📄 সলাতের পরিচয় ফযীলত এবং পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের আবশ্যকতা
১. সলাতের পরিচয়: تعريف الصلاة الصلاة বা সলাতের আভিধনিক অর্থ: الدعاء- দুআ করা !
شرعاً عبادة ذات أقوال وأفعال مخصوصة، مفتتحة بالتكبير، مختتمة بالتسليم.
পরিভাষায়: সলাত হলো “নির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজ সম্বলিত একটি ইবাদত; যা তাকবীর দিয়ে শুরু আর সালাম দিয়ে শেষ করা হয়।” (এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।)
২. সলাতের ফযীলত: শাহাদাতাইন (দুই শাহাদাত) এর পরে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন হলো সলাত। এটা হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। মিরাযের রাতে সপ্ত আকাশের উপর আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর সলাতকে ফরয করেছেন। এটাই হলো মুসলিম জীবনে সলাতের গুরুত্বের সবচেয়ে বড়ো দলীল। নাবী ﷺ যখন কোনো বিষয়ে দুঃচিন্তায় পড়তেন১৬১ তখন তিনি সলাতে দাঁড়িয়ে যেতেন। সলাতের ফযীলত এবং তার প্রতি উৎসাহমূলক অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
টিকাঃ
১৬১ : জযয়ে : পেয়ে বসা।
📄 সলাতের ওয়াক্তসমূহ
দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফরয। প্রত্যেক সলাতের জন্য শরীয়ত সময় নির্দিষ্ট করেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا "নিশ্চয়ই সলাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত।" [সূরা নিসা: ১০৩]
অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে সলাত আদায় করা ফরয। সময়ের পূর্বে সলাত আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে না। এই সময়গুলোর মূল দলীল: আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা) হতে বর্ণিত হাদীস। নাবী ﷺ বলেছেন:
وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ ، مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ، وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرِ الشَّمْسُ، وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمُغْرِبِ مَا لَمْ يَغِيبِ الشَّفَقُ، وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ، وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ
"যোহরের সলাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের সলাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের সলাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের সলাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা বিদূরিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সলাতের সময় অর্ধরাত অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের সলাতের সময় শুরু হয় ফজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত।”১৭৭
সুতরাং যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য ঢলার সময় অর্থাৎ সূর্য আকাশের মধ্যস্থল থেকে পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার সময়। আর এর সময় দীর্ঘ হয় প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত। প্রখর গরম ব্যতীত সলাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব। তবে প্রখর গরমের সময় সলাত পিছিয়ে ঠান্ডায় সলাত আদায় করা মুস্তাহাব। ১৭৮ আল্লাহর রসূল ﷺ বলেন:
إِذَا اشْتَدَّ الحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ
"প্রচণ্ড গরম হলে (যুহরের) সলাত দেরি করে আদায় করো। গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই হয়ে থাকে।"১৭৯
যোহরে ওয়াক্ত শেষ হলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। অর্থাৎ প্রতিটি জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর সূর্য ডোবার দ্বারা তা শেষ হয় অর্থাৎ হলুদ আভার শেষ সময়ে। আসরের সলাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা সুন্নাত। এটা হলো মধ্যবর্তী সলাত যার দলীল আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ﴾
"তোমরা সলাতের প্রতি যত্নবান হও। বিশেষতঃ মধ্যবর্তী সলাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।" [সূরা বাক্বারাহ: ২৩৮]
আল্লাহর রসূল ﷺ আসরের সলাতকে সংরক্ষণের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন:
مَنْ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَا لَهُ
“যে ব্যক্তির 'আসরের সলাত ছুটে গেল, তার তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল।”১৮০
তিনি আরও বলেন: مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ العَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ
"যে ব্যক্তি আসরের সলাত ছেড়ে দিলো তার 'আমল বিনষ্ট হয়ে গেল। ১৮১
সূর্য অস্ত যাওয়া থেকে নিয়ে আকাশের লাল আভা থাকা অবধি মাগরিবের ওয়াক্ত। নাবী ﷺ বলেন:
وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمُغْرِبِ مَا لَمْ يَغِيبِ الشَّفَقُ
টিকাঃ
১৭৭ সহীহ মুসলিম, হা. ১২৭৫ ফুয়াদ আব্দুল বাক্বী, ৬১২।
১৭৮ অর্থাৎ আসরের সলাতের নিকটবর্তী করা।
১৭৯ সহীহুল বুখারী, হা. ৫৩৩-৫৩৪, সহীহ মুসলিম, হা. ৬১৫।
১৮০ সহীহুল বুখারী, হা. ৫৫২, সহীহ মুসলিম, হা. ২০১, ৬২৬।
১৮১ সহীহুল বুখারী, হা. ৫৫৩।