয়াজ্জিন শাহাদাতাইনকে ১৭১ প্রথমে নিম্ন স্বরে অতঃপর উচ্চ স্বরে বলে অথবা ইকামতের শব্দগুলো দুবার করে বলে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা এগুলো বৈধ ইখতিলাফের অন্তর্ভুক্ত।
ফজরের আযানের حَيَّ عَلَى الصَّلٰوةِ এর পরে الصَّلٰوةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ দুই বার বলা মুস্তাহাব। এই মর্মে আবু মাহযুরাহ হতে হাদীস এসেছে। إِنْ كَانَ أَذَانَ الصُّبْحِ قُلْتَ: الصَّلٰوةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ
“ফজরের আযানে বলবে: الصَّلٰوةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ”

টিকাঃ
১৬৯. সুনান আবু দাউদ, হা. ৫০৫, ইবনু মাজাহ, হা. ৭০৮।
১৭০. সহীহুল বুখারী, হা. ৬০৫, সহীহ মুসলিম, হা. ৭২৪, ফুআ, ৩৭৮।
১৭১. সহীহুল বুখারী, হা. ৬০৫, সহীহ মুসলিম, হা. ফুয়াদ আব্দুল বাকী ৩৭৮।
১৭১. এটাকে تَثْوِيْبٌ বলা হয়। অর্থাৎ মুয়াজ্জিন যখন ফজরের আযান এই জুমলা বলে তখন সলাতে দ্রুত যাওয়ার উৎসাহ এর দিকে ফিরে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00